• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • ঝরনার গান (কবিতা)
ঝরনার গান (কবিতা)

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

ঝরনা, ঝরনা, সুন্দরী ঝরনা
তরলিত চন্দ্রিকা! চন্দন-বর্ণা।
অঞ্চল সিঞ্চিত গৈরিকে স্বর্ণে
গিরি-মল্লিকা দোলে কুন্তলে কর্ণে
তনু ভরি 'যৌবন' তাপসী অপর্ণা।
ঝরনা!

উদ্দীপকটি 'ঝরনার গান' কবিতার বক্তব্যকে কতটুকু ধারণ করে? যৌক্তিক বিশ্লেষণ কর।

উদ্দীপকটি 'ঝরনার গান' কবিতার আংশিক বক্তব্য ধারণ করে। বিশ্বপ্রকৃতি নানা রকম সৌন্দর্যের আধার। প্রকৃতি বন-বনানী, নদ-নদী, সাগর, পাহাড় প্রভৃতির বৈচিত্র্যময় সৌন্দর্য দিয়ে মানুষকে মুগ্ধ করে। মানুষের এই আনন্দ ও মুগ্ধতার মধ্যেই প্রকৃতির সার্থকতা বিরাজমান। 'ঝরনার গান' কবিতায় কবি স্তব্ধ পাথরের বুকে আনন্দের পদচিহ্ন এঁকে যাওয়া ঝরনার চিত্রকল্প এঁকেছেন। পাহাড় যেখানে দৈত্যের মতো ঘাড় ঘুরিয়ে ভয় দেখায়, যেখানে লোকজন নেই, যে জায়গা নীরব-নিভৃত সেখানে আনন্দময় পদধ্বনিতে নেমে আসে ঝরনার সেই সাদা জলরাশির ধারা। কবি তাঁর অনুভব দিয়ে ঝরনার আনন্দ টের পেয়েছেন এবং কবিতাটিতে ঝরনার সেই আনন্দকেই প্রকাশ করেছেন। নিস্তব্ধ দুপুরে ঝরনা চঞ্চল পায়ে বাধা ডিঙিয়ে অবিরত ছুটে চলে। উদ্দীপকেও ঝরনার রূপসৌন্দর্যের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। কবি ঝরনার সৌন্দর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ঝরনাকে ভরা যৌবনা বলে উল্লেখ করেছেন। ঝরনার বর্ণ চন্দন তুল্য। এই রূপসৌন্দর্যের দিক থেকে উদ্দীপক ও 'ঝরনার গান' কবিতার সাদৃশ্য রয়েছে। উদ্দীপকে শুধু ঝরনার সৌন্দর্যই বর্ণনা করা হয়েছে। তবে কবিতায় যেমন ঝরনার সৌন্দর্যের পাশাপাশি তার ছুটে চলা এবং দিগ্বিদিক ঝিলমিলিয়ে প্রবহমানতার দিকটির উল্লেখ আছে তেমন বর্ণনা উদ্দীপকে নেই। এই বিবেচনায় তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি 'ঝরনার গান' কবিতার আংশিক বক্তব্য ধারণ করে।

সারকথা: পাহাড়ি ঝরনার ছুটে চলায় এক অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ফুটে ওঠে। এই সৌন্দর্য বিস্তারের দিক থেকে উদ্দীপকটি 'ঝরনার গান' কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এছাড়া 'ঝরনার গান' কবিতায় ঝরনার অন্যান্য যে বৈশিষ্ট্যের পরিচয় দেওয়া হয়েছে সেগুলো উদ্দীপকে নেই। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে আংশিক বক্তব্য প্রকাশ পেয়েছে।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা (০)

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

বিজন দেশে কী নেই?

বিজন দেশে কূজন নেই।

#

'চকোর চায় চন্দ্রমায়' কথাটি বুঝিয়ে লেখ।

'চকোর চায় চন্দ্রমায়' বলতে চকোর পাখির স্নিগ্ধ জোছনালোক প্রত্যাশাকে বোঝানো হয়েছে। 'চকোর' এক ধরনের পাখিবিশেষ। কবির কল্পনা অনুযায়ী এই পাখি চাঁদের আলো পান করে। এই পাখি যেমন চন্দ্রালোকের প্রত্যাশায় অধীর আগ্রহে দিনাতিপাত করে, ঝরনাও তেমনই সুন্দরের তৃষ্ণায় তৃষ্ণার্ত সুজনের খোঁজে বিরামহীন পথ চলে। ঝরনার অপরূপ রূপে যে মুগ্ধ হবে তার সন্ধানে ঝরনার নিরলস প্রচেষ্টা। ঝরনার এই প্রচেষ্টাকে চকোরের চাওয়া চন্দ্রমার সাথে তুলনীয়। চকোর পাখি যেমন রাতের বেলা চাঁদের স্নিগ্ধ আলো চায়, তেমনই ঝরনাও সৌন্দর্য উপভোগকারী তৃষ্ণার্ত দর্শকের খোঁজ করে।

সারকথা: রাতের বেলায় চাঁদের আলো চকোর পাখিকে মুগ্ধ করে, সে জন্য চকোর সেই জোছনালোকের অপেক্ষায় থাকে।

#

উদ্দীপক ও 'ঝরনার গান' কবিতার আলোকে ঝরনার সৌন্দর্য ব্যাখ্যা কর।

উদ্দীপক ও 'ঝরনার গান' কবিতায় ঝরনার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের রূপ প্রকাশ পেয়েছে।
ফুল, গাছ, লতা-পাতা, পাহাড়, নদী, ঝরনা এসবই প্রকৃতির উপাদান। এগুলো আমাদের চারপাশের জগৎকে করেছে মোহনীয়। প্রকৃতির এই সৌন্দর্য আমাদের মুগ্ধ করে। 'ঝরনার গান' কবিতায় পাহাড়ের বুক থেকে ঝরনার চঞ্চল গতিতে নেমে আসার কথা বলা হয়েছে। স্তব্ধ পাথরের বুকে আনন্দের চিহ্ন রেখে ঝরনা অবিরাম ছুটে চলে। তার চলার ধ্বনি ও সৌন্দর্য অসাধারণ। তার জলধারার সৌন্দর্যে সবাই মুগ্ধ হয়। চঞ্চল পায়ে ঝরনা আপন গতিতে গন্তব্যের দিকে ধাবিত হয়। উদ্দীপকেও প্রকৃতির সৌন্দর্যের দিকটি প্রকাশিত হয়েছে। ঝরনার সৌন্দর্য ও গতিশীলতা তুলে ধরা হয়েছে। ঝরনাকে ভরা যৌবনা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ভরা যৌবনা দ্বারা মূলত ঝরনার রূপ ও সৌন্দর্য প্রকাশ করাই কবির মূল উদ্দেশ্য। এভাবে রূপসৌন্দর্যের দিক থেকে উদ্দীপকটি এবং 'ঝরনার গান' কবিতাটি সাদৃশ্যপূর্ণ।

সারকথা: ছন্দময় শব্দে ঝরনা পাহাড়ের গা বেয়ে নিচে নেমে আসে। মুক্তো দানার মতো জল ছিটিয়ে ঝরনার এই চলার সৌন্দর্য মানুষকে মুগ্ধ করে। উদ্দীপক ও কবিতায় এই বিষয়টি অভিন্নভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। উভয়ের চলার গতিছন্দে সাদৃশ্য রয়েছে।