- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- অনার্স
- আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তার আর্থসামাজিক পটভূমি
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
জাতি গঠনে জাতীয়তাবাদের উপাদানসমূহ আলোচনা কর।
ভূমিকা: কালক্রমে যেসব ভাবাদর্শ দেশ ও জাতির জীবনে গভীরভাবে রেখাপাত করেছে তাদের মধ্যে জাতি হচ্ছে অন্যতম একটি ভাবাদর্শ। ব্রিটিশ শাসন-শোষণ থেকে মুক্তি পেতে এ জাতিতত্ত্বটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। যেমন-১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে বিভক্ত হয়।
জাতি গঠনের উপাদানসমূহ: জাতি গঠনের অন্যতম উপাদানগুলো নিম্নে আলোচনা করা হলো:
১. ভৌগোলিক ঐক্য: ভৌগোলিক ঐক্য ও নৈকট্য জাতি গঠনের অন্যতম উপাদান। একই ভৌগোলিক সীমারেখায় বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর মধ্যে একটি চেতনা সৃষ্টি হয়। তারা ভাবতে থাকে তারা এক এবং অভিন্ন জাতি।
২. ভাষাগত ঐক্য: ভাষাগত ঐক্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। যেমন- ১৯৫২ সালের বাংলা ভাষার আন্দোলন যা বাঙালিদেরকে উদ্বুদ্ধ করেছিল য়ে তারা সবাই বাঙালি এবং তারা এক জাতি আর সেটা হচ্ছে বাঙালি।
৩. ধর্মীয় ঐক্য: জাতি গঠনের শক্তিশালী উপাদানের মধ্যে ধর্মীয় ঐক্য অন্যতম একটি উপাদান। পৃথিবীর অনেক দেশেই এই ধর্মীয় ঐক্যের কারণে আলাদা জাতি-রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়েছে। যেমন- ১৯৪৭ সালে ধর্মীয় ঐক্যের ভিত্তিতে ভারত এবং পাকিস্তানের সৃষ্টি হয়েছে।
৪. অর্থনৈতিক ঐক্য অর্থনৈতিক ঐক্য অনেক ক্ষেত্রে জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যখন কোনো জনসমষ্টির অর্থনৈতিক স্বার্থ কিংবা অর্থনৈতিক সাম্যের ধারণা উক্তজন মষ্টিকে একাত্ম করে তোলে, তখন তাদের মধ্যে জাতীয়তার চেতনা উজ্জীবিত হয়।
৫. ইতিহাস, ঐতিহ্য ও কৃষ্টি: একই ইতিহাস, ঐতিহ্য ও কৃষ্টির ধারণায় আবদ্ধ জনসাধারণের মধ্যে জয়-পরাও..., গৌরব-গ্লানি তাদের মধ্যে জাতি রাষ্ট্র গঠনের উৎসাহ-উদ্দীপনা জোগায়।
৬. বংশগত ঐক্য: রক্তের বন্ধন জাতি গঠনে অতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যখন জনসমষ্টির অধিকাংশই মনে করে তারা একই বংশোদ্ভূত তখন জাতি গঠনের চেতনা সৃষ্টি হয়।
উপসংহার: উপরোক্ত আলোচনার পরিশেষে বলা যায় যে, জাতি বলতে রাজনৈতিক চেতনাসম্পন্ন জনসমষ্টিকে বোঝায় যারা একই ধর্ম বা ভাষা, অথবা ইতিহাস ঐতিহ্যের বন্ধনে আবদ্ধ। জাতি হচ্ছে একটি কল্পিত সম্প্রদায় যারা বিভিন্ন কারণে নিজেদের এক মনে করে।
আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তার আর্থসামাজিক পটভূমি - অনন্যা প্রশ্ন
সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ

