- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- জাতীয় সম্পদ ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
ইসলামিক অথনৈতিক ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যসমূহ
ইসলামি অর্থব্যবস্থা ঐতিহ্য বা কিতাব থেকে উৎসারিত ব্যবস্থা যা পুঁজিবাদের কাঠামোর মধ্যে কাজ করে। সৃষ্টিকর্তা মানুষ সৃষ্টি করেছেন। মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সবরকম দ্রব্যসামগ্রী, জীবজন্তু, পরিবেশ এবং বস্তুসমূহও সৃষ্টি করেছেন। মানুষ সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত এসকল বস্তুসামগ্রী ও পরিবেশ-প্রকৃতি ব্যবহার করে ধর্মানুমোদিতভাবে অধিকতর সম্পদ সৃষ্টি ও ভোগ করবে এটাই ইসলামি অর্থব্যবস্থার বিধান। ইসলামি অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ভিত্তি পবিত্র কুরআন ও হাদিস। এ অর্থনৈতিক ব্যবস্থার উৎপাদন ও বণ্টনের বিষয়টি বুঝতে হলে আমাদের ইসলামি অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মূল বৈশিষ্ট্যগুলো বুঝতে হবে।
সম্পদের মালিকানার সীমাবদ্ধতা: ইসলামে সম্পদের ব্যক্তিগত মালিকানা স্বীকৃত। ব্যক্তিগত মালিকানাধীন সম্পদ কিছু শর্ত সাপেক্ষে মানুষ তার ইচ্ছামতো ব্যবহার ও ভোগ করতে পারে। এ সম্পদ সে তার উত্তরাধিকারীদের নিকট হস্তান্তর করতে পারে।
শরিয়াভিত্তিক অর্থনৈতিক কার্যাবলি ইসলামি অর্থব্যবস্থায় অর্থনৈতিক ও অন্যান্য সকল কার্যাবলি শরিয়া বিধান অনুসারে পরিচালিত হয়। ইসলাম ধর্মের পাঁচটি মৌল স্তম্ভ, পবিত্র কুরআনের নির্দেশাবলি এবং রাসুল (সা.) এর হাদিসের বিধান অনুসারে অর্থনৈতিক কার্যাবলির মৌলিক নীতিমালা নির্ধারিত হয়।
সুদ নিষিদ্ধ: সুদের পরিবর্তে মুনাফার অংশিদারিত্ব উৎপাদন, অর্থনীতিক কর্মকান্ড গুরুত্ব দেওয়া হয়। ন্যায়ভিত্তিক সম্পদের বন্টন: ধনী গরিবের মধ্যে বৈষম্য কমাতে যাকাত, সদকা, উশর ও অন্যান্য কল্যাণমূলক কার্যক্রম উৎসাহিত করা হয়।
উৎপাদন ব্যবস্থা ও উৎপাদনের উপাদানসমূহের পারিতোষিক: ইসলামি অর্থব্যবস্থায় যে কোনো ব্যক্তি একক বা গোষ্ঠীবদ্ধভাবে শরিয়াসম্মত দ্রব্যসামগ্রী উৎপাদনের জন্য বিনিয়োগ করতে পারে। সে নিজেও প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী ক্রয় ও ভোগ করতে পারে। উৎপাদনের লক্ষ্য হলো 'হালাল' বা ইসলামসম্মত দ্রব্য ও সেবা উৎপাদন নিশ্চিত করা। সামাজিক কল্যাণমুখী শোষণহীন উৎপাদন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা।
ইসলামি অর্থব্যবস্থায় বৃহদায়তন উৎপাদন কার্যক্রম প্রচলিত আছে। এ ব্যবস্থায় ব্যক্তিগত বা বেসরকারি উদ্যোগ নাই এমন ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে উৎপাদন কার্যক্রম গৃহীত হয়। ইসলামি অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তির নিকট নির্দিষ্ট সময়ব্যাপী নির্ধারিত পরিমাণ অর্থ বা সম্পদ থাকলে তার একটি নির্ধারিত অংশ দরিদ্র জনগণের মধ্যে বণ্টনের ব্যবস্থা রয়েছে। এই ব্যবস্থাকে বলে জাকাত। সম্পদশালী ব্যক্তির জন্য জাকাত প্রদান বাধ্যতামূলক। ন্যূনতম যে পরিমাণ সম্পদ থাকলে জাকাত দিতে হয় তাকে ইসলামি পরিভাষায় নিসাব বলে।
যে কোনো অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের অন্যতম উপাদান পুঁজি বা মূলধন। মূলধনের জন্য সুদ প্রদানের ব্যবস্থা আছে। ইসলামি অর্থব্যবস্থায় সুদ লেনদেন হারাম বা নিষিদ্ধ। ইসলামি ব্যাংক ব্যবস্থায় সুদমুক্ত আমানত রাখা ও ঋণ গ্রহণ করার ব্যবস্থা আছে। উৎপাদক ও ব্যবসায়ী এই ঋণ গ্রহণ করতে পারেন এবং ব্যবসায় থেকে প্রাপ্ত লাভ থেকে ঋণদানকারী ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে (অর্থাৎ ব্যাংক) লভ্যাংশ পরিশোধ করতে পারেন। এ অর্থব্যবস্থায় শ্রমিকের ন্যায্য পাওনা যথাসময়ে পরিশোধ করার ব্যবস্থা রয়েছে। এর ফলে উৎপাদিত সম্পদের সুষ্ঠু বণ্টন সম্ভব হয়।
জাতীয় সম্পদ ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা - অনন্যা প্রশ্ন
সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ

