• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • খুলাফায়ে রাশেদিন
খুলাফায়ে রাশেদিন

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

খলিফা হযরত ওমর ফারুক (রা.) (৬৩৪-৬৪৪ খ্রি.)

হযরত ওমর (রা.)-এর জন্ম ও ইসলাম-পূর্ব জীবন খাত্তাবের পুত্র ওমর ওরফে আবু হাফস ৫৮৩ খ্রিষ্টাব্দে কুরাইশ বংশের আদি শাখায় মক্কা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। খাত্তাব ছিলেন একজন সাহিত্যিক ব্যক্তিত্ব এবং আদি উপজাতির অন্তর্ভুক্ত। সুপ্রাচীন কাল থেকে দূতিয়ালিতে এদের খ্যাতি ছিল। ওমর (রা.)-এর যখন বড় হন তখন তিনি উটের পাল চরানোর দায়িত্ব পান। কৈশোরে পদার্পণ করে তিনি কুলজি শাস্ত্র, বক্তৃতা, কুস্তি, অশ্বারোহণ এবং অসি চালনায় সবিশেষ দক্ষতা অর্জন করেন। উকাযের মেলায় অসি চালনা ও কুস্তি প্রতিযোগিতায় অংশ নিতেন। তিনি ছিলেন একজন বিখ্যাত অশ্বারোহী এবং কোনো রেকাব ছাড়াই অশ্বে আরোহণ করতে পারতেন এবং ঘোড়ার খালি পিঠে চড়তেন।

তিনি ছিলেন কুরাইশদের মধ্যে লেখাপড়া জানা সপ্তদশ ব্যক্তির অন্যতম। জীবিকা নির্বাহের জন্য তিনি ব্যবসায় করতেন। আইয়্যামে জাহিলিয়াতের যুগে তিনি ব্যবসা উপলক্ষে ইরান ও সিরিয়ায় ব্যাপক সফর করেন। এভাবে তিনি ছিলেন খুবই সুপরিচিত এক ব্যক্তি। অপর কোনো উপজাতির সঙ্গে কোনো বিরোধ বাঁধলে তাঁর বাক-চাতুর্থ, ভাষাজ্ঞান ও পরিচ্ছন্ন কূটনীতি জ্ঞানের কারণে কুরাইশগণ তাঁকে তাদের দূত নিয়োগ করতেন। ইসলাম প্রচারের পূর্বে দৌত্যকার্য করবার বিরল সম্মান লাভ করেন। তাঁর অসাধারণ মেধা, যোগ্যতা, সত্যনিষ্ঠার কারণে ইসলাম গ্রহণের পর 'ফারুক' উপাধি লাভ করেন।

ওমর বিন খাত্তাব-এর ইসলাম গ্রহণ ইসলামের ইতিহাসে ওমর বিন খাত্তাবের ইসলাম গ্রহণ ইসলাম জগতে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনা। ইসলামের প্রাথমিক পর্যায়ে ইসলাম ধর্ম প্রচারে কুরাইশদের বাধা সংকটাময় করে তোলে। ওমর (রা.)-এর ইসলাম গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে ইসলাম ও মুসলমানগণ নিরাপদ ও বিপদমুক্ত হয়। তাঁর ইসলাম গ্রহণ এক নাটকীয় ঘটনা। একবার তিনি ইসলামের ঘোরতর শত্রু হিসেবে খোলা তরবারি হাতে মুহাম্মদ (স.)-কে হত্যার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। পথিমধ্যে জনৈক্য নঈম তাকে জানান তার বোন ফাতেমা ও ভগ্নিপতি সাঈদ ইসলাম ধর্ম গ্রহণপূর্বক মুসলমান হয়েছে। ওমর (রা.) রাগে-ক্ষোভে বোনের বাড়ির দিকে ছুটলেন এবং দেখতে পারলেন, তারা কুরআন পড়ছে। সে সূর তাকে বিমোহিত করছে। বাড়িতে ঢুকে বোন ও ভগ্নিপতিকে ইসলাম ত্যাগ করার জন্য চাপ সৃষ্টি ও ভয় দেখালেও উত্তরে তাঁর বোন বললেন, জীবন গেলেও তারা ইসলাম ত্যাগ করবে না। বোনের কথা ও কুরআনের বাণী তার মধ্যে ভাবান্তরের সৃষ্টি করে। ফলে সেখান হতে খোলা তরবারি হাতে নবীজীর নিকট পৌঁছে তার পদতলে তরবারি রেখে কম্পিত কণ্ঠে ইসলাম গ্রহণের আরজ জানান। নবুয়তে ৭ম বর্ষে অর্থাৎ ৬১৬ খ্রিষ্টাব্দে ৩৩ বছর বয়সে হযরত ওমর ফারুক (রা) ইসলাম গ্রহণ করেন।

খলিফা হিসেবে হযরত ওমর (রা.) হযরত আবু বকর (রা.)-এর মৃত্যুর পর ৬৩৪ খ্রিষ্টাব্দে হযরত ওমর (রা.) ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হিসেবে নির্বাচিত হন। তাঁর দশ বছরের শাসনকালে তিনি যেমন মুসলিম সাম্রাজ্যের সীমা বৃদ্ধি করেন, তেমনিভাবে মুসলিম রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর রাজ্যজয় ও শাসন ব্যবস্থা পৃথিবীর ইতিহাসে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনা। তিনি যে শাসনব্যবস্থার প্রবর্তন করেন তা ইসলামি শাসনব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি বলে ঐতিহাসিকগণ মনে করেন।

রাজ্য জয় ও খিলাফতের সম্প্রসারণ

হযরত ওমর (রা.)-এর ১০ বছরের রাজত্বকাল, ইসলামের সম্প্রসারণের যুগ। হযরত ওমর (রা.) একজন দিগ বিজয়ী শাসক। কারণ তাঁর রাজত্বকালে ইসলাম পারস্য, সিরিয়া ও মিশরে বিস্তার লাভ করে। হযরত মুহম্মদ (স.) এবং আবু বকর (রা.)-এর আমলে মুসলিম সাম্রাজ্য আরব উপদ্বীপেই সীমাবদ্ধ ছিল। ওমর (রা.)-এর রাজ্য জয় সম্পর্কে ঐতিহাসিক হিট্টি বলেন, "After the death of prophet sterile Arabsa seems to have been converted as if by magic into a nursery of heroes the like of whome both in number and quality is hard to find any where." অর্থাৎ, "রাসুলুল্লাহ (স.)-এর মৃত্যুর পর যেন যাদুমন্তের ছোঁয়ায় অনুর্বর আরব দেশ অসংখ্য ও অতুলনীয় যোদ্ধা উৎপাদনের ক্ষেত্রে রূপান্তরিত হলো। এইসব বীর যোদ্ধাদের সাহায্যে তিনি সমগ্র পারস্য ও রোমান সাম্রাজ্য দখল করে বিশ্বের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় সংযোজন করেন।" ওমরের বিজয় অভিযানগুলো নিম্নে আলোচিত হলো:

পারস্য বিজয়: হযরত ওমর (রা.)-এর শাসনকালে ইসলামি সাম্রাজ্য সম্প্রসারণকল্পে পারস্য অভিযান পরিচালনা করেন। নিম্নে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো:

পারস্য বিজয়ের কারণ: প্রয়াত খলিফা আবু বকর (রা.)-এর অসমাপ্ত কার্য সমাপ্ত করা এবং ইসলামি রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিধানের জন্য খলিফা ওমর (রা.)-এর সময় পারস্য ও রোমান সাম্রাজ্যে অভিযান অপরিহার্য হয়ে পড়ে। পারস্য ও রোমান সাম্রাজ্য বিজয়ের পিছনে কিছু রাজনৈতিক, কূটনৈতিক, ভৌগোলিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কারণ ছিল। নিচে এ কারণগুলো বর্ণনা করা হলো:

১. মুসলমানদের প্রতি পারস্য ও রোম সম্রাটের ঈর্যা: পারস্য ছিল একটি শক্তিশালী বিশাল সাম্রাজ্য এবং পারস্য সম্রাট ছিলেন সে বিশাল সাম্রাজ্যের একচ্ছত্র অধিপতি, কিন্তু মুসলমানদের দেশ জয়ের কথা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ায় তাদের পূর্বের সুনাম নষ্ট হয়ে যেতে লাগল। এতে পারস্য ও রোমান সম্রাট ঈর্যান্বিত হয়ে ইসলামের ধ্বংস সাধনের চেষ্টা করে।

২. মুসলিম দূতকে অপমান ও হত্যা হ্রদায়বিয়ার সন্ধির পর হযরত মুহম্মদ (স.) পারস্য ও রোম সম্রাটকে ইসলাম গ্রহণের আমন্ত্রণ জানিয়ে দূত পাঠালে পারস্য সম্রাট দ্বিতীয় খসরু মুসলিম দূতকে অপমান ও হত্যা করে। এর ফলে আবু বকর (রা.)-এর সময় থেকে সীমান্তে যুদ্ধ শুরু হয় এবং এ যুদ্ধের জের ধরেই হযরত ওমর (রা.)-এর পারস্য ও রোম সাম্রাজ্য বিজয় অপরিহার্য হয়ে পড়ে।

৩. বাহরাইনে বিদ্রোহীদের এবং ভন্ড নবি সাজাহকে সাহায্য দান হযরত আবু বকর (রা.)-এর খিলাফতে বাহরাইনে স্বধর্মত্যাগীদের বিদ্রোহ দেখা দিলে পারস্যবাসীরা বিদ্রোহীদের সাহায্য করায় পারস্যের দুশমনি প্রকট হয়ে ওঠে। রোমবাসীরাও ভন্ড নবি সাজাহকে সাহায্য করে। এর ফলে মুসলমানগণ তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য হন।

৪. সীমান্ত সংঘর্ষ: সীমান্ত অঞ্চলে পারস্য ও রোম সৈন্যরা যুদ্ধ ও লুটপাট করত। এজন্য সীমান্তে খাঁটি প্রস্তুত করা হয় এবং যুদ্ধ শুরু হয়।

৫. অর্থনৈতিক কারণ: মরুভূমি আরবে উৎপাদন কম হওয়ায় লোকদের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ ছিল। ইরাকের সাথে আরববাসীদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল। কিন্তু ঈর্ষান্বিত পারস্যবাসীরা আরববাসী ব্যবসায়ীদের উপর অকথ্য উৎপীড়ন করায় মুসলমানগণ যুদ্ধে লিপ্ত হন।

৬. উর্বর ও ঐশ্বর্যময়: আরব এলাকার চেয়ে উক্ত এলাকাসমূহ উর্বর ও ঐশ্বর্যময় হওয়ায় অর্থনৈতিক কারণে মুসলমানদের এলাকাসমূহ তা জয় করা অপরিহার্য হয়ে পড়ে। রাজ্য জয়ের কারণ প্রসঙ্গে ঐতিহাসিক হিট্টি বলেন, "Its creation was therefore due to early design than to the logic of immediate circumstances." অর্থাৎ "অন্য কোনো পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়া তৎক্ষণাৎ ঘটিত ঘটনাসমূহের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহত্তর ইসলামি সাম্রাজ্য সৃষ্টি হয়।"

পারস্য বিজয়ের ঘটনা: হযরত ওমর (রা.)-এর পারস্য বিষয়ের ঘটনাবলি নিম্নে আলোচনা করা হলো:

ব্যাবিলনের যুদ্ধ: ৬৩৫ খ্রিষ্টাব্দে সেনাপতি খালিদ উনিসের যুদ্ধে হীরা দখল করেন। পরে আবু বকরের নির্দেশে খালিদ হীরা ত্যাগ করেন। ইতিহাসে এটি ব্যাবিলনের যুদ্ধ নামে পরিচিত।

নামারিকের যুদ্ধ: আরব সীমান্তের উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত পারস্য বিজয়ের জন্য ৬৩৪ খ্রিষ্টাব্দে সেনাপতি আবু ওবায়দা ও মুসান্নার নেতৃত্বে এক বিরাট সৈন্যদল প্রেরণ করেন। ৬৩৪ খ্রিষ্টাব্দে সেপ্টেম্বর মাসে 'নামারিক' নামক স্থানে উভয়ের মধ্যে তুমুল যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে পারসিকগণ পরাজিত হয় এবং মুসলমানগণ পুনরায় জয়লাভ করেন।

সেতুর যুদ্ধ: ৬৩৪ খ্রিষ্টাব্দে নভেম্বর মাসে পারস্য সম্রাটের সেনাপতি পরাজয়ের গ্লানি মুছে ফেলার জন্য ইউফ্রেটিস নদীর তীরে মুসলিম বাহিনীর সঙ্গে এক তুমুল যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। যুদ্ধে মুসলিম বাহিনী সেতু নির্মাণ করেছিলেন বলে ইতিহাসে তা সেতুর যুদ্ধ নামে পরিচিত। এই যুদ্ধে মুসলিম বাহিনী পরাজিত হয়। সেনাপতি আবু ওবায়দা শাহাদাতবরণ করেন। ঐতিহাসিক বালাযুরীর মতে, "নয় হাজার সৈন্যের মধ্যে তিন হাজার সৈন্য বেঁচেছিল।"

বুয়ায়েবের যুদ্ধ: সেতুর যুদ্ধে শোচনীয় পরাজয়ের সংবাদ শুনে ওমর (রা.) মর্মাহত হয়ে মুসান্নার সাহায্যে আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে একদল সৈন্য প্রেরণ করেন। বুয়ায়েবের যুদ্ধে মুসলিম বাহিনী খ্রিষ্টান শক্তিকে পরাজিত করে পুনরায় হীরা দখল করেন।

কাদেসিয়ার যুদ্ধ: পারস্য রাজ চূড়ান্তভাবে মুসলমানদের পরাজিত করার জন্য প্রায় ২০ হাজার সৈন্যসহ সেনাপতি রুস্তমের নেতৃত্বে মুসলমানদের বিরুদ্ধে একটি বিরাট সৈন্যদল প্রেরণ করলেন। অপরদিকে, সাদ-বিন-আবি ওয়াক্কাসের নেতৃত্বে ত্রিশ হাজার সৈন্যের এক বাহিনী প্রেরিত হয়। কাদেসিয়ার প্রান্তরে তুমুল যুদ্ধ হলে যুদ্ধে রুস্তম নিহত হয়। খ্রিষ্টান শক্তি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়। মুসলমানগণ জয়লাভ করেন এবং পারস্যের রাজধানী মাদায়িন দখল করেন।

জালুলা ও নিহাওয়াদের যুদ্ধ: জালুলার দুর্গ দখল করে পারস্য বাহিনীকে পরাজিত করে সম্রাটের আশ্রয়স্থল হলোওয়ান মুসলমানগণ অধিকার করেন। অবস্থা বেগতিক দেখে পারস্য সম্রাট সন্ধি করে আত্মরক্ষা করেন। কিন্তু কিছুদিন পর সন্ধির শর্ত ভঙ্গ করে হৃতরাজ্য পুনরুদ্ধারের জন্য ৬৪২ খ্রিষ্টাব্দে নিহাওয়ান্দে ভাগ্য পরীক্ষায় অবতীর্ণ হন। এই যুদ্ধে পারস্য সম্রাট পরাজিত হলে সমগ্র পারস্য মুসলমানদের হস্তগত হয়।

রোমান সাম্রাজ্যের সিরিয়া বিজয় হযরত ওমর (রা.) পারস্য বিজয়ের পর রোমান সাম্রাজ্য বিজয় করেন। তা নিম্নে আলোচনা করা হলো:

মুসলিম দূতকে হত্যা: পূর্বে রোমান সাম্রাজ্যকে বাইজান্টাইন সাম্রাজ্য বলা হতো। প্রথমদিকে মুসলমানদের সাথে রোমানদের সুসম্পর্ক ছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে রোমান সম্রাট মুসলিম দূতকে হত্যা করায় মহানবি (স.) তথায় সাহাবি জায়েদের নেতৃত্বে একটি অভিযান পাঠান।

মহানবি (স.)-এর অসমাপ্ত কার্য সমাধান আবু বকর (রা.)-এর খিলাফতে ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে ওসামা রোমানদের পরাজিত করেন। কিন্তু এ অভিযানের ফল দীর্ঘস্থায়ী হয় নি। তাই দীর্ঘস্থায়ী পরিকল্পনা বাস্তবে পরিণত করার উদ্দেশ্যে খলিফা আবু বকর রিন্দা যুদ্ধের পর আমর-ইবন-আল-আসকে সিরিয়া ও প্যালেস্টাইন দখল করার জন্য ইয়াজিদ ইবন আবু সুফিয়ানকে দামেস্ক, আবু ওবায়দাকে হিমস এবং সোহরাহবিলকে জর্ডান অঞ্চলে পাঠান। সম্মিলিত বাহিনীর সর্বময়কর্তা হিসেবে আমর-ইবন-আল-আসকে নিযুক্ত করেন।

পারস্য সম্রাট হিরাক্লিয়াসও তার সৈন্যবাহিনীকে ৪টি ভাগে বিভক্ত করেন। আরাবা উপত্যকায় মুসলমানদের সাথে রোমানগণের প্রথম সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে রোমানগণ পরাজিত হয়।

রোমানদের সঙ্গে সংঘটিত যুদ্ধসমূহ: রোমানদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন যুদ্ধ সংঘটিত হয়। তা নিম্নরূপ:

গাজার যুদ্ধ: আরাবা যুদ্ধে পরাজয়ের সংবাদে রোমিও শাসনকর্তা সার্জিয়াস গাজার নিকটবর্তী স্থানে আমর-ইবন-আল-আসের সঙ্গে যুদ্ধ করেন। এ যুদ্ধেও রোমানগণ পরাজিত হয় এবং রোমীয় শাসনকর্তা সার্জিয়াস প্রাণ ত্যাগ করেন।

আজনাদাইনের যুদ্ধ (৬৩৪ খ্রি.): আরাবা এবং গাজার যুদ্ধে পরাজিত হয়ে রোমান সম্রাট হিরাক্লিয়াস ২,৪০,০০০ সৈন্যের এক বাহিনী ভ্রাতা থিওডোরের নেতৃত্বে প্রস্তুত রাখেন। আমর-ইবন-আল-আসের নেতৃত্বে মুসলমানদের সৈন্য সংখ্যা ছিল ৪০,০০০। আজনাদাইনের যুদ্ধক্ষেত্রে দুবাহিনী পরস্পর পরস্পরের মোকাবিলা করে। এ যুদ্ধে মুসলিম বাহিনী জয়লাভকরে। ফলে গাজা, নিউপলিস, জাফা প্রভৃতি মুসলমানদের অধিকারে আসে।

সিরিয়া বিজয়: খলিফা ওমর (রা.)-এর রাজত্বকালে ৬৩৫ খ্রিস্টাব্দে সেনাপতি আবু ওবায়দার সহযোগিতায় খালিদ রোমানদেরকে পরাজিত করে দামেস্ক দখল করেন।

ইয়ারমুকের যুদ্ধ: দামেস্কের পতন সংবাদ, পেয়ে সম্রাট হিরাক্লিয়াস সেনাপতি ম্যানুয়েলের নেতৃত্বে এক বিরাট সৈন্যবাহিনী প্রেরণ করে। ৬৩৬ খ্রিষ্টাব্দে ইয়ারমুক প্রাঙ্গরে এক ভীষণ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। যুদ্ধে রোমানগণ শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়। ঐতিহাসিক বালাযুরীর মতে, রোমানদের মৃত্যুর সংখ্যা ছিল সত্তর হাজার। মুসলমানদেরও প্রায় তিন হাজার সৈন্য শহিদ হন।

ইয়ারমুকের যুদ্ধের পর খালিদ-বিন-ওয়ালিদ প্রধান সেনাপতির পদ হতে বরখাস্ত হলে তদস্থলে আবু ওবায়দা নিযুক্ত হন। আবু ওবায়দা নতুন দায়িত্বভার গ্রহণ করে দামেস্ক ও সিরিয়ার দিকে অগ্রসর হন এবং সোহরাহবিলকে জর্ডান, ইয়াজিদকে লেবানন ও আমর-বিন-আল-আসকে জেরুজালেম এবং প্যালেস্টাইনের দিকে পাঠান। দামেস্ক দখল করে আবু ওবায়দা দ্রুতগতিতে উত্তর সিরিয়া, বালবেক, এডেসা, আলেপা, এন্টিয়ক ও কিন্নিসিরিন অধিকার করেন। এভাবে ৬৩৮ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে সমগ্র সিরিয়া মুসলমানদের হস্তগত হয়।

জেরুজালেমের সন্ধি: ইয়ারমুকের যুদ্ধে জয়লাভ করে আমর-বিন-আল-আস জেরুজালেম অভিমুখে অগ্রসর হলে রোমান সেনাপতি তাবুন নগরী ছেড়ে পলায়ন করেন। তখন জেরুজালেমবাসী বলে, হযরত ওমর (রা.) স্বয়ং সন্ধিপত্রে স্বাক্ষর করলে তারা মুসলমানদের সঙ্গে সন্ধি করবেন। ফলে হযরত ওমর (রা.) স্বয়ং জেরুজালেমে উপস্থিত হন এবং খ্রিষ্টানদের সঙ্গে এক সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়।

মিশর বিজয়: সিরিয়া ও জেরুজালেম বিজয়ের ফলে খ্রিষ্টানগণ মিশরে গিয়ে ঘাঁটি করে এবং বিভিন্ন সময় তারা মুসলিম সাম্রাজ্য আক্রমণ করে। ফলে মুসলিম সাম্রাজ্যের নিরাপত্তা বিধানের জন্য মিশর বিজয় অপরিহার্য হয়ে পড়ে। খলিফা ওমর (রা.) সকল দিকে চিন্তা করে আমর-বিন-আল-আসকে ৪০,০০০ সৈন্য দিয়ে মিশর জয়ের জন্য পাঠান। ফুস্তাত অবরোধ করে সাত মাস পর তা মুসলমানদের হস্তগত হয়। এভাবে সমগ্র মিশর দখল করে আমর সেখানে মুসলিম শাসন প্রবর্তন করেন।

হযরত ওমর (রা.)-এর শাহাদাত: ২৫ জিলহজ ২৩ হিজরি আবু লুলু নামক এক অগ্নিপূজক একটি বিষাক্ত ছোরা হাতে নিয়ে মসজিদে ওঁত পেতে বসে ছিল। যখন হযরত ওমর (রা.) নামাযের তাকবীর বলেন, সে সময়ে আবু লুলু সারি ফাঁক করে সামনে এসে ছোরা দিয়ে হঠাৎ আক্রমণ করে হযরত ওমরকে কাঁধে ও নাভিমূলে উপর্যুরি আঘাত করে পলায়ন করে। পরে তাকে পাকড়াও করা গেলেও সে আত্মহত্যা করে। ফারুকে আযম (রা.) তৎক্ষণাৎ হযরত আবদুর রহমান ইবনে আওফকে নিজের স্থলাভিষিক্ত করে ইমামতির জন্য তাঁকে দাঁড় করিয়ে দেন। তিনি মসজিদের মেঝেতে ঢলে পড়ে ছটফট করতে থাকেন। হযরত আবদুর রহমান নামায পড়ান এবং পরে তাঁকে ঘর পৌঁছে দেন। হত্যাকারী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি জানান, তাঁর হত্যাকারী আবু লুলু। হযরত ওমর (রা.) কালেন- "আল্লাহর শোকর, আমার রক্তে কোনো মুসলমানের হাত রঞ্জিত হযরত ফারুকে আযম (রা.) আহত হওয়ার তৃতীয় দিন বুধবার ২৭ জিলহজ ২৩ হিজরি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর জানাযা নামাযে ইমামতি করেন হযরত সোহায়ব (রা.)। হযরত আলী (রা.), হযরত উসমান (রা.), সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস ও হযরত আবদুর রহমান ইবনে আওফ (রা.) তাঁকে কবরে নামান। এভাবেই মুসলিম জাহানের শ্রেষ্ঠ জ্যোতিক দুনিয়ার আকাশ থেকে খসে পড়ে।

হযরত ওমর (রা.)-এর শাসন ব্যবস্থা [Administration System of Hazrat Omar (R.)]

হযরত ওমর (রা.) ইসলামি শাসন ব্যবস্থার প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা। তিনি শুধু পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বিজেতাই ছিলেন না, সুযোগ্য প্রশাসক হিসেবেও অক্ষয় কীর্তি রেখে গিয়েছেন। রসুলে করিম (স.)-এর মদিনা প্রজাতন্ত্র, হযরত আবু বকর (রা.) এবং বিশেষ করে হযরত ওমর (রা.)-এর সময় সম্প্রসারিত মুসলিম রাষ্ট্রের প্রচলিত শাসন ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়। হযরত ওমর (রা.) বিজিত অঞ্চলের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অবস্থার কথা চিন্তা করে আল-কুরআন ও হাদিসের আলোকে একটি সুসংহত প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করেন। তাই ঐতিহাসিক ড. ইমামুদ্দীন বলেন, "তাঁর শাসনকাল ইসলামের কৃতিত্বপূর্ণ ইতিহাসে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় সংযোজন করেছে। শুধু মহান বিজেতাই নয় তিনি ছিলেন সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক।"
হযরত ওমর (রা.)-এর শাসন ব্যবস্থা নিম্নে আলোচনা করা হলো:

আল্লাহর সার্বভৌমত্ব: হযরত ওমর (রা.)-এর শাসন ব্যবস্থা ছিল ইসলামি শাসন ব্যবস্থা। পরম করুণাময় আল্লাহ তায়ালাই ইসলামি রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতার উৎস। খলিফা ছিলেন তার প্রতিনিধি।

গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা: খলিফা যদিও আল্লাহর প্রতিনিধি কিন্তু খলিফা শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো জনগণের সেবক। তাই একনায়কত্বের পরিবর্তে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় খলিফা নির্বাচিত হতো। খলিফা নির্বাচনের ও খলিফা কাজের সমালোচনা করার অধিকার জনগণের ছিল। খলিফা ওমর (রা.)-এর স্বয়ং বলতেন, "পরামর্শ ব্যতীত খিলাফত চলতে পারে না।" মৌলানা মুহম্মদ আলী বলেন, "Under Omar the principle of democracy was carried to a point to which it will yet take the world time to attain", অর্থাৎ "হযরত ওমর (রা)-এর সময় গণতন্ত্রের আদর্শ যতদূর বহন করা হয়েছিল সে আদর্শ অর্জন করতে বিশ্বের আরও সময় লাগবে।"

উপদেষ্টা পরিষদ গঠন: হযরত ওমর (রা.)-এর গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল 'মজলিস-উস-সূরা' বা উপদেষ্টা পরিষদ। এ উপদেষ্টা পরিষদ আবার দুভাগে বিভক্ত ছিল। যথা: (ক) মজলিস-উস-খাস, (খ) মজলিস-উস-আম।

মজলিস-উস-খাস: মজলিস-উস-খাস ছিল উচ্চ পরিষদ। এ পরিষদের সদস্য ছিল বিশিষ্ট সাহাবাবৃন্দ যথা: হযরত উসমান (রা.), হযরত আলী (রা.), তালহা, যুবাইর প্রমুখ। এ পরিষদ রাষ্ট্রের দৈনন্দিন কার্যকলাপের পরামর্শ দিতেন। মজলিস-উস-খাসের সঙ্গে পরামর্শ ব্যতীত হযরত ওমর (রা.)-এর কোনো কার্য সম্পাদন করতেন না।

মজলিস-উস-আম: মজলিস-উস-আমের সদস্য ছিলেন প্রাদেশিক শাসকগণ, মদিনার গণ্যমান্য ব্যক্তি, মোহাজের ও আনছার। বছরে দুবার এ পরিষদের সভা আহ্বান করা হতো। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তসমূহ মজলিশ-উস-আমে গ্রহণ করা হতো। মদিনার মসজিদে উপদেষ্টা পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হতো।

শাসন ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য: হযরত ওমর (রা.)-এর শাসন ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল আরব জাতীয়তাবাদকে অক্ষুণ্ণ রাখা। এ জন্য তিনি প্রধানত দুটি নীতি অনুসরণ করেন।

প্রথমত, আরব উপদ্বীপকে সম্পূর্ণরূপে আরব মুসলিমদের বাসভূমিতে পরিণত করার জন্য শত্রুভাবাপন্ন ইহুদি এবং খ্রিষ্টানদের আরব দেশের বাইরে বসবাসের নির্দেশ দেন। দ্বিতীয়ত, মুসলিম সৈন্যদের আরব দেশের বাইরে জমি-জমা ক্রয় অথবা চাষাবাদ করা নিষিদ্ধ করে খলিফার আদেশ জারি করেন। এভাবে আরব ভূখন্ডকে একটি মাত্র শক্তিশালী ধর্মীয় রাষ্ট্ররূপে পরিণত করতে সক্ষম হন।

প্রাদেশিক শাসন ব্যবস্থা: মুসলিম রাষ্ট্র সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে হযরত ওমর (রা.) প্রশাসনিক কাঠামোকে সুষ্ঠু ও কার্যকরী করার জন্য সমগ্র আরব ও বিজিত অঞ্চলগুলোকে প্রশাসনিক প্রয়োজনে ১৪টি প্রদেশে বিভক্ত করেন। যথা: মক্কা, মদিনা, সিরিয়া, আলজিরিয়া, বসরা, কুফা, মিশর, প্যালেস্টাইন, ফারস, কিরমান, খোরাসান, মাকরান, সিজিস্তান ও আজারবাইযান। প্রত্যেক প্রদেশকে আবার জেলা ও মহকুমায় বিভক্ত করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। ফলে জনসাধারণ শান্তি ও শৃঙ্খলার মধ্যে বসবাস করেন। সরকারি কর্মচারী, কাজি (বিচারক), কাতিব (প্রধান উপদেষ্টা), কাতিব-আদ-দিওয়ান (প্রধান সামরিক উপদেষ্টা), সাহিব-আল-খারাজ (রাজস্ব উপদেষ্টা), সাহিব-আল আহদাত (পুলিশ উপদেষ্টা), সাহিব-আল-বায়তুলমাল (কোষাধ্যক্ষ) নিয়োগ করেন।

সরকারি কর্মকর্তা নিয়োগ খলিফা উপদেষ্টা পরিষদের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রাদেশিক শাসক ওয়ালি এবং জেলার শাসনকর্তা আমীনকে নিয়োগ করেন। ইসলামি জ্ঞানে পারদর্শী ও যোগ্য ব্যক্তিকে উক্ত পদগুলোতে নিয়োগ করা হয়। তারা নিজ এলাকায় নামাজের ইমামতি করতেন। প্রতি বছর হজ পালনের সময় মকায় গিয়ে তারা কার্যক্রম বর্ণনা ও আয়-ব্যয় হিসাব প্রদান করতেন। সরকারি কর্মচারীদের দুর্নীতিমুক্ত ও কর্তব্যপরায়ণ করে তোলার জন্য উচ্চ বেতন নির্ধারণ করেছিলেন। ফলে তাদের কর্তব্য ও দায়িত্ব পালনে কেহ ব্যর্থ হলে তাকে কঠোর শাস্তি দেয়া হতো। কর্মচারীদের সম্পদের তালিকা তৈরি করা হতো। আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতি দেখা দিলে রাষ্ট্র কর্তৃক সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হতো এবং তাকে চাকরি হতে বরখাস্ত করা হতো। এ নীতির ফলে প্রাদেশিক শাসনকর্তা আবু হুরায়রা ও আমর-বিন-আল-আসের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়।

গুপ্তচর বাহিনী গঠন: শাসন ব্যবস্থাকে দুর্নীতিমুক্ত করার জন্য হযরত ওমর (রা.) গুপ্তচর ব্যবস্থার প্রবর্তন করেন। গুপ্তচরেরা কর্মচারীদের গতিবিধি ও কার্যকলাপ লক্ষ করতেন। অযোগ্য ও দুর্নীতিপরায়ণ শাসকদের পদচ্যুত করা হতো।

রাজস্বব্যবস্থা: ওমর (রা.)-এর রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক কাঠামো তৈরি করার প্রয়োজন ছিল।

ওমর (রা.)-এর বিশাল ইসলামি সাম্রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে সুগঠিত করার জন্য রাজস্বব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন সাধন করেন। শিবলী নোমানী বলেন, "বিজিত দেশসমূহে প্রচলিত বিবর্তনমূলক কৃষি ব্যবস্থার বিলোপ সাধনই ছিল হযরত ওমর (রা)-এর রাজস্বব্যবস্থায় একটি সর্বোৎকৃষ্ট বৈপ্লবিক সংস্কার।"

দিওয়ান-উল-খারাজ: খলিফা ওমর ভূমি (রা.)-এর রাজস্বের একটি সুপরিকল্পিত ব্যবস্থা প্রণয়ের জন্য রাজস্ব বিভাগ বা 'দিওয়ান-উল-খারাজ' প্রতিষ্ঠা করেন। এ বিভাগের প্রধান কর্মচারী ছিলেন 'সাহিব-উল-খারাজ'। অতঃপর জেলা, মহকুমা বিভিন্ন পর্যায়ে রাজস্ব কর্মচারী নিয়োগ করেন রাজস্ব আদায়ের জন্য।

ভূমি জরিপের ব্যবস্থা: হযরত ওমর (রা.) বিজিত এলাকায় আদমশুমারি করেন। অতঃপর ভূমি জরিপ করে কৃষকদের মধ্যে ভূমি বণ্টন করে রাজস্ব নির্ধারণ করেন। বিজিত এলাকার জমিজমা কৃষকদের মধ্যে বণ্টন করে রাজস্ব নির্ধারণ করেন। বিজিত এলাকার জমিজমা কৃষকদের ব্যক্তিগত সম্পদে পরিণত করে জায়গির প্রথার বিরোধিতা করেন। জমির উর্বরতার ওপর ভিত্তি করে কর নির্ধারণ করেন। একমাত্র ইরাকের কর্ষণযোগ্য ভূমির পরিমাণ ছিল জরিপ। প্রতি জরিপে বাৎসরিক কর নির্ধারিত হতো গম ২, বার্লি ১, ইক্ষু ৬, তুলা ৫, আঙুর ১০, খেজুর ১০, তিল জাতীয় দ্রব্যে ৮ দিরহাম।

রাজস্বের উৎস: মুসলিম খলিফাদের সময় রাজস্বের উৎসগুলো নিম্নে আলোচনা করা হলো:

১. খারাজ বা অমুসলিম প্রজার ভূমি কর, অমুসলিম প্রজারা ভূমির উৎপন্ন ফসলের ওপর কর প্রদান করত।

২. উশর বা বাণিজ্যিক কর, বাণিজ্য কর রাষ্ট্রের আয়ের প্রধান উৎস ছিল। মুসলিম ব্যবসায়ী আড়াই ভাগ, অমুসলিম: ব্যবসায়ী ৫% এবং বিদেশিদের উপর ১০% বাণিজ্যিক শুল্ক ধার্য করা হয়। জাতীয় অর্থ সুষ্ঠুভাবে বণ্টনের জন্য হযরত ওমর (রা.) সর্বপ্রথম আদমশুমারির ব্যবস্থা করেন।

৩. যাকাত বা দরিদ্র কর, যাকাত শুধুমাত্র ধনী মুসলমানদের নিকট হতে আদায় করা হতো।

৪. জিজিয়া বা নিরাপত্তামূলক সামরিক কর, জিজিয়া অমুসলিম প্রজাদের জানমাল রক্ষা, ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রদান ও সেনাবাহিনীতে যোগদান হতে অব্যাহতি লাভের ফলে এ কর দিতে হতো।

৫. গনিমত বা যুদ্ধলব্ধ দ্রব্যাদি, যুদ্ধলব্ধ দ্রব্যের এক-পঞ্চমাংশ রাজকোষে জমা হতো এবং বাকি চার অংশ সৈন্যদের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া হতো।

৬. আল-ফে বা রাষ্ট্রীয় ভূমিকর, রাষ্ট্রীয় ভূমি হতে যে আয় হতো তাকে আল-ফে বলা হতো।

৭. উশর বা মুসলমান প্রজাদের দেয় উৎপন্ন ফসলের কর, প্রাকৃতিক নিয়মে উৎপন্ন ফসলের এক-দশমাংশ এবং সেচের মাধ্যমে উৎপন্ন ফসলের বিশের এক অংশ কর প্রদান করা হতো এবং

৮. উট, ঘোড়ার উপর কর।

বায়তুলমাল বণ্টন: সরকারি কোষাগারকে বায়তুলমাল বলা হতো। রাষ্ট্রের সমস্ত অর্থ বায়তুলমালে জমা হতো। রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা পরিচালনায় এ অর্থ ব্যয় করা হতো। উদ্বৃত্ত অর্থ গরিবদের মধ্যে বণ্টন করা হতো। খলিফা তার নির্ধারিত ভাতা ব্যতীত এটি হতে অতিরিক্ত এক দিরহামও খরচ করতেন না। ঐতিহাসিক মুইর বলেন, "ওমর (রা)-এর প্রবর্তিত ভাতা ভোগকারীদের বৃত্তি তালিকা সম্ভবত দুনিয়ার বুকে তুলনাবিহীন।"

কৃষির উন্নয়ন: কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির উন্নতিকল্পে হযরত ওমর (রা.) কৃষিকার্যের প্রভূত উন্নতি সাধন করেন। মিশর, সিরিয়া, ইরাকের জমি জরিপ করে রাজস্ব নির্ধারণ করেন। সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য খাল খনন করেন। নহয়-ই-সাদ, নহর-ই-মালিক নামক খাল খনন করে দাজলা হতে পানি দিয়ে শস্য উৎপাদন করেন। পতিত জমি তিন বছর বিনা শুষ্কে আবাদের জন্য কৃষকদের উৎসাহিত করেন। মাকরিজির মতে, "১ লক্ষ ২০ হাজার শ্রমিক সেচ প্রকল্পে দৈনিক কাজ করত এবং তাদেরকে নিয়মিত বেতন দেওয়া হতো।"

সামরিক সংস্কার: হযরত ওমর (রা.)-এর খিলাফতে সামরিক বাহিনীকে সুসংহত করার জন্য একটি প্রশাসনিক কাঠামো গঠন করা হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল সুসজ্জিত ও সুসংঘবদ্ধ মুসলিম সৈন্যবাহিনীকে যুদ্ধের জন্য সর্বদা প্রস্তুত রাখা। বিশাল ইসলামি রাষ্ট্রকে নয়টি সামরিক জুন্দে বিভক্ত করেন। যথা: মদিনা, কুফা, বসরা, ফুসতাত, মিশর, দামেস্ক, হিমস, প্যালেস্টাইন ও মসুল। প্রত্যেক খাঁটিতে ৪,০০০ করে সৈন্য মোতায়েন রাখা হতো। মুসলিম সৈন্যবাহিনী পদাতিক, অশ্বারোহী, তিরুদাজ, বাহক ও সেবক প্রভৃতি শ্রেণিতে বিভক্ত ছিল। ঢাল, তলোয়ার, বর্ম, বর্শা, তীর ও ধনুক ছিল সৈন্যবাহিনীর প্রধান অস্ত্রশস্ত। খলিফা নিজেই সেনাবাহিনীর প্রধান ছিলেন। অতঃপর "কাতিব আদ দিওয়ান" ছিল খলিফার প্রধান সামরিক উপদেষ্টা। সৈন্যদের খাবার ও পোশাক ফ্রি দেওয়া হতো এবং বাৎসরিক ২০০ দিরহাম বেতন দেওয়া হতো।

বিচার বিভাগ: হযরত ওমর (রা.)-এর উল্লেখযোগ্য কীর্তি হলো শাসন বিভাগ হতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ। স্বাধীন, নিষ্কলুষ চরিত্র, সুস্থ, শিক্ষিত ও শরিয়তের জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিদের "মজলিস-উস-সূরার" পরামর্শে প্রধান কাজি এবং প্রত্যেক জেলায় একজন করে কাজি নিয়োগ করেন। কাজিদের দুর্নীতি এবং প্রলোভন হতে দূরে রাখার জন্য যোগ্যতা অনুসারে বেতন দেওয়া হতো। ন্যায় ও নিরপেক্ষ বিচার করার জন্য বিচারকদের উচ্চতর বেতন ও সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হতো। খলিফা কঠোর নির্দেশ দিতেন। তাঁর সময় আইনের চোখে ধনী-দরিদ্র সকলেই সমান ছিল। উদাহরণস্বরূপ খলিফা ওমর (রা.)-এর নিজেই আসীন হয়ে কাজির দরবারে উপস্থিত হন।

পুলিশ বিভাগ: জনসাধারণের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষায় এবং অপরাধমূলক কার্যকলাপকে দমনের জন্য হযরত ওমর (রা.) সর্বপ্রথম একটি সুগঠিত পুলিশ বাহিনী গঠন করেন। পুলিশ বাহিনীর দায়িত্ব ছিল চুরি-ডাকাতি বন্ধ করা, ওজন পরীক্ষা, মাদকদ্রব্য বিক্রয় কথ করা। পুলিশ বাহিনীর প্রধানের ছিল 'সাহিবুল আহদাস'। তাঁর সময় কারাগার প্রতিষ্ঠিত হয় অপরাধীদের আটক রাখার জন্য। অপরদিকে, নির্বাসন দন্ড তার সময় প্রবর্তিত হয়।

শিক্ষাব্যবস্থা: শিক্ষা বিস্তারে খলিফা ওমর (রা.) বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। প্রতিটি মসজিদ সংলগ্ন মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। সেখানে কুরআন, হাদিস, ফিকাহ সম্বন্ধে শিক্ষা দেওয়া হতো। পৃথকভাবেও মক্তব, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। সিরিয়ার একটি মক্তবের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৬০০-তে দাঁড়ায়। ধর্মীয় শিক্ষা ছাড়াও আইন অথবা ফিকাহ, ব্যাকরণ, ভাষাতত্ত্ব, অঙ্ক, দর্শন  প্রভৃতি বিষয়ে চর্চা হতো।

জনহিতকর কার্য: দশ বছর খলিফা থাকাকালীন সময়ে হযরত ওমর (রা.) 'অসংখ্য মসজিদ, খাল, সেতু, দুর্গ, হাসপাতাল, সড়ক নির্মাণ করেন। জনকল্যাণের জন্য তিনি সমগ্র সাম্রাজ্যে ঘুরে বেড়াতেন রাতের অন্ধকারে। গরিবের সাহায্যের জন্য তিনি নিজের কাঁধে আটার বস্তা বহন করতেন। শিবলী নোমানের মতে, "ফুসতাত শহরে ৩৬টি মসজিদ, ৮০০টি সড়ক, ১১৭০টি স্নানাগার তাঁর সময় নির্মিত হয়। হযরত ওমর (রা.) মদিনায় নবির মসজিদটি সম্প্রসারণ ও সংস্কার করেন। তাঁর সময় পবিত্র কাবাগৃহ পুনঃনির্মাণ করা হয়। বায়তুলমাল হতে দরিদ্রের তালিকা তৈরি করে তাদের সাহায্য করেন। ফলে জনগণ সুখ ও শান্তিতে বসবাস করতে থাকে।

পরিশেষে বলা যায়, হযরত ওমর (রা.) ৬৩৪ খ্রিষ্টাব্দে হতে ৬৪৪ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত দীর্ঘ ১০ বছর শাসন করেন। তাঁর শাসনকাল ইসলামের ইতিহাসের স্বর্ণযুগ। তাঁর সময় ইসলামি শাসনব্যবস্থা পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করে। ইসলামি শাসনব্যবস্থার সকল দিকে সংস্কার করে তিনি খ্যাতি অর্জন করেন। বর্তমান দুনিয়ায় ওমর (রা.) কর্তৃক প্রবর্তিত শাসনব্যবস্থা ইসলামি শাসনব্যবস্থা হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছে।

হযরত ওমর (রা.)-এর চরিত্র [Characteristics of Hazrat Omar (R)]

পূত-পবিত্র চরিত্রের অধিকারী ছিলেন হযরত ওমর (রা.)। দৃঢ় প্রত্যয়, অনাড়ম্বর জীবনাচার, ন্যায়পরায়ণতা, তীক্ষ্ণ বিচার-বুদ্ধি প্রভৃতি গুণ তাঁর চরিত্রকে মহিমান্বিত করেছে। আদর্শ খলিফার সমস্ত গুণের অধিকারী হযরত ওমর (রা.)-এর চরিত্রে কঠোরতা ও কোমলতার সংমিশ্রণ ছিল। দুঃখ-দুর্দশার কথা শুনলে তার অন্তর যেমন বিগলিত হয়ে উঠত তেমনি অপরাধীকে কঠিন শাস্তি দিতে কুণ্ঠাবোধ করতেন না। প্রজাকল্যাণ সাধন ছিল তাঁর জীবনের ব্রত। রাত্রির অন্ধকারে চাক্ষুষ দর্শন ও প্রতিকার সাধন ছিল তার সরল হৃদয়ের স্বভাবসুলভ প্রতিফলন। বস্তুত তাঁর সরলতা ও কর্তব্য জ্ঞান জীবনাদর্শ এবং ন্যায়পরায়ণতা তাঁকে মহান করে তুলেছে। এ কারণে মুর বলেন, "Simplicity and duty were his guiding principle impartiality and devotion the leading features of his administration."

তাঁর শাসনামলেই সিরিয়া, জেরুজালেম, ইরাক, মিশর এবং পারস্যের সাসানী সাম্রাজ্য ইসলামি সাম্রাজ্যভুক্ত হয়েছিল। ধনরত্ন তাঁর পদপ্রান্তে লুটিয়ে পড়েছিল, কিন্তু কোনো লোভ তাঁকে স্পর্শ করতে পারে নি। তাঁর পদগৌরব সারা বিশ্বে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল। তাঁর সরল ও অনাড়ম্বর জীবনযাত্রা ছিল বিশ্বের বিস্ময় ও দুর্লভ চরিত্রের ভূষণ।

হযরত ওমর (রা.)-এর কৃতিত্ব [Achievements of Hazrat Omar (R)]

হযরত ওমর (রা.)-এর কৃতিত্বের পরিসীমা নির্ণয় করা কঠিন। বিজেতা ও শাসক হিসেবে সাহসিকতা ও সৃজন কর্মকাণ্ড যে কোনো ব্যক্তিকে হতভম্ব না করে পারে না। কিন্তু ইসলামি রাষ্ট্রের দ্বিতীয় সেবক হিসেবে তার কর্মভার গ্রহণ ইসলামের রাজ্য সম্প্রসারণের ইতিহাসে বিপ্লব সূচিত হয়। এখানেই তাঁর অমলিন কৃতিত্বের সাক্ষাৎ মেলে।

তিনি দুর্ধর্ষ ও উচ্ছৃঙ্খল আরব বেদুইনদের সেনাবাহিনীতে নিয়োগ করে তাদেরকে পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ অপ্রতিদ্বন্দ্বী সমরশক্তিতে পরিণত করেন। অসাধারণ রণনৈপুণ্য, অসীম সাহসিকতা ও অবিচল আনুগত্যের ফলে অতি অল্প সময়ের মধ্যে তারা তৎকালীন বিশ্বের প্রবল পরাক্রমশালী পারস্য ও রোমান সাম্রাজ্যদ্বয়কে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেন। পারসিক ও রোমানদের উপর মুসলমানদের অভাবিত বিজয় হযরত ওমর (রা.)-এর একটি উল্লেখযোগ্য কীর্তি।

গণতান্তিক বিশ্বের অগ্রপথিক হিসেবে হযরত ওমর (রা.)-এর কীর্তি সমুজ্জ্বল। ইসলামি গণতন্ত্রের ভিত্তিতে শাসনব্যবস্থা খলিফা ওমর (রা.)-ই সর্বপ্রথম প্রচলন করেন। আরব জাতীয়তাবাদকে সংরক্ষণ, রক্তের বিশুদ্ধতা ও সামরিক আভিজাত্য বজায় রাখার নিমিত্তে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ তাঁর প্রগাঢ় চিন্তাশীলতার অসামান্য কীর্তি। মজলিস-উস-সূরা প্রতিষ্ঠা করে রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে ইসলামি গণতান্তিক আদর্শের গোড়াপত্তন করেন। শাসনব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণ তাঁর প্রশাসনিক মেধা ও বিচক্ষণতার পরিচায়ক। ওমর (রা.)-এর শাসনামলে সর্বপ্রথম ভাতা প্রদানের নিয়ম চালু হয়। রাজস্ব ব্যবস্থা সংস্কারের মাধ্যমে তিনি কৃষির উন্নতি বিধান করেন। জমি জরিপ, খাল-খনন, হিজরি সনের প্রবর্তন, ব্যারাক নির্মাণ, পুলিশ বাহিনী গঠন, কারাগার স্থাপন, অমুসলিমদের প্রতি সহনশীলতা প্রদর্শন, ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক শাসন পরিচালনা প্রভৃতি কার্যাবলি শাসক হিসেবে তাঁর একক কৃতিত্ব বহন করে। এতদ্ব্যতীত তিনি মাদ্রাসা, মসজিদ, হাসপাতাল, সেতু প্রভৃতি নির্মাণ করে যশস্বী হয়ে আছেন।

খুলাফায়ে রাশেদিন - অন্যান্য প্রশ্ন

খুলাফায়ে রাশেদিনখুলাফায়ে রাশেদিন-এর নির্বাচন নীতিখলিফা হযরত আবু বকর (রা.) (৬৩২-৬৩৪ খ্রি.)খলিফা হযরত ওমর ফারুক (রা.) (৬৩৪-৬৪৪ খ্রি.)খলিফা হযরত উসমান (রা.) (৬৪৪-৬৫৬ খ্রি.)খলিফা হযরত আলী (রা.) (৬৫৬-৬৬১ খ্রি.)খুলাফায়ে রাশেদিনের শাসন ও আর্থ-সামাজিক বৈশিষ্ট্যবয়স্ক পুরুষদের মধ্যে কে প্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন?হযরত আলী (রা.)-এর পিতার নাম কী?'আসাদুল্লাহ' শব্দের অর্থ কী?ইসলামের প্রথম গৃহযুদ্ধ কোনটি?হযরত ওমর (রা.)-এর উপাধি কী ছিল?হযরত ওমর (রা.) তাঁর বিশাল সাম্রাজ্যকে কতটি প্রদেশে বিভক্ত করেন?কত খ্রিষ্টাব্দে উষ্ট্রের যুদ্ধ সংঘটিত হয়?'যুন্নুরাইন' শব্দের অর্থ কী?ইসলামি রাষ্ট্রের প্রথম রাজধানী কোথায় স্থাপিত হয়?'সিদ্দিক' কোন খলিফার উপাধি?খিলাফত কী?মহানবি (স.)-এর চারজন প্রতিনিধি কত বছর মুসলিম জাহানের খিলাফতের দায়িত্বভার পালন করেন?খুলাফায়ে রাশেদিন অর্থ কী?'খিলাফত' শব্দের অর্থ কী?খুলাফায়ে রাশেদিন কারা?খলিফা নির্বাচনের উদ্দেশ্যে মুসলমানগণ কোন স্থানে মিলিত হন?কাকে ইসলামের ত্রাণকর্তা বলা হয়?গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম খলিফা কে ছিলেন?প্রথম ভণ্ডনবি কে?ভন্ডনবিদের বিরুদ্ধে হযরত আবু বকর (রা.)-এর যুদ্ধ কী নামে পরিচিত?'রিদ্দা' শব্দের অর্থ কী?সর্বপ্রথম, 'বায়তুল মাল' প্রতিষ্ঠা করেন কে?কত খ্রিষ্টাব্দে হযরত ওমর (রা.) খলিফা নির্বাচিত হন?মজলিশ-উশ-শূরা কী?বায়তুল মাল কী?মহানবি (স.) কাকে 'সাইফুল্লাহ' উপাধিতে ভূষিত করেন?'আল্লাহর সিংহ' উপাধিটি কার?পুরুষদের মধ্যে কে ১০ বছর বয়সে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন?কীভাবে হযরত ওসমান (রা.) খিলাফত লাভ করেন?হযরত ওমর (রা.)-এর দিউয়ান বা রাজস্বব্যবস্থা ব্যাখ্যা কর।মহানবি (স.) কাকে এবং কেন সিদ্দিক উপাধি দিয়েছিলেন? ব্যাখ্যা কর।দুমার মীমাংসা কী? ব্যাখ্যা কর।হযরত ওমর (রা.) হযরত আবু বকর (রা.)-কে প্রথম খলিফা হিসেবে নির্বাচিত করতে চাইলেন কেন? ব্যাখ্যা কর।জিজিয়া কী? ব্যাখ্যা কর।'খুলাফায়ে রাশেদিন' বলতে কী বোঝায়?হযরত ওসমান (রা.)-কে আল কুরআনের সংকলক বলা হয় কেন?

সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ