- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- মধ্যযুগের বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস (১২০৪-১৭৫৭ খ্রিষ্টাব্দ)
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
রাজা গণেশ ও হাবসি শাসন
সাধারণভাবে বলা হয়ে থাকে, বাংলার ইতিহাসের দুই'শ বছর (১৩৩৮-১৫৩৮ খ্রিষ্টাব্দ) মুসলমান সুলতানদের স্বাধীন রাজত্বের যুগ। তথাপি এই দুই'শ বছরের মাঝামাঝি অল্প সময়ের জন্য কিছুটা বিরতি ছিল। গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র সাইফুদ্দিন হামজা শাহ সিংহাসনে বসেন। কিন্তু এ সময় অভিজাতদের মধ্যে ক্ষমতা দখল নিয়ে ষড়যন্ত্র চলতে থাকে। তিনি এক বছর শাসন করার পর ১৪১২ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর ক্রীতদাস শিহাব উদ্দিনের হাতে নিহত হন। শিহাব উদ্দিন সুলতান হয়ে নিজের নাম নেন 'শিহাব উদ্দিন বায়াজিদ শাহ'। কিন্তু দুই বছরের মাথায় ১৪১৪-১৫ খ্রিষ্টাব্দে তিনিও ষড়যন্ত্রকারীদের হাতে নিহত হন। এ সুযোগে অভিজাতদের মধ্য থেকেই রাজা গণেশ বাংলার ক্ষমতা দখল করেন।
বাংলার সুলতান আজম শাহের একজন উচ্চপদস্থ অমাত্য ছিলেন রাজা গণেশ। জানা যায় গণেশ প্রথমে দিনাজপুরের ভাতুরিয়া অঞ্চলের একজন রাজা ছিলেন। তিনি সুলতানের দরবারে চাকরি নেন। চাকরি নিয়েই তিনি অন্যান্য অভিজাতদের মতোই রাজনৈতিক শক্তি সঞ্চয় করতে থাকেন। তাঁর ইচ্ছে ছিল মুসলমানদের মতো রাজসিংহাসনে আরোহণ করা। এ লক্ষ্যেই তিনি ইলিয়াস শাহি বংশ উচ্ছেদ করে নিজে ক্ষমতায় বসেন। এ প্রক্রিয়ায় গণেশ অনেক মানুষকে হত্যা করেন। তার হাত থেকে মুসলমানদের রক্ষা করার জন্য দরবেশদের নেতা নূর কুতুব-উল-আলম জৌনপুরের সুলতান ইব্রাহিম শর্কির নিকট আবেদন জানান। ইব্রাহিম শর্কি সসৈন্যে বাংলায় উপস্থিত হলে গণেশ ভয় পেয়ে যান। অবশেষে, তিনি আপস করেন দরবেশ নূর কুতুব-উল-আলমের সাথে। শর্ত অনুযায়ী গণেশ তাঁর ছেলে যদুকে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করেন এবং ছেলের হাতে বাংলার সিংহাসন ছেড়ে দেন। মুসলমান হওয়ার পর যদুর নাম হয় জালালউদ্দিন মাহমুদ। সুলতান ইব্রাহিম শর্কি জালালউদ্দিনকে সিংহাসনে বসিয়ে ফিরে যান নিজ দেশ জৌনপুরে।
গণেশ দুইবার সিংহাসনে বসেছিলেন। প্রথমবার কয়েক মাস মাত্র ক্ষমতায় ছিলেন। ১৪১৫ খ্রিষ্টাব্দের মাঝামাঝি ইব্রাহিম শর্কি জালালউদ্দিন মাহমুদ শাহকে সিংহাসনে বসান। ইব্রাহিম শর্কি ফিরে গেলে নিজেকে নিরাপদ মনে করেন গণেশ। তখন জালালউদ্দিনকে সিংহাসন থেকে সরিয়ে দিয়ে পুনরায় নিজে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। গণেশ ১৪১৮ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন। রাজা গণেশের মৃত্যুর পর হিন্দু অমাত্যগণ গণেশের পুত্র মহেন্দ্রদেবকে বঙ্গে সিংহাসনে বসান। কিন্তু অতি অল্পকালের মধ্যেই মহেন্দ্রদেবকে অপসারিত করে গণেশের পুত্র জালালউদ্দিন দ্বিতীয়বার বঙ্গের সিংহাসনে আরোহণ করেন। এ পর্যায়ে তিনি একটানা ১৪৩১ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন।
এ শাসকের সময় বাংলার রাজ্যসীমা অনেক বৃদ্ধি পায়। প্রায় সমগ্র বাংলা এবং আরাকান ব্যতীত ত্রিপুরা ও দক্ষিণ বিহারেরও কিছু অংশ সাময়িকভাবে তাঁর রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়। রাজ্যের বিভিন্ন টাকশাল থেকে তাঁর নামে মুদ্রা প্রকাশিত হয়েছিল। পাণ্ডুয়া থেকে তিনি গৌড়ে তাঁর রাজধানী স্থানান্তর করেছিলেন।
জালালউদ্দিন মাহমুদ শাহের মৃত্যুর পর তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র শামসুদ্দিন আহমদ শাহ বাংলার সিংহাসনে বসেন। ১৪৩৩ খ্রিষ্টাব্দে আহমদ শাহ অমাত্যবর্গের ষড়যন্ত্রে সাদি খান ও নাসির খান নামক ক্রীতদাসের হাতে নিহত হন। এভাবে রাজা গণেশ ও তাঁর বংশধরদের প্রায় ত্রিশ বছরের রাজত্বের অবসান ঘটে।
একক কাজ
১. সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ শিক্ষা-সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষক ছিলেন প্রমাণ করো।
২. রাজা গণেশের উত্থানের কারণ বিশ্লেষণ করো।
মধ্যযুগের বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস (১২০৪-১৭৫৭ খ্রিষ্টাব্দ) - অন্যান্য প্রশ্ন
সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ

