- হোম
- বোর্ড পরীক্ষার প্রশ্ন
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়
- ঢাকা বোর্ড
- এসএসসি
- বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়
- ২০২৫
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
ক, খ এবং গ তিনটি রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবস্থা নিম্নরূপ:
'ক'
উৎপাদনের স্বাধীনতা আছে। মুনাফা অর্জন প্রধান লক্ষ্য। |
'খ'
মুনাফা অর্জনের সুযোগ নেই। কাজ অনুযায়ী পারিশ্রমিক দেওয়া হয়। |
'গ'
ব্যক্তিগত মালিকানা স্বীকৃত। হালাল উপায়ে দ্রব্যসামগ্রী উৎপাদন |
সম্পদ কাকে বলে?
যে বস্তুর উপযোগ, অপ্রাচুর্যতা, বাহ্যিকতা এবং হস্তান্তরযোগ্যতা রয়েছে তাকে সম্পদ বলে।
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
উৎপাদনের যে উপাদানটি ঝুঁকি বহন করে তার ব্যাখ্যা দাও।
উৎপাদনের যে উপাদানটি ঝুঁকি বহন করে তা হলো সংগঠন।
উৎপাদনের তিনটি উপকরণ, যথা-ভূমি, শ্রম ও মূলধনকে সমন্বিত করে উৎপাদন কার্য পরিচালনা ও সম্পাদন করাকে বলে সংগঠন। যিনি সংগঠন করেন, তাকে বলে সংগঠক বা উদ্যোক্তা। উৎপাদনের ক্ষেত্রে যে ঝুঁকি বা অনিশ্চয়তা রয়েছে, সংগঠক সেটা বহন করেন। চেয়ারের জন্য কাঠ সংগ্রহ হয় ভূমি থেকে। কাঠ সংগ্রহের জন্য অর্থ এবং কাঠকে চেয়ারে রূপান্তরের জন্য যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য উপকরণ প্রয়োজন। এই অর্থ ও যন্ত্রপাতি মূলধন। এরপর প্রয়োজন শ্রমিক বা কারিগর, যিনি যন্ত্রপাতি ও নিজ শ্রমের সাহায্যে কাঠ থেকে চেয়ার তৈরি করবেন। আর এই ভূমি, মূলধন ও শ্রমকে সমন্বিত করে চেয়ার উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পাদন করবেন সংগঠক বা উদ্যোক্তা।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'গ' রাষ্ট্রে কোন ধরনের অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান? ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'গ' রাষ্ট্রে ইসলামী অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান।
যে অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মূলভিত্তি পবিত্র কোরআন ও হাদিসসমূহ এবং অর্থনৈতিক ও অন্যান্য সকল কার্যাবলিই শরিয়তের বিধান অনুসারে পরিচালিত হয় তাই হলো ইসলামি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। ইসলাম ধর্মের ৫টি মৌল স্তম্ভ, পবিত্র কুরআনের নির্দেশাবলি এবং রাসূল (স) এর হাদিসের বিধান অনুসারে অর্থনৈতিক কার্যাবলির মৌলিক নীতিমালা স্থির হয়। এ অর্থব্যবস্থায় সুদ লেনদেন সম্পূর্ণ হারাম। তবে এখানে ব্যক্তিমালিকানা স্বীকৃত।
উদ্দীপকের 'গ' রাষ্ট্রটিতে ব্যক্তিগত মালিকানা স্বীকৃত ও হালাল উপায়ে দ্রব্য সামগ্রী উৎপাদন করে। এরূপ তথ্যগুলো ইসলামী অর্থব্যবস্থাকে উপস্থাপন করে। কেননা ইসলামিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় সম্পদের ব্যক্তিগত মালিকানা স্বীকৃত। এছাড়া এ অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় উৎপাদনের মূল লক্ষ্য হলো হালাল বা ইসলামসম্মত দ্রব্য ও সেবা উৎপাদন করা।
'ক' ও 'খ' রাষ্ট্র দুটিতে যে দুটো অর্থ ব্যবস্থা বিদ্যমান তার মধ্যে কোনটিকে তুমি অধিকতর জনকল্যাণকর বলে মনে কর? যুক্তিসহ লেখ।
'ক' রাষ্ট্রে ধনতান্ত্রিক ও 'খ' রাষ্ট্র সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। এ দুটো অর্থ ব্যবস্থা বিদ্যমান তার মধ্যে কোনটিকে তুমি অধিকতর জনকল্যাণকর বলে মনে কর
ধনতান্ত্রিক রাষ্ট্রে উৎপাদনের উপাদানসমূহ ব্যক্তিমালিকানাধীন এবং মুনাফা অর্জনই মূল লক্ষ্য। ব্যক্তি উদ্যোগ, ভোক্তার স্বাধীনতা ও অবাধ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। অপরদিকে, সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রে উৎপাদনের উপকরণ রাষ্ট্রের মালিকানাধীন এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্য হলো জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ ও সর্বাধিক কল্যাণ নিশ্চিত করা।
উদ্দীপকের 'ক' ও 'খ' বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, 'ক' রাষ্ট্রে ধনতান্ত্রিক এবং 'খ' রাষ্ট্রে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা প্রচলিত। এই দুটি ব্যবস্থার মধ্যে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা অধিকতর জনকল্যাণকর। ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপকরণ ও সম্পদ ব্যক্তিমালিকানাধীন থাকে, যেখানে মুনাফা অর্জনই প্রধান লক্ষ্য। এ ব্যবস্থায় বাজার চাহিদা ও যোগানের ভিত্তিতে উৎপাদন ও দাম নির্ধারিত হয়, ফলে সম্পদ কয়েকজনের হাতে কেন্দ্রীভূত হয় এবং শ্রমিক শোষণের ঝুঁকি থাকে।
অন্যদিকে, সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সম্পদের মালিকানা রাষ্ট্রের হাতে থাকে, উৎপাদন ও বণ্টন কেন্দ্রীয় পরিকল্পনায় নিয়ন্ত্রিত হয় এবং মুনাফা নয়-জনকল্যাণই মুখ্য উদ্দেশ্য। এখানে "প্রত্যেকে কাজ অনুযায়ী পারিশ্রমিক পায়", ফলে আয়বৈষম্য কম এবং বেকারত্ব নেই বললেই চলে। সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা অধিকতর জনকল্যাণকর, কারণ এটি ন্যায্য বণ্টন, সামাজিক নিরাপত্তা এবং মৌলিক চাহিদা পূরণ নিশ্চিত করে। ধনতন্ত্রে ব্যক্তিস্বার্থ প্রাধান্য পায় বলে দারিদ্র্য ও বৈষম্য বাড়ে; কিন্তু সমাজতন্ত্রে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ ও সম্পদের সমবণ্টন সামষ্টিক কল্যাণে ভূমিকা রাখে। যেমন-স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বাসস্থানের মতো মৌলিক সেবাগুলো এ ব্যবস্থায় সবার জন্য সহজলভ্য। যদিও ব্যক্তিগত উদ্যোগের অভাবের কারণে উৎপাদনশীলতা কমে যেতে পারে, তবুও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে সমাজতান্ত্রিক মডেল অধিক কার্যকর।
তাই বলা যায়, 'খ' রাষ্ট্রের সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা 'ক' রাষ্ট্রের ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থার তুলনায় অধিকতর জনকল্যাণকর।

