- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- ১৯৭১ (উপন্যাস)
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
হুমায়ূন আহমেদ (ঔপন্যাসিক পরিচিতি)
হুমায়ূন আহমেদ বাংলাদেশের একজন গুরুত্বপূর্ণ কথাসাহিত্যিক, চলচ্চিত্রকার ও টিভি-নাট্যকার। ১৯৪৮ সালের ১৩ই নভেম্বর তিনি নেত্রকোনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। পিতার কর্মসূত্রে দেশের নানা শহরে তাঁর শৈশব-কৈশোর অতিবাহিত হয়। এ কারণে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পড়াশোনাও হয় বিভিন্ন স্কুলে। পরে ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ থেকে বিএসসি (অনার্স) ও এমএসসি এবং যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডেকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৩ সালে পোস্ট ডক্টরাল ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়েছিল বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৯৭৪ সাল থেকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে শিক্ষকতা শুরু করেন। ১৯৯৬ সালে অধ্যাপনা থেকে অবসর নিয়ে তিনি সার্বক্ষণিক সাহিত্যচর্চা ও নাটক-সিনেমা নির্মাণে মনোনিবেশ করেন।
বাংলাদেশের গ্রামীণ ও নাগরিক জীবনের সাথে হুমায়ূন আহমেদের অন্তরঙ্গ পরিচয় ছিল। বিশেষত বিশ শতকের সত্তর ও আশির দশকের নাগরিক মধ্যবিত্ত জীবনের চিত্র অঙ্কনে তিনি যে নৈপুণ্য দেখিয়েছেন, তার তুলনা বিরল। প্রধানত গল্প, উপন্যাস ও নাটক-সিনেমায় জীবনের স্বরূপ উন্মোচনের কাজটি তিনি করেছেন। এছাড়া বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি, শিশু-কিশোর সাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি ও আত্মজৈবনিক রচনায়ও তিনি সিদ্ধহস্ত। সাবলীল গদ্যভঙ্গি, বহুমাত্রিক হাস্যরস এবং বিষয়গত বৈচিত্র্য তাঁর রচনার বৈশিষ্ট্য।
কথাসাহিত্যিক ও নাট্য-নির্মাতা হিসেবে হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয়তা কিংবদন্তি হয়ে আছে। পাঠকের চাহিদা মেটাতে জনপ্রিয় ধাঁচের বহু গদ্য লিখেছেন তিনি। তবে তাঁর কালোত্তীর্ণ রচনার পরিমাণও অনেক। তিনি একজন নিপুণ গল্পকার। একরৈখিকতা এবং সাংকেতিকতা রক্ষা করে জীবনের বিশেষ দিক উন্মোচিত হয়েছে তাঁর অনেকগুলো চমৎকার ছোটগল্পে। বড় উপন্যাস বেশ কয়েকটি লিখলেও তাঁর সাফল্য ও প্রসিদ্ধি এসেছে মূলত ছোট আকারের উপন্যাস বা নভেলায়।
এ ধরনের রচনার মধ্যে 'নন্দিত নরকে', 'শঙ্খনীল কারাগার', 'অচিনপুর', 'ফেরা', 'এই বসন্তে', 'প্রিয়তমেষু', 'যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ', 'গৌরীপুর জংশন', 'চাঁদের আলোয় কয়েকজন যুবক', '১৯৭১', 'অনিল বাগচীর একদিন', 'আগুনের পরশমণি', 'আমার আছে জল', 'কৃষ্ণপক্ষ', 'জনম জনম', 'দ্বৈরথ', 'নবনী', 'নি', 'শূন্য' ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। 'কবি', 'জোছনা ও জননীর গল্প', 'মধ্যাহ্ন', 'মাতাল হওয়া', 'লীলাবতী', 'বাদশা নামদার' প্রভৃতি তুলনামূলক বৃহৎ পটভূমিতে রচিত উপন্যাস। এছাড়া তিনি জনপ্রিয় চরিত্র হিমু, মিসির আলি ও শুভ্রকে কেন্দ্রে রেখে অনেকগুলো কাহিনি রচনা করেছেন; লিখেছেন বেশ কিছু বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি তথা সায়েন্স ফিকশন।
বাংলাদেশের প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি-জগতে হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন এক বর্ণাঢ্য চরিত্র। একুশের বইমেলা তাঁকে ঘিরে উৎসবের বাড়তি আমেজ পেত। তাঁর নাটক ও সিনেমা প্রায়ই আলোড়ন তুলত বৃহত্তর ভোক্তা-সমাজে। দেশে-বিদেশে তিনি বিপুলভাবে নন্দিত ও পুরস্কৃত হয়েছেন। অসাধারণ সৃষ্টিশীলতার সাথে দেশ ও মানুষের প্রতি নিঃশর্ত অঙ্গীকার এবং এক উদার ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিই তাঁর সাফল্যের ভিত্তি। ২০১২ সালের ১৯শে জুলাই গুণী এই লেখক মৃত্যুবরণ করেন।
১৯৭১ (উপন্যাস) - অন্যান্য প্রশ্ন
সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ

