- হোম
- চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি
পোস্টমাস্টার জেনারেল এর কার্যালয়, রাজশাহী এর পোস্টম্যান পদের প্রশ্ন সমাধান ২৭.০৩.২০২৬
- পিএসসি ও অন্যান্য ২০২৬
- বাংলা
'অজুহাত' কোন ভাষা থেকে এসেছে?
শব্দতত্ত্ব বা ব্যুৎপত্তিবিদ্যা পাঠের ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে বাংলা ভাষার শব্দভাণ্ডার বিভিন্ন বৈচিত্র্যময় উৎস থেকে পুষ্ট হয়েছে। আলোচ্য ‘অজুহাত’ শব্দটি মূলত আরবি ভাষা থেকে আমাদের বাংলা ভাষায় প্রবেশ করেছে। ভাষাতাত্ত্বিক বিবর্তনের ধারায় এটি একটি অত্যন্ত কৌতূহলোদ্দীপক উদাহরণ। আরবি ভাষায় মূল শব্দটি হলো ‘ওজুহাত’ যা ‘ওজহুন’ শব্দের বহুবচন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মূল আরবিতে এর অর্থ ছিল দিক, মুখচ্ছবি কিংবা কোনো বিষয়ের বিভিন্ন দিক বা পর্যায়। তবে ফার্সি ভাষার প্রভাব এবং পরবর্তীতে বাংলা ভাষায় এর ব্যবহারের ফলে শব্দটির অর্থে একটি বিশেষ পরিবর্তন বা বিবর্তন লক্ষ্য করা যায়।
বাংলা ভাষায় আমরা যখন এই শব্দটি ব্যবহার করি তখন এর অর্থ দাঁড়ায় কোনো কাজ না করার পেছনের কারণ বা কৈফিয়ত। অনেক ক্ষেত্রে এটি নেতিবাচক অর্থেও ব্যবহৃত হয়। যেমন কোনো দায়িত্ব এড়ানোর জন্য দেওয়া ভিত্তিহীন যুক্তিকে আমরা অজুহাত বলে থাকি। মজার ব্যাপার হলো মূল আরবিতে এটি একটি প্রশাসনিক বা তাত্ত্বিক আভিজাত্যপূর্ণ শব্দ হিসেবে গণ্য হলেও বাংলায় এসে এটি অনেকটা ঘরোয়া এবং সাধারণ অর্থে থিতু হয়েছে।
একজন শিক্ষার্থী হিসেবে তোমার মনে রাখা প্রয়োজন যে বাংলা ভাষায় হাজার বছরের পথচলায় আরবি এবং ফার্সি শব্দের প্রভাব অপরিসীম। বিশেষ করে সুলতানি এবং মুঘল আমলের দীর্ঘ শাসনামলে এই ভাষাগুলোর প্রশাসনিক এবং সাংস্কৃতিক দাপট ছিল ব্যাপক। সেই সময়েই ধর্ম, আদালত এবং দৈনন্দিন আলাপচারিতার মাধ্যমে ‘অজুহাত’ এর মতো অসংখ্য শব্দ আমাদের নিজস্ব সম্পদে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে আমরা একে এমনভাবে গ্রহণ করেছি যে অনেক সময় একে বিদেশি শব্দ বলে মনেই হয় না। শব্দটির গঠন এবং ধ্বনিগত মাধুর্য একে বাংলা বাক্যের সাথে নিবিড়ভাবে মিশিয়ে দিয়েছে। তাই যখনই ভাষার উৎস নিয়ে প্রশ্ন আসবে তখন মনে রাখবে যে এটি একটি সফল ঋণকৃত শব্দ যা আরবি মূল থেকে বিবর্তিত হয়ে আজকের এই রূপ লাভ করেছে।
সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ

