• হোম
  • বোর্ড পরীক্ষার প্রশ্ন

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

  • ঢাকা বোর্ড
  • এসএসসি
  • বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়
  • ২০২৫
Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

পলাশ বিশ্বাস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.বি.এ পাশ করে বিদেশে পাড়ি জমান। দীর্ঘ ১০ বছর পর তিনি দেশে ফিরে এসে নিজ গ্রামে একটি মুড়ি ও একটি চানাচুর কারখানা গড়ে তোলেন। এসব কারখানায় তিনি গ্রামের মহিলাদের কাজের সুযোগ করে দেন। এই কাজের মাধ্যমে মহিলাদের পরিবারে আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে। তারা ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া শেখাচ্ছেন ও স্বাস্থ্য সেবাও নিশ্চিত করছেন।

সমাজ কাঠামো কীভাবে গড়ে ওঠে?

সমাজ কাঠামো গড়ে ওঠে সমাজের বিভিন্ন উপাদানের পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্য দিয়ে। পরিবার, ধর্ম, রাষ্ট্র, অর্থনীতি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রভৃতি সামাজিক প্রতিষ্ঠান একে অপরের সাথে সম্পর্কিত হয়ে একটি সুসংবদ্ধ কাঠামো তৈরি করে। এই কাঠামোর মধ্যে মানুষ নির্দিষ্ট ভূমিকা ও মর্যাদা অনুযায়ী কাজ করে, এবং সামাজিক রীতিনীতি, মূল্যবোধ ও নিয়মকানুন মেনে চলে। সময়ের সাথে সাথে অর্থনৈতিক পরিবর্তন, প্রযুক্তির প্রসার এবং সামাজিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে এই কাঠামো ক্রমান্বয়ে রূপ নেয় এবং পরিবর্তিতও হতে থাকে।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

প্রযুক্তি কী?

মানুষের প্রয়োজন মেটানোর জন্য বিজ্ঞানের জ্ঞান ব্যবহার করে তৈরি কলাকৌশল, যন্ত্রপাতি ও পদ্ধতিকে প্রযুক্তি বলা হয়। এটি মানুষের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করে এবং উৎপাদন প্রক্রিয়াকে সহজ ও দ্রুততর করে তোলে।

#

​উদ্দীপকে বর্ণিত পলাশ বিশ্বাসের কাজ সামাজিক পরিবর্তনের কোন উপাদানকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা কর।

উদ্দীপকে বর্ণিত পলাশ বিশ্বাসের কাজ সামাজিক পরিবর্তনের অর্থনৈতিক উপাদানকে নির্দেশ করে।

সামাজিক পরিবর্তনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হলো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। কোনো এলাকায় নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হলে সেখানকার মানুষের জীবনযাত্রা, চিন্তাভাবনা ও সামাজিক অবস্থানে পরিবর্তন আসে। উদ্দীপকে দেখা যায়, পলাশ বিশ্বাস বিদেশ থেকে ফিরে এসে নিজ গ্রামে মুড়ি ও চানাচুর কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেখানে গ্রামের মহিলাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেন। ফলে এসব মহিলারা অর্থ উপার্জন করতে সক্ষম হন, যা তাদের পরিবারে আর্থিক স্বচ্ছলতা এনে দেয়। এই আর্থিক পরিবর্তনের প্রভাবে পরিবারগুলোতে সন্তানদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটে।

অর্থাৎ, একটি অর্থনৈতিক উদ্যোগ কীভাবে গোটা একটি সমাজের জীবনযাত্রা, পারিবারিক অবস্থা এবং সামাজিক মূল্যবোধে পরিবর্তন আনতে পারে, উদ্দীপকটি তারই একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। তাই এখানে সামাজিক পরিবর্তনের অর্থনৈতিক উপাদানের প্রতিফলন স্পষ্টভাবে লক্ষ করা যায়।

#

​উদ্দীপকে বর্ণিত মহিলাদের কাজ নারীর ক্ষমতায়নের পথকে সুগম করেছে - বিশ্লেষণ কর।

নারীর ক্ষমতায়ন বলতে বোঝায় নারীর অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা অর্জন এবং নিজের জীবন সম্পর্কে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করা। উদ্দীপকে বর্ণিত মহিলাদের কর্মসংস্থান এই ক্ষমতায়নের পথকে বিভিন্নভাবে সুগম করেছে।

প্রথমত, কারখানায় কাজের সুযোগ পাওয়ার ফলে মহিলারা নিজেরাই অর্থ উপার্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। নিজস্ব আয়ের উৎস থাকার কারণে তারা পরিবারের অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ করতে পারছেন, যা আগে সম্ভব ছিল না। এর ফলে পরিবারে তাদের মর্যাদা ও গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে।

দ্বিতীয়ত, উদ্দীপকে উল্লেখ আছে যে এই আয়ের মাধ্যমে তারা তাদের সন্তানদের লেখাপড়া নিশ্চিত করছেন। এটি প্রমাণ করে যে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনের ফলে তারা পরিবারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন, যা ক্ষমতায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

তৃতীয়ত, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার বিষয়টিও তাৎপর্যপূর্ণ। আর্থিক সচ্ছলতার কারণে মহিলারা নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্ন নিতে সক্ষম হচ্ছেন, যা তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের একটি স্পষ্ট নিদর্শন।

চতুর্থত, কর্মক্ষেত্রে যুক্ত হওয়ার ফলে মহিলারা ঘরের গণ্ডি পেরিয়ে সামাজিক পরিসরে অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন। এর মাধ্যমে তাদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সমাজে তাদের অবস্থান আরও দৃঢ় হচ্ছে।

সবমিলিয়ে বলা যায়, পলাশ বিশ্বাসের প্রতিষ্ঠিত কারখানায় কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়ে গ্রামের মহিলারা কেবল অর্থনৈতিকভাবেই স্বাবলম্বী হননি, বরং পারিবারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সন্তানের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও তাদের ভূমিকা প্রসারিত হয়েছে। এভাবেই উদ্দীপকে বর্ণিত মহিলাদের কাজ নারীর ক্ষমতায়নের পথকে বাস্তবিকভাবে সুগম করেছে।