• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • সাহিত্যে খেলা [গদ্য]
সাহিত্যে খেলা [গদ্য]

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

আসিফ ও নয়ন দুই ভাই। লেখাপড়ার পাশাপাশি অবসর সময়ে আসিফ আনন্দ পায় সাহিত্য পড়ে আর নয়ন আনন্দ পায় ক্রিকেট খেলে। উপন্যাস আসিফের খুব পছন্দ। সে মনে করে, উপন্যাস পড়ার মতো আনন্দ আর কিছুতেই পাওয়া যায় না। তাছাড়া মানুষের মন যে কত বিচিত্র হতে পারে তা উপন্যাস না পড়লে সে বুঝতে পারত না। অন্যদিকে, নয়নের প্রবল আগ্রহ ক্রিকেট খেলার প্রতি। সে ক্রিকেট খেলে যে আনন্দ পায় তা আর কোথাও পায় না। খেলার ফলে তার মন ও শরীর প্রফুল্ল থাকে।

‘খেলা হচ্ছে জীবজগতে একমাত্র নিষ্কাম কর্ম।’- উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।

খেলা হচ্ছে জীবজগতে একমাত্র নিষ্কম কর্ম কারণ এতে কোনো কিছু লাভের বা পাওয়ার অভিপ্রায় থাকে না। লেখকের মতে, মানুষ খেলায় আনন্দ ব্যতীত অন্য কোনো ফলের আকাঙ্ক্ষা করে না। যদি তা করে তবে তা হয় জুয়াখেলা। প্রাবন্ধিক এরূপ নিষ্কাম খেলার সাথে সাহিত্যের সাদৃশ্য উপস্থাপন করেছেন। খেলার মতো সাহিত্যের উদ্দেশ্যও আনন্দ লাভ করা। অর্থাৎ খেলা বা সাহিত্য দুইটিই জীবজগতে হতে হবে কোনো কামনা ছাড়া কাজ। যে কাজের উদ্দেশ্য হবে শুধু আনন্দের প্রাপ্তি।

উত্তরের সারবস্তু: কোনো কিছু লাভের বা পাওয়ার অভিপ্রায় থাকে না বিধায় খেলাই হচ্ছে জীবজগতে একমাত্র নিষ্কার্ম কর্ম।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা (০)

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

লেখকেরা দশের কাছে কীসের প্রত্যাশা রাখেন?

লেখকেরা দশের কাছে হাততালির প্রত্যাশা রাখেন।

#

উদ্দীপকের সঙ্গে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের বক্তব্যের কোনো সাদৃশ্য আছে কি? আলোচনা করো।

‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের সাহিত্য ও খেলার উদ্দেশ্যগত তুলনা করার দিকটির সাথে উদ্দীপকের সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়। উদ্দীপকের আসিফ লেখাপড়ার-ফাঁকে ফাঁকে সাহিত্য পড়ে আনন্দ পায়, আর নয়ন ক্রিকেট খেলে আনন্দ পায়। আসিফের ধারণা, উপন্যাস পড়ার মতো আনন্দ আর কোনো বিষয়ে পাওয়া যায় না। আর নয়ন ক্রিকেট খেলে যে আনন্দ পায় তা অন্য কিছুতেই পায় না। আলোচ্য প্রবন্ধে সাহিত্য সৃষ্টির উদ্দেশ্য প্রসঙ্গে প্রাবন্ধিক খেলাধুলার উদ্দেশ্যকে যেমন অভিন্ন হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, উদ্দীপকেও আসিফ ও নয়নের দৃষ্টান্তের মধ্য দিয়ে একই সত্যের প্রতি ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তাদের শখ আপাতদৃষ্টিতে বিপরীত মনে হলেও উদ্দেশ্য বা লক্ষ্যের দিক থেকে উভয়ের মধ্যে রয়েছে অনন্য সাদৃশ্য- প্রাবন্ধিক যাকে চিহ্নিত করেছেন নির্মল আনন্দলাভ হিসেবে। এদিক থেকে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের বক্তব্যের সঙ্গে উদ্দীপকটির সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।

উত্তরের সারবস্তু: আসিফ ও নয়নের শখ ভিন্ন হলেও উভয়ের অনন্য উদ্দেশ্য নির্মল আনন্দলাভ করা। এদিক থেকে প্রবন্ধের বক্তব্যের সঙ্গে উদ্দীপকটির সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।

#

‘উদ্দীপকের দুই ভাইয়ের আগ্রহের বিষয় ভিন্ন হলেও উদ্দেশ্য এক।’- ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে সাহিত্যের উদ্দেশ্য সম্পর্কে যে আলোচনা করা হয়েছে, তার সঙ্গে উদ্দীপকে উল্লিখিত দুই ভাইয়ের আগ্রহের বিষয়ে রয়েছে তাৎপর্যপূর্ণ সাদৃশ্য। ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক সাহিত্যচর্চার উদ্দেশ্যের সঙ্গে খেলাধুলার উদ্দেশ্যের অভিন্নতা নির্দেশ করেছেন। প্রাবন্ধিকের মতে, বিশ্বমানবের মনের সঙ্গে নিত্যনতুন সম্বন্দ্ব সৃষ্টি করাই কবি-সাহিত্যিকদের নৈমিত্তিক কর্ম। এ কর্ম সম্পাদনের জন্য উদ্দেশ্যহীন আনন্দের পথ অবলম্বন করে অগ্রসর হতে হয়। মানুষ খেলা দেখতে কিংবা খেলা করতে ভালোবাসে, কারণ তা উদ্দেশ্যহীন। সাহিত্যও তেমনই নিষ্কাম, উদ্দেশ্যবিহীন কর্ম। উদ্দীপকের আসিফ ও নয়নের আগ্রহের বিষয় ভিন্ন হলেও উদ্দেশ্য এক। তাদের অভিন্ন উদ্দেশ্য হলো আনন্দলাভ করা। একজন উপন্যাস পড়ে বা সাহিত্য পাঠের মাধ্যমে আনন্দলাভ করে, অন্যজন ক্রিকেট খেলার মাধ্যমে আনন্দলাভ’ করে। তারা দুভাই দুটি ভিন্ন বিষয় থেকে একইভাবে আনন্দলাভ করে মনকে প্রফুল্ল রেখেছে। উদ্দীপকের বক্তব্যের সাহিত্য পড়া ও ক্রিকেট খেলার মূল উদ্দেশ্য আনন্দলাভ। প্রাবন্ধিকের বক্তব্যও একই। তিনি মনে করেন, রসিক পাঠক কোনো প্রত্যাশা নিয়ে কাব্য পাঠ করতে যায় না। যে খেলার ভিতরে কোনো আনন্দ নেই বরং উপরি পাওনা লাভের আশা রয়েছে, তাকে খেলা না বলে জুয়াখেলা বলতে হয়। খেলার উদ্দেশ্য হলো সকলকে আনন্দ দেওয়া। আবার সাহিত্যের মূল উদ্দেশ্যও আনন্দ দেওয়া। প্রশ্নোল্লিখিত মন্তব্যটি তাই যথার্থ।

উত্তরের সারবস্তু: প্রমথ চৌধুরী তাঁর ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে সাহিত্যচর্চার উদ্দেশ্যের সঙ্গে খেলাধুলার উদ্দেশ্যের অভিন্নতা নির্দেশ করেছেন। আলোচ্য উদ্দীপকের দুই সহোদরের আগ্রহের বিষয় ভিন্ন হলেও উদ্দেশ্য আনন্দলাভ করা।