• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • হিটলার ও মুসোলিনীর উত্থান
হিটলার ও মুসোলিনীর উত্থান

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলাফল

কোনো যুদ্ধের ফলাফলই মানবজাতির জন্য শুভ নয়। যুদ্ধ মানেই ধ্বংস, গণহত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, সম্পদের অপচয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ছিল পৃথিবীর ইতিহাসের ভয়াবহতম যুদ্ধ। এর ক্ষয়ক্ষতি ছিল ব্যাপক এবং ধ্বংসলীলা ছিল মারাত্মক। ভয়াবহ এ যুদ্ধে আনুমানিক ছয় কোটি বিশ লক্ষ লোক মারা যায়। ব্যাপক গণবিধ্বংসী অস্ত্রের ব্যবহার যুদ্ধের ভয়াবহতাকে কয়েক হাজার গুণ বাড়িয়ে দেয়। এ যুদ্ধে ধ্বংস হয় বহু নগর, শহর ও জনপদ। বহু লোক পঙ্গুত্ব নিয়ে মৃত্যুমুখে পতিত হয়। তাছাড়া উল্লেখযোগ্য ফলাফল নিম্নরূপ:

প্রথমত: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলে জার্মানির নাৎসিবাদ, ইতালির ফ্যাসিবাদ ও জাপানের সমরবাদের পরাজয় ঘটে। ফ্যাসিস্ট ও নাৎসি দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এ সকল দলের নেতাদেরও যুদ্ধাপরাধী সাব্যস্ত করে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়।

দ্বিতীয়ত: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে ফ্যাসিবাদ ও নাৎসিবাদের প্রতি মানুষের যে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছিল এ যুদ্ধ তার স্বরূপ উন্মোচন করে এবং এ ব্যবস্থাগুলো ইউরোপের রাজনীতি থেকে নির্বাসিত হয়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা তার স্থান দখল করে।

তৃতীয়ত: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সমাজতান্ত্রিক ও পুঁজিবাদী ব্যবস্থার মধ্যে স্বল্পকালের জন্য হলেও মৈত্রীর বন্ধন রচনা করতে সাহায্য করে।

চতুর্থত: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলে পরবর্তীকালে সোভিয়েত ইউনিয়ন পূর্ব ইউরোপের এক বিস্তৃত অঞ্চলে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে সক্ষম হয়।

পঞ্চমত: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলে জার্মানি বিভক্ত হয়। বার্লিন প্রাচীর জার্মান জাতিকে আবারও বিভক্ত করে। জার্মানির পূর্ব অংশে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং পশ্চিম অংশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়।

ষষ্ঠত: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে উপনিবেশবাদের অবসান ঘটতে থাকে। শুরু হয় উপনিবেশবাদবিরোধী মুক্তিসংগ্রাম। ব্রিটিশরা ভারতবর্ষের স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে। এশিয়া ও আফ্রিকার অনেক দেশ স্বাধীন হতে থাকে। পৃথিবীতে গণতান্ত্রিক শক্তির উত্থান শুরু হয়।

সপ্তমত: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ফ্রান্স ও ব্রিটেনের স্থলে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের আত্মপ্রকাশ ঘটে এবং রাশিয়া-আমেরিকা স্নায়ুযুদ্ধের সূচনা হয়। জাতিসংঘের উদ্ভব দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রত্যক্ষ ফল।

অষ্টমত: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে আণবিক বোমা নিক্ষেপের ঘটনা বিশ্ববাসীকে পারমাণবিক যুদ্ধের ভয়াবহতা সম্পর্কে আজও আতঙ্কগ্রস্ত করে।

পরবর্তী

হিটলার ও মুসোলিনীর উত্থান - অনন্যা প্রশ্ন

হ্যারি এস. ট্রুম্যান ১৮৮৪-১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দ (Harry S. Truman 1884-1972) রবার্ট ওপেনহেইমার ১৯০৪-১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দ (Robert Openheimer 1904-1967) প্রথম বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী জার্মানিহিটলারের ক্ষমতা দখলজার্মানিতে হিটলারের উত্থানের কারণএকনায়ক হিটলারপ্রথম বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ইতালিমুসোলিনির ক্ষমতা দখলইতালিতে ফ্যাসিবাদের উত্থানের কারণমুসোলিনির একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠামুসোলিনির নেতৃত্বে ইতালির অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠনহিটলার ও মুসোলিনির কর্মকাণ্ডের তুলনাদ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধবিশ্বযুদ্ধের কারণসমূহপ্রত্যক্ষ কারণঅক্ষশক্তি চুক্তি Axis Power Treatyমিত্রশক্তি জোট Allied Forceদ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সৃষ্টির জন্য হিটলারের দায়িত্বদ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঘটনাপ্রবাহ (ইউরোপের প্রথম রণাঙ্গন)জার্মানির সোভিয়েত ইউনিয়ন আক্রমণজাপান কর্তৃক পার্ল হারবার আক্রমণইউরোপে মিত্রশক্তির দ্বিতীয় রণাঙ্গনইতালির আত্মসমর্পণজার্মানির আত্মসমর্পণজাপানের আত্মসমর্পণ (হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে বোমাবর্ষণ)নিষ্ঠুরতার হলোকাস্টলিটল বয়ফ্যাট ম্যানদ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয়ের কারণদ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলাফল

সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ