ফ্রান্সিস হালজেন

বরফের নিচে মহাবিশ্বের রহস্য উন্মোচনকারী নোবেল বিজয়ী

— উড্ডয়ন

৬ অক্টোবর, ২০২৬

বরফের নিচে মহাবিশ্বের রহস্য উন্মোচনকারী নোবেল বিজয়ী

ছবি : সংগৃহিত

২০২৬ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার জিতে নিয়েছেন বেলজিয়ান বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হালজেন। রয়েল সুইডিশ একাডেমি অফ সায়েন্সেস গত ৬ অক্টোবর স্টকহোমে এই ঘোষণা দেয়। IceCube নিউট্রিনো অবজারভেটরিতে তার অসামান্য অবদান এবং মহাজাগতিক উৎস থেকে আসা অতি উচ্চ শক্তির নিউট্রিনো আবিষ্কারের জন্য তাকে এই সম্মান দেওয়া হয়েছে। এই পুরস্কার শুধু একজন বিজ্ঞানীর ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়, এটি মানবজাতির মহাবিশ্বকে দেখার একেবারে নতুন একটি পদ্ধতি আবিষ্কারের কাহিনী। চলুন জেনে নেওয়া যাক, কে এই ফ্রান্সিস হালজেন, কীভাবে তিনি অ্যান্টার্কটিকার বরফের নিচে মহাবিশ্বের গভীরতম রহস্য খুঁজে বের করলেন, এবং কেন তার এই কাজ বিজ্ঞানের জগতে এত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

কে এই ফ্রান্সিস হালজেন

ফ্রান্সিস হালজেনের জন্ম ১৯৪৪ সালে বেলজিয়ামের টিনেন শহরে। পদার্থবিজ্ঞানের প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হয় তরুণ বয়সেই, এবং পরবর্তীতে তিনি পার্টিকেল ফিজিক্সের জগতে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে তিনি জেনেভার বিখ্যাত কণা পদার্থবিজ্ঞান গবেষণাগার সার্নে কাজ করেন, যেখানে তিনি মৌলিক কণাগুলোর ধর্ম নিয়ে গবেষণা করেন। ১৯৭২ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন, যেখানে তিনি এখনও অধ্যাপনা করছেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ই পরবর্তীতে হয়ে ওঠে তার সবচেয়ে বড় স্বপ্নের প্রকল্পের কেন্দ্রস্থল।

উইসকনসিনে থাকাকালীন হালজেন অ্যান্টার্কটিকায় স্থাপিত AMANDA নামের একটি নিউট্রিনো পর্যবেক্ষণাগারের প্রধান গবেষক হিসেবে দায়িত্ব নেন। এই প্রকল্পটিই পরবর্তীতে আরও বড় আকারে রূপান্তরিত হয়ে তৈরি হয় IceCube, যা তাকে নোবেল পুরস্কার এনে দিয়েছে। মজার বিষয় হলো, হালজেনই প্রথম এমন একজন ব্যক্তি যিনি একক ব্যক্তি হিসেবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন, গত ৩৪ বছরের মধ্যে। এর আগে ১৯৯২ সালে ফরাসি বিজ্ঞানী জর্জ শার্পাক একাই এই পুরস্কার পেয়েছিলেন। এই তথ্যই বলে দেয়, হালজেনের অবদান কতটা স্বতন্ত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ ছিল বিজ্ঞান জগতের কাছে।

নিউট্রিনো কী এবং কেন এটি এত রহস্যময়

নিউট্রিনো বোঝার আগে জানতে হবে এটি আসলে কী ধরনের কণা। নিউট্রিনো হলো এমন এক ধরনের উপপারমাণবিক কণা, যার ভর প্রায় শূন্যের কাছাকাছি এবং এর কোনো তড়িৎ আধান নেই। এই বৈশিষ্ট্যের কারণে নিউট্রিনো অন্য কোনো পদার্থের সঙ্গে খুব কমই মিথস্ক্রিয়া করে। প্রতি মুহূর্তে কোটি কোটি নিউট্রিনো আমাদের শরীর, পৃথিবী, এমনকি সূর্যের মতো বিশাল বস্তুর মধ্য দিয়েও বিনা বাধায় চলে যায়, আর আমরা তার কিছুই টের পাই না। এ কারণেই বিজ্ঞানীরা নিউট্রিনোকে মজা করে "ভূতুড়ে কণা" নামে ডাকেন।

কিন্তু এই বৈশিষ্ট্যই আবার নিউট্রিনোকে বিজ্ঞানের জন্য অমূল্য করে তোলে। যেহেতু নিউট্রিনো প্রায় কোনো কিছুর সঙ্গেই সংঘর্ষে না গিয়ে সরাসরি চলে আসতে পারে, তাই এটি মহাবিশ্বের গভীরতম এবং সবচেয়ে দূরবর্তী স্থান থেকে কোনো তথ্য বিকৃত না করেই আমাদের কাছে পৌঁছাতে পারে। আলো বা অন্যান্য তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ মহাজাগতিক ধুলো বা গ্যাসের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় প্রায়ই বাধাপ্রাপ্ত হয় বা দিক পরিবর্তন করে। কিন্তু নিউট্রিনো এসব বাধা উপেক্ষা করে সোজা পথে চলে আসে, ফলে এটি তার উৎস সম্পর্কে একদম নির্ভুল তথ্য বহন করে আনে।

বিজ্ঞানীরা বহু আগে থেকেই জানতেন যে, মহাবিশ্বে এমন কিছু প্রাকৃতিক "কণা ত্বরক" আছে, যেগুলো পৃথিবীর গবেষণাগারে তৈরি সবচেয়ে শক্তিশালী কণা ত্বরকের চেয়েও লাখো গুণ বেশি শক্তিসম্পন্ন কণা ছুঁড়ে দেয়। কিন্তু এসব উৎস আসলে কোথায়, কী প্রকৃতির, এবং এর ভেতরে কী ধরনের প্রক্রিয়া চলে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীরা অন্ধকারে ছিলেন। অতি উচ্চ শক্তির নিউট্রিনো ঠিক সেই একই পরিবেশে তৈরি হয় যেখানে অন্যান্য উচ্চ শক্তির কণা তৈরি হয়। ফলে এই নিউট্রিনোগুলো অনুসরণ করলে সেই রহস্যময় মহাজাগতিক উৎসের দিকনির্দেশনা পাওয়া সম্ভব।

দক্ষিণ মেরুর বরফে নিউট্রিনো শিকারের অভাবনীয় আইডিয়া

এত গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও নিউট্রিনো শনাক্ত করা মোটেও সহজ কাজ নয়। যেহেতু এরা অন্য পদার্থের সঙ্গে প্রায় মিথস্ক্রিয়া করেই না, তাই একটি নিউট্রিনোকে ধরতে হলে বিপুল পরিমাণ উপাদানের প্রয়োজন হয়, যাতে খুব বিরল হলেও কোনো একটি নিউট্রিনো সেই উপাদানের কোনো পরমাণুর নিউক্লিয়াসের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এই ধরনের সংঘর্ষ ঘটলে একটি ক্ষীণ আলোর ঝলকানি তৈরি হয়, যা সংবেদনশীল সেন্সর দিয়ে ধরা সম্ভব।

ঠিক এই জায়গাতেই ফ্রান্সিস হালজেনের চিন্তাভাবনা ছিল সবার থেকে আলাদা। ১৯৮৮ সালে তিনি একটি সহকর্মীর সঙ্গে মিলে একটি অভাবনীয় ধারণা উপস্থাপন করেন, দক্ষিণ মেরুর পুরু বরফের স্তরকে নিউট্রিনো শনাক্তকরণের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা। তার এই পরিকল্পনা ছিল, অ্যান্টার্কটিকার গভীর বরফের মধ্যে অসংখ্য আলোক সংবেদনশীল সেন্সর স্থাপন করা, যাতে কোনো নিউট্রিনো বরফের অণুর সঙ্গে সংঘর্ষে গেলে তৈরি হওয়া আলোর ঝলকানি সেই সেন্সরগুলো ধরে ফেলতে পারে।

দক্ষিণ মেরুর বরফকে বেছে নেওয়ার পেছনে ছিল বেশ কিছু বাস্তবসম্মত কারণ। প্রথমত, এই বরফ অত্যন্ত স্বচ্ছ এবং পরিষ্কার, যার মধ্যে অন্য কোনো ধরনের আলোক দূষণ বা হস্তক্ষেপ নেই। দ্বিতীয়ত, এই অঞ্চল ভূতাত্ত্বিকভাবে অত্যন্ত স্থিতিশীল, এখানে ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি নেই, যা দীর্ঘমেয়াদী একটি সংবেদনশীল পরীক্ষণ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুরুর দিকে অনেকেই হালজেনের এই পরিকল্পনাকে অবাস্তব মনে করলেও, ধীরে ধীরে এটি অন্যান্য গবেষকদের সমর্থন অর্জন করতে থাকে। মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই বরফে সেন্সর স্থাপন করে প্রাথমিক পরীক্ষা চালানো শুরু হয়, যা পরবর্তীতে বৃহত্তর প্রকল্পের ভিত্তি তৈরি করে।

IceCube অবজারভেটরি নির্মাণের দীর্ঘ যাত্রা

হালজেনের মূল স্বপ্নের প্রথম বাস্তবায়ন ছিল AMANDA নামের একটি ছোট আকারের পরীক্ষামূলক পর্যবেক্ষণাগার, যা ২০০০ সালের দিকে সম্পন্ন হয়। তবে এই প্রাথমিক পরীক্ষণ ব্যবস্থাটি অতি উচ্চ শক্তির মহাজাগতিক নিউট্রিনো শনাক্ত করার জন্য যথেষ্ট ছিল না। এর থেকে শেখা অভিজ্ঞতা নিয়ে বিজ্ঞানীরা অনেক বড় আকারের একটি প্রকল্পের পরিকল্পনা করেন, যার নাম দেওয়া হয় IceCube।

IceCube মূলত একটি পুরো ঘনকিলোমিটার আয়তনের বরফ নিয়ে তৈরি, যার ভেতরে স্থাপন করা হয়েছে হাজার হাজার আলোক সংবেদনশীল সেন্সর। এই বিশাল নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয় ২০১০ সালের শেষের দিকে, এবং ২০১১ সালে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যক্ষম হয়ে ওঠে। এই প্রকল্পে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষণা প্রতিষ্ঠান অর্থায়ন ও কারিগরি সহযোগিতা করেছিল। হালজেনের নেতৃত্বে একটি বিশাল আন্তর্জাতিক দল এই প্রকল্পে কাজ করে, যেখানে প্রকৌশলী এবং বিজ্ঞানীরা একসঙ্গে মিলে এমন একটি যন্ত্র তৈরি করেন, যা আগে কখনো তৈরি হয়নি।

এই প্রকল্পের নির্মাণ প্রক্রিয়া মোটেও সহজ ছিল না। অ্যান্টার্কটিকার চরম প্রতিকূল আবহাওয়া, দুর্গম অবস্থান এবং বরফের গভীরে প্রযুক্তিগত যন্ত্রপাতি স্থাপনের কারিগরি জটিলতা, সব মিলিয়ে এটি ছিল বিজ্ঞান ও প্রকৌশলের এক অসাধারণ সমন্বয়ের ফল। হালজেন নিজেও পরবর্তীতে স্বীকার করেছেন, প্রকল্পের শুরুতে অনেকেই বিশ্বাস করতেন না যে এটি কার্যকর হবে, এমনকি তিনি নিজেও পুরোপুরি নিশ্চিত ছিলেন না। কিন্তু তার দৃঢ় সংকল্প এবং বৈজ্ঞানিক দূরদৃষ্টি শেষ পর্যন্ত এই বিশাল প্রকল্পকে বাস্তবে রূপ দেয়।

মহাজাগতিক নিউট্রিনোর ঐতিহাসিক আবিষ্কার

IceCube চালু হওয়ার পরপরই গবেষকরা প্রথম উচ্চ শক্তির নিউট্রিনো শনাক্ত করতে শুরু করেন। ২০১৩ সালে IceCube গবেষক দল একটি বড় ঘোষণা দেয়, তারা সৌরজগতের বাইরে থেকে আসা মোট ২৮টি নিউট্রিনো শনাক্ত করেছেন, যার মধ্যে দুটি নিউট্রিনো ছিল এ পর্যন্ত রেকর্ড করা সর্বোচ্চ শক্তিসম্পন্ন। মজার বিষয় হলো, গবেষকরা এই দুটি নিউট্রিনোর নাম রাখেন "বার্ট" এবং "আর্নি", জনপ্রিয় একটি টিভি শোর চরিত্রের নামানুসারে।

এই আবিষ্কারের পর কিছু বছরের মধ্যেই গবেষকরা নিশ্চিত হন যে, তাদের শনাক্ত করা কিছু নিউট্রিনো আমাদের সৌরজগতের অনেক বাইরে থেকে, এমনকি আমাদের নিজস্ব গ্যালাক্সি আকাশগঙ্গার বাইরে থেকেও আসছে। এটি ছিল এক যুগান্তকারী মুহূর্ত, কারণ প্রথমবারের মতো বিজ্ঞানীদের হাতে এমন একটি প্রমাণ এসেছিল, যা দিয়ে মহাবিশ্বের দূরবর্তী উচ্চ শক্তির প্রক্রিয়াগুলো সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। এরপর থেকে শুরু হয় নিউট্রিনোর উৎস খুঁজে বের করার নতুন এক বৈজ্ঞানিক অভিযান।

এই অভিযানের একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য আসে, যখন গবেষকরা একটি নির্দিষ্ট উচ্চ শক্তির নিউট্রিনোর উৎস হিসেবে প্রায় চার বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরের একটি মহাজাগতিক বস্তুকে চিহ্নিত করতে সক্ষম হন। এই আবিষ্কার প্রমাণ করে যে, নিউট্রিনো সত্যিই এমন তথ্য বহন করে আনতে পারে, যা অন্য কোনো পদ্ধতিতে পাওয়া সম্ভব নয়। সাম্প্রতিক সময়ে IceCube দল এমনকি আমাদের নিজস্ব গ্যালাক্সি আকাশগঙ্গা থেকে আসা নিউট্রিনোও শনাক্ত করতে শুরু করেছে, যা ভবিষ্যতে গ্যালাক্সির অভ্যন্তরীণ উচ্চ শক্তির প্রক্রিয়া বোঝার জন্য নতুন দরজা খুলে দিতে পারে।

এই আবিষ্কার বিজ্ঞানের জন্য কেন এত গুরুত্বপূর্ণ

হালজেনের এই কাজ শুধু একটি নতুন ধরনের কণা শনাক্ত করার গল্প নয়, বরং এটি সম্পূর্ণ নতুন এক ধরনের জ্যোতির্বিজ্ঞানের দ্বার উন্মোচন করেছে, যাকে বিজ্ঞানীরা "নিউট্রিনো অ্যাস্ট্রোনমি" বা নিউট্রিনো জ্যোতির্বিজ্ঞান নামে অভিহিত করছেন। এতদিন পর্যন্ত মহাবিশ্ব পর্যবেক্ষণের প্রধান মাধ্যম ছিল আলো এবং বিভিন্ন ধরনের তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ। কিন্তু নিউট্রিনো ব্যবহার করে মহাবিশ্ব পর্যবেক্ষণের ফলে বিজ্ঞানীরা এমন সব তথ্য পাচ্ছেন, যা আলোর মাধ্যমে কখনোই সম্ভব ছিল না।

নোবেল কমিটির প্রধান মার্ক পিয়ার্স এই আবিষ্কারকে একটি "সম্পূর্ণ নতুন ধরনের জ্যোতির্বিজ্ঞানের" দ্বার উন্মোচন বলে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, হালজেনের দৃঢ়তা এবং বৈজ্ঞানিক দূরদৃষ্টিই এই বিশাল এবং ব্যয়বহুল প্রকল্পকে বাস্তবে রূপ দিতে সাহায্য করেছে। এই ধরনের বৃহৎ আকারের বৈজ্ঞানিক প্রকল্প বর্তমান বিশ্বে আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখোমুখি, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে, যেখানে এই ধরনের গবেষণার জন্য অর্থায়ন নিয়ে প্রায়ই প্রশ্ন ওঠে। এমন প্রেক্ষাপটে হালজেনকে এই পুরস্কার দেওয়ার মাধ্যমে নোবেল কমিটি বড় আকারের, দীর্ঘমেয়াদী বৈজ্ঞানিক গবেষণার গুরুত্বকেও তুলে ধরেছে বলে অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন।

এছাড়াও এই আবিষ্কার ভবিষ্যতের জন্য অনেক সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। মহাবিশ্বের সেই রহস্যময় স্থানগুলো, যেখানে এত বিপুল শক্তির কণা তৈরি হয়, সেগুলো সম্পর্কে এখনো বিজ্ঞানীদের জ্ঞান সীমিত। IceCube থেকে প্রতিনিয়ত সংগৃহীত নিউট্রিনো তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে তারা এমন কিছু মহাজাগতিক প্রক্রিয়া বা ঘটনা আবিষ্কার করতে পারবেন, যা আগে কখনো মানুষের জানা ছিল না।

নোবেল পুরস্কার ঘোষণা এবং ভবিষ্যতের গবেষণা পরিকল্পনা

৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে স্টকহোমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। পুরস্কার ঘোষণার পর সংবাদ সম্মেলনে হালজেন বলেন, এই পুরস্কার পাওয়ার বিষয়টি তার জন্য এক অদ্ভুত অনুভূতি, যদিও আগে থেকেই অনেকে অনুমান করেছিলেন যে তিনি এই পুরস্কার পেতে পারেন। পুরস্কারের অর্থমূল্য ১২ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনা, যা প্রায় ১.২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান। এই পুরস্কার আগামী ১০ ডিসেম্বর, আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে, স্টকহোমে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদান করা হবে।

বর্তমানে ৮২ বছর বয়সী হালজেন এখনও উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত আছেন এবং IceCube প্রকল্পের মূল গবেষক হিসেবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তার নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণা প্রতিষ্ঠান এখনও প্রতিনিয়ত নতুন নতুন নিউট্রিনো শনাক্ত করে চলেছে এবং এই তথ্য বিশ্লেষণ করে মহাবিশ্বের বিভিন্ন রহস্যময় প্রক্রিয়া সম্পর্কে নতুন ধারণা তৈরি করার চেষ্টা করছে।

ভবিষ্যতে IceCube প্রকল্পকে আরও সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে বিজ্ঞানীদের, যাতে আরও বেশি সংখ্যক এবং আরও উচ্চ শক্তির নিউট্রিনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়। এই সম্প্রসারিত প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে মহাবিশ্বের গভীরতম রহস্যগুলো সম্পর্কে মানুষের বোঝাপড়া আরও অনেক এগিয়ে যাবে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানী মহল।

উপসংহার

ফ্রান্সিস হালজেনের এই নোবেল বিজয় শুধু একজন ব্যক্তির সাফল্যের গল্প নয়, এটি মানুষের অদম্য কৌতূহল এবং অধ্যবসায়ের এক অসাধারণ উদাহরণ। একটি অভাবনীয় ধারণা থেকে শুরু করে, দক্ষিণ মেরুর বরফের গভীরে এক ঘনকিলোমিটার আয়তনের একটি বিশাল পর্যবেক্ষণাগার তৈরি করে, তিনি মহাবিশ্বকে দেখার একেবারে নতুন একটি জানালা খুলে দিয়েছেন। নিউট্রিনো জ্যোতির্বিজ্ঞান এখন বিজ্ঞানের একটি পুরোপুরি স্বতন্ত্র শাখা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এবং এর ভিত্তি স্থাপনে হালজেনের অবদান চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আগামী দিনগুলোতে IceCube থেকে আরও কী কী চমকপ্রদ আবিষ্কার আসে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে গোটা বিজ্ঞান জগত।

বিষয় : সাধারণ জ্ঞান

সম্পর্কিত ব্লগ

কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স কীভাবে পড়লে মনে থাকে

কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স কীভাবে পড়লে মনে থাকে

১ দিন আগে
অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন রবার্ট ই. হল ও মাইকেল উডফোর্ড

অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন রবার্ট ই. হল ও মাইকেল উডফোর্ড

১৩ অক্টোবর, ২০২৬
শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিখ্যাত আইনজীবী ও বিচারক নাভানেথাম পিল্লাই

শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিখ্যাত আইনজীবী ও বিচারক নাভানেথাম পিল্লাই

৯ অক্টোবর, ২০২৬
সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেলেন কানাডিয়ান লেখক অ্যান কারসন

সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেলেন কানাডিয়ান লেখক অ্যান কারসন

৮ অক্টোবর, ২০২৬