Uddoyon
  • হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • হিটলার ও মুসোলিনীর উত্থান
হিটলার ও মুসোলিনীর উত্থান

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

ফিরে যান
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী জার্মানি

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয়ের ফলে রাজ্যসীমা ও ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যের যেমন হ্রাস ঘটে, তেমনি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে জার্মানির প্রতিপত্তি ও মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়। অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে এক গভীর হতাশা ও অর্থনৈতিক দুরবস্থা দেখা দেয়। শাসনব্যবস্থার শিথিলতার সুযোগে দেশে অরাজকতা দেখা দিলে শাসক কাইজার দেশত্যাগ করে হল্যান্ডে আশ্রয় নেন। ফলে জার্মানির রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং প্রজাতান্ত্রিক যুক্তরাষ্ট্রে পরিণত হয়। সাময়িকভাবে 'কাউন্সিল অব পিপলস কমিসার' নামে একটি কার্যনির্বাহক সমিতির উপর শাসনভার ন্যস্ত হয়। নবগঠিত সরকার (যারা সমাজতান্ত্রিক চিন্তাধারায় বিশ্বাসী) জনগণকে শাস্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ও জানমালের নিরাপত্তা বজায় রেখে চলতে অনুরোধ জানায়। স্থায়ী শাসনব্যবস্থা জাতীয় সংবিধান সভা কর্তৃক স্থির হবে বলে তারা আশ্বাস দেয়। জার্মানির কমিউনিস্ট যারা 'স্পার্টাকিস্ট' নামে পরিচিত, তারা পূর্ণমাত্রায় সাম্যবাদ প্রবর্তনের উদ্দেশ্যে লাইবনেকটের নেতৃত্বে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করতে থাকে। ইবার্ট তাদের আন্দোলন কঠোর হস্তে দমন করলে স্পার্টাকাসদের ক্ষমতা দখলের চেষ্টা বিফল হয়। ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দে যে নির্বাচন হয় তাতে 'সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক দল' ৪২১টি আসনের মধ্যে ১৬৩টি আসন পায়। ভাইমার (Veimar) নামক স্থানে জাতীয় সংবিধান সভার অধিবেশনে জার্মানির জন্য একটি প্রজাতান্ত্রিক সংবিধান গৃহীত হয়। ভাইমারের নামানুসারে নতুন শাসনব্যবস্থার নামকরণ হয় 'ভাইমার প্রজাতন্ত্র'। নতুন, শাসনতন্ত্রানুসারে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি হন প্রেসিডেন্ট। আইনসভা হলো দ্বিকক্ষবিশিষ্ট। উচ্চকক্ষের নাম হলো 'রাইখস্টাডাট', যা বিভিন্ন রাজ্যের প্রতিনিধি নিয়ে গঠিত। নিম্নকক্ষের নাম হলো 'রাইখস্টাগ'; এর প্রতিনিধিরা প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটে নির্বাচিত। নতুন শাসনতন্ত্র মতে ভাইমার প্রজাতন্ত্রের সর্বপ্রথম প্রেসিডেন্ট হলেন ফ্রেডারিক ইবার্ট।

'ভাইমার প্রজাতন্ত্রের প্রথম সমস্যা ছিল মিত্রপক্ষের সাথে চুক্তি সম্পাদন। দ্বিতীয়ত, বিরোধী দলগুলোকে দমন। ভার্সাই সন্ধির কঠোরতা ও মিত্রপক্ষের হাতে জার্মানির অপমান জার্মানদের মনে ব্যাপক বিদ্বেষ ও বিক্ষোভের সৃষ্টি করে। সার উপত্যকা জার্মানির হস্তচ্যুত হওয়ায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখীন হন। ফলে নবগঠিত প্রজাতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে গোপন ষড়যন্ত্র চলতে থাকে এবং উৎখাতের চেষ্টা চালানো হয়। কিন্তু দেশপ্রেমিক সাধারণ সৈনিকরা জার্মান সাম্রাজ্যের বিলুপ্তি সহ্য করতে রাজি না থাকায় ১৯২০ ও ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দের অভ্যুত্থানের চেষ্টা বিফল হয়।

তাছাড়া জার্মানির উপর ক্ষতিপূরণের যে বিশাল ভার চাপানো হয়েছিল তার সংস্থান করা প্রজাতান্ত্রিক সরকারের আরেকটি প্রধান সমস্যা হিসেবে দেখা দেয়। ৬৬০ কোটি পাউন্ডের ক্ষতিপূরণের যে ভার চাপানো হলো তার অযৌক্তিকতা ও দেওয়ার অক্ষমতা সম্পর্কে প্রতিবাদ জানিয়েও কোনো কাজ হলো না। উপরন্ত জার্মানিকে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করার জন্য ফ্রান্স জার্মানির শিল্পসমৃদ্ধ অঞ্চল রুহর দখল করে নেয়। ফলে জার্মানির শিল্প শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়ে এবং দেশের সর্বত্র এক মারাত্মক অরাজক পরিস্থিতির উদ্ভব হয়। জাতির এ ক্রান্তিলগ্নে 'স্ট্রেসিম্যান' নামক এক বিচক্ষণ অর্থনীতিবিদ অর্থনীতির পুনরুজ্জীবনের ভার গ্রহণ করলেন। জার্মানির কাছ থেকে কী পরিমাণ ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করা হবে তার জন্য একটি 'ক্ষতিপূরণ কমিশন' গঠন করা হয়। কিস্তিতে জার্মান সরকার ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হওয়ায় ফ্রান্স রুহর অঞ্চল ত্যাগ করে।

ভবিষ্যতে জার্মানির আক্রমণের ভয়ে ভীত হয়ে ফ্রান্স জার্মানির সাথে ১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দে 'লোকার্নো' চুক্তি দ্বারা জার্মানি-বেলজিয়াম, জার্মানি-ফ্রান্সের মধ্যবর্তী সীমারেখা নির্ধারণ করে। এ সমস্যা সমাধানের ফলে জার্মানির একঘরে থাকার বিষয়টি সুরাহা হয় লীগ অব নেশনসের কাউন্সিলের স্থায়ী সদস্যপদ লাভ করে।

রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে জার্মানির অবস্থা দিন দিনই দুর্দশার চরমে পৌঁছতে থাকে। পূর্ববর্তী ক্ষতিপূবণ কমিশন যে সুবিধা দিয়েছিল তাও পরিশোধ করা জার্মানির পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না। ফলে পুনরায় আওয়েন-এর নেতৃত্বে আরেকটি কমিশন গঠন করা হয়। এতে ৫৯ বছর ধরে কিস্তি দ্বারা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সুযোগ জার্মানি লাভ করল। জার্মানি মার্কিন সরকারের কাছ থেকে ঋণ গ্রহণ করে ক্ষতিপূরণের কিস্তি দিতে থাকে। কিন্তু অল্পকালের মধ্যেই পৃথিবীব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা (শুরু ১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দে) দেখা দিলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জার্মানিকে ঋণদানে অক্ষমতা জানায়। অর্থনৈতিক অক্ষমতার জন্য জার্মানির ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রশ্ন পরিত্যক্ত হয়। এরূপ পটভূমিকায় জার্মানিতে নাৎসি দলের সদস্য ব্যাপক হারে বাড়তে থাকে এবং রাজনৈতিক ও ক্ষমতার মঞ্চে এডলফ হিটলারের আবির্ভাব ঘটে।

হিটলার ও মুসোলিনীর উত্থান - অন্যান্য প্রশ্ন
হ্যারি এস. ট্রুম্যান ১৮৮৪-১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দ (Harry S. Truman 1884-1972)
রবার্ট ওপেনহেইমার ১৯০৪-১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দ (Robert Openheimer 1904-1967)
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী জার্মানি
হিটলারের ক্ষমতা দখল
জার্মানিতে হিটলারের উত্থানের কারণ
একনায়ক হিটলার
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ইতালি
মুসোলিনির ক্ষমতা দখল
ইতালিতে ফ্যাসিবাদের উত্থানের কারণ
মুসোলিনির একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা
মুসোলিনির নেতৃত্বে ইতালির অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠন
হিটলার ও মুসোলিনির কর্মকাণ্ডের তুলনা
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ
বিশ্বযুদ্ধের কারণসমূহ
প্রত্যক্ষ কারণ
অক্ষশক্তি চুক্তি Axis Power Treaty
মিত্রশক্তি জোট Allied Force
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সৃষ্টির জন্য হিটলারের দায়িত্ব
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঘটনাপ্রবাহ (ইউরোপের প্রথম রণাঙ্গন)
জার্মানির সোভিয়েত ইউনিয়ন আক্রমণ
জাপান কর্তৃক পার্ল হারবার আক্রমণ
ইউরোপে মিত্রশক্তির দ্বিতীয় রণাঙ্গন
ইতালির আত্মসমর্পণ
জার্মানির আত্মসমর্পণ
জাপানের আত্মসমর্পণ (হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে বোমাবর্ষণ)
নিষ্ঠুরতার হলোকাস্ট
লিটল বয়
ফ্যাট ম্যান
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয়ের কারণ
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলাফল

সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ

ভাইমার প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্টের নাম কী?

স্ট্রেসিম্যান
ফ্রেডারিক ইবার্ট
ইমানুয়েল
হিন্ডেনবার্গ

ফ্যাসিবাদ হলো-

একটি সাম্যবাদী দর্শন
একটি ধর্মীয় বিশ্বাস
একটি স্বতন্ত্র বিশ্বাস
একটি রাজনৈতিক বিশ্বাস

মি. ফক্সের অনুরূপ চরিত্র নিচের কোনটি?

স্ট্যালিন
মুসোলিনি
চার্চিল
অ্যাডলফ হিটলার

Fascio কোন ভাষার শব্দ?

রোমান
ইতালীয়
হিব্রু
ল্যাটিন

মুসোলিনির জন্ম ইতালির-

পূর্বে
পশ্চিমের
উত্তর
দক্ষিণে

উদ্দীপকে ইঙ্গিতপূর্ণ মহাসমর কোনটি?

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ
জাটল্যান্ডের যুদ্ধ
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ
স্নায়ুযুদ্ধ

জার্মানির রুহর অঞ্চলটি ছিল-

কৃষিপ্রধান
শিল্পপ্রধান
নদীবন্দর
সমুদ্রবন্দর

জার্মানি ও ফ্রান্সের সীমানা নির্ধারিত হয় কোন চুক্তির দ্বারা?

ভার্সাই চুক্তি
লোকার্নো চুক্তি
রুহর চুক্তি
ভার্সাই সন্ধি

জার্মান শিল্পপতিদের মধ্যে কমিউনিজমভীতির জন্ম নেয় কেন?

ভার্সাই চুক্তির ফলে
র‍্যাপাল্লোর চুক্তির ফলে
লোকার্নো চুক্তির ফলে
ক্ষতিপূরণ কমিশন গঠনের ফলে