- হোম
- চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি
পোস্টমাস্টার জেনারেল এর কার্যালয়, রাজশাহী এর পোস্টম্যান পদের প্রশ্ন সমাধান ২৭.০৩.২০২৬
- পিএসসি ও অন্যান্য ২০২৬
- বাংলা
'বীরবল' কার ছদ্মনাম?
বাংলা সাহিত্যে ‘বীরবল’ একটি অত্যন্ত পরিচিত এবং প্রভাবশালী ছদ্মনাম। এই ছদ্মনামের আড়ালে মূলত কাজ করতেন বিখ্যাত সাহিত্যিক প্রমথ চৌধুরী। তিনি বিংশ শতাব্দীর শুরুতে বাংলা গদ্যের ধারায় এক বিরাট পরিবর্তন নিয়ে এসেছিলেন। বিশেষ করে বাংলা সাহিত্যে চলিত রীতির প্রবর্তনে তার অবদান অনস্বীকার্য।
প্রমথ চৌধুরী কেন এই ‘বীরবল’ নামটি বেছে নিয়েছিলেন তা নিয়ে বেশ চমৎকার যুক্তি রয়েছে। সম্রাট আকবরের সভার বিদূষক ও অত্যন্ত বুদ্ধিমান ব্যক্তি বীরবল যেমন তার তীক্ষ্ণ বুদ্ধি এবং রসবোধের জন্য বিখ্যাত ছিলেন, প্রমথ চৌধুরীর লেখাও ছিল ঠিক তেমনই মননশীল ও যুক্তিনির্ভর। তার লেখায় এক ধরণের আভিজাত্য এবং তীক্ষ্ণ শ্লেষ থাকত যা পাঠকদের ভাবিয়ে তুলত। ১৯১৪ সালে যখন তার সম্পাদনায় বিখ্যাত ‘সবুজপত্র’ পত্রিকা প্রকাশিত হয়, তখন থেকেই তিনি বীরবল ছদ্মনামে নিয়মিত প্রবন্ধ লিখতে শুরু করেন। তার সেই প্রবন্ধগুলো পরবর্তীতে ‘বীরবলের হালখাতা’ নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আপনার মনে রাখা প্রয়োজন যে, প্রমথ চৌধুরীর এই বীরবল ছদ্মনামটি কেবল একটি ছদ্মনাম ছিল না, বরং এটি ছিল এক বিশেষ সাহিত্যরীতির নাম যা ‘বীরবলী রীতি’ হিসেবেও পরিচিত। তিনি মনে করতেন যে সাহিত্যে পাণ্ডিত্যের চেয়ে বুদ্ধির খেলা এবং সহজ ভাষার ব্যবহার বেশি জরুরি। তার মতে ভাষা হওয়া উচিত ঠিক তেমনই যেমনটি মানুষ প্রতিদিনের জীবনে ব্যবহার করে। এই আদর্শ থেকেই তিনি গুরুচণ্ডালী দোষ বা তৎসম শব্দের ভারমুক্ত করে ঢাকাই চলিত ভাষাকে সাহিত্যের প্রধান বাহন করে তোলেন।
অন্যদিকে রাজশেখর বসুর ছদ্মনাম ছিল পরশুরাম এবং আনোয়ার পাশা বাংলা সাহিত্যের একজন আধুনিক ও মননশীল লেখক হিসেবে পরিচিত। তবে প্রশ্নে উল্লেখিত ছদ্মনামটি নিশ্চিতভাবেই প্রমথ চৌধুরীর একক বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে। সুতরাং পরীক্ষার প্রস্তুতিতে এই বিষয়টি বিশেষভাবে খেয়াল রাখবেন যে বীরবল মানেই তীক্ষ্ণ যুক্তি, বুদ্ধিদীপ্ত হাস্যরস এবং চলিত গদ্যের প্রবর্তক প্রমথ চৌধুরী।
সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ

