• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • সাহিত্যে খেলা [গদ্য]
সাহিত্যে খেলা [গদ্য]

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

অধ্যাপক জাহিদ রেজা একজন সাহিত্যানুরাগী ব্যক্তি। তিনি নিয়মিত লেখালেখিও করেন। স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় তাঁর কোনো গল্প বা প্রবন্ধ প্রকাশিত হলে তিনি অতিশয় আনন্দিত হয়ে তাঁর স্ত্রীকে তা পড়তে বলেন। তাঁর স্ত্রী এতে ভীষণ বিরক্ত হন এবং বলেন, 'এসব বিনে পয়সার লেখা বাদ দিয়ে বরং প্রেমের গল্প নিয়ে সিনেমার স্ক্রিন্ট লেখো, ঘরে কিছুটা বাড়তি পয়সা আসবে আর তোমার খ্যাতিও বাড়বে।'

ফরাসি ভাষ্কর রোদ্যার পূর্ণ নাম কী?

ফরাসি ভাস্কর রোদ্যার পূর্ণ নাম হলো ফ্যাঁসোয়া অগুস্ত রোদ্যা।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা (০)

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

লেখক আনন্দবিহীন খেলাকে জুয়াখেলা বলেছেন কেন?

যে খেলায় আনন্দ নেই বরং উপরি পাওয়ার আশা আছে লেখক তাকে জুয়াখেলা বলার পক্ষপাতী। প্রাবন্ধিকের মতে, মানুষের দেহমনের সকল প্রকার ক্রিয়ার মধ্যে খেলাই শ্রেষ্ঠ। কেননা, তা উদ্দেশ্যবিহীন। তবে যেকোনো খেলায় আনন্দ থাকা আবশ্যক। আনন্দময় বলেই খেলাকে সবাই উপভোগ করে। যে খেলায় আনন্দ নেই, সে খেলার পিছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য কাজ করে। খেলার মাধ্যমে অর্থ উপার্জন সেরকমই একটি উদ্দেশ্য। আর অর্থের উদ্দেশ্যে যে খেলা হয় সে খেলাকে জুয়াখেলা হিসেবে চিহ্নিত। লেখক তাই আনন্দবিহীন খেলাকে জুয়াখেলা বলেছেন।

উত্তরের সারবস্তু: আনন্দই খেলার একমাত্র উদ্দেশ্য। তাই উদ্দেশ্য প্রণোদিত আনন্দহীন খেলাকে লেখক জুয়াখেলা বলেছেন।

#

উদ্দীপকে 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

উদ্দীপকটিতে 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের স্বতঃস্ফূর্তভাবে মনের আনন্দে সাহিত্যচর্চার পরিচয় ফুটে উঠেছে। আলোচ্য প্রবন্ধ মতে, সাহিত্যের উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দদান করা; কারো মনোরঞ্জন করা নয়। সাহিত্য সৃষ্টি হতে হবে সাহিত্যস্রস্টার মনের আনন্দ থেকে; কোনোকিছু পাওয়ার আশায় নয়। আনন্দ ব্যতীত অন্য উদ্দেশ্যে রচিত সাহিত্য স্বধর্মচ্যুত সাহিত্য বলে পরিগণিত হবে। প্রমথ চৌধুরী তাঁর 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে এ রকমই মত ব্যক্ত করেছেন। উদ্দীপকের জাহিদ শুধুই মনের আনন্দে গল্প বা প্রবন্ধ লেখেন। তাঁর লেখা স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হলেই তিনি খুশি। তাঁর লেখায় কৃত্রিমভাবে পাঠকের মনোরঞ্জনের প্রচেষ্টা থাকে না। কিন্তু তাঁর স্ত্রী এরকম সাহিত্যচর্চার বিপক্ষে। জাহিদকে তিনি চটকদার কোনো প্রেমের কাহিনি বা সিনেমার গল্প লেখার পরামর্শ দেন। কারণ তিনি জানেন, সেটা করা হলে টাকা উপার্জন ও খ্যাতি অর্জন দুটো উদ্দেশ্যই সফল হবে। কিন্তু জাহিদ টাকা কিংবা খ্যাতি কোনোটিই নয়, শুধু নিজের মনের তাগিদে লেখালেখি করেন। অর্থাৎ প্রমথ চৌধুরী 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে সাহিত্যের যে আসল উদ্দেশ্যের কথা বলেছেন, সে উদ্দেশ্যই জাহিদ আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেছেন।

উত্তরের সারবস্তু: প্রমথ চৌধুরী 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে সাহিত্যের আনন্দ পাওয়া ও আনন্দ দেওয়ার উদ্দেশ্যের কথা বলেছেন, যা উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে।

#

"উদ্দীপকের মিসেস জাহিদ রেজার চেতনা 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের আদর্শ বিরোধী।"- বিশ্লেষণ করো।

উদ্দীপকে উল্লিখিত লেখক জাহিদ রেজাকে তাঁর স্ত্রী খ্যাতি ও আর্থিক লাভের অনুকুল সাহিত্য রচনার তাগিদ দিয়েছেন, যা 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের বর্ণিত আদর্শের বিরোধী। প্রাবন্ধিক প্রমথ চৌধুরীর মতে, সমাজের মনোরঞ্জন করে সাহিত্য রচনা করলে তা স্বধর্মচ্যুত হয়। কাব্যের ঝুমঝুমি, বিজ্ঞানের চুষিকাঠি, দর্শনের বেলুন, রাজনীতির রাঙালাঠি, ইতিহাসের ন্যাকড়ার পুতুল, নীতির টিনের ভেঁপু এবং ধর্মের জয়ঢাক সাহিত্যের মূল উদ্দেশ্য নষ্ট করেছে। কোনো জাতি, ধর্ম, বর্ণ কিংবা রাজনৈতিক দলের আনুকূল্য পাওয়ার জন্য এবং সেইসঙ্গে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য এ ধরনের সাহিত্য রচনা করেছে। উদ্দীপকের জাহিদ রেজার মধ্যে জনপ্রিয়তা লাভের জন্য বা অর্থলাভের জন্য সাহিত্যচর্চার ইচ্ছা না থাকার বিষয়টি প্রতিভাত হলেও মিসেস রেজা তাতে সন্তুষ্ট নন। মিসেস রেজার আকাঙ্ক্ষার অবস্থান সাহিত্যের মূল উদ্দেশ্যের ঠিক বিপরীত মেরুতে। পারিপার্শ্বিক আর্থসামাজিক পরিবেশই তাঁর চিন্তাভাবনার পিছনে দায়ী। মিসেস রেজা মনে করেন, তাঁর স্বামী যদি মনের আনন্দের জন্য বিনে পয়সার লেখা বাদ দিয়ে প্রমের গল্প কিংবা সিনেমার স্ক্রিপ্ট লেখেন তাহলে তাঁরও অনেক উপার্জন হবে। একইসঙ্গে তরুণ সমাজের মধ্যে তাঁর খ্যাতিও বাড়বে বলে ইনি বিশ্বাস করেন। প্রকৃতপক্ষে মিসেস রেজা সাহিত্যের মর্মার্থ বুঝতে অক্ষম। দীপকের মিসেস রেজা সাহিত্যের আনন্দদানের উদ্দেশ্য না বুঝে মনতুষ্টির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। প্রাবন্ধিক প্রমথ চৌধুরীর 'সাহিত্যে লো' প্রবন্ধে এ বিষয়ের কথা ব্যক্ত হয়েছে। প্রবন্ধে বলা হয়েছে, সাহিত্যরাজ্যে খেলনা পেয়ে পাঠকের মনতুষ্টি হতে পারে, কিন্তু তা গড়ে থেকের মনতুষ্টি হতে পারে না। আর সাহিত্য গড়া মূলত আনন্দ নেওয়া ও আনন্দ দেওয়ার বিষয়।

উত্তরের সারবস্তু: অর্থ ও খ্যাতির জন্য সাহিত্য রচনা মিসেস জাহিদের কাছে ইতিবাচক হলেও প্রাবন্ধিকের কাছে তা বর্জনীয়।