- হোম
- বোর্ড পরীক্ষার প্রশ্ন
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়
- ঢাকা বোর্ড
- এসএসসি
- বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়
- ২০২৫
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
রাজন সাহেব একটি আন্তর্জাতিক সংস্থায় কাজ করেন। এই সংস্থাটি বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া তার ভাই জনাব মহিউদ্দীন পুলিশের চাকরি করেন। তিনি উক্ত সংস্থার একজন প্রতিনিধি হিসেবে আফ্রিকার একটি দেশে কর্মরত। সেখানকার মানুষের নিয়ম-শৃঙ্খলা, চাষাবাদ ইত্যাদি বিষয়ে সচেতনতার মাধ্যমে জনাব মহিউদ্দীন বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় অংশ নিচ্ছেন।
ভেটো কী?
ভেটো হলো জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচটি স্থায়ী সদস্যদের বিশেষ ক্ষমতা যার বলে যেকোনো সদস্য যেকোনো সিদ্ধান্ত বাতিল করতে পারে।
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
নারীর প্রতি বৈষম্য নিরসনে সিডও এর ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।
নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য নিরসনে ১৯৭৯ সালের ডিসেম্বর মাসে জাতিসংঘ 'সিডও' (CEDAW) সনদ গ্রহণ করে। ১৯৮১ সালে ২০টি দেশ সমর্থন করার পর সনদটি কার্যকর হয়। নারী ও পুরুষের সমতার নীতির ওপর ভিত্তি করে সিডও সনদটি তৈরি। নারীর মানবাধিকারের বিষয়টিও এখানে উঠে এসেছে। আইনগত পদ্ধতিতে এই অধিকারগুলো ম্যান্ডেটভুক্ত করায় সমর্থনকারী দেশগুলো এই সনদ মেনে চলতে বাধ্য। এই সনদে স্বীকার করা হয় যে, বিভিন্ন দেশে নারীর আইনগত অধিকার বলবৎ থাকলেও বৈষম্য রয়েছে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে নারীর প্রবেশাধিকার খর্ব করার মাধ্যমে তা করা হয়ে থাকে। এই সনদ নারীর প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্বকে নিশ্চিত করে।
রাজন সাহেব যে সংস্থায় কাজ করেন তা প্রতিষ্ঠার পটভূমি বর্ণনা কর।
রাজন সাহেব যে সংস্থায় কাজ করেন সে সংস্থাটি হলো জাতিসংঘ। জাতিসংঘ (United Nations) একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন, যা বিশ্বশান্তি, নিরাপত্তা, সহযোগিতা ও মানবাধিকারের উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে। এটি ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বর্তমানে বিশ্বের প্রায় সব স্বাধীন রাষ্ট্রই এর সদস্য। প্রতি বছর ২৪ অক্টোবর 'জাতিসংঘ দিবস' হিসেবে পালিত হয়। উদ্দীপকের রাজন সাহেব একটি আন্তর্জাতিক সংস্থায় কাজ করেন। এই সংস্থাটি বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে। এরূপ বর্ণনায় সহজেই অনুমান করা যায় যে তিনি জাতিসংঘে কাজ করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ ধ্বংসলীলা, প্রাণহানি ও মানবিক বিপর্যয় বিশ্ববাসীকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। যুদ্ধ যে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ হতে পারে না, তা স্পষ্ট হয়। এর আগেও ১৯২০ সালে শান্তি রক্ষার উদ্দেশ্যে 'লীগ অব নেশনস' গঠিত হয়েছিল, তবে তা ব্যর্থ হয়। এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিলসহ বিশ্বনেতারা নতুন একটি কার্যকর আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। ১৯৪৩ সালে তেহরান ও মস্কো সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, রাশিয়া ও ফ্রান্সের নেতারা 'সম্মিলিত জাতিসংঘ' গঠনের সিদ্ধান্ত নেন। এরই ফলস্বরূপ ১৯৪৫ সালে ৫০টি রাষ্ট্র নিয়ে জাতিসংঘের জন্ম হয়। বর্তমানে এর সদস্য সংখ্যা ১৯৩।
জনাব মহিউদ্দীনের কাজ বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিশ্বের বুকে উজ্জ্বল করেছে- এ বিষয়ে তুমি কি একমত? তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।
জনাব মহিউদ্দীনের কাজ বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিশ্বের বুকে উজ্জ্বল করেছে- এ বিষয়ে আমি একমত।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী বিশ্বের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় নিয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা। যুদ্ধবিধ্বস্ত ও অস্থির অঞ্চলে এই বাহিনী অস্ত্রবিরতি পর্যবেক্ষণ, মানবিক সহায়তা প্রদান এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিসহ শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে। ১৯৮৮ সাল থেকে বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে এবং এ ক্ষেত্রে অন্যতম বৃহৎ অবদানকারী দেশ।
উদ্দীপকের জনাব মহিউদ্দীনের মতো বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা শুধু অস্ত্রধারী গোষ্ঠীর মধ্যে শান্তি রক্ষায় নয়, বরং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি, শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও কৃষিকাজে সহায়তা প্রদানেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তিনি আফ্রিকার একটি সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে নিয়োজিত থেকে নিয়ম-শৃঙ্খলা ও উন্নয়নের বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন, যা তার পেশাগত দায়িত্বের বাইরেও এক মানবিক উদ্যোগ। এর ফলে স্থানীয় জনগণের মধ্যে তিনি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা অর্জন করেছেন। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর এমন ভূমিকা দেশকে করেছে সম্মানিত ও গ্রহণযোগ্য। সিয়েরা লিওনে বাংলা ভাষার মর্যাদা এবং আইভরিকোস্টে 'বাংলাদেশ সড়ক' ও 'রূপসি বাংলা' গ্রামের নামকরণ তারই বাস্তব উদাহরণ।
আলোচনার শেষ তাই বলা যায়, জনাব মহিউদ্দীনের নিরলস প্রচেষ্টা শুধু একজন কর্মকর্তার দায়িত্বপালন নয়, বরং তা বাংলাদেশের শান্তিপ্রিয় ভাবমূর্তিকে বিশ্বে উজ্জ্বল করে তুলেছে, যা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়।

