• হোম
  • বোর্ড পরীক্ষার প্রশ্ন

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

  • ঢাকা বোর্ড
  • এসএসসি
  • বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়
  • ২০২৫
Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

​ঘটনা-১: রমিজ মিয়া ১০ বছর ধরে আফ্রিকার একটি দেশে কর্মরত। তিনি প্রায়ই জ্বর এবং ডায়রিয়ায় ভোগেন। সাথে শুকনাকাশি লেগেই থাকে। তিনি দেশে ফিরে ডাক্তারের কাছে যান। ডাক্তারি পরীক্ষায় তার রক্তে একটি বিশেষ ধরনের ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়।

ঘটনা-২: অটোচালক সেলিম প্রতিদিনের ন্যায় যাত্রী নিয়ে চুয়াডাঙ্গার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। পিছন থেকে একটি লরি অটোবাইকে ধাক্কা দিলে সেলিমসহ দুজন যাত্রী আহত হন। এই ঘটনায় সেলিম একটি পা হারান। এই অবস্থায় তার পরিবার একটি বড় সমস্যায় পড়ে।

ঘটনা-২ এ সেলিমের পরিবারের বর্তমান অবস্থার জন্য যে ঘটনা দায়ী তা নিরসনে কী পদক্ষেপ নেওয়া যায় বলে তুমি মনে কর? বিশ্লেষণ কর।

ঘটনা-২ এ সেলিমের পরিবারের দুরবস্থার জন্য দায়ী ঘটনাটি হলো সড়ক দুর্ঘটনা। পেছন থেকে একটি লরির ধাক্কায় অটোবাইক দুর্ঘটনার শিকার হয় এবং সেলিম একটি পা হারান, ফলে তার পরিবার আর্থিক ও মানসিকভাবে চরম সংকটে পড়ে। বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা একটি নিত্যদিনের সমস্যা, যা অসংখ্য পরিবারকে এভাবে বিপর্যস্ত করে দিচ্ছে। এর নিরসনে নিম্নোক্ত পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।

চালকদের দক্ষতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা: অদক্ষ ও অপ্রশিক্ষিত চালকদের হাতে গাড়ি তুলে দেওয়া বন্ধ করতে হবে। বৈধ লাইসেন্স ছাড়া কাউকে গাড়ি চালাতে দেওয়া যাবে না এবং নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষার মাধ্যমে চালকদের দক্ষতা যাচাই করতে হবে।

সড়ক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা: গতিসীমা লঙ্ঘন, বেপরোয়া ওভারটেকিং ও ট্রাফিক আইন অমান্য করার ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে চালকরা আইন মানতে বাধ্য হয়।

সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন: ঝুঁকিপূর্ণ মোড়, সরু রাস্তা ও ত্রুটিপূর্ণ সড়ক চিহ্নিত করে তা মেরামত করতে হবে। প্রয়োজনীয় স্থানে সংকেতবাতি, রোড ডিভাইডার ও গতিরোধক স্থাপন করতে হবে।

যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করা: লক্কড়ঝক্কড় ও ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি, বিশেষ করে ব্রেক-ফেল হওয়ার মতো ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন রাস্তায় নামতে না দেওয়া এবং নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষার ব্যবস্থা করা।

জনসচেতনতা বৃদ্ধি: সাধারণ মানুষ ও চালকদের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে, যাতে সবাই নিয়ম মেনে চলাচল করে।

দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন: সেলিমের মতো দুর্ঘটনায় অঙ্গহানি হওয়া ব্যক্তিদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে চিকিৎসা সহায়তা, আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন, যাতে তাদের পরিবার আর্থিক সংকট থেকে উঠে দাঁড়াতে পারে।

সবশেষে বলা যায়, সরকার, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ, সকলে সচেতন ও দায়িত্বশীল হলে সড়ক দুর্ঘটনার মতো ভয়াবহ সমস্যা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব এবং সেলিমের পরিবারের মতো অসংখ্য পরিবারকে এমন দুর্বিষহ পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করা যাবে।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

ঘটনা-১ এ বর্ণিত রমিজ মিয়া যে রোগে আক্রান্ত তা প্রতিরোধে করণীয় কী?

রমিজ মিয়া দীর্ঘদিন ধরে আফ্রিকার একটি দেশে অবস্থান করছেন এবং তার শরীরে ঘন ঘন জ্বর, ডায়রিয়া ও শুকনো কাশির মতো উপসর্গ দেখা দিয়েছে। রক্ত পরীক্ষায় একটি বিশেষ ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা থেকে বোঝা যায় তিনি এইচআইভি/এইডস রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। যেহেতু আফ্রিকার অনেক দেশে এইডসের প্রকোপ তুলনামূলক বেশি, দীর্ঘদিন সেখানে থাকার কারণে তিনি এই রোগে সংক্রমিত হয়ে থাকতে পারেন।

এইডস প্রতিরোধে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে:

প্রথমত, নিরাপদ যৌনাচার নিশ্চিত করতে হবে এবং অবাধ যৌন সম্পর্ক থেকে বিরত থাকতে হবে। একাধিক যৌনসঙ্গী পরিহার করা এবং প্রয়োজনে কনডম ব্যবহার করা জরুরি। দ্বিতীয়ত, ইনজেকশনের সিরিঞ্জ, সুই বা ব্লেডের মতো ধারালো জিনিস কখনো একজনের ব্যবহারের পর অন্যজন ব্যবহার করা যাবে না। তৃতীয়ত, রক্ত সঞ্চালনের আগে অবশ্যই তা এইচআইভি পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হবে যে রক্তটি নিরাপদ। চতুর্থত, গর্ভবতী মা এইচআইভি আক্রান্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে নবজাতক সংক্রমিত না হয়। এছাড়া এইডস সম্পর্কে সমাজে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি করতে হবে, যাতে মানুষ রোগটির কারণ ও প্রতিরোধ পদ্ধতি সম্পর্কে সঠিক ধারণা পায় এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ না করে।

এভাবে সচেতনতা ও সতর্কতার মাধ্যমে এইডসের মতো মারাত্মক রোগ অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।

#

শিশু শ্রম কী?

আইনানুযায়ী নির্ধারিত বয়সসীমার নিচে থাকা শিশুদের দিয়ে অর্থের বিনিময়ে বা বিনা পারিশ্রমিকে কোনো কাজ করানোকে শিশুশ্রম বলে। সাধারণত ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুকে দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ, কষ্টসাধ্য বা তাদের শারীরিক-মানসিক বিকাশের পরিপন্থী কাজ করানো হলে তাকে শিশুশ্রম হিসেবে গণ্য করা হয়। এর ফলে শিশুরা শিক্ষা, খেলাধুলা ও স্বাভাবিক শৈশব থেকে বঞ্চিত হয়।

#

কীভাবে সমাজে নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়?

সমাজে যখন আইনের শাসন দুর্বল হয়ে পড়ে এবং মানুষ নিয়মনীতি মানার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে না, তখন নৈরাজ্যের সৃষ্টি হয়। এর পেছনে বেশ কিছু কারণ কাজ করে।

দারিদ্র্য ও বেকারত্ব বেড়ে গেলে মানুষ জীবিকার তাগিদে অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার অভাবে মানুষ ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্য বুঝতে ব্যর্থ হয় এবং সহজেই বিপথে চালিত হয়। বিচারব্যবস্থা যদি দুর্বল বা দুর্নীতিগ্রস্ত হয়, তাহলে অপরাধীরা শাস্তি এড়িয়ে যায় এবং অপরাধ করার সাহস পায়। রাজনৈতিক অস্থিরতা, দলাদলি ও ক্ষমতার অপব্যবহারও সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে। এছাড়া মাদকাসক্তি, মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং পারিবারিক শিক্ষার ঘাটতিও মানুষকে সহিংস বা বেপরোয়া করে তোলে।

এসব কারণে মানুষ আইন মানার বদলে নিজের ইচ্ছামতো চলতে শুরু করে, ফলে সমাজে হত্যা, ছিনতাই, দুর্নীতি, চাঁদাবাজির মতো ঘটনা বেড়ে যায় এবং সামগ্রিকভাবে সমাজে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।