- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- সাহিত্যে খেলা [গদ্য]
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
একশ্রেণির পাঠকের কাছে লেখক জুয়েল চৌধুরীর উপন্যাস খুবই প্রিয়। সাধারণত তরুণ-তরুণীর প্রেমের গল্প তীব্র আবেগী ভাষায় উপন্যাসে উপস্থাপন করেন তিনি। তাঁর লেখায় প্রেমের গল্পের পাশাপাশি সামাজিক-রাজনৈতিক বাস্তবতাও মাঝে মাঝে উঠে আসে, যা সহজেই পাঠকের মনোরঞ্জন করে। ফলে নবীন এ ঔপন্যাসিক দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।
উদ্দীপকের আলোকে 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে বর্ণিত মনোরঞ্জনধর্মী সাহিত্যের স্বরূপ তুলে ধরো।
'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে সাহিত্যের স্বরূপ ও তাৎপর্য প্রসঙ্গে মনোরঞ্জনধর্মী সাহিত্যের কথা বলা হয়েছে, যার সঙ্গে উদ্দীপকের মিল রয়েছে। 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক চিরায়ত ও মনোরঞ্জনধর্মী সাহিত্যের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, মনোরঞ্জনধর্মী সাহিত্য কখনোই চিরায়ত সাহিত্যের মর্যাদা পায় না। তাঁর মতে, সাহিত্যের মূল উদ্দেশ্য আনন্দদান করা, যা মনোরঞ্জনধর্মী সাহিত্যের মাধ্যমে সম্ভব নয়। খেলায় যদি আনন্দ ভিন্ন অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকে তবে সে খেলা হয় জুয়াখেলা আর জনপ্রিয়তা লাভের উদ্দেশ্য সাহিত্য রচনা করলে তা হয় মনোরঞ্জনধর্মী সাহিত্য। উদ্দীপকে উল্লিখিত লেখক জুয়েল তরুণ-তরুণীর সস্তা প্রেমের কাহিনি নির্মাণ করে জনপ্রিয়তা লাভ করেন। এ কাহিনির পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের মনোরঞ্জনের বিষয়টিও মাথায় রেখে সে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে উপন্যাস সাহিত্য রচনা করেছেন। তাঁর এই সাহিত্য পাঠকের মনোরঞ্জনের প্রাথমিক উদ্দেশ্য পূরণে সফল হলেও মহৎ সাহিত্য হয়ে উঠতে পারেনি। আলোচ্য প্রবন্ধেও বলা হয়েছে, এ ধরনের সাহিত্যে সাহিত্যিকের মননশীলতা ও চিন্তাশক্তির প্রকাশ দেখা যায় না বলে তা স্বধর্মচ্যুত হয়ে পড়ে এবং পাঠকসমাজে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে না।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে লেখক কোনটিকে গুরুর হাতের বেত নয় বলে উল্লেখ করেছেন?
'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে লেখক সাহিত্যকে গুরুর হাতের বেত নয় বলে উল্লেখ করেছেন।
'তিনি গীতের মর্মও বোঝেন না, গীতার ধর্মও বোঝেন না।'- উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
যাঁরা পাঠকের মনোরঞ্জনের উদ্দেশ্যে সাহিত্য রচনা করেন তাঁরা সাহিত্যের মর্ম বুঝতে অক্ষম প্রশ্নোক্ত উক্তিটির মাধ্যমে তাঁদের সমালোচনা করে প্রাবন্ধিক একথা বলেছেন।
সাহিত্য রচিত হয় লেখকের মনের আনন্দের জন্য এবং অন্যকে আনন্দ দেওয়ার জন্য। এর বাইরে অন্য কোনো ফললাভের আশা লেখকদের করা উচিত নয় বলে প্রমথ চৌধুরী মনে করেন। যাঁরা আনন্দ ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে সাহিত্য রচনা করেন তাঁরা যে সাহিত্যের মর্ম বুঝতে অক্ষম, সে বিষয়টি প্রশ্নোক্ত উক্তির মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে।
সাহিত্যের লক্ষ্যের প্রশ্নে উদ্দীপকের সঙ্গে 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের পার্থক্য বিচার করো।
উদ্দীপকে সাহিত্য রচনার লক্ষ্য হিসেবে যে দৃষ্টান্ত উল্লিখিত হয়েছে তার সঙ্গে 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের মতাদর্শগত পার্থক্য বিস্তর। 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের প্রাবন্ধিকের মতে, খেলাধুলায় যেমন নির্মল আনন্দ ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই, তেমনই সাহিত্য সৃষ্টির খেলাতেও অনাবিল আনন্দ ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্য বা কামনা-বাসনা থাকতে পারে না। উদ্দেশ্য প্রণোদিত খেলা যেমন জুয়াখেলার নামান্তর, তেমনই মনোরঞ্জনধর্মী সাহিত্যও প্রকৃত সাহিত্য হিসেবে গণ্য হওয়া উচিত নয়। উদ্দীপকে জুয়েল চৌধুরী নামে যে সাহিত্যিকের কথা উপস্থাপন করা হয়েছে তিনি একজন সস্তাশ্রেণির ঔপন্যাসিক। তাঁর লক্ষ্য পাঠকের মনোরঞ্জন করা এবং এর মধ্য দিয়ে সাহিত্যের বাজারে প্রতিষ্ঠিত হওয়া। পাঠকপ্রিয়তার কথা ভেবেই রচনায় সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা সংযোজন করেন তিনি। এভাবে তিনি নির্মল আনন্দের পরিবর্তে একধরনের উত্তেজনা সৃষ্টি করেন, যা বাহবা পাওয়ার জন্য যথেষ্ট। প্রাবন্ধিক মনে করেন, খেলাধুলায় যেমন নির্মল আনন্দ ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকে না, তেমনই সাহিত্য সৃষ্টির খেলাতেও অনাবিল আনন্দ ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে না। 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে সাহিত্যচর্চার উদ্দেশ্য প্রসঙ্গে লেখক যে মত ব্যক্ত করেছেন, উদ্দীপকের দৃষ্টান্তটির সঙ্গে তার সম্পর্ক বিরোধপূর্ণ। প্রাবন্ধিকের মতে, সাহিত্য যদি বিশেষ উদ্দেশ্যে রচিত হয় তবে তার মূল লক্ষ্য ব্যাহত হয়। কারণ বিশেষ উদ্দেশ্য সাধন বা বিশেষ কারো মনোতুষ্টি সাহিত্যের উদ্দেশ্য নয়। উদ্দীপকে এমন একজন ঔপন্যাসিকের দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হয়েছে, যিনি পাঠকের কাছে নিজের জনপ্রিয়তাকে মাথায় রেখে বা অন্যভাবে বলা চলে পাঠকের মনোরঞ্জনের জন্যই সাহিত্য সৃষ্টি করতে অভ্যস্ত। তাই বলা যায়, সাহিত্যের লক্ষ্যের প্রশ্নে উদ্দীপকের সঙ্গে 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের বিস্তর পার্থক্য বিদ্যমান।

