- হোম
- বোর্ড পরীক্ষার প্রশ্ন
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়
- ঢাকা বোর্ড
- এসএসসি
- বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়
- ২০২৫
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
হারুন সাহেব একজন স্থানীয় সরকারের প্রধান। তিনি ছাড়াও তার প্রতিষ্ঠানের আরো ২০ জন সদস্য আছেন। তার সরকার উপজেলা, পৌরসভা ও জেলার সকল উন্নয়ন কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন। অপরদিকে, জনাব কবির অন্য একটি স্থানীয় সরকারের প্রধান। তিনি ছাড়াও তার সরকারে ১২ জন নির্বাচিত প্রতিনিধি রয়েছেন। তার সরকার এলাকার সড়ক, সেতু, বাঁধ ইত্যাদি নির্মাণ ও রক্ষাণাবেক্ষণ করে থাকেন।
স্থানীয় প্রশাসন দরকার কেন? ব্যাখ্যা কর।
একটি রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে দেশের সব অঞ্চলের সমস্যা ও চাহিদা সরাসরি সমাধান করা সম্ভব হয় না। এ কারণেই স্থানীয় প্রশাসনের প্রয়োজন দেখা দেয়। এর গুরুত্ব নিম্নরূপে ব্যাখ্যা করা যায়-
প্রথমত, স্থানীয় প্রশাসন এলাকাভিত্তিক সমস্যা যেমন রাস্তাঘাট, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্যানিটেশন প্রভৃতি সরাসরি চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা নিতে পারে। দ্বিতীয়ত, এর মাধ্যমে সাধারণ জনগণ স্থানীয় শাসনকার্যে সরাসরি অংশগ্রহণ করার সুযোগ পায়, যা গণতান্ত্রিক চর্চাকে সুদৃঢ় করে। তৃতীয়ত, কেন্দ্রীয় সরকারের কাজের চাপ কমিয়ে প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি করে। এছাড়া স্থানীয় সম্পদের যথাযথ ব্যবহার, উন্নয়ন কার্যক্রমের বাস্তবায়ন এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্যও স্থানীয় প্রশাসন অপরিহার্য।
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
নির্বাহী বিভাগ কী?
রাষ্ট্রের যে বিভাগ আইনসভা কর্তৃক প্রণীত আইন বাস্তবায়ন করে এবং রাষ্ট্রের দৈনন্দিন শাসনকার্য পরিচালনা করে, তাকে নির্বাহী বিভাগ বলে। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণ নির্বাহী বিভাগের অন্তর্ভুক্ত।
উদ্দীপকে বর্ণিত হারুন সাহেব যে প্রতিষ্ঠানের প্রধান তার গঠন-কাঠামো বর্ণনা কর।
উদ্দীপকে হারুন সাহেব একজন স্থানীয় সরকারের প্রধান, যিনি উপজেলা, পৌরসভা ও জেলার সব উন্নয়ন কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন এবং তার সাথে আরও ২০ জন সদস্য রয়েছেন। এসব বৈশিষ্ট্য বাংলাদেশের জেলা পরিষদ-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সুতরাং হারুন সাহেব জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান।
জেলা পরিষদের গঠন-কাঠামো নিম্নরূপ-
জেলা পরিষদ গঠিত হয় একজন চেয়ারম্যান এবং ২০ জন সদস্য নিয়ে, যাদের মধ্যে-
১৫ জন সাধারণ সদস্য, যারা জেলাকে বিভক্ত করে গঠিত ওয়ার্ড থেকে জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন।
৫ জন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য, যারা তিনটি ওয়ার্ড একত্র করে গঠিত নির্বাচনি এলাকা থেকে নির্বাচিত হন।
সব মিলিয়ে জেলা পরিষদের সদস্য সংখ্যা দাঁড়ায় ২১ জন (চেয়ারম্যানসহ)। চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মেয়াদ সাধারণত ৫ বছর। জেলা পরিষদের একজন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাও থাকেন, যিনি পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এ পরিষদ জেলার সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন, উপজেলা ও পৌরসভার উন্নয়ন কার্যক্রম সমন্বয় ও তদারকি, শিক্ষা-স্বাস্থ্য-যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রভৃতি দায়িত্ব পালন করে থাকে।
জনাব কবির যে স্থানীয় সরকারে প্রধান, উদ্দীপকে বর্ণিত কাজ ছাড়াও তারা আরো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকেন- বিশ্লেষণ কর।
উদ্দীপকে জনাব কবিরের সরকারে তিনি ছাড়াও ১২ জন নির্বাচিত প্রতিনিধি রয়েছেন এবং তারা সড়ক, সেতু, বাঁধ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করেন। এই বৈশিষ্ট্যগুলো বাংলাদেশের সর্বনিম্ন স্তরের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ইউনিয়ন পরিষদ-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ইউনিয়ন পরিষদ একজন চেয়ারম্যান, ৯টি ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত ৯ জন সাধারণ সদস্য এবং ৩টি ওয়ার্ড একত্র করে নির্বাচিত ৩ জন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য- মোট ১২ জন সদস্য নিয়ে গঠিত হয়।
উদ্দীপকে বর্ণিত অবকাঠামোগত কাজ ছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদ আরও বহু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে থাকে-
১. জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন: এলাকার জন্ম, মৃত্যু, বিবাহ প্রভৃতি তথ্য নিবন্ধনের দায়িত্ব পালন করে, যা রাষ্ট্রীয় পরিসংখ্যানের জন্য অপরিহার্য।
২. শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবা: প্রাথমিক শিক্ষা প্রসার, স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিচালনা, টিকাদান কর্মসূচি ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে সহায়তা করে।
৩. কৃষি ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন: কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, বৃক্ষরোপণ, হাট-বাজার পরিচালনা এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে সহায়তা প্রদান করে।
৪. সালিশি ও গ্রাম আদালত পরিচালনা: স্থানীয় ছোটখাটো বিরোধ ও মামলা গ্রাম আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করে সামাজিক শান্তি বজায় রাখে।
৫. আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা: এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনকে সহায়তা করে এবং বন্যা, ঘূর্ণিঝড়সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগকালীন ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করে।
৬. রাজস্ব আদায়: বাড়ি-ঘর, দোকানপাট প্রভৃতির উপর কর ও ফি ধার্য ও আদায় করে পরিষদের আর্থিক ভিত্তি সুদৃঢ় করে।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, ইউনিয়ন পরিষদ কেবল অবকাঠামো উন্নয়নেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি তৃণমূল পর্যায়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিচার, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জনজীবনে ব্যাপক ভূমিকা রাখে।

