- হোম
- চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি
পোস্টমাস্টার জেনারেল এর কার্যালয়, রাজশাহী এর পোস্টম্যান পদের প্রশ্ন সমাধান ২৭.০৩.২০২৬
- পিএসসি ও অন্যান্য ২০২৬
- বাংলা
সাধু ও চলিত রীতি বাংলা ভাষার কোন রূপে রয়েছে?
বাংলা ভাষার গঠন এবং ব্যবহারের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, সাধু ও চলিত রীতি মূলত ভাষার লেখ্য রূপে বিদ্যমান। বাংলা সাহিত্য এবং দাপ্তরিক কাজের বিবর্তনের দিকে তাকালে আমরা এর স্পষ্ট প্রমাণ পাই। দীর্ঘ সময় ধরে সাধু রীতি ছিল আমাদের সাহিত্যের প্রধান বাহন। অন্যদিকে, সময়ের প্রয়োজনে এবং ভাষাকে মানুষের আরও কাছাকাছি নিতে চলিত রীতির উদ্ভব ঘটে। এই দুই রীতির মূল পার্থক্য গড়ে উঠেছে মূলত ক্রিয়াপদ এবং সর্বনাম পদের রূপান্তরের ওপর ভিত্তি করে।
সাধু রীতি ছিল ব্যাকরণগতভাবে অত্যন্ত সুসংহত এবং আভিজাত্যপূর্ণ। বিদ্যাসাগর থেকে শুরু করে বঙ্কিমচন্দ্র পর্যন্ত লেখকরা এই রীতিতেই তাঁদের কালজয়ী সৃষ্টিগুলো লিখে গিয়েছেন। কিন্তু এই ভাষার একটি সীমাবদ্ধতা ছিল যে এটি মানুষের মুখে বলার জন্য খুব একটা সহজ ছিল না। সাধারণ মানুষ প্রাত্যহিক জীবনে যেভাবে কথা বলত, সাধু রীতি ছিল তার থেকে বেশ আলাদা। মূলত বইয়ের পাতা বা দাপ্তরিক চিঠিপত্রেই এর সীমাবদ্ধতা ছিল। তাই একে লেখ্য রূপের একটি বিশেষ ধারা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
অন্যদিকে, চলিত রীতি বর্তমান সময়ে আধুনিক বাংলা সাহিত্যের মূল ভিত্তি। এটি মানুষের মুখের ভাষার কাছাকাছি হলেও যখন একে ব্যাকরণগত নিয়মে বেঁধে লিখিত আকারে প্রকাশ করা হয়, তখন তা লেখ্য রূপেরই একটি অংশ হয়ে ওঠে। প্রমথ চৌধুরীর হাত ধরে চলিত রীতির যে জয়যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা আজ আমাদের সংবাদপত্রের ভাষা থেকে শুরু করে পাঠ্যপুস্তক পর্যন্ত সবখানে আধিপত্য বিস্তার করে আছে।
আঞ্চলিক বা উপভাষাগুলো সাধারণত নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানায় সীমাবদ্ধ থাকে এবং এগুলোর কোনো ধরাবাঁধা লিখিত ব্যাকরণ থাকে না। কিন্তু সাধু ও চলিত রীতির নির্দিষ্ট নিয়ম এবং লিখনশৈলী রয়েছে। তাই এই দুটি রীতিই মূলত বাংলা ভাষার লিখিত বা লেখ্য রূপের অন্তর্গত। একজন শিক্ষার্থী হিসেবে মনে রাখবেন, ভাষা যখন স্থায়ী রূপ ধারণ করে কাগজে কলমে স্থান পায়, তখনই এই রীতির বিভাজনগুলো সবচেয়ে বেশি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ

