- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- ১৯৭১ (উপন্যাস)
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
'১৯৭১' উপন্যাসে প্রতিফলিত নীলগঞ্জের জনজীবনের পরিচয় দাও।
'১৯৭১' উপন্যাসে ঔপন্যাসিক হুমায়ূন আহমেদ ময়মনসিংহ বিভাগের ছোট গ্রাম নীলগঞ্জকে আখ্যান হিসেবে তুলে ধরেছেন। বিচিত্র শ্রেণি, পেশা, শিক্ষা ও ধর্মের মানুষের বসবাস শান্ত নিবিড় এই গ্রামে। ভৌগোলিকভাবে গ্রামটি শহর থেকে অনেকটা ভেতরে অবস্থিত। ময়মনসিংহ-ভৈরব রেল লাইনে একটি স্টেশন নান্দাইল রোড। নান্দাইল রোড থেকে সোজা উত্তরে দশ মাইল দূরে বুয়াইল বাজার। বুয়াইল বাজারকে পেছনে ফেলে আরও মাইল ত্রিশেক উত্তরে মধুরন বাজার। মধুবন বাজার পেছনে ফেলে পূর্ব দিকে সাত-আট মাইলের ঘন জঙ্গল পেরিয়ে জঙ্গলা মাঠ। আর সেই জঙ্গলা মাঠের পেছনেই নীলগঞ্জ গ্রাম। দরিদ্র, শ্রীহীন, মাত্র ত্রিশ-চল্লিশ ঘরের একটি বিচ্ছিন্ন জনপদ নীলগঞ্জ। চারদিকে জলাভূমি গ্রামকে ঘিরে রেখেছে। শীতকাল ছাড়া চাষাবাদ তেমন হয় না। পাখি-যারা জাল দিয়ে পাখি ধরে বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে গ্রামের কতিপয় মানুষ। বর্ষার আগে তরমুজ ও বাঙ্গি চাষ করে সামান্য অর্থ-কড়ি হাতে আসে তাদের। গ্রামের অধিকাংশ ঘর খড়ের তৈরি। তবে যাদের হাতে কাঁচা পয়সা আসে তারা টিনের ঘরও তৈরি করে।
বিচিত্র শ্রেণি-পেশার মানুষের বসবাস নীলগঞ্জ গ্রামে। সম্পদশালী কিন্তু মেরুদন্ডহীন নীলু সেনের মতো মানুষ যেমন এখানে বাস করেন তেমনই মনিহারি দোকানি বদিউজ্জামানের মতো লোকও আছে। অন্য গ্রাম থেকে এসে বসবাস করা ইমাম সাহেব ও স্কুলমাস্টার আজিজও এখানে থাকেন। এছাড়াও অন্ত্যজ কৈবর্ত শ্রেণির লোকজনের বসবাস এই নীলগঞ্জ গ্রামে। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণির মানুষের অত্যন্ত সাদামাটা জীবনযাপনের চিত্র তুলে ধরেছেন লেখক অতি সুচারুভাবে। সহজ-সরল গ্রামীণ জনপদের এই মানুষগুলো যুদ্ধ কী তা জানে না, পাকিস্তানি সেনারা গ্রামে আসার পরও তাদের বিশ্বাস হয় না- তারা তাদের ক্ষতি করবে, গ্রামের মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করবে। অর্থাৎ ঔপন্যাসিক তাঁর নিখুঁত শিল্পীগুণে '১৯৭১' উপন্যাসের পটভূমিকে নীলগঞ্জ গ্রামের জনজীবনের আলোকে চিত্রিত করেছেন।
১৯৭১ (উপন্যাস) - অন্যান্য প্রশ্ন
সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ

