• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • ১৯৭১ (উপন্যাস)
১৯৭১ (উপন্যাস)

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

নিস্তরঙ্গ গ্রামীণ জীবনে যুদ্ধের বর্বরতা '১৯৭১' উপন্যাসে কীভাবে রূপায়িত হয়েছে তা বিশ্লেষণ কর।

'১৯৭১' উপন্যাসের পটভূমি নেওয়া হয়েছে ময়মনসিংহের করে। একেবারে ছকে কষে মাটি, মানুষ, প্রাকৃতিক ও মনুষ্যনির্মিত অবকাঠামোয় এঁকে হুমায়ূন আহমেদ বাংলার এই নিভৃত গ্রামকে -তুলে এনেছেন যুদ্ধের ময়দানে। নীলগঞ্জ গ্রামে মুক্তিবাহিনী আশ্রয় নিয়েছে এমনই এক সন্দেহের বার্তা নিয়ে মিলিটারি মেজর সেই গ্রামে আগমন করে। তাদের বর্বরোচিত অত্যাচার ও হত্যার -দৃশ্যপটের নানান ঘটনার অবতারণা করেছেন লেখক এ উপন্যাসে।

পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর শ্রেষ্ঠত্বের মিথ নীলগঞ্জ গ্রামে প্রচলিত নীলগঞ্জ নামক এক জনবিচ্ছিন্ন জনপদের কাহিনিকে অবলম্বন ছিল প্রবলভাবে। তারা গ্রামের মানুষকে কোনো ক্ষতি করবে এটা গ্রামবাসীর মনে হয়নি অথবা করতে চায়নি। কারণ গ্রামের মানুষ প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারেনি তাদের অজপাড়াগাঁয়ে মিলিটারি আসতে পারে। কিন্তু মিলিটারি আগমনের পরদিন থেকে তাদের 1 বিশ্বাসে ফাটল ধরে। পাকিস্তানিরা ছিল বর্বর। তারা ধর্মের নামে বাঙালিদের প্রতি অমানবিক অত্যাচার করেছিল। অত্যাচারের নির্মম চিত্র প্রকাশিত হয়েছে আজিজ মাস্টার ও ইমাম সাহেবকে প্রথমে স্কুলঘরে আটকে রাখার মধ্য দিয়েই। মধুবনের জঙ্গলা মাঠের বনে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের জোয়ানদের খবর নেওয়াই মেজরের উদ্দেশ্য। মেজর আজিজ মাস্টারের কাছ থেকে তথ্য আদায় করার জন্য বিলের ধারে চিত্রা বুড়ির ছেলের হত্যাকারী মনার নির্মম মৃত্যুর দৃশ্য রচনা করে। মনার মৃত্যুর দৃশ্যপটকে নিষ্ঠুরতাপূর্ণ করতে তার ছোট ভাইকেও তার সঙ্গে গুলি করে হত্যা করা হয়। এখানেই শেষ নয়, আজিজ মাস্টারকে অপমানজনক পরিস্থিতিতেও ফেলে। আবার গ্রামের সম্পদশালী হিন্দু মৃত্যুপথযাত্রী নীলু সেনকে ঘুম থেকে তুলে হত্যার ঘটনা আরও ভয়াবহ। এছাড়াও মিলিটারির হাত থেকে গ্রামের নারীরাও রক্ষা পায়নি। ঝড়ের রাতে সফদরউল্লাহর অনুপস্থিতিতে তার বাড়িতে গিয়ে পাকিস্তানি মিলিটারির একজন সুবাদার ও তিনজন রাজাকার তার স্ত্রী ও বারো বছরের শ্যালিকাকে ধর্ষণ করে।

উপন্যাসের শেষাংশে দেখতে পাই কৈবর্ত পাড়ায় আগুন দিয়ে বিলের ডোবায় নিয়ে মেজরের সহযোগী রফিককে নির্মমভাবে হত্যা করে। এভাবেই অত্যন্ত ছোট একটি উপন্যাসে বিচিত্র কাহিনির ঘেরাটোপে লেখক নিস্তরঙ্গ গ্রামীণ জীবনে যুদ্ধের বর্বরতা রূপায়িত করেছেন।

১৯৭১ (উপন্যাস) - অন্যান্য প্রশ্ন

উপন্যাস কী?বাংলা উপন্যাসের সংক্ষিপ্ত পরিচিতিবাংলাদেশের উপন্যাসের সংক্ষিপ্ত পরিচিতিহুমায়ূন আহমেদ (ঔপন্যাসিক পরিচিতি) উপন্যাসের আলোচনা: ১৯৭১১৯৭১ (হুমায়ূন আহমেদ)শব্দার্থ ও টীকা (১৯৭১)সৃজনশীল প্রশ্ন (১৯৭১)বর্ণনামূলক প্রশ্ন (১৯৭১)সফদরউল্লাহর মানসিক পরিবর্তনের প্রধান কারণ ব্যাখ্যা কর।'১৯৭১' উপন্যাসে প্রতিফলিত নীলগঞ্জের জনজীবনের পরিচয় দাও।"মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়ালে অনেকেই এরকম করবে।"- এ উক্তিটি কার? উক্তিটি করার কারণ কী ছিল? বুঝিয়ে লেখ।রফিক ও মেজরের সম্পর্কের টানাপড়েন কীভাবে কাহিনির গতিপথকে প্রভাবিত করেছে? তাদের মধ্যকার সংঘাতের কারণ ব্যাখ্যা কর।আজিজ মাস্টারের শেষ পরিণতি কী হয়েছিল? ব্যাখ্যা কর।রফিক চরিত্রটি তোমার কাছে কি দ্বিমুখী চরিত্র মনে হয়? তোমার উত্তরের পক্ষে কারণ দেখাও। মীর আলিকে মেজর এজাজ কেন সালাম দিলেন? ব্যাখ্যা কর।নিস্তরঙ্গ গ্রামীণ জীবনে যুদ্ধের বর্বরতা '১৯৭১' উপন্যাসে কীভাবে রূপায়িত হয়েছে তা বিশ্লেষণ কর। খুনের বিচার করতে মেজর এজাজ এতটা আগ্রহী হয়েছিল কেন?"নীলগঞ্জ আসলে মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি।"-ব্যাখ্যা কর।বদিউজ্জামান কাদের ভয়ে এবং কোথায় লুকিয়েছিল? তার অবস্থা সংক্ষেপে বর্ণনা কর।"অপমানের চেয়ে মানুষ মৃত্যুকেই শ্রেয় মনে করে।"-আজিজ মাস্টারের উদাহরণ ব্যবহার করে বাক্যটির সত্যতা যাচাই কর।অনুফা কে? সে কেন মীর আলির উপর বিরক্ত হয়?"অকারণ নিপীড়নই একটি যুদ্ধকে জনগণের মুক্তিযুদ্ধে উপনীত করেছিল।"- '১৯৭১' উপন্যাস থেকে অন্তত তিনটি চরিত্রের উদাহরণ দিয়ে প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা কর।

সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ