• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • সাহিত্যে খেলা [গদ্য]
সাহিত্যে খেলা [গদ্য]

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

বন্ধুর পরামর্শে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'গল্পগুচ্ছ'-এর কয়েকটি গল্প পড়েই বিরক্ত হয়ে গেল সুমন। তার ধারণা, এসব হরহামেশা ঘটে যাওয়া কাহিনি পড়ে সময় নষ্ট করার কোনো মানে হয় না। তার চেয়ে বরং সাধারণ জ্ঞানের বই পড়লে অনেক কিছু জানা যায়, শেখা যায়। তার বোধে এটুকু ধরা পড়ে না যে, সাহিত্য মানুষকে সরাসরি তথ্য জানানোর জন্য রচিত হয় না। সাহিত্য অনুভূতির জগতে সাড়া ফেলে সম্পূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। আর তখনই সে হয়ে উঠে সুশিক্ষিত।

উদ্দীপকের সুমনের মানসিকতার সাথে 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের অসংগতিপূর্ণ দিকটি ব্যাখ্যা করো।

উদ্দীপকের সুমনের মানসিকতায় সাহিত্যের প্রতি বিমুখতা প্রকাশিত হয়েছে, যা প্রমথ চৌধুরী রচিত 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের সাথে অসংগতিপূর্ণ। 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে লেখুক সাহিত্যচর্চার উপর অত্যধিক গুরুত্বারোপ করেছেন। লেখকের মতে, সাহিত্য মানুষের মনকে জাগিয়ে তোলে। মানুষের মনের চাহিদা মেটাতে সাহিত্যচর্চার বিকল্প নেই। সাহিত্যে মানবাত্মা খেলা করে। মানুষের মনোজগতের সাথেই এর সম্পর্ক।
উদ্দীপকের সুমন সাহিত্যচর্চাকে অপ্রয়োজনীয় হিসেবে গণ্য করে কেবল পুঁথিগত বিদ্যালাভের প্রতি মনোনিবেশ করাকে শ্রেয় মনে করেছে। সে অনুধাবন করতে পারেনি যে একজন স্বয়ংসম্পূর্ণ মানুষ হয়ে উঠার জন্য শিক্ষালাভের পাশাপাশি সাহিত্যচর্চাও জরুরি। পেশা ও জীবিকার জন্য সহায়ক হলেও মানসিকতা গঠনের ক্ষেত্রে কেবল শিক্ষাই যথেষ্ট নয় বরং শিক্ষালাভ ও সাহিত্যচর্চা এই দুয়ের সংমিশ্রণেই সে হয়ে উঠতে পারে সুশিক্ষিত। অর্থাৎ প্রবন্ধে উল্লিখিত সাহিত্যচর্চার গুরুত্বের বিষয়টি অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়েছে উদ্দীপকের সুমন।

উত্তরের সারবস্তু: 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে লেখক সাহিত্যচর্চার উপর অত্যধিক গুরুত্বারোপ করেছেন। লেখকের মতে, সাহিত্য মানুষের মনকে জাগিয়ে তোলে। মানুষের মনের চাহিদা মেটাতে সাহিত্যচর্চার বিকল্প নেই। কিন্তু উদ্দীপকের সুমনের মানসিকতা এর সম্পূর্ণ বিপরীত।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা (০)

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

শাস্ত্রমতে কাব্যরস কেমন?

শাস্ত্রমতে কাব্যরস অমৃত।

#

'কবির মতিগতি শিক্ষকের মতিগতির সম্পূর্ণ বিপরীত'- কেন?

'কবি ও শিক্ষকের মতিগতি সম্পূর্ণ বিপরীত- উক্তিটির মাধ্যমে প্রমথ চৌধুরী সাহিত্য ও শিক্ষার উদ্দেশ্যের ভিন্নতার কথাই বলতে চেয়েছেন। প্রাবন্ধিকের মতে শিক্ষা বিষয়টি মানুষ সাধারণত নিতান্তই অনিচ্ছার সাথে গলাধঃকরণ করতে বাধ্য হয়। আর এই করার কাজটির দায়িত্বে থাকেন শিক্ষক। অন্যদিকে, কবির উদ্দেশ্য সাহিত্যের মাধ্যমে মানুষের মনের জাগরণ ঘটানো। এটি বল প্রয়োগে নয় বরং মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ফলেই কেবল সম্ভব। এ কারণেই শিক্ষক ও কবির মতিগতি সম্পূর্ণ বিপরীত বলা হয়েছে।

উত্তরের সারবস্তু: 'কবি ও শিক্ষকের মতিগতি সম্পূর্ণ বিপরীত'- উক্তিটির মাধ্যমে প্রমথ চৌধুরী সাহিত্য ও শিক্ষার উদ্দেশ্যের ভিন্নতার কথাই বলতে চেয়েছেন।

#

উদ্দীপক ও 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে শিক্ষা ও সাহিত্যের কীরূপ সম্পর্ক প্রতীয়মান হয়েছে? বিশ্লেষণ করো।

উদ্দীপক ও 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের বিশ্লেষণে বলা যায়, শিক্ষা ও সাহিত্যের উদ্দেশ্য সম্পূর্ণরূপে বিপরীতধর্মী। 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের লেখক শিক্ষা ও সাহিত্যের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। লেখকের মতে, সাহিত্যের উদ্দেশ শিক্ষার তুলনায় মহত্তর। 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের লেখক প্রমথ চৌধুরীর মতে, সাহিত্যের সঙ্গে তুলনা চলে খেলাধুলার। শিক্ষা ও সাহিত্যের তাৎপর্য ভিন্ন। লেখকের মতে, শিক্ষা হলো সেই বস্তু যা লোকে নিতান্ত অনিচ্ছা সত্ত্বেও গলাধঃকরণ করতে বাধ্য হয়। অপরপক্ষে, কাব্যক্ত মানুষ শুধু স্বেচ্ছায় নয়, সানন্দে পান করে; কেননা, শাস্ত্রমতে সে রস অমৃত। উদ্দীপকের সুমনের ভাবনা অনুসারে শিক্ষা মানুষের যে উপকারে আসে সাহিত্য মানুষের সেরকম কোনো উপকারে আসে না। সাহিত সরাসরিভাবে মানুষকে কোনো তথ্য বিতরণ করে না। 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধ অনুযায়ী এটি সাহিত্যের উদ্দেশ্যও নয়। এটি শিক্ষার উদ্দেশ্য শিক্ষা মানুষ গ্রহণ করে নিতান্তই বাধ্য হয়ে। মানুষ যা বাধ্য হয়ে করে তা থেকে সে আনন্দ পায় না। উদ্দীপক অনুসারে সুমনের বোধে বাহিরে থাকে সাহিত্যের উদ্দেশ্য। সাহিত্য মানবাত্মাকে জাগ্রত করে, অনুভূতির জগতে সাড়া ফেলে, যা সুমন বুঝতে পারে না। উদ্দীপক ও 'সাহিত্যে খেলা' উভয়ের শিক্ষা ও সাহিত্য সম্পর্কিত মূলভাব পর্যালোচনায় নিলে দেখা যায় শিক্ষা ও সাহিত্য পরস্পর বিপরীতধর্মী প্রবন্ধ মতে সাহিত্য মানুষকে আনন্দ দেয়, শিক্ষা গলাধঃকরণ করে। উদ্দীপক মতে শিক্ষা বাহ্যিক জীবনের কাজে লাগে সাহিত্য অনুভূতি
জগৎকে জাগ্রত করে।

উত্তরের সারবস্তু: উদ্দীপক এবং আলোচ্য প্রবন্ধ উভয়ের বিশ্লেষণ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, শিক্ষা মানুষের মনের বাহ্যিক চাহিদা পূরণে পরিবেশিত হলেও মানুষের অন্তরাত্মাকে জাগাতে প্রয়োজন সাহিত্যচর্চা।