- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের আগমন : ইংরেজ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
পলাশীর যুদ্ধ
নবাব আলীবর্দী খানের মৃত্যুর পর নবাব সিরাজউদ্দৌলা মাত্র ২৩ বছর বয়সে "নবাব মনসুর-উল-মুলক সিরাজউদ্দৌলা শাহ কুলী খাঁ মির্জা মুহম্মদ হায়বাত জঙ্গ বাহাদুর" উপাধি নিয়ে ১৭৫৬ খ্রিষ্টাব্দের ১০ এপ্রিল বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার মসনদে আরোহণ করেন। তিনিই ছিলেন অবিভক্ত বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার শেষ স্বাধীন নবাব। মাতামহের অত্যধিক স্নেহে লালিত-পালিত হয়েছিলেন বলে বাস্তব জীবনের কুটিলতা ও রাজনৈতিক জটিলতা সম্বন্ধে তাঁর বিশেষ জ্ঞান ছিল না; যার কারণে মসনদে বসার পর তাঁকে অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।
সিরাজউদ্দৌলার সিংহাসনারোহণকে আলীবর্দী খানের অপর দুই কন্যা সহজভাবে মেনে নিতে পারেনি। কারণ তারা প্রত্যেকেই পিতার মসনদ লাভের আশা পোষণ করতেন। ঢাকার শাসনকর্তার বিধবা পত্নী ঘসেটি বেগম এবং পূর্ণিয়ার শাসনকর্তার পুত্র শওকত জঙ্গ সিরাজকে সিংহাসনচ্যুত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলেন। ঘসেটি বেগমের হিন্দু দেওয়ান রাজবল্লভ এ ষড়যন্ত্রে যোগ দিলেন। পারিবারিক ষড়যন্ত্রের কথা নবাব উপলব্ধি করে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। যেমন- মীর জাফরকে বখশির পদ থেকে অপসরণ করে মীর মদনকে ঐ পদে নিযুক্ত করেন, পারিবারিক দেওয়ান মোহন লালকে সচিব পদে উন্নীত করে তাঁকে মহারাজা উপাধিসহ প্রধান মন্ত্রীর মর্যাদা দেওয়া হয়। খালা ঘষেটি বেগমের মতিঝিল প্রাসাদ
নবাব সিরাজউদ্দৌলা
অবরোধ করে ধনরত্নসহ তাঁকে নবাবের মনসুরগঞ্জ প্রাসাদে নিয়ে এসে কৌশলে নজরবন্দি রাখেন। খালাতো ভাই শওকত জঙ্গ বিদ্রোহ করলে তাকে পূর্ণিয়ার এক যুদ্ধে পরাজিত ও নিহত করেন।
এভাবে নবাব পারিবারিক ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিলেও প্রাসাদ ষড়যন্ত্র নতুনভাবে শুরু হয়। এক দিকে রাজদরবারের প্রভাবশালী দেশীয় রাজন্যবর্গ (মীর জাফর, ঘষেটি বেগম, কৃষ্ণচন্দ্র রায়, জগৎশেঠ, রায় দুর্লভ, উমিচাঁদ, মানিক চাঁদ) ও অপরদিকে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। প্রতিনিয়ত তারা সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল বুনতে থাকে। দেশি-বিদেশি এ ষড়যন্ত্রের পথ ধরেই পলাশী যুদ্ধের পটভূমি তৈরি হতে থাকে।
ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের আগমন : ইংরেজ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা - অনন্যা প্রশ্ন
সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ

