- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- সাহিত্যে খেলা [গদ্য]
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
কাজল একজন নবীন ঔপন্যাসিক। পাঠকের মনোরঞ্জন করার মতো ক্ষমতা তার মধ্যে রয়েছে। সন্তা প্রেমের তরল কাহিনি তার উপন্যাসের প্রধান উপজীব্য। তাছাড়া তার উপন্যাসে সামাজিক ও রাজনৈতিক বক্তব্যের সুরও পাওয়া যায়। একশ্রেণির তরুণ পাঠক অর উপন্যাসের খুব ভক্ত।
'রঙ্গমঞ্চে না চড়লে আমাদের অভিনয় কেউ দেখে না।'- উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
সাধারণ দৃষ্টিতে যেকোনো জিনিসের বাহ্যিক রূপটি প্রত্যক্ষ করা গেলেও তা হৃদয়গ্রাহী হওয়ার জন্য বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপন দাবি করার বিষয়টি প্রশ্নোক্ত উক্তিতে প্রকাশিত হয়েছে। লেখকের মতে, সাধারণ মানুষের চোখ বস্তুর অন্তর্নিহিত তাৎপর্য অনুধাবন করতে পারে না। তাই যেকোনো বিষয় তাদের সামনে একটু বেশি গুরুত্বসহকারে উপস্থাপন করতে হয়। নিজের কথা যেমন গুরুত্ব দিয়ে সাধারণের ঊর্ধ্বে উঠে প্রকাশ না করলে কেউ মানে না, তেমনই রক্তামধে না চড়লে অভিনেতার অভিনয় কেউ দেখে না। অভিনেতাকে আপন কলা নিয়ে আত্মপ্রকাশ করতে হলে অবশ্যই রঙ্গমঞ্চে চড়তে হবে।
উত্তরের সারবস্তু: সাধারণ মানুষের চোখ বস্তুর অন্তর্নিহিত তাৎপর্য অনুধাবন করতে পারে না। তাই যেকোনো বিষয় তাদের সামনে একটু বেশি গুরুত্বসহকারে উপস্থাপন করতে হয়। উদ্ধৃত মন্তব্যে এ বিষয়টির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
'কলারাজ্য' অর্থ কী?
'কলারাজ্য' অর্থ শিল্পকলার পরিমণ্ডল।
উদ্দীপকের আলোকে 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে বর্ণিত মনোরঞ্জনধর্মী সাহিত্যের স্বরূপ তুলে ধরো।
প্রমথ চৌধুরী তাঁর 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে সাহিত্যের স্বরূপ ও তাৎপর্য প্রসঙ্গে মনোরঞ্জনধর্মী সাহিত্যের কথা উল্লেখ করেছেন, যার সঙ্গে উদ্দীপকের মিল রয়েছে। 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে লেখক সাহিত্যের চিরায়ত বৈশিষ্ট্য ও মনোরঞ্জনধর্মী বৈশিষ্ট্যের কথা আলোচনা করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, মনোরঞ্জনধর্মী সাহিত্য কখনোই চিরায়ত সাহিত্যের মর্যাদা পায় না। সাহিত্যের মূল উদ্দেশ্য আনন্দদান করা, যা মনোরঞ্জনধর্মী সাহিত্যের মাধ্যমে সম্ভব নয়। আনন্দভিন্ন খেলার যদি উদ্দেশ্য থাকে তখন তা হয় জুয়াখেলা আর সাহিত্যের উদ্দেশ্য থাকলে তা হয় মনোরঞ্জনধর্মী সাহিত্য। উদ্দীপকে উল্লিখিত নবীন লেখক কাজল সস্তা প্রেমের তরল কাহিনি নির্মাণ করেছে। এ কাহিনির পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের মনোরঞ্জনের বিষয়টিও মাথায় রেখে সে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে উপন্যাস সাহিত্য রচনা করেছে। তার এই 'সাহিত্য পাঠকের মনোরঞ্জনের প্রাথমিক উদ্দেশ্য পূরণে সফল হলেও মহৎ সাহিত্য হয়ে উঠতে পারেনি। আলোচ্য প্রবন্ধেও বলা হয়েছে, এ ধরনের সাহিত্যে সাহিত্যিকের মননশীলতা ও চিন্তাশক্তির প্রকাশ দেখা যায় না বলে তা স্বধর্মচ্যুত হয়ে পড়ে এবং পাঠক সমাজে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে না।
উত্তরের সারবস্তু: 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধ অনুযায়ী সাহিত্যের একমাত্র উদ্দেশ্য আনন্দদান করা, কখনোই পাঠকের মনোরঞ্জন করা না। কিন্তু উদ্দীপকের কাজল মনোরঞ্জনধর্মী সাহিত্য সৃষ্টি করেছে।
"উদ্দীপকে 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের সামগ্রিক ভাব ফুটে ওঠেনি।" মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করো।
'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের বিষয়বস্তুতে সাহিত্যের সাথে শিক্ষা, পাঠক, আনন্দদান, মনোরঞ্জন, সমাজ প্রভৃতি বিষয়ের সম্পর্ক ফুটে ওঠায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ। 'সাহিত্যে 'খেলা' প্রবন্ধে লেখক সাহিত্যকে খেলার সাথে তুলনা করে বলেছেন, সাহিত্য অনেকটা খেলারই মতো। খেলা ও সাহিত্যের মূল উদ্দেশ্য আনন্দ। সাহিত্য রচনা করে সাহিত্যিক নিজেও আনন্দিত হন। কিন্তু সাহিত্যিক যদি পাঠকের মনোরঞ্জন করতে চান তবে সাহিত্যের আনন্দদানের বিষয়টি নষ্ট হয় এবং মনোরঞ্জন করার কারণে সাহিত্য স্বধর্মচ্যুত হয়। আবার সাহিত্য এবং শিক্ষার মাঝেও তফাত আছে বলে লেখক মত দিয়েছেন। তার মতে শিক্ষা গলাধঃকরণ করা হয়, আর সাহিত্যরস মানুষ স্বেচ্ছায় গ্রহণ করে। সাহিত্য যদি জ্ঞানের কথা বলতে যায় তবে এটি তার তাৎপর্য হারাবে। উদ্দীপকে কেবল সাহিত্য পাঠের মনোরঞ্জনের দিকটি ফুটে উঠেছে। কাজল সস্তা প্রেমের কাহিনি দিয়ে উপন্যাস রচনা করে। তার রচিত সাহিত্য একশ্রেণির পাঠকের কাছে গ্রহণযোগ্যও হয়। তার সাহিত্য-রচনা শুধু সন্তুষ্টিই করে। আলোচ্য প্রবন্ধে উদ্দীপকের কাজলের সাহিত্যে মনোরঞ্জনের দিকটি ছাড়াও সাহিত্যের সাথে শিক্ষার, সাহিত্যের সাথে পাঠকের, সাহিত্যের সাথে সমাজের, সাহিত্যের সাথে সাহিত্যিকের সম্পর্ক প্রভৃতি দিকগুলো লক্ষ করা যায়। প্রবন্ধের লেখকের মতে সাহিত্যের উদ্দেশ্য জ্ঞানদান, সাহিত্য-শিক্ষা বিপরীতধর্মিতা উদ্দীপকে লক্ষ করা যায় না। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
উত্তরের সারবস্তু: উদ্দীপকে কেবল সাহিত্যের মনোরজনের বিষয়টি প্রস্ফুটিত হওয়ায় মন্তব্যটি যথার্থ।

