• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • ১৯৭১ (উপন্যাস)
১৯৭১ (উপন্যাস)

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

"অকারণ নিপীড়নই একটি যুদ্ধকে জনগণের মুক্তিযুদ্ধে উপনীত করেছিল।"- '১৯৭১' উপন্যাস থেকে অন্তত তিনটি চরিত্রের উদাহরণ দিয়ে প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা কর।

'১৯৭১' উপন্যাসে নীলগঞ্জ গ্রামের শান্ত-নিবিড় পরিবেশে যুদ্ধের নৃশংসতা ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক। বাঙালি বীরের জাতি বলেই কিনা গ্রামের সাধারণ স্কুলমাস্টার আজিজ, পাকিস্তানিদের সহযোগী হয়েও বাঙালি যুবক রফিক এবং ভীতু প্রকৃতির সফদরউল্লাহর মতো ব্যক্তিরা উপন্যাসে বিদ্রোহের বাণী উচ্চারণ করেছেন। নিচে এই তিনটি চরিত্রের আলোকে পাকিস্তানিদের অকারণ নিপীড়ন কীভাবে একটি যুদ্ধকে মুক্তিযুদ্ধে উপনীত করেছিল তা আলোচনা করা হলো-

'১৯৭১' উপন্যাসের অন্যতম কেন্দ্রীয় চরিত্র নীলগঞ্জ প্রাথমিক স্কুলের হেডমাস্টার আজিজ। প্রথমে মেজর এজাজ তার সাথে অত্যন্ত সৌহার্দপূর্ণ আচরণ করলেও তার কাছ থেকে কোনো প্রকারের তথ্য না পেয়ে তাকে অমানুষিক অত্যাচারের মুখোমুখি করে। মেজর তাকে মুক্তিবাহিনীর সহযোগী হিসেবে সন্দেহের জের থেকেই তার প্রতি বর্বর আচরণ করে। একপর্যায়ে তার সামনে গণহত্যার মতো নারকীয় দৃশ্যের প্রেক্ষাপট সাজিয়েও যখন তার কাছ থেকে কোনো তথ্য আদায় করতে পারে না তখন মেজর আজিজ মাস্টারের সাথে অসম্মানজনক আচরণ করে। অপমানজনকভাবে বেঁচে থাকা কিংবা মৃত্যু এমনই শর্ত জুড়ে দেয় মেজর। গ্রামে উলঙ্গ হয়ে ঘুরে বেড়ানোর মতো দৃশ্যপট, সেই সাথে পুরুষাঙ্গে ইটের বোঝা। এমন অপমান যেকারও জনাই অপমানের। তাই তো আজিজ মৃত্যুকে সাদরে গ্রহণ করে। শুধু একপক্ষীয় নিপীড়নের কারণেই আজিজ মাস্টারের মতো ব্যক্তিও বিদ্রোহী হয়ে ওঠে।

উপন্যাসের রহস্যময় চরিত্র রফিক। নীল শার্ট পরিহিত মেজর এজাজের দোভাষী হিসেবে পরিচিত রফিক। গ্রামের রাস্তাঘাট সবকিছু তার পরিচিত। কিছুটা প্রতীকীভাবেই লেখক তাকে উপস্থাপন করেছেন উপন্যাসে। হানাদার বাহিনীর সহযোগী হলেও সে গ্রামবাসীর সাথে নমনীয় আচরণ করে, কৈবর্ত পাড়ায় আগুন দিতে মেজরকে নিষেধ করে। নীলু সেনের ভাগ্নে বলাইকে বাঁচাতে চায়, হেডমাস্টার আজিজের সাথে অন্যায়মূলক আচরণের সময় প্রতিবাদ করে। উপন্যাসের শেষাংশে, সে একজন বীরের ন্যায় মৃত্যুকে বরণ করে। কারণ রফিক দেখে যে, পাকিস্তানিরা সহজ-সরল মানুষের প্রতি নিপীড়ন চালায়।

সফদরউল্লাহ আরেকটি প্রতিবাদী চরিত্র। কালবৈশাখি ঝড়ের রাতে রাজাকারদের সহযোগে পাকিস্তানি সেনারা তার স্ত্রী ও শ্যালিকাকে লাঞ্ছিত করে। এই অন্যায় সে সহ্য করতে না পেরে দা নিয়ে বেরিয়ে পড়ে অন্যায়কারীদের মূল হোতা সুবাদার ও তার এক সহযোগীর খোঁজে। পৈশাচিক পাকিস্তানি বাহিনীর নৃশংসা হত্যাকান্ড ও নিপীড়নের মঝে সফদরউল্লাহর এই সামান্য প্রতিবাদ প্রমাণ করে যে সেও মুক্তি চায়।

উপর্যুক্ত তিনটি চরিত্রের আলোচনায় দেখা যায়, তারা ধীরে ধীরে বিদ্রোহী হয়ে ওঠে। এভাবেই নিপীড়ন মানুষকে বিদ্রোহী করে - তোলে। তাকে মুক্তির জন্য লড়াই করতে বাধ্য করে। তাই বলা যায়, অকারণ নিপীড়নই একটি যুদ্ধকে জনগণের মুক্তিযুদ্ধে উপনীত করেছিল।

পরবর্তী

১৯৭১ (উপন্যাস) - অন্যান্য প্রশ্ন

উপন্যাস কী?বাংলা উপন্যাসের সংক্ষিপ্ত পরিচিতিবাংলাদেশের উপন্যাসের সংক্ষিপ্ত পরিচিতিহুমায়ূন আহমেদ (ঔপন্যাসিক পরিচিতি) উপন্যাসের আলোচনা: ১৯৭১১৯৭১ (হুমায়ূন আহমেদ)শব্দার্থ ও টীকা (১৯৭১)সৃজনশীল প্রশ্ন (১৯৭১)বর্ণনামূলক প্রশ্ন (১৯৭১)সফদরউল্লাহর মানসিক পরিবর্তনের প্রধান কারণ ব্যাখ্যা কর।'১৯৭১' উপন্যাসে প্রতিফলিত নীলগঞ্জের জনজীবনের পরিচয় দাও।"মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়ালে অনেকেই এরকম করবে।"- এ উক্তিটি কার? উক্তিটি করার কারণ কী ছিল? বুঝিয়ে লেখ।রফিক ও মেজরের সম্পর্কের টানাপড়েন কীভাবে কাহিনির গতিপথকে প্রভাবিত করেছে? তাদের মধ্যকার সংঘাতের কারণ ব্যাখ্যা কর।আজিজ মাস্টারের শেষ পরিণতি কী হয়েছিল? ব্যাখ্যা কর।রফিক চরিত্রটি তোমার কাছে কি দ্বিমুখী চরিত্র মনে হয়? তোমার উত্তরের পক্ষে কারণ দেখাও। মীর আলিকে মেজর এজাজ কেন সালাম দিলেন? ব্যাখ্যা কর।নিস্তরঙ্গ গ্রামীণ জীবনে যুদ্ধের বর্বরতা '১৯৭১' উপন্যাসে কীভাবে রূপায়িত হয়েছে তা বিশ্লেষণ কর। খুনের বিচার করতে মেজর এজাজ এতটা আগ্রহী হয়েছিল কেন?"নীলগঞ্জ আসলে মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি।"-ব্যাখ্যা কর।বদিউজ্জামান কাদের ভয়ে এবং কোথায় লুকিয়েছিল? তার অবস্থা সংক্ষেপে বর্ণনা কর।"অপমানের চেয়ে মানুষ মৃত্যুকেই শ্রেয় মনে করে।"-আজিজ মাস্টারের উদাহরণ ব্যবহার করে বাক্যটির সত্যতা যাচাই কর।অনুফা কে? সে কেন মীর আলির উপর বিরক্ত হয়?"অকারণ নিপীড়নই একটি যুদ্ধকে জনগণের মুক্তিযুদ্ধে উপনীত করেছিল।"- '১৯৭১' উপন্যাস থেকে অন্তত তিনটি চরিত্রের উদাহরণ দিয়ে প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা কর।

সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ