কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স কীভাবে পড়লে মনে থাকে

— উড্ডয়ন

৭ ঘণ্টা আগে

কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স কীভাবে পড়লে মনে থাকে

ছবি : সংগৃহিত

সরকারি চাকরির পরীক্ষা থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা, ব্যাংক জব কিংবা বিসিএস, প্রায় প্রতিটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অনেক শিক্ষার্থী প্রতিদিন পত্রিকা পড়েন, নিয়মিত নোট তৈরি করেন, এমনকি একাধিক বই ঘেঁটে পড়াশোনা করেন, তবুও পরীক্ষার হলে গিয়ে অনেক তথ্য মনে করতে পারেন না। এর মূল কারণ হলো পড়ার পদ্ধতি সঠিক না হওয়া। শুধু পড়লেই হয় না, কীভাবে পড়লে মস্তিষ্কে তথ্য দীর্ঘস্থায়ীভাবে গেঁথে যায়, সেই কৌশল জানা জরুরি। এই লেখায় কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স মনে রাখার কার্যকর কিছু উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো, যা যেকোনো পরীক্ষার্থীর জন্য উপকারী হবে।

কেন কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স মনে রাখা কঠিন মনে হয়

কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স এমন একটি বিষয় যেখানে প্রতিদিন নতুন নতুন তথ্য যুক্ত হয়। একদিকে পুরনো তথ্য মনে রাখতে হয়, অন্যদিকে নতুন তথ্যও গ্রহণ করতে হয়। এই ক্রমাগত তথ্যের প্রবাহের কারণে মস্তিষ্কে একটা বিশৃঙ্খল অবস্থা তৈরি হয়। অনেকে একসাথে অনেক বিষয় পড়ে ফেলেন, কিন্তু কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই পড়ার কারণে তথ্যগুলো এলোমেলোভাবে মস্তিষ্কে জমা হয়। ফলে পরীক্ষার সময় প্রয়োজনীয় তথ্যটি খুঁজে বের করতে সমস্যা হয়।

আরেকটি বড় কারণ হলো পুনরাবৃত্তির অভাব। মানুষের মস্তিষ্ক একবার পড়া তথ্য দীর্ঘদিন মনে রাখতে পারে না, যদি না সেটি বারবার রিভিশন করা হয়। অনেকে একবার পড়েই ভেবে নেন যে তথ্যটি মনে থাকবে, কিন্তু কয়েকদিন পর সেই তথ্য আর মনে থাকে না। এছাড়া অনেকেই বুঝে না পড়ে শুধু মুখস্থ করার চেষ্টা করেন, যা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হয় না।

প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা

কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স মনে রাখার প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হলো প্রতিদিন নির্দিষ্ট একটি সময়ে পড়ার অভ্যাস তৈরি করা। মস্তিষ্ক একটি নির্দিষ্ট রুটিনে অভ্যস্ত হয়ে গেলে সেই সময়ে পড়া তথ্য সহজে গ্রহণ করতে পারে। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মন সবচেয়ে সতেজ থাকে, তাই অনেকেই সকালের সময়কে কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স পড়ার জন্য বেছে নেন। তবে যার জন্য যে সময় উপযোগী, তিনি সেই সময়টিকেই বেছে নিতে পারেন।

দিনে একবারে অনেকক্ষণ পড়ার চেয়ে অল্প অল্প সময় ধরে বারবার পড়া বেশি কার্যকর। উদাহরণস্বরূপ, একসাথে দুই ঘণ্টা পড়ার চেয়ে সকালে আধা ঘণ্টা এবং রাতে আধা ঘণ্টা পড়া বেশি ফলদায়ক, কারণ এতে তথ্য বিভিন্ন সময়ে মস্তিষ্কে পুনরায় সক্রিয় হয়, যা দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতিতে রূপান্তরিত হতে সাহায্য করে।

বোঝার মাধ্যমে পড়া, মুখস্থ নয়

অনেক শিক্ষার্থী কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স পড়ার সময় শুধু তথ্য মুখস্থ করার চেষ্টা করেন, যেমন কোনো সম্মেলন কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছে বা কোন পুরস্কার কাকে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু শুধু তথ্য মুখস্থ করলে সেটি দ্রুত ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এর পরিবর্তে প্রতিটি ঘটনার প্রেক্ষাপট বোঝার চেষ্টা করতে হবে। কেন এই ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ, এর পেছনের কারণ কী, এটি অন্য কোনো ঘটনার সাথে কীভাবে সম্পর্কিত, এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করলে তথ্যটি অনেক বেশি অর্থবহ হয়ে ওঠে এবং মস্তিষ্কে দীর্ঘস্থায়ী হয়।

যেমন ধরা যাক, কোনো দেশের সাথে বাংলাদেশের একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। শুধু চুক্তির নাম মুখস্থ না করে, কেন এই চুক্তি হয়েছে, এর ফলে কী উপকার হবে, এর আগে এই দুই দেশের সম্পর্ক কেমন ছিল, এসব জানলে পুরো বিষয়টি একটি গল্পের মতো মনে থাকবে। মানুষের মস্তিষ্ক গল্প আকারে তথ্য অনেক সহজে মনে রাখতে পারে, বিচ্ছিন্ন তথ্যের চেয়ে।

নোট তৈরি করার সঠিক পদ্ধতি

নোট তৈরি করা কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স পড়ার একটি অপরিহার্য অংশ। তবে নোট তৈরির ক্ষেত্রেও কিছু বিষয় মাথায় রাখা দরকার। পুরো পত্রিকার প্রবন্ধ হুবহু খাতায় তুলে লেখা মোটেও কার্যকর পদ্ধতি নয়। বরং নিজের ভাষায়, সংক্ষিপ্ত আকারে, মূল পয়েন্টগুলো লিখে রাখা উচিত। এতে নোট তৈরি করার সময়ই মস্তিষ্ক তথ্যটি একবার প্রক্রিয়াজাত করে, যা স্মৃতিতে ধরে রাখতে সাহায্য করে।

নোট তৈরির সময় বিষয়ভিত্তিক ভাগ করে নেওয়া ভালো, যেমন জাতীয় বিষয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, অর্থনীতি, ক্রীড়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, পুরস্কার ও সম্মাননা, নিয়োগ ও পদত্যাগ ইত্যাদি আলাদা আলাদা অংশে ভাগ করে লিখলে পরবর্তীতে রিভিশন করা সহজ হয়। অনেকে ডিজিটাল নোট তৈরি করেন, যা মোবাইল বা ল্যাপটপে যেকোনো সময় রিভিশন করা যায়। আবার অনেকে হাতে লেখা নোট পছন্দ করেন, কারণ হাতে লেখার সময় মস্তিষ্ক আরও সক্রিয়ভাবে তথ্য গ্রহণ করে।

নিয়মিত পুনরাবৃত্তি বা রিভিশনের গুরুত্ব

একটি তথ্য একবার পড়ে মনে রাখা প্রায় অসম্ভব। মানুষের মস্তিষ্কের স্বাভাবিক প্রবণতা হলো নতুন তথ্য ধীরে ধীরে ভুলে যাওয়া, যদি না সেটি বারবার মনে করিয়ে দেওয়া হয়। এই বিষয়টি নিয়ে মনোবিজ্ঞানে একটি পরিচিত তত্ত্ব রয়েছে, যেখানে দেখানো হয়েছে যে নতুন শেখা তথ্যের একটি বড় অংশ প্রথম কয়েক দিনের মধ্যেই ভুলে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। তাই নিয়মিত বিরতিতে রিভিশন করা অত্যন্ত জরুরি।

একটি কার্যকর পদ্ধতি হলো যেদিন একটি বিষয় পড়া হবে, তার পরের দিন একবার রিভিশন করা, তারপর তিন দিন পর আবার রিভিশন করা, এরপর এক সপ্তাহ পর, তারপর এক মাস পর। এভাবে ধাপে ধাপে বিরতি দিয়ে রিভিশন করলে তথ্যটি দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতিতে স্থানান্তরিত হয়। এই পদ্ধতিকে অনেকে স্পেসড রিপিটিশন বলে থাকেন, যা শেখার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর একটি কৌশল হিসেবে প্রমাণিত।

সাপ্তাহিক ও মাসিক রিভিউ পদ্ধতি অনুসরণ করা

প্রতিদিনের পড়ার পাশাপাশি সাপ্তাহিক এবং মাসিক রিভিউ করা অত্যন্ত জরুরি। সপ্তাহের শেষে একদিন সময় রেখে পুরো সপ্তাহের পড়া বিষয়গুলো একবার চোখ বুলিয়ে নেওয়া উচিত। এতে কোন কোন তথ্য মনে আছে এবং কোনগুলো ভুলে গেছেন, তা সহজে বোঝা যায়। যে তথ্যগুলো মনে নেই, সেগুলোর ওপর অতিরিক্ত মনোযোগ দেওয়া যায়।

একইভাবে মাস শেষে পুরো মাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত রিভিউ করা উচিত। এতে করে কোনো একটি মাসের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে একটি সামগ্রিক ধারণা তৈরি হয়, যা পরীক্ষায় একাধিক মাসের তথ্য একসাথে প্রশ্ন আসলে কাজে লাগে। অনেক পরীক্ষায় একটি নির্দিষ্ট সময়কালের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, তাই মাসিক রিভিউ এক্ষেত্রে বিশেষভাবে সহায়ক।

একাধিক উৎস থেকে একই তথ্য যাচাই করা

একটি তথ্য শুধু একটি উৎস থেকে পড়ার চেয়ে একাধিক উৎস থেকে পড়লে সেটি মনে থাকার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। যেমন কোনো একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা প্রথমে পত্রিকায় পড়া, তারপর সেই একই ঘটনা নিয়ে কোনো অনলাইন পোর্টালে পড়া, এরপর কোনো আলোচনায় বা বন্ধুর সাথে কথোপকথনে সেই বিষয়ে আলোচনা করা, এভাবে একই তথ্য বিভিন্নভাবে বারবার মস্তিষ্কে প্রবেশ করলে তা দীর্ঘস্থায়ীভাবে স্মৃতিতে গেঁথে যায়।

তবে এক্ষেত্রে একটি সতর্কতা মাথায় রাখা জরুরি, অনেক সময় বিভিন্ন উৎসে একই তথ্যের ভিন্ন ভিন্ন সংস্করণ পাওয়া যেতে পারে। তাই নির্ভরযোগ্য ও মানসম্মত উৎস থেকে তথ্য যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন, যাতে ভুল তথ্য মনে গেঁথে না যায়।

সংযোগ স্থাপন করে পড়া

বিচ্ছিন্ন তথ্যের চেয়ে পরস্পর সংযুক্ত তথ্য মনে রাখা সহজ। তাই পড়ার সময় নতুন তথ্যকে আগে থেকে জানা কোনো তথ্যের সাথে সংযুক্ত করার চেষ্টা করা উচিত। যেমন কোনো নতুন আন্তর্জাতিক সম্মেলন সম্পর্কে পড়ার সময়, সেই সম্মেলনের ইতিহাস, আগের আয়োজনস্থল, এর লক্ষ্য ইত্যাদি সম্পর্কে জানা থাকলে নতুন তথ্যটি সহজে মনে গেঁথে যায়।

এছাড়া ভৌগোলিক অবস্থান, ইতিহাস, সংস্কৃতি ইত্যাদির সাথে সংযোগ স্থাপন করেও তথ্য মনে রাখা যায়। যেমন কোনো দেশের নাম এলে সেই দেশের রাজধানী, মুদ্রা, অবস্থান এসব একসাথে মনে করার চেষ্টা করলে একটি সম্পূর্ণ চিত্র তৈরি হয়, যা আলাদা আলাদা তথ্য মনে রাখার চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর।

ম্যাপ, চার্ট ও ভিজ্যুয়াল উপকরণ ব্যবহার করা

মানুষের মস্তিষ্ক লেখার চেয়ে ছবি বা চিত্র বেশি সহজে মনে রাখতে পারে। তাই কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স পড়ার সময় মানচিত্র, চার্ট, টাইমলাইন ইত্যাদি ব্যবহার করলে তথ্য মনে রাখা সহজ হয়। যেমন কোনো আন্তর্জাতিক ঘটনা পড়ার সময় সংশ্লিষ্ট দেশটি মানচিত্রে কোথায় অবস্থিত, তা একবার দেখে নিলে সেই দেশ সম্পর্কিত তথ্য মনে রাখা সহজ হয়ে যায়।

একইভাবে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহের ক্ষেত্রে একটি টাইমলাইন তৈরি করলে ঘটনাগুলোর ক্রম মনে রাখা সহজ হয়। অনেক শিক্ষার্থী নিজে হাতে ছোট ছোট ডায়াগ্রাম বা ফ্লোচার্ট তৈরি করে পড়েন, যা পরবর্তীতে দ্রুত রিভিশনের জন্যও কাজে লাগে।

অন্যকে শিখিয়ে বা আলোচনা করে পড়া

কোনো বিষয় ভালোভাবে বোঝার এবং দীর্ঘদিন মনে রাখার অন্যতম কার্যকর উপায় হলো সেই বিষয়টি অন্য কাউকে ব্যাখ্যা করা। যখন কোনো একটি তথ্য অন্য কাউকে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়, তখন নিজের মধ্যেও সেই বিষয়ের ধারণা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পড়াশোনার সঙ্গীদের সাথে নিয়মিত আলোচনা করলে একই তথ্য বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করা যায়, যা স্মৃতিতে স্থায়ী হতে সাহায্য করে।

গ্রুপ স্টাডি বা পড়াশোনার আড্ডায় কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স নিয়ে কথা বলা, একে অপরকে প্রশ্ন করা, এসবও একটি কার্যকর কৌশল। এতে করে পড়াশোনার প্রক্রিয়াটি একঘেয়ে না হয়ে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে, যা দীর্ঘমেয়াদে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতা তৈরি করে।

নিয়মিত মডেল টেস্ট ও কুইজ অনুশীলন করা

পড়া তথ্য মনে আছে কিনা তা যাচাই করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো নিয়মিত মডেল টেস্ট বা কুইজ দেওয়া। শুধু পড়ে যাওয়ার চেয়ে প্রশ্নের মাধ্যমে নিজের জ্ঞান যাচাই করলে মস্তিষ্ক সেই তথ্যটি পুনরায় মনে করার চেষ্টা করে, যা স্মৃতি আরও মজবুত করে। এই পদ্ধতিকে বলা হয় সক্রিয় স্মরণ, যা নিষ্ক্রিয়ভাবে বারবার পড়ার চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর।

সপ্তাহে অন্তত একবার নিজের পড়া বিষয়গুলো থেকে কিছু প্রশ্ন তৈরি করে নিজেকে পরীক্ষা করা উচিত। এছাড়া বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স বিষয়ক কুইজে অংশগ্রহণ করলেও নিজের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করা যায়, যা পরবর্তীতে সেই অংশগুলোতে বাড়তি মনোযোগ দিতে সাহায্য করে।

তথ্যের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা

সব তথ্য সমান গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাই কোন তথ্যগুলো পরীক্ষার জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তা চিহ্নিত করে সেগুলোর ওপর বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, বড় ধরনের চুক্তি, উল্লেখযোগ্য নিয়োগ, গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার, খেলাধুলার বড় টুর্নামেন্টের ফলাফল, এসব বিষয়ে বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত, কারণ এই ধরনের তথ্য প্রায় প্রতিটি পরীক্ষায় কোনো না কোনোভাবে প্রশ্ন আকারে আসে।

অন্যদিকে খুব ছোট ছোট খবর বা স্বল্পমেয়াদী গুরুত্বের তথ্যের পেছনে অতিরিক্ত সময় ব্যয় না করাই ভালো। পড়াশোনার শুরুতে গত কয়েক বছরের প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় কোন ধরনের তথ্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ, যা পড়াশোনাকে আরও পরিকল্পিত করে তোলে।

পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামের গুরুত্ব

অনেকে মনে করেন বেশি সময় ধরে পড়লেই বেশি মনে থাকবে, কিন্তু বাস্তবে পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মস্তিষ্ক নতুন তথ্য সংরক্ষণ করতে পারে না। ঘুমের সময় মস্তিষ্ক দিনের বেলায় শেখা তথ্যগুলো প্রক্রিয়াজাত করে এবং স্বল্পমেয়াদী স্মৃতি থেকে দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতিতে স্থানান্তর করে। তাই পর্যাপ্ত ঘুম না হলে সারাদিন যত তথ্যই পড়া হোক না কেন, তা দ্রুত ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

এছাড়া একটানা অনেকক্ষণ পড়ার চেয়ে মাঝে মাঝে ছোট বিরতি নেওয়া উচিত। একটানা পড়লে মনোযোগ কমে যায় এবং তথ্য গ্রহণের ক্ষমতাও হ্রাস পায়। তাই প্রতি চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ মিনিট পড়ার পর কয়েক মিনিটের বিরতি নেওয়া উচিত, এতে মস্তিষ্ক সতেজ থাকে এবং পরবর্তী অংশ পড়ার সময় মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয়।

ডিজিটাল মাধ্যমের সঠিক ব্যবহার

বর্তমান সময়ে অনেক শিক্ষার্থী মোবাইল অ্যাপ বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স পড়েন। এই পদ্ধতি সুবিধাজনক হলেও সঠিকভাবে ব্যবহার করা জরুরি। মোবাইলে পড়ার সময় অন্যান্য অ্যাপের নোটিফিকেশনের কারণে মনোযোগ নষ্ট হতে পারে, যা পড়াশোনার গুণগত মান কমিয়ে দেয়। তাই পড়ার সময় অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা উচিত।

এছাড়া অনেক অ্যাপে রিমাইন্ডার ও রিভিশন ফিচার থাকে, যা ব্যবহার করে নিয়মিত পুনরাবৃত্তির কাজটি সহজ করে নেওয়া যায়। অডিও ফরম্যাটে কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স শোনার অভ্যাসও অনেকের জন্য কার্যকর হতে পারে, বিশেষ করে যাতায়াতের সময় বা অন্য কাজের ফাঁকে।

ধারাবাহিকতা বজায় রাখা

কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স মনে রাখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ধারাবাহিকতা। একদিনে অনেক পড়ে পরদিন কয়েকদিনের বিরতি দেওয়ার চেয়ে প্রতিদিন অল্প অল্প করে নিয়মিত পড়া অনেক বেশি কার্যকর। ধারাবাহিক পড়াশোনার মাধ্যমে একটি অভ্যাস তৈরি হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে তথ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে।

অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষার কাছাকাছি সময়ে এসে তাড়াহুড়ো করে সব পড়ে ফেলার চেষ্টা করেন, যা কখনোই কার্যকর ফলাফল দেয় না। বরং পরীক্ষার অনেক আগে থেকে পরিকল্পিতভাবে, ধীরে ধীরে এবং ধারাবাহিকভাবে পড়াশোনা করলে তথ্য অনেক বেশি স্থায়ীভাবে মনে থাকে।

উপসংহার

কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স মনে রাখা মোটেও কঠিন কোনো কাজ নয়, যদি সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। নির্দিষ্ট সময়ে পড়ার অভ্যাস, বোঝার মাধ্যমে পড়া, সংক্ষিপ্ত নোট তৈরি, নিয়মিত রিভিশন, সংযোগ স্থাপন করে পড়া, এবং নিয়মিত মডেল টেস্ট দেওয়া, এই কৌশলগুলো একসাথে প্রয়োগ করলে যেকোনো শিক্ষার্থী দীর্ঘ সময় পর্যন্ত কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স মনে রাখতে সক্ষম হবেন। পাশাপাশি পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে সহজ ও কার্যকর করে তোলে। পরিকল্পিত ও নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমেই কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স একটি দুর্বোধ্য বিষয় থেকে একটি আত্মবিশ্বাসের জায়গায় পরিণত হতে পারে।

বিষয় : পড়াশোনার টিপস

সম্পর্কিত ব্লগ

অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন রবার্ট ই. হল ও মাইকেল উডফোর্ড

অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন রবার্ট ই. হল ও মাইকেল উডফোর্ড

১৩ অক্টোবর, ২০২৬
শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিখ্যাত আইনজীবী ও বিচারক নাভানেথাম পিল্লাই

শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিখ্যাত আইনজীবী ও বিচারক নাভানেথাম পিল্লাই

৯ অক্টোবর, ২০২৬
সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেলেন কানাডিয়ান লেখক অ্যান কারসন

সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেলেন কানাডিয়ান লেখক অ্যান কারসন

৮ অক্টোবর, ২০২৬
মিরর মলিকিউলের রহস্য উন্মোচন করে রসায়নে নোবেল পেলেন দুই বিজ্ঞানী

মিরর মলিকিউলের রহস্য উন্মোচন করে রসায়নে নোবেল পেলেন দুই বিজ্ঞানী

৭ অক্টোবর, ২০২৬