• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • ঝরনার গান (কবিতা)
ঝরনার গান (কবিতা)

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

শুকুর মিয়া একজন কৃষক এবং এলাকায় লোককবি হিসেবে পরিচিত। তিনি কাজের অবসরে পুঁথি ও আঞ্চলিক গান রচনা করেন। সারা দিনের কাজ শেষে প্রতিদিন সন্ধ্যাবেলা তিনি বাড়ির আঙিনায় বসে পুঁথি পাঠ করেন। তার এই আসরে অনেকের সমাগম ঘটে। কেবল মানুষকে আনন্দ দেওয়ার জন্যই তিনি নতুন নতুন গান ও পুঁথি লেখেন।

'আমরা চাই মুগ্ধ চোখ' বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?

'আমরা চাই মুগ্ধ চোখ'- বলতে ঝরনার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয় এমন চোখকে বোঝানো হয়েছে। 'ঝর্ণার গান' কবিতায় কবি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপার নিদর্শন ঝরনার রূপবৈচিত্র্য তুলে ধরেছেন। ঝরনা শুধু সৌন্দর্য ছড়িয়েই তৃপ্ত থাকে না, সে তার সৌন্দর্য উপভোগকারীদের মুগ্ধ-দৃষ্টিও প্রত্যাশা করে। সে চায় সৌন্দর্য বিস্তার করে তার অবিরাম ছুটে চলা অবলোকন করে কেউ মুগ্ধ হোক এবং তার সৌন্দর্যের প্রশংসা করুক। কারণ সৌন্দর্যপিপাসুরা প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করে এবং মুগ্ধ হয়।

সারকথা: ঝরনা তার সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য সৌন্দর্য পিপাসু মানুষের মুগ্ধ চোখ প্রত্যাশা করেছে।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা (০)

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

'ফটিক জল' অর্থ কী?

'ফটিক জল' অর্থ হচ্ছে চাতক পাখি।

#

উদ্দীপকের শুকুর মিয়ার কর্মকান্ডের সঙ্গে 'ঝর্ণার গান' কবিতার বৈসাদৃশ্য কতটুকু? ব্যাখ্যা কর।

উদ্দীপকের শুকুর মিয়ার কর্মকান্ডের সঙ্গে 'ঝর্ণার গান' কবিতার অবস্থানগত ও প্রেক্ষাপটের বৈসাদৃশ্য রয়েছে। প্রকৃতি সৌন্দর্যের অকৃত্রিম উৎস। বন, পাহাড়, নদী, সাগর, ঝরনা, ফুল, পাখি সবকিছুই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের উৎস। মানুষ প্রকৃতির এসব উৎস থেকে আনন্দ লাভ করে। উদ্দীপকের শুকুর মিয়া সারা দিনের কাজ শেষে প্রতি সন্ধ্যায় পুঁথি পাঠ করেন। মানুষকে আনন্দ দেওয়ার জন্য তিনি পুঁথি রচনা করেন এবং তা গড়ে শুনিয়ে মানুষকে আনন্দ দেন। এখানে তার পুঁথি সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্য মানুষের মনে আনন্দের। শুকুর মিয়া ও তার সৃষ্ট পুঁথি কোনোটিই প্রাকৃতিক উপাদান নয়। 'ঝর্ণার গান' কবিতায় ঝরনা পাহাড়ের নিস্তব্ধতা ভেদ করে, নির্জন দুপুরের ভয়াবহতা ঠেলে নিজের প্রাকৃতিক নিয়মে আছড়ে পড়ে পাথরের বুকে তার সর্বস্ব নিয়ে। তার এই চলা অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর। আমাদের চোখ জুড়িয়ে যায়। এখানে ঝরনা প্রকৃতির উপাদান ও সৃষ্টি। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের শুকুর মিয়ার কর্মকান্ডের সঙ্গে 'ঝর্ণার গান' কবিতার অবস্থানগত ও প্রেক্ষাপটের বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান।

সারকথা: উদ্দীপকের শুকুর মিয়া পুঁথি পাঠ করে মানুষকে আনন্দ দেয়। 'ঝর্ণার গান' কবিতায় ঝরনাও সৌন্দর্য ছড়িয়ে মানুষকে আনন্দ দেয়। তবে তাদের অবস্থান ভিন্ন।

#

"মানুষকে আনন্দ দেওয়ার বেলায় নতুন সৃষ্টির ক্ষেত্রে উদ্দীপকের শুকুর মিয়া ও 'ঝর্ণার গান' কবিতার ঝরনা যেন একে অন্যের পরিপূরক।"- বিশ্লেষণ কর।

"মানুষকে আনন্দ দেওয়ার বেলায় নতুন সৃষ্টির ক্ষেত্রে উদ্দীপকের শুকুর মিয়া ও 'ঝর্ণার গান' কবিতার ঝরনা যেন একে অন্যের পরিপূরক।"- মন্তব্যটি যথার্থ। মানুষ যেখান থেকেই হোক তার আনন্দ সংগ্রহ করে নেয়। তবে সবসময় একই বিষয়বস্তু থেকে আনন্দ নেয় না। কখনো প্রকৃতি থেকে আনন্দ গ্রহণ করে, আবার কখনো মানুষের সৃজনশীল সৃষ্টি থেকে। মানুষের জীবনে সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্য আনন্দের কোনো বিকল্প নেই। উদ্দীপকে শুকুর মিয়ার পুঁথি লেখা ও পাঠ করার মধ্য দিয়ে মানুষকে আনন্দ দানের বিষয়টি ফুটে উঠেছে। উদ্দীপকের শুকুর মিয়া সারা দিনের কাজের শেষে শুধু মানুষকে আনন্দ দিতে স্বরচিত পুঁথি পাঠ করেন। নিজের নতুন সৃষ্টি দিয়ে তিনি মানুষকে আনন্দ দিয়েছেন। 'ঝর্ণার গান' কবিতায় প্রকৃতির মাঝে ঝরনার অবিরাম ও নির্ভীক আবির্ভাব ও ছুটে চলায় রূপবৈচিত্র্য প্রকাশ পেয়েছে। প্রকৃতির সৌন্দর্যের মাঝে ঝরনা অন্যতম। প্রাকৃতিক নিয়মে সবকিছু উপেক্ষা করে ঝরনা পাথরের বুকে আছড়ে পড়ে। ঝরনার এই মনোমুগ্ধকর চলার ধ্বনি ও মূর্ছনা স্তব্দ প্রকৃতি ও পাথরের বুকে চারদিকে আনন্দের বার্তা ছড়িয়ে দেয়। উদ্দীপকে পুঁথি রচনা ও পাঠ করে মানুষকে আনন্দ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। 'ঝর্ণার গান' কবিতায় ঝরনাও অবিরাম চলার মধ্য দিয়ে প্রকৃতির মাঝে আনন্দ ছড়িয়ে দেয়। শুকুর মিয়া পুঁথি লিখে এবং পাঠ করে মানুষকে যে আনন্দ দিয়েছেন তা ঝরনার আনন্দ দানের সঙ্গে এক সূত্রে গাঁথা। ঝরনা প্রকৃতির মাঝে, তার চলার ছন্দ দিয়ে, রূপবৈচিত্র্য দিয়ে আনন্দের সঞ্চার ঘটিয়ে মানুষকে মুগ্ধ করে। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সারকথা: উদ্দীপকে শুকুর মিয়া স্বরচিত পুঁথি পাঠ করে মানুষের মনে যে আনন্দ দেয় তা 'ঝর্ণার গান' কবিতার ঝরনা আপন ছন্দে ছুটে চলে যে আনন্দ দেয় তার সঙ্গে একসূত্রে গাঁথা।