• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন [গদ্য]
বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন [গদ্য]

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

১। যশের জন্য লিখিবেন না। তাহা হইলে যশও হইবে না, লেখাও ভালো হইবে না। লেখা ভালো হইলে যশ আপনি আসিবে।

২। টাকার জন্য লিখিবেন না। ইউরোপে এখন অনেক লোক টাকার জন্যই লেখে এবং টাকাও পায়; লেখাও ভালো হয়। কিন্তু আমাদের এখনও সে দিন হয় নাই। এখন অর্থের উদ্দেশ্যে লিখিতে গেলে, লোকরঞ্জন-প্রবৃত্তি প্রবল হইয়া পড়ে। এখন আমাদিগের দেশের সাধারণ পাঠকের রুচি ও শিক্ষা বিবেচনা করিয়া লোকরঞ্জন করিতে গেলে রচনা বিকৃত ও অনিষ্টকর হইয়া উঠে।

৩। যদি মনে এমন বুঝিতে পারেন যে. লিখিয়া দেশের বা মনুষ্যজাতির কিছু মঙ্গল সাধন করিতে পারেন অথবা সৌন্দর্য সৃষ্টি করিতে পারেন, তবে অবশ্য লিখিবেন। যাঁহারা অন্য উদ্দেশ্যে লেখেন, তাঁহাদিগকে যাত্রাওয়ালা প্রভৃতি নীচ ব্যবসায়ীদিগের সঙ্গে গণ্য করা যাইতে পারে।

৪। যাহা অসত্য, ধর্মবিরুদ্ধঃ পরনিন্দা বা পরপীড়ন বা স্বার্থসাধন যাহার উদ্দেশ্য, সে সকল প্রবন্ধ কখনও হিতকর হইতে পারে না, সুতরাং তাহা একেবারে পরিহার্য। সত্য ও ধর্মই সাহিত্যের উদ্দেশ্য। অন্য উদ্দেশ্যে লেখনী-ধারণ মহাপাপ।

৫। যাহা লিখিবেন, তাহা হঠাৎ ছাপাইবেন না। কিছু কাল ফেলিয়া রাখিবেন। কিছু কাল পরে উহা সংশোধন করিবেন। তাহা হইলে দেখিবেন, প্রবন্ধে অনেক দোষ আছে। কাব্য নাটক উপন্যাস দুই এক বৎসর ফেলিয়া রাখিয়া তারপর সংশোধন করিলে বিশেষ উৎকর্ষ লাভ করে। যাঁহারা সাময়িক সাহিত্যের কার্যে ব্রতী, তাঁহাদের পক্ষে এই নিয়ম রক্ষাটি ঘটিয়া উঠে না। এজন্য সাময়িক সাহিত্য, লেখকের পক্ষে অবনতিকর।

৬। যে বিষয়ে যাহার অধিকার নাই, সে বিষয়ে তাহার হস্তক্ষেপ অকর্তব্য। এটি সোজা কথা কিন্তু সাময়িক সাহিত্যতে এ নিয়মটি রক্ষিত হয় না।

৭। বিদ্যা প্রকাশের চেষ্টা করিবেন না। বিদ্যা থাকিলে, তাহা আপনিই প্রকাশ পায়, চেষ্টা করিতে হয় না। বিদ্যা প্রকাশের চেষ্টা পাঠকের অতিশয় বিরক্তিকর এবং রচনার পরিপাট্যের বিশেষ হানিজনক। এখনকার প্রবন্ধে ইংরাজি, সংস্কৃত, ফরাসি, জার্মান কোটেশন বড় বেশি দেখিতে পাই। যে ভাষা আপনি জানেন না, পরের গ্রন্থের সাহায্যে সে ভাষা হইতে কদাচ উদ্ধৃত করিবেন না।

৮। অলংকার-প্রয়োগ বা রসিকতার জন্য চেষ্টিত হইবেন না। স্থানে স্থানে অলংকার বা ব্যঙ্গের প্রয়োজন হয় বটে; লেখকের ভাণ্ডারে এ সামগ্রী থাকিলে, প্রয়োজন মতে আপনিই আসিয়া পৌঁছিবে- ভাণ্ডারে না থাকিলে মাথা কুটিলেও আসিবে না। অসময়ে বা শূন্য ভাণ্ডারে অলংকার প্রয়োগের বা রসিকতার চেষ্টার মতো কদর্য আর কিছুই নাই।

৯। যে স্থানে অলংকার বা ব্যঙ্গ বড় সুন্দর বলিয়া বোধ হইবে, সেই স্থানটি কাটিয়া দিবে, এটি প্রাচীন বিধি। আমি সে কথা বলি না। কিন্তু আমার পরামর্শ এই যে, সে স্থানটি বন্ধুবর্গকে পুনঃ পুনঃ পড়িয়া শুনাইবে। যদি ভালো না হইয়া থাকে, তবে দুই চারি বার পড়িলে লেখকের নিজেরই আর উহা ভালো লাগিবে না- বন্ধুবর্গের নিকট পড়িতে লজ্জা করিবে। তখন উহা কাটিয়া দিবে।

১০। সকল অলংকারের শ্রেষ্ঠ অলংকার সরলতা। যিনি সোজা কথায় আপনার মনের ভাব সহজে পাঠককে বুঝাইতে পারেন, তিনিই শ্রেষ্ঠ লেখক। কেন না লেখার উদ্দেশ্য পাঠককে বুঝানো।

১১। কাহারও অনুকরণ করিও না। অনুকরণে দোষগুলি অনুকৃত হয়, গুণগুলি হয় না। অমুক ইংরাজি বা সংস্কৃত বা বাঙ্গালা লেখক এইরূপ লিখিয়াছেন, আমিও এরূপ লিখিব, এ কথা কদাপি মনে স্থান দিও না।

১২। যে কথার প্রমাণ দিতে পারিবে না, তাহা লিখিও না। প্রমাণগুলি সংযুক্ত করা সকল সময়ে প্রয়োজন হয় না, কিন্তু হাতে থাকা চাই।

১৩। বাঙ্গালা সাহিত্য, বাঙ্গালার ভরসা। এই নিয়মগুলি বাঙ্গালার লেখকদিগের দ্বারা রক্ষিত হইলে, বাঙ্গালা সাহিত্যের উন্নতি বেগে হইতে থাকিবে।

বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন [গদ্য] - অন্যান্য প্রশ্ন

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন (শব্দার্থ ও টীকা)বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন (পাঠ-পরিচিতি)বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন (বহুনির্বাচনি প্রশ্ন)বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন (সৃজনশীল প্রশ্ন)বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম কত খ্রিস্টাব্দে?বঙ্কিমচন্দ্রের জন্মস্থান কোথায়?বঙ্কিমচন্দ্র পেশাগত জীবনে কী ছিলেন?বঙ্কিমচন্দ্র সম্পাদিত পত্রিকার নাম কী?'বঙ্গদর্শন' পত্রিকাটি প্রথম কত খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়?বঙ্কিমচন্দ্রের প্রথম কবিতা কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?বঙ্কিমচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস কোনটি?'রাজসিংহ' উপন্যাসের লেখক কে?বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ইংরেজি উপন্যাসের নাম কী?বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপাধি কী?বঙ্কিমচন্দ্রের মৃত্যু কবে?উনিশ শতকীয় বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ লেখক হিসেবে কে পরিচিত?'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' রচনাটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' রচনাটি কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' রচনাটি কোন রীতিতে রচিত?প্রাবন্ধিকের মতে, লেখার মূল উদ্দেশ্য কী হওয়া উচিত?বঙ্কিমচন্দ্রের মতে, লেখার উদ্দেশ্য কী হবে?লেখা ভালো হলে এমনিতেই কী আসবে?অর্থের উদ্দেশ্যে লিখতে গেলে কী প্রবল হয়ে পড়ে?'লোকরঞ্জন-প্রবৃত্তি' অর্থ কী?পাঠকের রুচি বিবেচনা করে লোকরঞ্জন করতে গেলে রচনা কেমন হয়ে পড়ে?আমাদের দেশে লোকরঞ্জন করতে গেলে রচনা কেমন হয়ে ওঠে?মানবকল্যাণ ও সৌন্দর্য সৃষ্টি ব্যতীত অন্য উদ্দেশ্যে সাহিত্য রচয়িতাদের প্রাবন্ধিক কাদের সঙ্গে তুলনা করেছেন?যে সব প্রবন্ধ অসত্য, ধর্মবিরুদ্ধ, পরনিন্দা বা পরপীড়নের উদ্দেশ্যে রচিত সেগুলো কেমন হতে পারে?সত্য ও ধর্ম ব্যতীত অন্য উদ্দেশ্যে লেখনী ধারণ করাকে বঙ্কিমচন্দ্র কী বলেছেন?প্রাবন্ধিক মানবকল্যাণের কী উদ্দেশ্যে উৎসাহ প্রদান করেছেন?লেখা কিছুদিন ফেলে রাখলে সহজেই কী চোখে পড়ে?লেখা কিছুকাল ফেলে রেখে সংশোধন করলে কী হয়?প্রাবন্ধিকের মতে, লেখা তাৎক্ষণিকভাবে না ছাপিয়ে অপেক্ষা করে পুনরায় পাঠ করলে কী হবে?প্রমাণহীন কথা রচনায় সংযুক্ত করার ব্যাপারে প্রাবন্ধিক কী করেছেন?প্রাবন্ধিক রচনায় বিদ্যা প্রকাশের চেষ্টা করতে কেন নিষেধ করেছেন?লেখায় বিদ্যা প্রকাশের চেষ্টা রচনার কিসের জন্য বিশেষ ক্ষতিকর?লেখায় বিদ্যা প্রকাশের চেষ্টা পাঠকের জন্য কেমন?প্রাবন্ধিক লেখায় বিদ্যা জাহিরের প্রবণতাকে কী বলেছেন?লেখায় বিদ্যা প্রকাশের চেষ্টা না থাকলে কী বজায় থাকে?প্রাবন্ধিকের মতে, সকল অলংকারের শ্রেষ্ঠ অলংকার কোনটি?সব অলংকারের শ্রেষ্ঠ অলংকার কী?কে শ্রেষ্ঠ লেখক?প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক কী করতে নিষেধ করেছেন?অনুকরণ করলে কেবল কী অনুকৃত হয়?অনুকরণে দোষগুলি অনুকৃত হলেও কী আয়ত্ত করা যায় না?বঙ্কিমচন্দ্র অনুকরণ করতে কেন নিষেধ করেছেন?সর্বোপরি প্রাবন্ধিক কী পরামর্শ দিয়েছেন?পরানুকরণ না করলে লেখায় কী বজায় থাকবে?লেখকের পক্ষে কী অবনতিকর?প্রাবন্ধিক কিসের উপর গুরুত্বারোপ করেছেন?প্রাবন্ধিকের পরামর্শগুলি লেখকরা মেনে চললে কী হবে?নবীন লেখকরা বঙ্কিমচন্দ্রের পরামর্শ মান্য করলে কারা উপকৃত হবেন?বঙ্কিমচন্দ্রের পরামর্শ মান্য করলে কী সমৃদ্ধ থেকে সমৃদ্ধতর হবে?বঙ্কিমচন্দ্র 'বাঙ্গালার ভরসা' বলে কাকে অভিহিত করেছেন?

সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ

লেখকের 'লোকরঞ্জন-প্রবৃত্তি' প্রবল হয়ে ওঠে কী কারণে?

পাঠকের রুচি বিবেচনায় আনলে
অর্থলাভের আশায় লিখলে
সৌন্দর্য সৃষ্টির উদ্দেশ্য থাকলে
বিদ্যা প্রকাশের প্রচেষ্টা থাকলে

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'লেখা' বিলম্বে ছাপাতে বলেছেন কেন?

উপযুক্ত প্রমাণ সংযোজনের সুবিধার্থে
পাঠকের মনে চাহিদার উদ্রেক করতে
লেখার ভুল-ত্রুটি সংশোধন করতে
মনুষ্যজাতির মঙ্গল সাধন করতে

১৮৩৮ খ্রিস্টাব্দের ২৬শে জুন কোন সাহিত্যিকের জন্ম তারিখ?

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

বাংলা ভাষায় প্রথম শিল্পসম্মত উপন্যাস রচনার কৃতিত্ব কার?

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পেশাগত জীবনে কী ছিলেন?

অধ্যাপক
ব্যবসায়ী
প্রকৌশলী
ম্যাজিস্ট্রেট

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কী হিসেবে খ্যাতি ছিল?

জনদরদি শাসক
যোগ্য বিচারক
ডেপুটি কালেক্টর
পরোপকারী জমিদার

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস কোনটি?

কপালকুণ্ডলা
মৃণালিনী
কৃষ্ণকান্তের উইল
দুর্গেশনন্দিনী

'রাজসিংহ' উপন্যাসের লেখক কে?

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কবে মৃত্যুবরণ করেন?

১৮৩৮ খ্রি. ৮ এপ্রিল
১৮৬৫ খ্রি. ৮ এপ্রিল
১৮৯১ খ্রি. ৮ এপ্রিল
১৮৯৪ খ্রি. ৮ এপ্রিল

যশের জন্য লিখলে কী হবে?

যশ হবে
লেখা ভালো হবে
অর্থ হবে
লেখা ভালো হবে না

কোন ক্ষেত্রে লেখক যশের অধিকারী হবেন?

লেখা ভালো হলে
যশের জন্য লিখলে
লেখক সুপ্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি হলে
অর্থের জন্য লিখলে