- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- সাহিত্যে খেলা [গদ্য]
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
অবসর সময়ে কবিতা, উপন্যাস পড়ে আনন্দ পায় অনিন্দিতা। তার ছোটো ভাই অপূর্ব সময় কাটায় ফুটবল খেলে ও টেলিভিশনের খেলা দেখে। দুইজনের উদ্দেশ্যই মূলত আনন্দ লাভ। তবে এর পরিণতিতে পার্থক্যও আছে। অনিন্দিতার আনন্দ উপভোগের মধ্য দিয়ে তার মানসিক পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। কিন্তু অপূর্বের আনন্দ উপভোগ মানসিকতার উপর তেমন প্রভাব ফেলে না। এ হলো ফুটবল খেলা ও সাহিত্য উপভোগের মধ্যে ঈষৎ পার্থক্য।
'এ হলো ফুটবল খেলা ও সাহিত্য উপভোগের মধ্যে ঈষৎ পার্থক্য।'- উক্তিটি 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাখ্যা করো।
উদ্দীপকে সাহিত্যের সঙ্গে ফুটবল খেলার তুলনামূলক চিত্র উপস্থাপন করায় তা 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের মূল উদ্দেশ্যকে ধারণ করতে পেরেছে। 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে লেখক খেলার ময়দানের কথা বলেছেন, যেখানে ধনী-গরিব, ব্রাহ্মণ-শূদ্রের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই। এখানে খেলার জন্য কাউকে জোর করতে হয় না। আবার কারো উপর কোনোকিছু চাপিয়েও দেওয়া হয় না। স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ খেলায় সবাই যোগদান করে। কারণ এ খেলার একমাত্র উদ্দেশ্যই হলো আনন্দদান করা।
সাহিত্যজগতে সবার বিচরণের অধিকার রয়েছে। এখানে কাউকে আহ্বানের প্রয়োজন নেই। কারণ সাহিত্যের উদ্দেশ্যও আনন্দদান করা তবে এ আনন্দের মাধ্যমে মানুষের ব্যক্তিত্ব গঠিত হয়। যা উদ্দীপকের অনিন্দিতার মাঝে লক্ষ করা যায়। কেননা, সাহিত্যপাঠের মাধ্যমে আনন্দলাভের পাশাপাশি তার ব্যক্তিত্বও গঠিত হয়েছে। পক্ষান্তরে, তার ভাই অপূর্ব ফুটবল খেলে শুধু আনন্দই পেয়েছে কিন্তু তার ব্যক্তিত্ব গঠিত হয়নি। মূলত সাহিত্যে খেলা ও ফুটবল খেলার মধ্যে পার্থক্য এখানেই। যা আলোচ্য 'সাহিত্য খেলা' প্রবন্ধেও ফুঠে উঠেছে।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
'জনসাধারণের চোখের সম্মুখে থাকবার লোভে আমরাও অগত্যা ____ ঘণ্টা টঙে চড়ে থাকতে চাই।'- শূন্যস্থানে কী বসবে?
জনসাধারণের চোখের সম্মুখে থাকবার লোভে আমরাও অগত্যা চব্বিশ ঘণ্টা টঙে চড়ে থাকতে চাই।
সাহিত্য ছেলের হাতের খেলনা নয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
সাহিত্যের ভিতর সম্পূর্ণ আত্মনিবেদন না করলে এর মর্মার্থ উপলব্ধি করা সম্ভব হয় না। এ কারণেই সাহিত্য ছেলের হাতের খেলনা নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে সাহিত্যের প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে কথাটি বলা হয়েছে। মানুষ তাঁর আত্মিক প্রয়োজন মেটানোর জন্য সাহিত্যপাঠ করে। এর ভিতর সে এক নিবিড় আনন্দও উপভোগ করে। কিন্তু তার অর্থ এ নয়, সাহিত্যের অর্থ উপলব্ধি করা খুব সহজ বিষয়। এর অর্থ উপলব্ধি করতে হলে পাঠককে সচেতন হতে হয়। সাহিত্যের ভিতর সম্পূর্ণ আত্মনিবেদন করলে তবেই এর মর্মার্থ উপলব্ধি করা সম্ভব। তাই লেখক বলেছেন, সাহিত্য ছেলের হাতের খেলনা নয়।
'উদ্দীপকটি 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের মূল বিষয়বস্তু ধারণ করতে পেরেছে কি? সার্থকতা বিচার করো।
সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে মননশীল বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে সাহিত্যের প্রকৃত তাৎপর্য উপস্থাপিত হয়েছে, যা উদ্দীপকের বিষয়বস্তুকে ধারণ করতে পেরেছে বলে মনে করি। 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে সাহিত্যের উদ্দেশ্য সম্পর্কে লেখক তাঁর সুচিন্তিত মতামত ব্যক্ত করেছেন। বিভিন্ন ধরনের প্রসঙ্গ টেনে লেখক সাহিত্যের খেলার সঙ্গে অন্য খেলার পার্থক্য উপস্থাপন করেছেন। উদ্দীপকে দুই ধরনের আনন্দের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে ফুটবল খেলায় রয়েছে শুধু আনন্দ, এর পিছনে আর কোনো উদ্দেশ্য নেই। অন্যদিকে, বই পড়া বা সাহিত্যে খেলার উদ্দেশ্যও আনন্দ দেওয়া, তবে এ আনন্দের সঙ্গে ফুটবল খেলার আনন্দের ঈষৎ পার্থক্য রয়েছে। সাহিত্যের আনন্দের মধ্যে ব্যক্তিমানসের পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। কারণ সাহিত্য হলো উদ্দেশ্যহীন মানসিক চিত্তের প্রকাশ। আর চিত্তবৃত্তি উন্নত হলে মানসিক বিকাশেরও অগ্রগতি হয়। অপরপক্ষে, ফুটবল খেলার উদ্দেশ্য শুধুই আনন্দ। এর মাধ্যমে শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন হলেও মানসিক অবস্থার বিশেষ পরিবর্তন ঘটে না। 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক সাহিত্যের উপযোগ ও সাহিত্যের প্রকৃত উদ্দেশ্যে ব্যক্ত করার মাধ্যমে আমাদের মনকে স্পর্শ করার প্রয়াস পেয়েছেন। প্রাবন্ধিকের চিন্তার এ প্রায়োগিক দিকটিই আমরা উদ্দীপকে লক্ষ করি। উদ্দীপকে অনিন্দিতা বই পড়ে আনন্দ উপভোগের পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য তার ব্যক্তিত্বকে গঠন করেছে। পাশাপাশি তার ভাই অপূর্ব ফুটবল খেলে শুধুই আনন্দ পেয়েছে কিন্তু তার ব্যক্তিত্বকে সেভাবে গঠন করতে পারেনি। উদ্দীপকের এ দুইটি ঘটনাই 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের মূল বিষয়বস্তুকে সার্থকভাবে ধারণ করতে পেরেছে বলে মনে করি।

