• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • হিটলার ও মুসোলিনীর উত্থান
হিটলার ও মুসোলিনীর উত্থান

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

হিটলারের ক্ষমতা দখল

নাৎসিবাদের জনক ও নাৎসি দলের নেতা এডলফ হিটলার ১৮৮৯ খ্রিষ্টাব্দের ২০শে এপ্রিল অস্ট্রিয়ার ব্রাউনাউতে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা অ্যালোয়েস হিটলার ছিলেন অস্ট্রীয় সরকারের শুল্ক বিভাগের একজন সাধারণ কর্মচারী। ১৩ বছর বয়সে তিনি পিতাকে হারান। তার মায়ের নাম ক্লারা হিটলার। অনেক ভাই-বোনের সঙ্গে পিতৃহারা হিটলারের জীবন অতিবাহিত হয় চরম দুঃখ-দারিদ্র্যে। লিন্‌ন্জ নামক শহরে মাধ্যমিক স্কুলে ভর্তি হলেও পড়াশোনা বেশিদূর অগ্রসর হয়নি। পরে তিনি লাসবাক, স্ট্রেইয়ারে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ভিয়েনায় চলে এসে একাডেমি অব আর্টস-এ ভর্তি হওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। জীবনের কয়েকটি বছর এখানে অতিবাহিত করে রাজনীতিতে বিশেষভাবে আকৃষ্ট হয়ে পড়েন। এ সময় তার মধ্যে মার্কস ও ইহুদিবিদ্বেষ, উগ্র জাতীয়তাবাদ ও গণতন্ত্রবিরোধী ভাবধারা জন্ম নেয়। ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে তিনি মিউনিখে যান এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে তাতে যোগ দিয়ে ল্যান্স কর্পোরাল পদেউন্নীত হন। যুদ্ধে জার্মানির পরাজয় ও তার উপর চাপিয়ে দেওয়া ভার্সাই সন্ধি অন্য জার্মানদের মতো তার মনেও বিশেষ প্রভাব ফেলে। তিনি একে দেখেছেন ক্রোধ দিয়ে এবং গ্রহণ করেছেন প্রতিশোধ গ্রহণের বোধ নিয়ে। ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দের মাঝামাঝি সময়ে জার্মান শ্রমিক দলে যোগদান করেন, যার পরিবর্তিত নাম হয় 'ন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট জার্মান ওয়ার্কার্স পার্টি', সংক্ষেপে নাৎসি পার্টি। অল্পদিনের মধ্যে বাগ্মিতার জোরে তিনি এর ফুয়েরার বা প্রধান হন।

ফ্যাসিবাদেরই জার্মান সংস্করণ নাৎসিবাদ। নাৎসি পার্টি ফ্যাসিবাদের আদর্শ, কর্মপদ্ধতি, উদ্দেশ্য, স্বরূপকে আরও হিংস্রভাবে গ্রহণ করে। জার্মানির বিক্ষুব্ধ মানুষ নাৎসি দলে ভিড় করতে থাকে। যুদ্ধফেরত সৈনিক, রক্ষণশীল রাজতন্ত্রী, দুর্দশাগ্রস্ত ব্যবসায়ী এবং হতাশ শ্রমিকরা এ দলে ভিড় করতে থাকে। ক্যাথলিকবিরোধী, ইহুদিবিরোধী, কমিউনিস্টবিরোধীরাও নাৎসি দলকে তাদের লক্ষ্য পূরণের হাতিয়ার হিসেবে মনে করে। ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে হিটলার দলের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। গোয়েরিং, হেস, রোজেনবুর্গ, পোয়েম, গোয়েবল্স প্রমুখ সহকর্মীর সাহায্যে দলকে শক্তিশালী করে তোলেন। দলের পতাকা ছিল রক্তবর্ণ এবং মাঝখানে সাদা রঙের মধ্যে শোভা পেত কালো স্বস্তিকা। দলীয় স্বার্থরক্ষা ও নেতৃবৃন্দের নিরাপত্তার জন্য ১৯২১ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় SA বাহিনী। এরা বোয়েমের নেতৃত্বে অন্য দল বিশেষ করে কমিউনিস্টদের হাত থেকে দলের সভাগুলোকে রক্ষা করা ছাড়াও অন্য দলের উপর হামলা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, ভয়ভীতি প্রদর্শন, হত্যা, গুম ইত্যাদি কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করত। বাদামি রঙের পোশাক পরত বলে এদের 'ব্রাউন শার্ট'ও বলা হতো।

সংস্কৃতির বিশুদ্ধতা ও আর্যরক্তের প্রতীক হিসেবে এরা 'স্বস্তিকা চিহ্ন' ব্যবহার করত। এছাড়া ছিল বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হিটলারের ব্যক্তিগত রক্ষীবাহিনী এসএস। নাৎসি দলের স্লোগান ছিল 'উদ্দীপ্ত জার্মানি', 'ইহুদিগণ আমাদের দুর্ভাগ্য', 'ক্যাথলিক নিপাত যাক', 'ফুয়েরার (হিটলার) দীর্ঘজীবী হোন', 'আজ জার্মানি, আগামীকাল বিশ্ব' ইত্যাদি।

১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দের নভেম্বর মাসে হিটলার প্রখ্যাত জার্মান সেনাপতি লুডেনডর্ফ ও অন্য কয়েকজন সহযোগীর সহায়তায় জার্মান সরকারকে উৎখাতের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করেন। কিন্তু তার চেষ্টা ব্যর্থ হলে তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড প্রদান এবং নাৎসি পার্টি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। জেলে বসে তিনি নাৎসি দলের বাইবেল 'Mein Kampf' বা 'আমার সংগ্রাম' রচনা করেন। প্রায় নয় মাস জেল খাটার পর ১৯২৪ খ্রিষ্টাব্দের ২০শে ডিসেম্বর মুক্তিলাভ করে পার্টিকে সংগঠিত করার কাজে আত্মনিয়োগ করেন। জার্মান প্রজাতান্ত্রিক সরকারের ব্যর্থতাগুলোকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি ভার্সাই সন্ধির বিরোধিতা, জার্মান জাতির ঐক্য, বিস্তৃত আবাসভূমি, কমিউনিজম ও ইহুদিবিদ্বেষ এবং দেউলিয়া অর্থনীতির সংস্কারসাধনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন। ১৯২৮ খ্রিষ্টাব্দ থেকে দলের জনপ্রিয়তা ক্রমশ বাড়তে থাকে। ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দের জুন মাসের নির্বাচনে নাৎসিরা রাইখস্টাগের ৬০৮ আসনের মধ্যে ২৩০টি আসন লাভ করে একক বৃহত্তম দলে পরিণত হয়। অবশেষে ১৯৩৩ খ্রিষ্টাব্দের ৩০শে জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট হিন্ডেনবার্গ হিটলারকে জার্মান রাষ্ট্রের চ্যান্সেলর নিযুক্ত করেন। এ সময়ে হঠাৎ রাইখস্টাগ ভবনে আগুন লাগলে হিটলার এর জন্য কমিউনিস্টদের দায়ী করেন। ফলে দেশে জরুরি অবস্থা জারি, রাজনৈতিক অধিকার খর্ব ও কমিউনিস্ট পার্টি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। ১৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দের ২রা আগস্ট প্রেসিডেন্ট হিন্ডেনবার্গ মারা গেলে তিনি চ্যান্সেলর ও প্রেসিডেন্ট হিসেবে সর্বময় ক্ষমতা গ্রহণ করেন। ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য তিনি যুগপৎ শঠতা ও নিষ্ঠুরতার আশ্রয় গ্রহণ করেন। এভাবে জার্মানিতে হিটলারের সর্বময় একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।

হিটলার ও মুসোলিনীর উত্থান - অনন্যা প্রশ্ন

হ্যারি এস. ট্রুম্যান ১৮৮৪-১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দ (Harry S. Truman 1884-1972) রবার্ট ওপেনহেইমার ১৯০৪-১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দ (Robert Openheimer 1904-1967) প্রথম বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী জার্মানিহিটলারের ক্ষমতা দখলজার্মানিতে হিটলারের উত্থানের কারণএকনায়ক হিটলারপ্রথম বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ইতালিমুসোলিনির ক্ষমতা দখলইতালিতে ফ্যাসিবাদের উত্থানের কারণমুসোলিনির একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠামুসোলিনির নেতৃত্বে ইতালির অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠনহিটলার ও মুসোলিনির কর্মকাণ্ডের তুলনাদ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধবিশ্বযুদ্ধের কারণসমূহপ্রত্যক্ষ কারণঅক্ষশক্তি চুক্তি Axis Power Treatyমিত্রশক্তি জোট Allied Forceদ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সৃষ্টির জন্য হিটলারের দায়িত্বদ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঘটনাপ্রবাহ (ইউরোপের প্রথম রণাঙ্গন)জার্মানির সোভিয়েত ইউনিয়ন আক্রমণজাপান কর্তৃক পার্ল হারবার আক্রমণইউরোপে মিত্রশক্তির দ্বিতীয় রণাঙ্গনইতালির আত্মসমর্পণজার্মানির আত্মসমর্পণজাপানের আত্মসমর্পণ (হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে বোমাবর্ষণ)নিষ্ঠুরতার হলোকাস্টলিটল বয়ফ্যাট ম্যানদ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয়ের কারণদ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলাফল

সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ