• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • সাহিত্যে খেলা [গদ্য]
সাহিত্যে খেলা [গদ্য]

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

মুনির বৃষ্টির মধ্যে দাওয়ায় বসে ছিল। বাড়ির সামনেই সদ্য ধানকাটা একটি খেতে একদল বালক বৃষ্টির মধ্যে ফুটবল খেলছে। আসলে বালকেরা একটি জাম্বুরাকে ফুটবল বানিয়ে উদ্দেশ্যহীনভাবে তা নিয়ে ছোটাছুটি করছে। সে লক্ষ করল, বালকেরা এতে খুবই আনন্দ পাচ্ছে। উদ্দেশ্যহীন এ খেলাচ্ছলে আনন্দ-অবগাহনের সঙ্গে সাহিত্যচর্চার যে তুলনা প্রমথ চৌধুরী করেছেন, মুনিরের কাছে তা অত্যন্ত জুতসই 'বলে মনে হলো।

সাহিত্যের একমাত্র উদ্দেশ্য কী?

সাহিত্যের একমাত্র উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দ দেওয়া।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা (০)

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

সাহিত্যের মাধ্যমে কারো মনোরঞ্জন করা উচিত নয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

মনোরঞ্জন করা যদি সাহিত্য রচনার উদ্দেশ্য হয়, তাহলে সাহিত্যের প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে, তাই সাহিত্যের মাধ্যমে কারো মনোরঞ্জন করা উচিত নয়।' প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যকে মনোরঞ্জন বা শিক্ষাদানের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণের বিপক্ষে। সাহিত্যচর্চার উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দদান করা। মনোরঞ্জন করতে গেলে সাহিত্য স্বধর্মচ্যুত হয়ে যায়। লেখক তাঁর সাহিত্যকর্মের জন্য কৃতিত্ব, প্রশংসা ও বাহবা দাবি করতে পারেন। কিন্তু হাততালি ও বাহবা পাওয়া যদি সাহিত্য রচনার উদ্দেশ্য হয়, তাহলে সাহিত্যের প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে।

উত্তরের সারবস্তু: মনোরঞ্জন করা যদি সাহিত্য রচনার উদ্দেশ্য হয়, তাহলে সাহিত্যের প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। তাই সাহিত্যের মাধ্যমে কারো মনোরঞ্জন করা উচিত নয়।

#

উদ্দীপকের শিশুদের আনন্দ-অবগাহনের সঙ্গে সাহিত্যচর্চার যে তুলনা প্রমথ চৌধুরী করেছেন- তা ব্যাখ্যা করো।

প্রমথ চৌধুরী তাঁর 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে মননশীল দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে সাহিত্যের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সুচিন্তিত যে মত ব্যক্ত করেছেন তা উদ্দীপকে উদ্দেশ্যহীন খেলার সঙ্গে তুলনীয়। প্রমথ চৌধুরী 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে সাহিত্যচর্চাকে খেলা বলে অভিহিত করেছেন। সাহিত্য জগতে যাঁরা এ খেলা খেলতে চান শুধু তাঁদের কপালেই প্রশংসা জোটে। মানুষ ক্রীড়াপ্রিয়, তারা আনন্দের জন্যই খেলে। খেলার আনন্দ যেহেতু নিরর্থক, সেহেতু এতে সকলের অধিকার সমান। স্বয়ং সৃষ্টিকর্তাও একই উদ্দেশ্যে বিশ্ব সৃষ্টি করেছেন। কবি-সাহিত্যিকের সৃষ্টিও বিশ্ব সৃষ্টির অনুরূপ। প্রাবন্ধিকের মতে, সাহিত্যের সৃষ্টি অভাব দূর করার জন্য নয়, এর মূল লক্ষ্য স্ফূর্তি লাভ করা। লেখক আরও স্পষ্ট করে বলেন, সাহিত্যের উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দ দেওয়া, কারো মনোরঞ্জন করা নয়। উদ্দীপকে সদ্য ধানকাটা একটি খেতে একদল বালক জাম্বুরাকে ফুটবল বানিয়ে উদ্দেশ্যহীনভাবে ছোটাছুটি করছে। এতে বালকরা আনন্দই পাচ্ছিল। শিশুরা যেমন ফুটবল খেলাচ্ছলে উদ্দেশ্যহীন ছোটাছুটিতে আনন্দলাভ করছিল, আলোচ্য প্রবন্ধের মতে, সাহিত্যও তেমনই খেলাচ্ছলে পাঠককে আনন্দ দেয়। প্রাবন্ধিকের মতে, সাহিত্যরাজ্যে মনতুষ্টিকর খেলনা পেয়ে পাঠক তুষ্ট হতে পারে, কিন্তু লেখকের তাতে আনন্দ আসে না। আবার পাঠক আজ যে খেলনাকে আদর করছে, কাল তা নাও করতে পারে। সুতরাং উদ্দীপকের শিশুদের উদ্দেশ্যের মতোই সাহিত্যের উদ্দেশ্য হওয়া আবশ্যক।

উত্তরের সারবস্তু: উদ্দীপকের শিশুরা যেমন ফুটবল খেলাচ্ছলে উদ্দেশ্যহীন ছোটাছুটিতে আনন্দলাভ করছিল। আলোচ্য প্রবন্ধ মতে, সাহিত্যও তেমনই খেলাচ্ছলে পাঠককে আনন্দ দেয়। উদ্দীপকের শিশুদের উদ্দেশ্যের মতো নির্মল আনন্দলাভই সাহিত্যের উদ্দেশ্য হওয়া আবশ্যক।

#

মুনিরের উপলব্ধির যথার্থতা তোমার পঠিত 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের আলোকে মূল্যায়ন করো।

উদ্দীপকে মুনির বালকদের ফুটবল খেলাচ্ছলে জাম্বুরা নিয়ে ছোটাছুটির মধ্যে আনন্দ উপভোগের যে দৃশ্য দেখতে পেয়েছিল তা 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। প্রমথ চৌধুরী 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে সাহিত্যচর্চার সঙ্গে খেলাচ্ছলে আনন্দের তুলনা করা হয়েছে। লেখকের মতে, সাহিত্যচর্চার আদর্শ ও উদ্দেশ্য হলো সকলকে আনন্দদান করা, কারো মনোরঞ্জন করা নয়। হাততালি বা বাহবা পাওয়ার জন্য যদি সাহিত্য রচিত হয় তাহলে সাহিত্য তার আসল উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হবে। কেননা, মনোরঞ্জনের সামগ্রী আজ কেউ পছন্দ করতে পারে, কিন্তু কাল খেলতে খেলতে ভেঙেও ফেলতে পারে। খেলাচ্ছলে সাহিত্যচর্চায় আনন্দদানই সাহিত্যের প্রধান উদ্দেশ্য। আবার সাহিত্যের উদ্দেশ্য শিক্ষাদানও নয়। শিক্ষার উদ্দেশ্য জ্ঞানের বিষয় জানানো। পক্ষান্তরে, সাহিত্যের উদ্দেশ্য মানুষের মনে সাড়া জাগানো। উদ্দীপকের বালকেরা প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে যে খেলা খেলছিল, তা নিছক আনন্দ-অবগাহনের জন্যই। কোনো উদ্দেশ্য কাজ করেনি তাদের এ খেলার পিছনে,। প্রকৃত সাহিত্যের উদ্দেশ্যও একই, যা উদ্দীপকের মুনিরের উপলব্ধিতে ধরা দিয়েছে। সকলকে আনন্দ সওয়াই সাহিত্যিকের প্রধান কাজ। উদ্দীপকের মূলবক্তব্য খেলাচ্ছলে সাহিত্যচর্চা। আর এ বিষয় উদ্দীপকের মুনির অনুধাবন করেছেন। প্রকৃতপক্ষেই 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে লখক সাহিত্যকে খেলার সাথে তুলনা করেছেন। তাঁর মতে খেলার মতো আনন্দলাভই সাহিত্যচর্চার উদ্দেশ্য। তাই বলা যায়, মুনিরের উপলব্ধি প্রবন্ধের আলোকে যথার্থ।

উত্তরের সারবস্তু: প্রমথ চৌধুরী খেলাচ্ছলে সাহিত্যচর্চায় আনন্দদানকেই সাহিত্যের প্রধান উদ্দেশ্য বলে মনে করায় উদ্দীপকের শিশুদের উদ্দেশ্যহীনভাবে ছোটাছুটি করে আনন্দলাভ সম্পর্কিত মুনিরের উপলব্ধি সংগতিপূর্ণ।