- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- সাহিত্যে খেলা [গদ্য]
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
হুমায়ূন আহমেদ বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় সাহিত্যিক। তিনি তাঁর মনের আনন্দের প্রকাশ ঘটান সাহিত্যে। কোনো মানুষের দকে তাকিয়ে নয়, তার চারপাশে যেসব মানুষকে তিনি দেখেন- তাদেরকেই ভিত্তি করে দাঁড় করান এক একটি বিখ্যাত চরিত্র। হিমু, ঐসির আলি তাঁর অসম্ভব পাঠকনন্দিত চরিত্রগুলোর মধ্যে অন্যতম। মনের আনন্দে তিনি এসব চরিত্র সৃষ্টি করেছেন। পাঠকের কাছেও তাঁর রিত্রগুলো ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।
উদ্দীপকের হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্য রচনার সঙ্গে 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের কোন দিকটির সাযুজ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে বর্ণিত আনন্দের জন্য সাহিত্য রচনার উদ্দেশ্যের সঙ্গে উদ্দীপকের হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্য রচনার সাযুজ্য রয়েছে। 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের মতে, সাহিত্যের উদ্দেশ্য, সকলকে আনন্দ দেওয়া। সাহিত্য সৃজনের মূলে অভাব দূর করবার কোনো অভিপ্রায় নেই- সে সৃষ্টির মূল অন্তরাত্মা স্ফূর্তি আর তার ফল আনন্দ। এমনকি সাহিত্যের উদ্দেশ্য পাঠকের মনতুষ্টিও নয়। সাহিত্যে রাজ্যে খেলনা পেয়ে পাঠকের মনতুষ্টি হতে পারে, কিন্তু তা গড়ে লেখকের মনতুষ্টি হতে পারে না। উদ্দীপকের লেখক হুমায়ূন আহমেদের কাছে সাহিত্য রচনা একধরনের খেলা। মনের অদৃশ্য প্রেরণা থেকে তিনি চরিত্র সৃষ্টি করেছেন, লেখনী ধারণ করেছেন। মনের খেয়ালে ও আনন্দে তিনি সাহিত্যচর্চা করেছেন। 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের মূল চেতনাও সাহিত্যের মাধ্যমে আনন্দদানের সাথে সম্পর্কিত। এমনকি সাহিত্যিকের নিজেরও আনন্দ প্রাপ্তির বিষয় প্রবন্ধে ফুটে উঠে এসেছে। তাই বলা যায়, 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের মূল ভাবনার সঙ্গে হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্যচর্চা সম্পর্কিত হয়ে উঠেছে। উভয় ক্ষেত্রেই আনন্দলাভের উপায় হিসেবে সাহিত্য রচনার কথা উঠে এসেছে।
উত্তরের সারবস্তু: 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে বলা হয়েছে, সাহিত্য রচিত হবে মনের খেয়াল ও আনন্দ থেকে। উদ্দীপকের হুমায়ূন আহমেদ মনের আনন্দের উৎস থেকে সাহিত্য রচনা করেছেন। তাই 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে বর্ণিত সাহিত্যের উদ্দেশ্যের সঙ্গে তাঁর উদ্দেশ্য স্পষ্ট।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
'কাব্যরস নামক অমৃতে আমাদের অরুচি জন্মেছে কেন?
বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষাদান পদ্ধতির ত্রুটির কারণে কাব্যরস নামক অমৃতে আমাদের অরুচি জন্মেছে। ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক প্রমথ চৌধুরী শিক্ষা ও সাহিত্যের প্রভেদ স্পষ্ট করেছেন। শিক্ষা মানুষ গ্রহণ করে নিরানন্দভাবে ও বাধ্য হয়ে। অপরদিকে, সাহিত্যরস মানুষ গ্রহণ করে স্বেচ্ছায়। প্রাবন্ধিকের মতে, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক কর্তৃক কাব্য পাঠদানের ফলে সাহিত্য আনন্দের উৎস না হয়ে ভীতির বিষয় হয়ে পড়েছে। তাছাড়া, কবি ও পাঠকের মাঝখানে শিক্ষক দেওয়ালরূপে দাঁড়িয়ে যাওয়ায় কাব্যরস নামক অমৃতে আমাদের অরুচি জন্মেছে।
সারবস্তু: শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক কর্তৃক পাঠদানের ত্রুটি এবং এ কারণে সৃষ্ট ভীতির কারণেই কাব্যরস নামক অমৃতে আমাদের অরুচি জন্মেছে।
'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে উল্লিখিত বিখ্যাত ভাস্করের নাম কী?
সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে উল্লিখিত বিখ্যাত ভাস্করের নাম- ফ্রাঁসোয়া অগুস্ত রোদ্যা।
'মনের আনন্দে সাহিত্য সৃষ্টি করেন বলেই হুমায়ূন আহমেদ পাঠকনন্দিত হতে পেরেছিলেন।'- 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের আলোকে উক্তিটির সত্যতা যাচাই করো।
‘সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের সাহিত্য রচনার মাধ্যমে আনন্দ লাভ ও আনন্দ দানের বিষয়টির প্রেক্ষিতে বলা যায় প্রশ্নোত্ত উক্তিটি যথার্থ। 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে বলা হয়েছে, সাহিত্যজগতে যাঁদের খেলা করবার প্রবৃত্তি আছে, মানুষের নয়নমন আকর্ষণ করার সুযোগ কেবল তাদের কপালেই ঘটে। কারণ সাহিত্যের উদ্দেশ্য আনন্দ দেওয়া, কাউকে শিক্ষা দেওয়া, কারো মনোরঞ্জন করা সাহিত্যের উদ্দেশ্য নয়। উদ্দীপকে বাংলাদেশের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের কথা বলা হয়েছে। তিনি নিজ মনের আনন্দে সাহিত্য রচনা করেন। চারপাশের যেসব মানুষ বা ঘটনা তিনি দেখেছেন, যেসব তাঁকে আনন্দ দিয়েছে সেসবই তিনি সাহিত্যে তুলে ধরেছেন। ফলে তাঁর সৃষ্ট অমর চরিত্রগুলো পেয়েছে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা। উদ্দীপক ও আলোচ্য প্রবন্ধ উভয় জায়গায় মনের আনন্দে সাহিত্য রচনার-এ বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। মনের আনন্দে সাহিত্য রচনা করলে। সাহিত্যে যে আনন্দরস সৃষ্টি হয় তা পাঠক-হৃদয়ে সাড়া জাগায়। তাই বলা যায় যে, আলোচ্য প্রবন্ধের সাহিত্য রচনার মাধ্যমে আনন্দলাভ ও আনন্দ দানের বিষয়টির প্রেক্ষিতে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ।
উত্তরের সারবস্তু: আলোচ্য প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক বলেছেন সাহিত্যিক মনের আনন্দে সাহিত্য রাজ্যে খেলা করেন, যা পাঠক মনে সাড়া জাগায়। উদ্দীপকে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি এই বিষয়ই নির্দেশ করে।

