- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- সাহিত্যে খেলা [গদ্য]
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
প্রত্যক্ষভাবে কোনো সামাজিক, নৈতিক বা রাষ্ট্রীয় শিক্ষাদান বা মতবাদ প্রচার করা সাহিত্যের উদ্দেশ্য নয়। যে সাহিত্যে মতবাদ প্রচার উগ্র হয়ে উঠেছে, তা সৃষ্টি বা শিল্পকর্ম হিসেবে ব্যর্থ হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও বলেন, মত জিনিসটা হচ্ছে সৃষ্টির ক্ষেত্রে জীবদেহের অন্তর্গত ককালের মতো। ওটা ভিতর থেকেই সাহিত্যকে জোগাবে মাথা তুলে দাঁড়াবার শক্তি, বাইরে থেকে প্রকাশ পাবে তার বিচিত্র দেহ-সৌষ্ঠব, তার লাবণ্য।
উদ্দীপক ও 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের আলোকে বর্ণিত সাহিত্যের প্রকৃত উদ্দেশ্য মূল্যায়ন করো।
উদ্দীপক ও প্রমথ চৌধুরীর 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধটিতে সাহিত্যের প্রকৃত উদ্দেশ্য আনন্দদান সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের লেখকের মতে, সাহিত্যের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত আনন্দদান করা। শিক্ষাদান করা এর উদ্দেশ্য নয়। প্রাবন্ধিক বলেন, শিক্ষা হলো সেই বস্তু যা লোকে অনিচ্ছা সত্ত্বেও গলাধঃকরণ করতে বাধ্য হয়, যা জোর করে গেলানো হয়। তাতে আনন্দ থাকে না। তাই শিক্ষা বা মত প্রকাশ করতে গেলে সাহিত্য তার বৈশিষ্ট্য ও গুণ হারায়। উদ্দীপকের ভাবানুসারে, মতবাদ বা শিক্ষা মানুষকে বিশ্বের খবর জানাতে পারে কিন্তু মনকে জাগাতে পারে না। আর মনের পরিতৃপ্তিই সাহিত্যের উদ্দেশ্য। তাতেই শিল্পকর্ম তৈরি হয় যাতে রস থাকে। এ রস মানুষের ব্যক্তিত্ব, মনন, মনুষ্যত্ব ও মানসিকতার জন্ম দেয়। আর যদি মতবাদ প্রচারই মূলকথা হয় তাহলে সাহিত্য তার গুণ হারায় এবং পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে না। সুতরাং এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়, আনন্দদানই সাহিত্যের প্রকৃত উদ্দেশ্য। উদ্দীপক ও আলোচ্য প্রবন্ধ উভয় ক্ষেত্রেই মূলকথা হলো, সাহিত্যের উদ্দেশ্য আনন্দদান ছাড়া অন্য কিছু হওয়া উচিত নয়। সাহিত্যে সাহিত্যিকের ব্যক্তি-মননের স্বতঃস্ফূর্ত প্রকাশ ঘটবে। শুধু গভীর তাৎপর্যপূর্ণ ভাব প্রকাশ করা সাহিত্যের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত নয়।
উত্তরের সারবস্তু: 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধ ও উদ্দীপকের মতে আনন্দদানই সাহিত্যের প্রকৃত উদ্দেশ্য।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
শিব কে?
শিব হলো হিন্দুধর্মে মঙ্গলকারী দেবতার নাম।
'এই পুতুল গড়া হচ্ছে তাঁর খেলা।'- কার এবং কেন?
শিল্পীর খেলার মাধ্যমেই শিল্পরাজ্যের সব অক্ষয় সৃষ্টির জন্ম- লেখকের এই মনোভাবই ব্যস্ত হয়েছে আলোচ্য উত্তির মাধ্যমে। লেককের মতে, শিল্প সৃষ্টিতে শিল্পীর মনের আনন্দেরই প্রকাশ ঘটে। শিল্প সৃষ্টির উপাদান নিয়ে শিল্পী খেলায় মেতে থাকেন। আর এই খেলার ফলেই তার সৃষ্টিকর্ম নানান অবয়ব পায়। 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের রচয়িতা প্রমথ চৌধুরী তাঁর রচনায় ফরাসি ভাস্কর রোদ্যার শিল্পসৃষ্টির উদাহরণ টেনেছেন। কাদামাটি নিয়ে পুতুল গড়া খেলার মাধ্যমেই তাঁর সব বিখ্যাত সৃষ্টির জন্ম হয়েছে। আর এই খেলাই হলো পৃথিবীর সব সৃজনশীল কর্মের মূল।
উত্তরের সারবস্তু: শিল্পীরা মনের আনন্দে কলারাজ্যে খেলা করে থাকেন, আর এভাবেই শিল্প তৈরি হয়- এ বিষয়ই প্রশ্নোক্ত উত্তিতে বোঝানো হয়েছে।
'যে সাহিত্যে মতবাদ প্রচার উগ্র হয়ে উঠেছে, তা রস সৃষ্টি বা শিল্পকর্ম হিসেবে ব্যর্থ হয়েছে।'- উক্তিটির সাথে 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের সাদৃশ্যপূর্ণ দিক ব্যাখ্যা করো।
'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের সাহিত্যের সৃষ্টি বা আনন্দ দানের দিকটি প্রশ্নোক্ত উক্তিটির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। আলোচ্য প্রবন্ধে সাহিত্যচর্চার প্রকৃত উদ্দেশ্য জানানোর জন্যই লেখককে তাঁর নিজস্ব ভাব প্রকাশ করতে হয়। তাঁর মতে, সাহিত্যের উদ্দেশ্য নিছক আনন্দদান করা, কারো মনোরঞ্জন করা নয়। লেখকের উদ্দেশ্য আনন্দ সৃষ্টি করা। কিন্তু এ উদ্দেশ্য ব্যতীত, লেখক যদি কোনো ফললাভের আশায় কলম ধরেন তাহলে সাহিত্য স্বধর্মচ্যুত হয়। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, সাহিত্যের ভিতর যদি মতবাদ প্রচার উগ্র হয়ে উঠে তবে তা শিল্পকর্ম হিসেবে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়। প্রমথ চৌধুরীও সাহিত্যকে আনন্দদানের একমাত্র মাধ্যম বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি মনে করেন, আনন্দদান ব্যতীত সাহিত্যের অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকা উচিত নয়। সুতরাং উদ্দীপক ও 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের প্রাবন্ধিকের উক্তিতে একটি বিষয় সুস্পষ্ট যে, সাহিত্যের একমাত্র উদ্দেশ্য রস সৃষ্টি বা আনন্দদান, মতবাদ প্রচার নয়।
উত্তরের সারবস্তু: উদ্দীপক ও 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের প্রাবন্ধিকের উত্তিতে একটি বিষয় সুস্পষ্ট যে, সাহিত্যের একমাত্র উদ্দেশ্য রস সৃষ্টি বা আনন্দদান; মতবাদ প্রচার নয়।

