• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • খুলাফায়ে রাশেদিন
খুলাফায়ে রাশেদিন

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

খলিফা হযরত আবু বকর (রা.) (৬৩২-৬৩৪ খ্রি.)

৬৩২ খ্রিষ্টাব্দের ৮ জুন মহানবি হযরত মুহম্মদ (স.)-এর ইন্তেকালের পর ইসলাম তথা মুসলিম রাষ্ট্রের এক সংকটময় মুহূর্তে হযরত আবু বকর (রা.) সর্বপ্রথম খিলাফতের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। খলিফা হয়েই (৬৩২-৬৩৪ খ্রি.) তিনি দেখতে পেলেন ইসলামের আকাশে এক মহাদুর্যোগ ঘনিয়ে এসেছে। দেশের সর্বত্র বিদ্রোহ ও বিশৃঙ্খলা বিরাজমান। ঐতিহাসিক ইবনে আসিবের মতে, কমপক্ষে ২৪টি গোত্র ইসলাম ত্যাগ করে একত্রে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। অন্যদিকে তদানীন্তন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শক্তিশালী রোমান ও ফরাসি সাম্রাজ্যদ্বয় ইসলামের মূলে কুঠারাঘাত করার জন্য সুযোগ সন্ধানী ছিল। ঐতিহাসিক আব্দুল্লাহ মাসুদের মতে, "মুসলমানদের ঐ সময় অবস্থা ছিল ঝঞ্ঝাময় অন্ধকার শীতের রজনীতে পালক ছাড়া ছাগল দলের মতো, মুসলমানদের এ ঘোর দুর্দিনের সংকটময় মুহূর্তে খলিফা মোটেই বিচলিত না হয়ে মরু সন্তানদের ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আনতে সক্ষম হন।"

আবু বকর (রা.)-এর বংশ পরিচিতি: ৫৭৩ খ্রিষ্টাব্দে মক্কার বিখ্যাত কুরাইশ বংশের হাসিম গোত্রে আবু বকর (রা.) জন্মগ্রহণ করেন। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার পর তিনি সিদ্দিক অর্থাৎ 'সত্যবাদী' এবং আতিক অর্থাৎ 'দানশীল' প্রভৃতি উপাধি লাভকরেন। শৈশবকাল হতেই তিনি ছিলেন পবিত্রতা ও আন্তরিকতার প্রতিভূ। তাঁর পিতার নাম ছিল উসমান। কিন্তু উসমান ইসলামের ইতিহাসে সাধারণত কুহাফা নামে পরিচিত। তাঁর মাতার নাম ছিল উম্মে সালমা। আবু বকর (রা.)-এর মাতা-পিতা উভয়েই বিখ্যাত কুরাইশ বংশের লোক ছিলেন। মক্কায় অবস্থানকালে আবু বকর (রা.) দুটো বিয়ে করেছিলেন। প্রথম স্ত্রীর নাম কুতাইলা এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম উম্মে রুমান। কুতাইলার গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন পুত্র আব্দুল্লাহ ও কন্যা আসমা। উন্মে রুমানের গর্ভে জন্ম নেন পুত্র আব্দুর রহমান ও কন্যা আয়েশা।

ইসলামের খিদমত ও সিদ্দিক উপাধি আবু বকর (রা.) হযরত মুহম্মদ (স.)-এর জীবন সহচর ও ইসলামের একনিষ্ঠ সেবক ছিলেন। নেতৃস্থানীয় এবং বয়স্ক পুরুষদের মধ্যে তিনি সর্বপ্রথম ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। তাঁর ইসলাম ধর্ম গ্রহণের ফলে ইসলাম শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং অনেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। তিনি ইসলামের খেদমতে জানমাল সবকিছুই উৎসর্গ করেছিলেন। তিনি রাসুলুল্লাহ (স.)-এর মিরাজের কথা শোনামাত্র বিনা দ্বিধায় বিশ্বাস স্থাপন করেছিলেন। এ বিশ্বাসের জন্যই রাসুলুল্লাহ (স.)-তাঁকে সিদ্দিক বা সত্যবাদী উপাধিতে ভূষিত করেন।

রাসুলুল্লাহ (স.)-এর বিশ্বস্ত সহচর জীবনের প্রতি কর্মে তিনি আল্লাহর রাসুলুল্লাহ (স.)-কে ছায়ার মতো অনুসরণ করতেন। হিজরতের মহা সংকটেও রাসুলুল্লাহ (স.) আবু বকর (রা.)-কে তাঁর বিশ্বস্ত সহচররূপে গ্রহণ করেন। তাই রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, "যদি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে কন্ধু বলতাম তাহলে আবু বকর (রা.)-কে বন্ধু বলতাম।" রাসুলুল্লাহ (স.) তাঁর উপর সন্তুষ্ট হয়েছিলেন, ফলে রাসুলুল্লাহ (স.) তাঁর ইমামতিতে বহুবার নামায পড়েন।

আবু বকর (রা.) খলিফা নির্বাচিত: ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে রাসুলুল্লাহ (স.)-এর তিরোধানে মুসলিম সাম্রাজ্যের অরাজকতা ও চরম উত্তেজনা পরিলক্ষিত হয়। ঐতিহাসিক খোদাবক্স বলেন, "The death of the Prophet (Sm.) forebeded a dangerous and doubtful career for Islam." অর্থাৎ, "হযরত মুহম্মদ (স.)-এর ইন্তেকালে ইসলাম-জগতে এক ভয়াবহ এবং সংশয়পূর্ণ পরিস্থিতির উদ্ভব হয়।"

মহানবি (স.) মৃত্যুর পূর্বে কোনো উত্তরাধিকার নিযুক্ত করে যাননি। এহেন পরিস্থিতিতে মুসলিম সাম্রাজ্যে এক ভয়াবহ ও সংশয়পূর্ণ পরিস্থিতির উদ্ভব হলো। এখন প্রশ্ন হলো রাসুলুল্লাহ (স.)-এর উত্তরাধিকারী হয়ে নব প্রতিষ্ঠিত মুসলিম শাসনতন্ত্র ও মুসলিম জাতিকে রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিচালনা কে করবে? গণতন্ত্রে বিশ্বাসী রাসুলুল্লাহ (স.) কাউকেও খিলাফতের উত্তরাধিকারী মনোনয়ন করে যাননি। তাঁর কোনো পুত্র সন্তান জীবিত ছিল না। কাজেই এটি ইসলামের জন্য একটি জটিল তবে গণতান্ত্রিক গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হয়ে দাঁড়াল।।

ঐতিহাসিক পি. কে. হিট্টি বলেন, "The Khilafat is therefore, the first problem, Islam had to face, it is still a living issue." সুতরাং খিলাফত প্রশ্ন ছিল ইসলামের প্রথম সমস্যা। অধিকাংশ ঐতিহাসিক এ সমস্যার গুরুত্ব সম্যক উপলব্ধি করেন। অবশেষে সেই অমানিশার ঘোর অন্ধকার কেটে আনসার মোহাজেরিনদের বিভেদ খন্ডন করে হযরত ওমর (রা.) সকলের স্বীকৃত আবু বকর (রা.)-এর হস্ত ধারণ করে তাঁর আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করলেন এবং আবু বকর (রা.)-কে খলিফার দায়িত্ব প্রদানের মাধ্যমে ইসলামকে এক বিরাট বিপর্যয় হতে রক্ষা করেন। ইসলামে খলিফা নির্বাচনে এ পদ্ধতি পরবর্তীতে সমাধান করেছিল।

ইসলামের ধারক ও বাহক মহানবি (স.)-এর ইন্তেকালের পর খিলাফতকে কেন্দ্র করে যে রাজনৈতিক জটিলতার সৃষ্টি হয় আবু বকর (রা.) দৃঢ়তার সাথে সে পরিস্থিতির মোকাবিলা করে ইসলামকে শুধু ধ্বংসের হাত হতে রক্ষাই করেননি, একে আরও সুসংগঠিত ও সম্প্রসারিত করেন। আব্দুল্লাহ বিন মসউদ বলেন, "এরূপ সংকটের দিনে হযরত আবু বকর (রা.)-এর মতো খলিফা না থাকলে ইসলাম ধর্ম এবং ইসলামি রাষ্ট্র কোনোটাই রক্ষা পেত না।" অরাজকতা, প্রতারণা, ভন্ডামি, ধর্ম ও দেশদ্রোহিতার সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবিলা করে আবু বকর (রা.) শিশু ইসলামি রাষ্ট্র ও দুর্দশাগ্রস্ত সমাজকে রক্ষা করেন এবং মুসলিম জাতিকে আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান, ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী করে গড়ে তোলেন। মৌলানা মুহম্মদ আলী বলেন, "প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্য দিয়ে ইসলামের তরীকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ার কৃতিত্ব একমাত্র তাঁরই প্রাপ্য।"

খলিফা নির্বাচিত হওয়ার পর প্রাথমিক বাধাসমূহ

খলিফা নির্বাচিত হওয়ার পর আবু বকর (রা.) সমবেত মুসলমানগণকে উদ্দেশ্য করে বাণী প্রদান করেন। ইসলামি রাষ্ট্রের কর্ণধার হয়েও যে স্বেচ্ছাচারী হওয়া যায় না, অর্থাৎ তিনি জনগণের খাদেম। তা তিনি পরিষ্কারভাবে বক্তৃতায় উল্লেখ করেন।

যাহোক, খলিফা নির্বাচিত হওয়ার পর আবু বকর (রা.)-কে বহুবিধ সমস্যার মোকাবিলা করতে হয়েছিল। এ সমস্যাগুলোকে গুরুত্ব অনুসারে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়:

১. ভন্ড নবিদের উদ্ভব: মহানবি (স.)-এর জীবদ্দশায় অনেকের মনে নবুওয়াত লাভের আকাঙ্ক্ষা হয়েছিল। মহানবি (স.)- এর ইন্তেকালের পরই মদিনার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের অধিবাসীরা ইসলাম ত্যাগ করে পূর্বের মতো উচ্ছৃঙ্খল হয়ে উঠেছিল। তখন তিনি অত্যন্ত ধৈর্য ও সাহসিকতার সঙ্গে ভন্ড নবিদের বিরুদ্ধে অগ্রসর হন। স্বীয় স্বার্থ হস্তগত করার উদ্দেশ্যে আসাদ আনিস, মুসায়লামা, তুলায়হা এবং সাজাহ্ নাম্নী কতিপয় লোক নিজেদের নবি বলে দাবি করলে খলিফা আবু বকর (রা.) ভন্ড নবিদেরকে মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে পরাজিত করে সমগ্র আরব উপদ্বীপে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হন।

২. আভ্যন্তরীণ বিরোধী শক্তির উত্থান: রাসুলুল্লাহ (স.)-এর ইন্তেকালের পর আবু বকর (রা.)-এর আমলে বহু ভণ্ড নবির উদ্ভব হয়। ইসলামের এ সংকটময় মুহূর্তে খলিফা তার সৈন্যদলকে ৫টি ভাগে বিভক্ত করে বিদ্রোহীদের দমন করেন। ঐতিহাসিক মুইর বলেন, "তাঁর (আবু বকর) জন্যই ইসলাম বেদুইন ধর্মের সঙ্গে মিলে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় নি।"

৩. স্বধর্মত্যাগীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন আবু বকর (রা.)-এর খিলাফত স্বল্পকাল স্থায়ী ছিল। (৬৩২-৬৩৪ খ্রি.) অধিকাংশ সময় রিদ্দা বা স্বধর্মত্যাগীদের বিরুদ্ধে অতিবাহিত করেন।
ঐতিহাসিক পি. কে. হিটি বলেন, "The short Khilafat of Abu-Bakar (632-634 AD) was mostly occupied with the so-called Riddah wars." অর্থাৎ, "আবু বকরের (৬৩২ ৬৩৪) সংক্ষিপ্ত খিলাফতের প্রায় পুরো সময় রিদ্দার যুদ্ধকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছিল।" সমগ্র আরবে অন্তবিপ্লব দেখা দেয় এবং মুসলিম আধিপত্যের চিহ্ন মুছে ফেলবার জন্য আরবীয় গোত্রগুলো বদ্ধপরিকর হয়। ঐতিহাসিক মুইর বলেন, "আবু বকর ব্যতীত ইসলাম বেদুইন গোত্রের সাথে আপস করতে গিয়ে নিঃশেষ হয়ে যেত অথবা অঙ্কুরেই এর নিশ্চিহ্ন হবার সম্ভাবনা আরো বেশি ছিল।" ঐতিহাসিক হিট্টি বলেন, "বিশ্ব বিজয়ে বের হবার পূর্বে আরববাসীদেরকে নিজেদের দেশ জয় করতে হয়েছিল।"

তাই রাসুলুল্লাহ (স.)-এর ইন্তেকালের সাথে সাথেই ইসলাম এমন এক চরম বিপর্যয়ের মুখে পতিত হলো যে, এর অস্তিত্ব বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ল। ঐ সমস্ত বিদ্রোহী গোত্রের এবং ভন্ড নবিদের দায়িত্বে চালিত আন্দোলন ইসলামের ইতিহাসে স্বধর্মত্যাগীদের আন্দোলন নামে পরিচিত এবং তাদের বিরুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর অভিযানকেই রিন্দার যুদ্ধ বলে।

বস্তুত ইসলামের সমধিক সংকটের সন্ধিক্ষণে আবু বকর (রা.) খিলাফতের গুরুদায়িত্বভার গ্রহণ করেন। স্বধর্মত্যাগীদের বিদ্রোহী আন্দোলন ইসলামি বুনিয়াদের উপর আঘাত হেনেছিল এবং বিদ্রোহীরা সমবেতভাবে ইসলাম ধর্মকে দুনিয়ার বুক হতে নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিল। তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সারা আরবে ইসলাম সুপ্রতিষ্ঠিত হয় এবং জাতীয় ঐক্যও সুদৃঢ় হয়।

ঐতিহাসিক মোহাম্মদ আলী বলেন, "To him is due the credit of piloting the ark of Islam to a haven of safety in such a foll and stormy weather." অর্থাৎ, "প্রতিকূল ঝড়সঙ্কুল আবহাওয়ার মধ্য দিয়ে ইসলামের তরীকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ার কৃতিত্ব একমাত্র তাঁরই প্রাপ্য।"

রিদ্দার যুদ্ধ (The Riddah War)

স্বধর্মত্যাগী ও ভন্ড নবিদের বিরুদ্ধে হযরত আবু বকর (রা.) যে যুদ্ধ পরিচালনা করেন তা ইসলামের ইতিহাসে রিদ্দার যুদ্ধ নামে পরিচিত। আরববাসীরা সর্বদিক হতে বিদ্রোহ ঘোষণা করলে ধর্মত্যাগীরা ইসলামের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য মাথা তোলে, খ্রিষ্টান ও ইহুদিরা ঔদ্ধত্বের সীমালঙ্ঘন করে। ফলে নগণ্য সংখ্যক ধর্মভীরুরা অসংখ্য শত্রুবেষ্টিত অবস্থায় রাখালহীন মেষপালের মতো যত্রতত্র বিচরণ করতে লাগল। সমগ্র আরব দেশে চরম অন্তবিপ্লবের সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন গোত্রের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিগণ ইসলাম ধর্ম বর্জন এবং খলিফার আধিপত্যকে অস্বীকার করে ইসলামের বিরুদ্ধে একটি সুসংঘবদ্ধ আন্দোলন পরিচালিত করে। এ স্বধর্মত্যাগী আন্দোলন এবং স্বধর্মত্যাগী ভন্ড নবিদের বিরুদ্ধে ইসলামের সংঘবদ্ধ সামরিক অভিযানকেই রিদ্দা যুদ্ধ বলে।

রিদ্দা যুদ্ধের কারণ: রিদ্দা যুদ্ধের প্রধান প্রধান কারণগুলো নিম্নে আলোচনা করা হলো:

১. ইসলাম প্রচারের অভাব হযরত মুহম্মদ (স.)-এর জীবদ্দশায় আরব উপদ্বীপের মোট এক-তৃতীয়াংশ লোকও ইসলাম ধর্মে দীক্ষা লাভ করেনি। দীর্ঘকাল যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত থাকায় এবং বিভিন্ন কারণে মুহম্মদ (স.) সমগ্র আরব জাতিকে ইসলামের ছায়াতলে আনতে পারেননি।

২. ইসলামের প্রতি বিশ্বাসের অভাব: খাঁটি বিশ্বাসের অভাবে অনেকেই ইসলামের প্রকৃত মাহাত্ম্য ও সৌন্দর্য উপলব্ধি করতে পারে নি। গোত্রপতিকে অনুসরণ করে ইসলাম গ্রহণ করে নবির মৃত্যুর পর গোত্রপতিগণ ইসলাম পরিত্যাগ করলে তারা দলে দলে ইসলাম ত্যাগ করে ইসলামের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন।

৩. ইসলামে বৈপ্লবিক পরিবর্তন প্রাক-ইসলামি যুগের ঘৃণ্য প্রথাগুলোকে ধুয়ে-মুছে ইসলাম সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনয়ন করে, তার ফলে মানব জীবনে এক পরিবর্তন সূচিত হয়। কিন্তু আরববাসীরা নতুন ধারাকে সহজে মেনে নিতে অভ্যন্ত ছিল না।

৪. নৈতিকতার বিরুদ্ধাচরণ ইসলামের নৈতিক শাসন, রুচিসম্মত ও মার্জিত জীবনযাপনে অনুশাসনমুক্ত, স্বাধীনচেতা আরববাসীরা অভ্যস্ত ছিল না। উচ্ছৃঙ্খল ও মদ্যপায়ী আরবগোত্রের লোকেরা নবির মহত্ত্বে, ইসলাম গ্রহণ করলেও ইসলামের নৈতিক অনুশাসন মানতে তারা রাজি ছিল না। ফলে মুহম্মদ (সা.)-এর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে তারা অনেকেই স্ব-স্ব ধর্মে প্রত্যাবর্তন করেন।

৫. মদিনার কর্তৃত্ব অস্বীকার: হিট্টি বলেন, "হিজায রাজধানীর প্রাধান্যও তাদের ঈর্যার এবং বিদ্রোহের অন্যতম কারণ। হযরত মুহম্মদ (স.)-এর মৃত্যুর পরই তারা মদিনার প্রভুত্ব ও কর্তৃত্ব অস্বীকার করল।

৬. যাকাত প্রদানে অস্বীকার হযরত মুহম্মদ (স.)-এর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে যাকাত প্রদানে অনভ্যন্ত আরববাসী ইসলামের অনুশাসন মোতাবেক শতকরা আড়াই ভাগ হিসাবে যাকাত প্রদানে অস্বীকৃতি জানায়। অথবা যাকাতের অঙ্ক কমানোর দাবিতে তারা বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। তাই ঐতিহাসিকগণ বলেন, "যাকাত বিরোধী আন্দোলন রিদ্দা যুদ্ধের অন্যতম কারণ।"

৭. নবুয়তের প্রতি লোভ: বিভিন্ন গোত্রের কিছুসংখ্যক স্বার্থান্বেষী ফন্দিবাজ নবুয়ত লাভকে ব্যবসায় বলে মনে করেন। স্বীয় স্বার্থ হাসিলের জন্য তারা মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে আরববাসীদেরকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে উত্তেজিত করে তোলে। তাদের অনেকে নিজেদের নবি বলে প্রচার শুরু করে।

৮. অমুসলিম সম্প্রদায়ের ইন্ধন: ভন্ড নবি, স্বার্থান্বেষী আরব গোত্রপতি, ধর্মভ্রষ্ট বেদুইন ছাড়াও বিধর্মী খ্রিষ্টান ও অন্যান্য অমুসলিমরা বিদ্রোহীদের সাহায্য ও সহযোগিতা করে। ফলে এক সংকটপূর্ণ অবস্থার সৃষ্টি হয়। ইসলামকে রক্ষা ও আন্দোলনকারীদের দমন করার জন্য হযরত আবু বকর (রা.) এক বলিষ্ঠ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, যা রিদ্দার যুদ্ধ নামে পরিচিত। উইলিয়াম মুইর বলেন, "সমগ্র আরব উপদ্বীপের লোকেরা স্ব ধর্মে ফিরে যাচ্ছিল।"

রিদ্দা যুদ্ধের ঘটনা: দক্ষিণ ইয়ামেনের আসওয়াদ আনিস, বনু আসাদ গোত্রের ভুলায়হা, ইয়ামামার বনু হানিফ গোত্রের মুসায়লামা এবং বনু, তামিজ গোত্রের মহিলা সাজাহ নিজেদেরকের নবি বলে প্রচার করতে লাগল এবং নব প্রতিষ্ঠিত ইসলামি খিলাফতের ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র করতে থাকে। সংবাদ পেয়ে হযরত আবু বকর (রা.) সেনাবাহিনীকে ১১টি ভাগে বিভক্ত করেন। তিনি সেনাপতি উসামাকে মদিনা শহর রক্ষার দায়িত্বভার দিয়েছিলেন।

১. ভন্ড নবি আসাদ আনিসকে দমন: ডন্ড নবি আসাদ আনিস ৬৩১ খ্রিষ্টাব্দে মহানবি (স.)-এর জীবিতকালেই নবুয়ত দাবি করে সমগ্র ইয়ামেন হতে মুসলিম প্রতিনিধিদের বিতাড়নসহ ইসলামের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করে। ফিরোজ দায়লামী কর্তৃক আসাদ নিহত হলে তার সমর্থিত আসাদ ও জুবিয়ান গোত্রদ্বয় বিদ্রোহ-ঘোষণা করে। হযরত আবু বকর (রা.)
একদল সৈন্য প্রেরণ করে জুলকাশা ও রাবাজার যুদ্ধে তাদের পরাজিত করে ইয়ামেনে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন।

২. ভন্ড নবি তোলায়হাকে দমন সেনাপতি' খালিদ-বিন-ওয়ালিদ, আসাদ গোত্রের ভন্ড নবি তোলায়হার বিরুদ্ধে একদল সৈন্যসহ অগ্রসর হন। কারণ ভন্ড তোলায়হা নিজেকে নবি ঘোষণা করে। বনু তামিম ও ইয়ারবু গোত্রের শাসকগণ তোলায়হার সঙ্গে যোগ দিয়ে যাকাত বিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলে। সেনাপতি খালিদ বুঝাখরের যুদ্ধে তোলায়হাকে পরাজিত করেন। তোলায়হা পত্নীসহ সিরিয়াতে পলায়ন করে। কিছুদিন পরে মদিনাতে গিয়ে ইসলাম ধর্মে ফিরে আসে।

৩. ভন্ড নবি সাজাহকে দমন: সেনাপতি খালিদ তামিম গোত্রের বিরুদ্ধে অগ্রসর হন। কারণ গোত্রের উপগোত্র বনু ইযারবু সম্প্রদায়ের নেতা মালিক বিন-নোবায়রা ভন্ড নবি সাজাহকে সমর্থন করেছিল। খালিদ মালিক-বিন-নোবায়রাকে পরাজিত করলে তামিম গোত্রের সকল শাখা তার নিকট আত্মসমর্পণ করে। সাজাহ্ ভণ্ড নবি মুসায়লামাকে বিবাহ করে।

৪. ভণ্ড নবি মুসায়লামার বিদ্রোহ দমন ভন্ড নবি মুসায়লামা ছিল সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী। সে ভন্ড নবি সাজাহকে বিবাহ করে। অতঃপর ৪০ হাজার লোকের বাহিনী নিয়ে বনু হানিফ গোত্রের সহায়তায় ইসলামকে ধ্বংস করার জন্য উদ্বুদ্ধ হয়। সেনাপতি ইকরামা ও সুরাহবিল মুসায়লামাকে পরাজিত করতে ব্যর্থ হলে খালিদ-বিন-ওয়ালিদ তাকে সাহায্য করেন। ৬৩৩ খ্রিষ্টাব্দে ইয়ামামার প্রান্তরে উভয়ের মধ্যে তুমুল যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে উভয় পক্ষের ব্যাপক হতাহত হয়। এ যুদ্ধে বহু হাফিজ-ই-কুরআন শহিদ হন। ঐতিহাসিক তাবারী একে "Garden of death" বা 'মৃত্যুর বাগান' বলে উল্লেখ করেন। ঐতিহাসিক জোসেফ হেল বলেন, "The battle of Yamama was among the toughest and the bloodiest wars", অর্থাৎ "ইয়ামামার যুদ্ধ কঠিনতম ও সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধসমূহের অন্যতম যুদ্ধ ছিল।"

হযরত আবু বকর (রা.)-এর রিদ্দার যুদ্ধে সকল ভন্ড নবিদের পরাজিত করেন। তোলায়হা ও সাজাহ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করল এবং মুসায়লামা, আসাদ ও আনিস পরাজিত ও নিহত হন। মুসলিম সেনাপতিগণ সমগ্র স্থানের বিদ্রোহ দমন করে মুসলিম আধিপত্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। এ প্রসঙ্গে ঐতিহাসিক হিডির মন্তব্যটি উল্লেখযোগ্য। তিনি বলেন, "Arabia had to conquer itself before it could conquer the world", অর্থাৎ "বিশ্ব জয়ের পূর্বে আরববাসীকে সর্বপ্রথম আরবদেশকেই জয় করতে হয়েছিল।"

রিদ্দা যুদ্ধের গুরুত্ব:

১. ধর্মীয় ঐক্য ও অখণ্ডতা রক্ষা পায় মহানবি (স.)-এর ইন্তেকালের সঙ্গে সঙ্গে ইসলাম ধর্ম ও সদ্য প্রতিষ্ঠিত মদিনা রাষ্ট্র স্বধর্মত্যাগীদের আন্দোলনের ফলে এক মহাকঠিন বিপদের সম্মুখীন হয়। হযরত আবু বকর (রা.) দৃঢ় হস্তে এ সকল বিদ্রোহ দমন করে ধর্মীয় ঐক্য এবং ইসলামকে আসন্ন ধ্বংসের হাত হতে শুধু রক্ষাই করেননি, সমগ্র আরবের বুকে আবার ইসলামের আধিপত্য সুপ্রতিষ্ঠিত করলেন।

২. বহির্বিশ্বে ইসলাম সম্প্রসারিত: ধর্মত্যাগীদের রিন্দার যুদ্ধে পরাজিত করার ফলে ইসলাম ধর্ম প্রচারের পথে কোনো বাধা রইল না। ফলে দেশের অভ্যন্তরেই নয় বহির্বিশ্বে ইসলাম প্রচারের সুযোগ আসে। তাই মাত্র এক যুগের মধ্যে ইসলাম তিনটি মহাদেশব্যাপী বিস্তার লাভ করে।

৩. আরব উপদ্বীপে পৌত্তলিকতা ধ্বংস: রিদ্দা যুদ্ধের পর পরই গোটা আরব উপদ্বীপের লোকেরা ইসলাম গ্রহণ করেন। ফলে পৌত্তলিকতা চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং সমগ্র আরবে আল্লাহর একত্ববাদ সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।

৪. মদিনা রাষ্ট্রের ভিত্তি সুপ্রতিষ্ঠিত: রিদ্দা যুদ্ধে জয়লাভের ফলে মদিনার ইসলামি রাষ্ট্র বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন হতে রক্ষা পেল। মদিনা রাষ্ট্র পরবর্তীতে পৃথিবীতে একটি আদর্শ ইসলামি রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

৫. ইসলামি অর্থনীতি সুদৃঢ়করণ: রিদ্দার যুদ্ধে ভন্ড নবিদের পরাজয়ের ফলে যাকাত বিরোধী আন্দোলন ধ্বংস হয়। ইসলামি রাষ্ট্রের আয়ের উৎস যাকাত নির্দ্বিধায় সংগৃহীত হতে থাকে, ফলে রাষ্ট্রের আয় বৃদ্ধি পায়।

৬. খ্রিষ্টান ও ইহুদি শক্তি ধ্বংস ভন্ড নবিদের ইন্ধনদানকারী ইহুদি ও খ্রিষ্টানগণ রিদ্দার যুদ্ধের পর ভীত হয়। রিদ্দার যুদ্ধে জয়লাভের পর হযরত আবু বকর (রা.)-এ সকল শক্তিকে ধ্বংস করার জন্য উসামার নেতৃত্বে একদল সৈন্য প্রেরণ করেন। তাদের পরাজিত করে পারস্য মুসলিম সাম্রাজ্যভুক্ত করা হয়।

রিদ্দার যুদ্ধের সমালোচনা: রিদ্দার যুদ্ধ আবু বকর (রা.)-এর রাজত্বকালে ভন্ড নবিদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামকে বুঝায়। ঐতিহাসিক বেকার বলেন, ধর্মের বিরুদ্ধে যারা যুদ্ধ করেছিল তারা কোনোদিনই মনে-প্রাণে ইসলাম গ্রহণ করে নি। ফলে তাদের ধর্ম ত্যাগের প্রশ্নই ওঠে না। ধর্মত্যাগীগণ মনে-প্রাণে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেনি। মুহম্মদ (স.)-এর মৃত্যুর পর তারা স্ব-স্ব ধর্মমত প্রচার করে। প্রকৃত মুসলমানগণ কোনোদিনই ইসলাম ত্যাগ করেননি। তাদের প্রচারণাও প্রকৃত মুসলমানদের ইসলাম হতে বিচ্যুতি করতে পারেনি।

গ্রন্থাকারে কুরআন সংকলন রাসুলুল্লাহ (স.)-এর আমলে কুরআন বর্তমানের ন্যায় গ্রন্থবদ্ধ ছিল না। তখন সাহাবিগণ কুরআনের আয়াত নাযিল হলে তা মুখস্ত করে ফেরতেন এবং পাথর, বৃক্ষের ডাল, হাড় ইত্যাদিতে লিখে রাখতেন। পরবর্তীতে হযরত আবু বকর (রা.)-এর শাসনামলে ইয়ামামার যুদ্ধে যখন বহু হাফেজে কুরআন সাহাবি শহিদ হলেন, তখন হযরত ওমর (রা.)-এর পরামর্শে খলিফা আবু বকর (রা.) রাসুলুল্লাহ (স.)-এর বিন্যাস অনুযায়ী কুরআনকে গ্রন্থাকারে একত্র করার সিদ্ধান্ত নেন। হযরত যায়েদ বিন সাবিত (রা.) রাসুলুল্লাহ (স.)-এর সময় অহী লেখার দায়িত্বে নিযুক্ত ছিলেন। আবু বকর (রা.) তাঁর নেতৃত্বে কুরআন সংকলন বোর্ড গঠন করে দেন। যায়েদ বিন সাবিত (রা.) অত্যন্ত সতর্কতার সাথে কুরআন মজীদের বিক্ষিপ্ত পত্রগুলো একত্র করে বর্তমানের মতো গ্রন্থাকারে লিপিবদ্ধ করেন। সিদ্দীকে আকবরের সেই সংকলনটি হযরত ওমরের নিকট ছিল। হযরত উসমান (রা.) খলিফা হলে তিনি তা থেকে কয়েকটি কয়েকটি অনুলিপি তৈরি করে বিভিন্ন শহরে পাঠিয়েছিলেন।

মোটকথা সিদ্দীকে আকবর (রা.)-এর ঈমানী শক্তি এবং অকপট ও দৃঢ় সংকল্পের ফলে এক বছরের মধ্যে সকল অভ্যন্তরীণ গোলযোগ বিদূরিত হয়ে গোটা আরব ইসলামি পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হয়। যে কুরআনে হাকিম রক্ষণাবেক্ষণের ওয়াদা আল্লাহ নিজেই করেছেন, তা সর্বকালের জন্য সংরক্ষিত হয়ে যায়। 

পারস্য ও রোমীয় সাম্রাজ্যের দ্বন্দ্বের সূত্রপাত

পারস্য অভিযান (Parsian Expedition): হযরত আবু বকরের (রা.) আমলে রিন্দার যুদ্ধ এক ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করে। তদুপরি পারসিক ও রোমানদের প্ররোচনায় পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে করে তোলে। হযরত আবু বকর (রা.) অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তা মোকাবিলা করলেও পারসিক ও রোমানদের আচরণে ক্ষুদ্ধ হন এবং তাদের শায়েস্তা করতে মনস্থির করেন। এছাড়া পারস্য রাজ খসরু পারভেজের দুর্ব্যবহার ও অবজ্ঞাসূচক আচরণসহ সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য খলিফা মুসান্নার নেতৃত্বে ৮০০০ সৈন্য প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে বিজয় নিশ্চিত করার অভিলাষে ১০,০০০ সৈন্য নিয়ে খালিদ-বিন-ওয়ালিদ যোগ দেন। হাফিরের প্রান্তরে অনুষ্ঠিত সম্মুখ সমরে সম্পূর্ণরূপে পরাভূত প্রতিপক্ষ নির্দিষ্ট করের বিনিময়ে সন্ধি করতে বাধ্য হয়। এভাবে প্রতিপক্ষকে দুর্বল করে হীরা, আনবার ও আইনুত তামুর প্রভৃতি স্থান করায়ত্ব করে পারসিকদের ঔদ্ধত্যের প্রতিশোধ গ্রহণ করেন।

পারসিকদের ন্যায় রোমানদেরও অনুরূপ ভাগ্যবরণ করতে হয়। ধূর্ত হেরাক্লিয়াসের মুনাফেকিতে খলিফা অতিশয় ক্ষুদ্ধ হন। বেদুইনদের সঙ্গে মুসলিম খিলাফতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের বিষয়ে খলিফা অবগত হন। তিনি এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সীমান্ত রক্ষায় ব্যবস্থা নেন। তদুপরি বাণিজ্যিক প্রয়োজনে সিরিয়ার নিয়ন্ত্রণ লাভ জরুরি হয়ে পড়েছিল। তিনি আবু ওবায়দার নেতৃত্বে ২৭,০০০ এবং খালিদ-বিন-ওয়ালিদের নেতৃত্বে আরও ৯,০০০ সৈন্য প্রেরণ করেন। আজনাদায়েন নামক স্থানে অনুষ্ঠিত এ যুদ্ধে বিপুল সংখ্যক রোমান বাহিনীকে পরাভূত করে বিজয় অর্জন করেন। হেরাক্লিয়াস এস্টিয়ক নামক স্থানে আত্মগোপন করেন। দামেস্ক অবরুদ্ধ হয়। ইতোমধ্যে খলিফা আবুবকর (রা.) অসুস্থ হওয়ার কারণে অভিযান প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু পারসিক ও রোমানদের পরাজিত করে খলিফা হযরত আবু বকর (রা.) অসাধারণ সাংগঠনিক দক্ষতার পরিচয় দেন। শত্রুবেষ্টিত ইসলামি খিলাফতকে বিপদমুক্ত করে শক্তিশালী ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠা করেন। চিরশত্রুর আকস্মিক ছোবলের ভয় থেকে ইসলাম চিরতরে সুরক্ষিত হয়।

সিরিয়া অভিযান (Syrian Expedition): ধর্মত্যাগীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শেষে হযরত আবু বকর (রা.) ৬৩৩ খ্রিষ্টাব্দের শেষের দিকে উসামার নেতৃত্বে সিরিয়া সীমান্তে অভিযান প্রেরণ করে হযরত মুহম্মদ (স.)-এর অভিম ইচ্ছা পূর্ণ করেন।

সিরিয়ার রোমান সম্রাট প্রথমদিকে মুসলমানদের বন্ধুই ছিলেন। তিনি মহানবি হযরত মুহম্মদ (স.)-এর নবুয়ত প্রাপ্তির প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। কিন্তু পরবর্তীকালে মুসলিম রাষ্ট্র যখন শক্তিশালী হয়ে উঠল তখন রোমান সম্রাট ঈর্ষান্বিত হয়ে ওঠেন। বিভিন্নভাবে আরব সাম্রাজ্যের সীমান্তে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এবং সিরিয়ায় আগত আরব বণিকদের নানাভাবে হয়রানি ও উৎপীড়ন সৃষ্টি করেন। ধর্মদ্রোহীদের নানাভাবে উসকানি প্রদান করে মুসলিম সাম্রাজ্যের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। অপরদিকে বসরার শাসনকর্তা সুরহাবিল আন্তর্জাতিক রীতি-নীতি উপেক্ষা করে প্রেরিত মুসলিম রাষ্ট্রদূতকে মুতা নামক স্থানে হত্যা করে। রাষ্ট্রে নিরাপত্তা এবং বিদ্রোহীদের দমন করার জন্য হযরত আবু বকর (রা.) সিরিয়া অভিযান অপরিহার্য মনে করেন। তিনি তার সেনাদলকে তিন ভাগে বিভক্ত করে ৩,০০০ সৈন্য নিয়ে একটি বাহিনী গঠন করেন। সেনাপতি আমর-ইবনুল আস, সুরহাবিল-ইবন হাসানহ, ইয়াজিদ ইবন-আবী সুফিয়ান এবং আবু ওবাইদাহ-ইবন-জাররাহর নেতৃত্বে মুসলিম সেনাবাহিনী সিরিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল দখল করার জন্য পাঠান। বাইজানটাইনদের সঙ্গে মুসলমানদের প্রথম সংঘর্ষ হয় মরু-সাগর ও আকাবা উপসাগরের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত উপত্যকায়। কয়েকটি খণ্ডযুদ্ধে মুসলিম বাহিনী জয়লাভ করলে রোমান সম্রাট হেরাক্লিয়াস এক লক্ষ সৈন্যবাহিনী নিয়ে মুসলমানদের বাধা দিতে অগ্রসর হন। খলিফা আবু বকর (রা.)-এর নির্দেশে সেনাপতি খালিদ বিন-ওয়ালিদ হিরা ত্যাগ করে দামেস্কের দিকে অগ্রসর হন। সেনাপতি খালিদের নেতৃত্বে সম্মিলিত মুসলিম বাহিনী আজনাদাইনের যুদ্ধে বাইজানটাইন বাহিনীকে পরাজিত করে দক্ষিণ সিরিয়া অধিকার করেন।

পরবর্তী খলিফা নির্বাচন ও হযরত আবু বকর (রা.)-এর মৃত্যু: ৬৩৪ খ্রিষ্টাব্দে সিরিয়া বিজয়ের সূত্রপাত ঘটলে হযরত আবু বকর (রা.) হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে পরবর্তী খলিফা-কে হবেন সে বিষয়ে বিশিষ্ট সাহাবা আব্দুর রহমান-বিন-আউফ, হযরত উসমান (রা.), হযরত আলী (রা.)-এর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে হযরত ওমর (রা.)-কে খলিফা মনোনয়ন করেন। ইতোমধ্যে হযরত আবু বকর (রা.) ৬৩৪ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

হযরত আবু বকর (রা.)-এর চরিত্র [Character of Hazrat Abu Baker (R)]

চরিত্রের মাধুর্য: হযরত আবু বকর (রা.) ইমান, ন্যায়পরায়ণতা, অসীম ধৈর্য, অনুপম চরিত্র মাধুর্য, কঠিন সংযম, বিপদে স্থিরচিত্ততা প্রভৃতি বৈশিষ্ট্যের জন্য ইতিহাসে চির অমর হয়ে রয়েছেন।

ঐতিহাসিক মুইর বলেন, "Had Muhammad (Sm.) begun his career as a conscious imposter, he never could have won the faith and friendship of a man who was not only sagacious and wise but throughout his life simple, consistent and sincere." অর্থাৎ, "মুহম্মদ (স.)-এর মধ্যে যদি কপটতা থাকত তা হলে আবু বকরের মতো সরল, বিশ্বস্ত, বুদ্ধিমান ও আত্মত্যাগীর বিশ্বাসী বন্ধুত্ব লাভ করতে পারতেন না, তিনি শুধু বিচক্ষণ ও জ্ঞানীই ছিলেন না, বরং সারা জীবন সরল ও নিষ্ঠাবান ছিলেন।"

দ্বীন-দুঃখীদের বন্ধু: হযরত আবু বকর (রা.) উৎকৃষ্ট ও ধর্মভীরু মুসলমান ছিলেন। তিনি কখনো নিয়মিত নামাজ, রোজা ও অন্যান্য ধর্মকার্য সম্পাদন করতে পিছপা হতেন না। তিনি রাত্রির অন্ধকারে গোপনে গোপনে খাদ্যসামগ্রী বহন করে গরিব অনাথদের দুরবস্থা ও অভাব মোচন করতেন। ঐতিহাসিক আমির আলী বলেন, "Like his Master, Abu Bakar was extremely simple in his habits gentle but firm, he devoted all his energies to the administration of the new-born state and to the good of people." অর্থাৎ, "তিনি তাঁর শিক্ষাদাতা মহাপুরুষের ন্যায় আচার-ব্যবহারে অত্যন্ত আড়ম্বরহীন ছিলেন। তিনি বিনীত অথচ দৃঢ় ছিলেন এবং নতুন রাষ্ট্রের শাসনকার্যে এবং জনসাধারণের উপকারার্থে তিনি সর্বশক্তি নিয়োজিত করেছিলেন।"

গণতন্ত্রের পৃষ্ঠপোষক: তিনি গণতন্ত্রে পরিপূর্ণ বিশ্বাসী ছিলেন এবং জনগণের মতানুসারে কার্যাদি সমাধা করতেন। তাঁর নিকট খলিফা এবং একজন সাধারণ মানুষের মধ্যে কোনো তফাৎ ছিল না। ঐতিহাসিক মোহাম্মদ আলী বলেন, "The King was to be considered a member of society just as a cominoner" একজন সাধারণ মানুষের মতো রাজা সমাজের একজন সদস্য। "The King can do no worng" অর্থাৎ, "রাজা কোনো অন্যায় করতে পারে না।" মৌলানা মুহম্মদ আলী বলেন, "In subordinating King ship to the low of the land and foundation go a truly democratic government: as also of liberty and equality in the truest sense of words", অর্থাৎ, "রাজাকে (খলিফাকে) দেশের আইনের অধীন এবং দেশের আইনকে জনসাধারণের ইচ্ছার অধীন করে এবং পূর্ণ স্বাধীনতা ও সমান অধিকার দান করে আবু বকর (রা.) প্রকৃত গণতান্ত্রিক সরকারের গোড়াপত্তন করেন।""

মহানবি (স.)-এর পরই 'স্থান: রসুলে করিম (স.)-এর ঘনিষ্ঠ সাহচর্যে হযরত আবু বকর (রা.)-এর চারিত্রিক মাধুর্য পরিস্ফুটিত হয়েছিল। মহানবি (স.)-এর অন্তর্ধানে ইসলামি রাষ্ট্রে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছিল তখন তিনি দিকভ্রষ্ট এবং বিভক্ত মুসলিম জাহানকে দিকপালের মতো নির্দিষ্ট গতিতে পরিচালিত করে অক্ষয় কীর্তি রেখে গেছেন। হযরত আলী (রা.) বলেন, "রসুলে করিম (স.)-এর পরই আবু বকর (রা.) এবং ওমর (রা.) শ্রেষ্ঠ মুসলমান ছিলেন।"

খলিফা হওয়ার পূর্বে এবং পরে সকল প্রকার বিপদকে বরণ করে আবু বকর (রা.) ইসলামের খেদমত করেন। তাই ঐতিহাসিক মুইর বলেন, "আবু বকরের জন্য ইসলাম বেদুইন ধর্মের সহিত মিলে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় নি। মহানবি (স.) যে ইসলামের আলো নিয়ে এসেছিলেন আবু বকর (রা.) সে আলোকে আরও উজ্জ্বল করে জ্বালিয়েছিলেন। আবু বকর (রা.)-এর নিজে অন্যায় করেন নি এবং অন্যায়কে প্রশ্রয় দেন নি। ইসলামের খেদমত করাই ছিল তাঁর কাজ। ইসলাম ধর্ম ও রাষ্ট্রের একনিষ্ঠ সেবা এবং আত্মোৎসর্গ করার জন্য হযরত আবু বকর (রা.)-কে ইসলামের ত্রাণকর্তা বলা হয়।

হযরত আবু বকর (রা.)-এর কৃতিত্ব [Achievements of Hazrat Abu Baker (R)]

হযরত আবু বকর (রা.) মাত্র দু বছর তিন মাস ইসলামের খিলাফতে অধিষ্ঠিত ছিলেন। কিন্তু অতি অল্পসময়ের মধ্যে ইসলামের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় এক অভাবনীয় পরিবর্তন সাধন করেছিলেন। সমস্ত কিছুর মূলে ছিল তাঁর অনুপম চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। নবি (স.)-এর সর্বক্ষণের সঙ্গী হযরত আবু বকর (রা.) সচ্চরিত্রের আঁধার। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন স্পষ্টভাষী, সাহসী, ধৈর্যশীল, বিচক্ষণ ও দূরদর্শী। দানশীলতা ও সত্যবাদিতার জন্য তিনি যথাক্রমে 'আতিক' ও 'সিদ্দিক' উপাধিতে ভূষিত হন। ইমানের দৃঢ়তা, কঠিন সংযম ও ন্যায়পরায়ণতা তাঁর চরিত্রের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য ছিল।

রাসুলুল্লাহ (স.)-এর প্রতি সীমাহীন অনুরাগ ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তাঁর সবিশেষ আগ্রহ তাঁকে মহান করে তুলেছিল। দীন-দুঃখীদের প্রতি সদাচরণ ও সাহায্য প্রদান তাঁর নিত্যস্বভাবে পরিণত হয়েছিল। তিনি মজলিস-উস-সূরা বা মন্ত্রণা পরিষদ গঠন করে কুরআন ও সুন্নাহর বিধান অনুসারে রাষ্ট্র পরিচালনা করতেন। ইসলামি রাষ্ট্রের প্রধান ও মুসলিম জাহানের আমীর হিসেবে পার্থিব ও ধর্মীয় কার্যকলাপের সুষ্ঠু সমন্বয় তাঁর চরিত্রে পরিদৃষ্ট হয়। পক্ষপাতশূন্য বিচার, রাষ্ট্রীয় কার্য সম্পাদনে নির্ভীকতা ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অনমনীয় দৃঢ়তা তাঁর চরিত্রকে অনুসরণীয় ও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

হযরত আবু বকর (রা.) অত্যন্ত নম্র ও ভদ্রস্বভাবের ছিলেন। তিনি অত্যন্ত সহজ-সরল জীবনযাপন করতেন। গ্রাসাচ্ছাদনের জন্য অনেকের অনুরোধে তিনি অতি সামান্য ভাতা গ্রহণ করতেন। তাঁর পূত-পবিত্র জীবন ও সরলতা তাকে সুমহান চরিত্রের অধিকারী করে তুলেছে।

ইসলামের প্রথম খলিফা হিসেবে তার কৃতিত্ব অপরিসীম। প্রথম খিলাফত মুসলমানদের রাজনৈতিক জীবনে গভীর, ব্যাপক এবং সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিস্তার করেছিল। অন্তবিপ্লবের হাত হতে আরব দেশকে মুক্তি দিয়ে আবু বকর (রা.)-ই প্রথম ইসলামের সংহতি রক্ষার জন্য সক্রিয় কর্মপন্থা অবলম্বন করেন। ফলে শতধা বিভক্ত, বিবাদরত আরবগোত্রগুলো এক ধর্ম ও একই সমাজ ব্যবস্থার গণ্ডির মধ্যে একটি সুনির্দিষ্ট জীবনযাপন লাভ করে। তাদের এ সংঘবদ্ধ ও সুনিয়ন্ত্রিত শক্তি পারসিয়ান ও বাইজান্টাইনদের বিরুদ্ধে সফলতা লাভ করে। ইসলাম ধর্ম এবং সাম্রাজ্য বিস্তারের যে জয়োচ্ছ্বাস আট শতকের গোড়ার দিকে সিন্ধু দেশ হতে স্পেন পর্যন্ত সমগ্র ভূখণ্ডকে আলোড়িত করেছিল, তারও সূত্রপাত হয়েছিল আবু বকর (রা.)-এর শাসনকাল হতেই। মরুময় আরবের সীমা অতিক্রম করে তাঁর সময়ই মুসলমানগণ ইরাক ও সিরিয়ার শস্য-শ্যামল ভূখন্ডে বিজয়ী বেশে পদার্পণ করে। কুরআন শরিফ' সংকলন ছিল তাঁর আর একটি অনন্য কীর্তি। হাফেজগণের শাহাদাত ও বিক্ষিপ্তভাবে কুরআনের সংরক্ষণ দেখে তিনি বিচলিত হয়ে পড়েন এবং বিধিবদ্ধভাবে কুরআন সংকলনের উদ্যোগ নেন।

খলিফা হিসেবে হযরত আবু বকর (রা.) যে অভ্যন্তরীণ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হন তা ছিল ইসলামের পক্ষে মারাত্মক। মদিনার প্রতিপত্তির বিরুদ্ধে বিরূপ ভাব, ইসলামের কঠোর অনুশাসন পালনের অনিচ্ছা এবং খলিফার শাসনকেন্দ্রে নির্দিষ্ট হারে কর প্রদানে অসম্মতিই ছিল বিদ্রোহের কারণ। খলিফার অসাধারণ রাজনৈতিক বিচক্ষণতা ও দূরদৃষ্টির ফলে সমস্ত বিদ্রোহ দমিত হয়, ইসলাম পুনর্জীবন লাভ করে। ইসলামি রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ঘটতে থাকে। ধর্মদ্রোহী আন্দোলনের সংকটময় পরিস্থিতিতে সমগ্র মুসলিম রাষ্ট্রের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়েছিল এবং এসময়ে রাষ্ট্র সংরক্ষণের উপরই ইসলামের ভাগ্য নির্ভরশীল ছিল। আরবে ইসলাম ও মুসলিম রাষ্ট্রকে রক্ষা করতে না পারলে সে দেশের বাইরে এ ধর্মের প্রচার ও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা ছিল না। তাই পৃথিবী জয়ের পূর্বেই প্রয়োজনের তাগিদে ইসলামকে প্রথম আরব দেশকেই জয় করতে হয়েছিল। ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলা করার মতো অসাধারণ শক্তি হযরত আবু বকর (রা.)-এর ছিল। এরূপ সংকটের দিনে হযরত আবু বকর (রা.)-এর মতো খলিফা না থাকলে ইসলাম ও ইসলামিক রাষ্ট্র কোনোটাই রক্ষা পেত না। সীমাহীন ধৈর্য ও বুদ্ধিমত্তার সাথে তিনি তা রক্ষা করেছিলেন।

ইসলামের ত্রাণকর্তা হিসাবে হযরত আবু বকর (রা.) [Hazrat Abu Bakr (R) as the Saviour of Islam]

হযরত আবু বকর (রা.) ইসলাম গ্রহণের পর তার জান ও মাল ইসলামের জন্য ওয়াকফ করে দেন। তিনি আমৃত্যু ইসলামের জন্য কাজ করে গেছেন। তাঁর সম্পর্কে হযরত ওমর (রা.) বলেন, 'ইসলামের সেবায় হযরত আবু বকর (রা.)-কে কেউ অতিক্রম করতে পারবে না।" নিম্নে ইসলামের খেদমতে হযরত আবু বকর (রা.)-এর অবদান আলোচনা করা হলো-

১. একনিষ্ঠ সেবক: হযরত আবু বকর (রা.) ছিলেন ইসলামের একনিষ্ঠ সেবক। তিনি ইসলামের সূচনাপর্ব থেকেই বিভিন্নভাবে ইসলামের সেবা করে আসছিলেন। তিনি মক্কার প্রথম বয়স্ক বিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব, যিনি মহানবী (স.)-এর ওপর ঈমান স্থাপন করেছেন। তিনি ইসলামের প্রাথমিক যুদ্ধগুলোতে সক্রিয় অংশগ্রহণসহ দ্বীনের জন্য প্রচুর অর্থ ব্যয় করেন।

২. উদ্ভুত বিশৃঙ্খলা দূরীকরণ: মহানবি (স.)-এর ইন্তেকালের পর খেলাফত প্রশ্নে সাহাবিদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। তখন হযরত ওমর (রা.) আনসার ও মুহাজির সাহাবিদের মুধ্য থেকে প্রবীণ ও জ্ঞানী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত হযরত আবু বকর (রা.) হাতে বয়াত গ্রহণ করে তাকে খলিফা ঘোষণা করেন। তখন অন্যান্যরাও বয়াত হলে আবু বকর (রা.) খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং সাহাবিদেরকের উদ্ভুত বিশৃঙ্খলার হাত থেকে রক্ষা করেন।

৩. মহানবি (স.)-এর দাফন মহানবি (স.)-এর জীবনী থেকে ঐতিহাসিক যুহরী বলেন, 'মহানবি (স.)-এর অনুসারীদের মাঝে তাঁর ইন্তেকালে সৃষ্ট বিহ্বলতা ও হতাশা বিদূরিত করে হযরত আবু বকর (রা.) মহানবি (স.)-এর দাফনকার্য সুন্দর সুচারুরূপে সমাধা করেন।"

৪. যাকাত অস্বীকারকারীদের দমন: মহানবী (স.)-এর ইন্তেকালের পর আরব বেদুইনদের বিরাট এক অংশ এবং বিভিন্ন গোত্র যাকাত প্রদানে অস্বীকার করে। তারা দাবি করে, জনগণ থেকে যাকাত আদায়ের ক্ষমতা শুধু মহানবী (স.)-এর জন্যই নির্ধারিত ছিল। সুতরাং আমরা আবু বকরকে যাকাত দেব না। এমতাবস্থায় হযরত আবু বকর (রা.) তাদের বিরুদ্ধে যোবায়ের প্রমুখকে প্রেরণ করেন এবং দৃপ্তকণ্ঠে ঘোষণা করেন, "যারা মহানবী (স.)-এর যুগে যাকাত হিসেবে। একটি বকরির বাচ্চাও দিত, আজ তা দিতে অস্বীকার করলে আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব।"

৫. ভন্ড নবিদের দমন: রাসুলুল্লাহ (স.)-এর ওফাতের পরপরই বিভিন্ন স্থানে ভন্ড নবীদের উপদ্রব শুরু হয়। আসওয়াদ আনাসী, তুলায়হা, মুসায়লামা ও সাজাহ নামক কুখ্যাত মুরতাদরা নিজেদের নবী বলে দাবি করে। হযরত আবু বকর (রা.)-এসব ভন্ড নবীদের পরাভূত করে ইসলামকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেন।

৬. রিদ্দার যুদ্ধ: রাসুলুল্লাহ (স.)-এর ইন্তেকালের পর কিছু নওমুসলিম ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে দলে দলে পূর্বধর্মে ফিরে যেতে থাকে। হযরত আবু বকর (রা.) দৃঢ়তার সাথে এদের দমন করেন। এসব স্বধর্মত্যাগীর বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানই ইসলামের ইতিহাসে রিদ্দার যুদ্ধ নামে পরিচিত।

৭. বেদুইনদের ছত্রভঙ্গকরণ ঐতিহাসিক আমির আলী বলেন, "রাসুলুল্লাহবিহীন ইসলামকে দুর্বল মনে করে আরব বেদুইনদের এক বিরাট অংশ মদিনা আক্রমণের জন্য আসলে আবু বকর (রা.) সেনাবাহিনী প্রেরণ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেন।"

৮. বিভক্ত বিচ্ছিন্ন গোত্রসমূহকে একত্রীকরণ: মহানবী (স.)-এর জীবদ্দশাতেই বিভিন্ন গোত্র ইসলামের বিকাশ পথে হুমকিরস্বরূপ ছিল। হযরত আবু বকর (রা.) রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক তীক্ষ্ণ বুদ্ধিতে বিভিন্ন গোত্রগোষ্ঠীর মাঝে উত্থিত সমস্যা ও বিচ্ছিন্নতাবাদের অবসান ঘটিয়ে তাদের ঐক্যবদ্ধ করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করেন।

৯. কুরআন গ্রন্থাকারে একত্রীকরণ হযরত আবু বকর (রা.)-এর সময় পবিত্র কুরআন বিক্ষিপ্ত অবস্থা থেকে একত্রে গ্রন্থাকারে সংকলিত হয়। রাসুলে করীম (স.)-এর নিকট ঐশীবাণী প্রেরিত হলে তিনি সাহাবীদের তা লিখে মুখস্থ করে রাখতে বলতেন। ইয়ামামার যুদ্ধে বহুসংখ্যক হাফেযে কুরআন সাহাবি শহীদ হলে হযরত ওমর (রা.)-এর পরামর্শে হযরত আবু বকর (রা.) রাসুলে করীম (স.)-এর ব্যক্তিগত অহী লেখক যায়েদ ইবনে সাবেতকে কুরআনের বিক্ষিপ্ত বিচ্ছিন্ন আয়াতগুলো সংগ্রহ করে পুস্তাকারে একত্র করার নির্দেশ দেন। যায়েদ ইবনে সাবেতের তত্ত্বাবধানেই কুরআন মজীদ গ্রন্থাকারে সংকলিত হয়।

১০. রোমানদের বিরুদ্ধে অভিযান ইসলামী খেলাফতের উন্মেষকালে সিরিয়া ছিল রোমান ক্যাথলিকদের প্রভাবাধীন। সিরিয়ার মুতা অঞ্চলের শাসনকর্তা ইসলামের বার্তাবাহী দূতকে হত্যা করেছিল। এ অন্যায় হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণার্থে মহানবী (স.) জীবনদ্দশাই সিরিয়া অভিযানের ইচ্ছে পোষণ করেন। সে ইচ্ছা পূরণার্থে প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা.) ওসমার নেতৃত্বে এক সেনাবাহিনী সিরিয়া অভিমুখে প্রেরণ করেন। ওসামা অনায়াসেই রোমানদের পরান্ত করে মদিনায় ফিরে আসেন।

১১. হিরা অভিযান: হিরার শাসনকর্তা হরমুয ইসলামের প্রসারে ভীত ও ঈর্ষান্বিত হয়ে ওঠে এবং আরবের বিভিন্ন গোত্রকে মদিনার ইসলামী রাষ্ট্রের ওপর আক্রমণ করার প্ররোচনা দিতে থাকে। হযরত আবু বকর (রা.) হরমুখের চক্রান্তের কথা জানতে পেরে সেনাপতি খালেদ ও মুসান্নাকে তাঁদের বাহিনীসহ প্রেরণ করেন। তাঁরা বীরত্বের সাথে পারস্যের হিরা অঞ্চল অধিকার করেন।

১২. হাদিস সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ: হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.)-এর বিশুদ্ধতা নিশ্চিতকরণার্থে আবু বকর (রা.) কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। তিনি সুস্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, সততা সম্পর্কে দৃঢ় বিশ্বাস ও সর্বপ্রকার সন্দেহমুক্ত না হয়ে কোনো হাদিস রেওয়ায়াত করা ঠিক নয়। তিনি নিজে কখনো কোনো হাদিস একাধিক সমর্থক ও সাক্ষী না পেলে গ্রহণ করতেন না।

১৩. রোমানদের সাথে দ্বিতীয়বারের যুদ্ধ: মুরতাদদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পূর্বে হযরত আবু বকর (রা.) ওসামার নেতৃত্বে যুদ্ধাভিযান করে রোমানদের পর্যুদস্ত করেন; কিন্তু সেনাপতি ওসামা মদিনায় প্রত্যাবর্তন করলে তারা পুনরায় বিদ্রোহী হয়ে ওঠে। হযরত আবু বকর (রা.) সেনাপতি আবু ওবায়দার নেতৃত্বে রোমানদের দমনোদ্দেশ্যে একদল সৈন্য প্রেরণ করেন। আবু ওবায়দা (রা.) সাহসিকতার সাথে বিশাল রোমান বাহিনীকে পরাজিত করে ইসলামি সাম্রাজ্যের বিস্তৃতি ঘটান।

১৪. মদিনার হেফাযত: ঐতিহাসিক পি. কে. হিটি বলেন, বিদ্রোহী আরব গোত্র বনু আবস ও বনু যুবিয়ান ওসামা (রা.)-এর সিরিয়া অভিযানে মদিনা অরক্ষিত রয়েছে ভেবে মদিনা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলে স্বয়ং হযরত আবু বকর (রা.) সৈন্য নিয়ে তাদের মোকাবেলা করেন এবং মদিনা রাষ্ট্রকে হেফাযত করেন।

১৫. রাষ্ট্র সংগঠক: রাষ্ট্র সংগঠক ও পরিচালক হিসেবে হযরত আবু বকর (রা.) অসামান্য কৃতত্বি প্রদর্শন করেন। অন্তবিপ্লব, হিংসা দ্বেষ, গৃহযুদ্ধ আর বিশৃঙ্খলা যখন সমগ্র আরব জাতিকে গ্রাস করার উপক্রম করে, তখন তিনি যুদ্ধাভিযান পরিচালনা করে অভ্যন্তরীণ শান্তি ও নিরাপত্তা বিধানপূর্বক নবপ্রতিষ্ঠিত ইসলামী রাষ্ট্রকে বহিঃশত্রুর কবল থেকে রক্ষা করেন এবং ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখতে সক্ষম হন।

১৬. গণতন্ত্রের পৃষ্ঠপোষক: হযরত আবু বকর (রা.) গণতন্ত্রের আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং জনগণের মতানুসারে খেলাফতের কার্যাদি সমাধান করতেন। তাঁর নিকট খলিফা এবং একজন সাধারণ মানুষের মধ্যে কোনো তফাৎ ছিল না। The king can do no wrong. অর্থাৎ, 'রাজা কোনো অন্যায় করতে পারেন না'; খলিফা আবু বকর (রা.) কখনো এ মতবাদে বিশ্বাসী ছিলেন না। তাঁর মতে আইনের চোখে একজন রাজা বা খলিফা এবং একজন কাঠুরে বা ভিক্ষুক সমান।

১৭. দীন দুঃখীর বন্ধু: খলিফা আবু বকর (রা.) দীন দুঃখীর দুর্দশা দূর করার জন্য সর্বপ্রথম বায়তুল মাল প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি রাতের অন্ধকারে গোপনে খাদ্যসামগ্রী বহন করে গরিব অনাথদের পৌঁছে দিয়ে তাদের দুরবস্থা ও অভাব মোচন করতেন। ঐতিহাসিক আমীর আলী বলেন, "নতুন রাষ্ট্রের শাসনকার্যে এবং জনসাধারণের কল্যাণ সাধনে আবু বকর (রা.) সর্বশক্তি নিয়োগ করেছিলেন।"

১৮. ইসলামের দ্বিতীয় প্রাণপুরুষ হযরত আবু বকর (রা.) ছিলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ডান হাত। মহানবি (স.) অসুস্থ অথবা অন্য কোনো কারণে অনুপস্থিত থাকলে তিনিই নামাযে ইমামতি করতেন। এমনকি মহানবি (স.)-এর জীবনের কঠিন মুহূর্তেও তিনি তাঁকে ছায়ার মতো অনুসরণ করতেন। এজন্য মাওলানা মুহাম্মদ আলী বলেন, "ইসলামের ইতিহাসে মহানবি (স.)-এর পরেই আব বকর (রা.)-এর স্থান।"

১৯. ধৈর্য: মহানবি (স.)-এর ইন্তেকালের সংবাদে হযরত ওমর (রা.)-এর মতো সিংহচেতা মানুষ পর্যন্ত শোকে বিমূঢ় হয়ে পড়েন। এ পরিস্থিতিতে অসীম ধৈর্য ধারণ করে হযরত আবু বকর (রা.) সর্বজনগ্রাহ্য সমাধান প্রদান করেন।

২০. মহানবি-এর নিত্যসঙ্গী সুখে-দুঃখে, বিপদাপদে, শান্তিতে, সংগ্রামে হযরত আবু বকর (রা.) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ছায়ার মতো অনুসরণ করতেন। তিনি রাসুলুল্লাহ (স.)-এর হিজরতের সঙ্গী এবং সবকটি যুদ্ধে তাঁর সাথে ছিলেন। ঐতিহাসিক আমীর আলী বলেন, "রাসুলের জীবনাদর্শের বহু বৈশিষ্ট্য তাঁর জীবনে প্রতিফলিত হয়েছিল।"

২১. চারিত্রকি বৈশিষ্ট্য: মক্কার শ্রেষ্ঠ বিদ্বানদের অন্যতম ছিলেন হযরত আবু বকর (রা.)। কুরআন-হাদিসে তাঁর অসাধারণ জ্ঞান ও পান্ডিত্য এবং আল্লাহ, ও রাসুলের ওপর অবিচল বিশ্বাস ছিল। ঈমানের দৃঢ়তা, ন্যায়পরায়ণতা, অসীম ধৈর্য, অনুপম চরিত্র মাধুর্য, কঠিন সংযম, বিপদে স্থিরচিত্ততা প্রভৃতি বৈশিষ্ট্যের জন্য ইতিহাসে তিনি অমর হয়ে রয়েছেন।

হযরত আবু বকর (রা.) ইসলামের ইতিহাসের সর্বাধিক সংকটময় সময়ে খেলাফতের দায়িত্ব পান এবং দক্ষতার সাথে সকল ষড়যন্ত্র চক্রান্তের জবাব দিয়ে শিশু ইসলামি রাষ্ট্রকে সংকটমুক্ত করেন। এজন্যই ঐতিহাসিকগণ ন্যায়সঙ্গতভাবে তাঁকে Savior of Islam তথা ইসলামের ত্রাণকর্তা বলে অভিহিত করেন।

খুলাফায়ে রাশেদিন - অন্যান্য প্রশ্ন

খুলাফায়ে রাশেদিনখুলাফায়ে রাশেদিন-এর নির্বাচন নীতিখলিফা হযরত আবু বকর (রা.) (৬৩২-৬৩৪ খ্রি.)খলিফা হযরত ওমর ফারুক (রা.) (৬৩৪-৬৪৪ খ্রি.)খলিফা হযরত উসমান (রা.) (৬৪৪-৬৫৬ খ্রি.)খলিফা হযরত আলী (রা.) (৬৫৬-৬৬১ খ্রি.)খুলাফায়ে রাশেদিনের শাসন ও আর্থ-সামাজিক বৈশিষ্ট্যবয়স্ক পুরুষদের মধ্যে কে প্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন?হযরত আলী (রা.)-এর পিতার নাম কী?'আসাদুল্লাহ' শব্দের অর্থ কী?ইসলামের প্রথম গৃহযুদ্ধ কোনটি?হযরত ওমর (রা.)-এর উপাধি কী ছিল?হযরত ওমর (রা.) তাঁর বিশাল সাম্রাজ্যকে কতটি প্রদেশে বিভক্ত করেন?কত খ্রিষ্টাব্দে উষ্ট্রের যুদ্ধ সংঘটিত হয়?'যুন্নুরাইন' শব্দের অর্থ কী?ইসলামি রাষ্ট্রের প্রথম রাজধানী কোথায় স্থাপিত হয়?'সিদ্দিক' কোন খলিফার উপাধি?খিলাফত কী?মহানবি (স.)-এর চারজন প্রতিনিধি কত বছর মুসলিম জাহানের খিলাফতের দায়িত্বভার পালন করেন?খুলাফায়ে রাশেদিন অর্থ কী?'খিলাফত' শব্দের অর্থ কী?খুলাফায়ে রাশেদিন কারা?খলিফা নির্বাচনের উদ্দেশ্যে মুসলমানগণ কোন স্থানে মিলিত হন?কাকে ইসলামের ত্রাণকর্তা বলা হয়?গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম খলিফা কে ছিলেন?প্রথম ভণ্ডনবি কে?ভন্ডনবিদের বিরুদ্ধে হযরত আবু বকর (রা.)-এর যুদ্ধ কী নামে পরিচিত?'রিদ্দা' শব্দের অর্থ কী?সর্বপ্রথম, 'বায়তুল মাল' প্রতিষ্ঠা করেন কে?কত খ্রিষ্টাব্দে হযরত ওমর (রা.) খলিফা নির্বাচিত হন?মজলিশ-উশ-শূরা কী?বায়তুল মাল কী?মহানবি (স.) কাকে 'সাইফুল্লাহ' উপাধিতে ভূষিত করেন?'আল্লাহর সিংহ' উপাধিটি কার?পুরুষদের মধ্যে কে ১০ বছর বয়সে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন?কীভাবে হযরত ওসমান (রা.) খিলাফত লাভ করেন?হযরত ওমর (রা.)-এর দিউয়ান বা রাজস্বব্যবস্থা ব্যাখ্যা কর।মহানবি (স.) কাকে এবং কেন সিদ্দিক উপাধি দিয়েছিলেন? ব্যাখ্যা কর।দুমার মীমাংসা কী? ব্যাখ্যা কর।হযরত ওমর (রা.) হযরত আবু বকর (রা.)-কে প্রথম খলিফা হিসেবে নির্বাচিত করতে চাইলেন কেন? ব্যাখ্যা কর।জিজিয়া কী? ব্যাখ্যা কর।'খুলাফায়ে রাশেদিন' বলতে কী বোঝায়?হযরত ওসমান (রা.)-কে আল কুরআনের সংকলক বলা হয় কেন?

সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ