• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • জাতীয় সম্পদ ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা
জাতীয় সম্পদ ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

বাংলাদেশের জাতীয় আয়ের বণ্টন পরিস্থিতি

উপরের আলোচনা থেকে এটি স্পষ্ট যে, বাংলাদেশে প্রধানত ধনতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বিদ্যমান। তবে অর্থনীতির কিছু খাতে বিশেষত সেবাখাতে সরকারি মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তাই এটাকে মিশ্র অর্থব্যবস্থাও বলা যায়।

আমরা জানি ভূমি, শ্রম, মূলধন ও সংগঠন উৎপাদনের চারটি উপাদান। ভূমির আয়কে খাজনা আর শ্রমের আয়কে বলে মজুরি। মূলধনের আয় হলো সুদ এবং সংগঠন বা উদ্যোক্তার আয় হচ্ছে মুনাফা। এ চারটির সমষ্টিই জাতীয় আয়।

উৎপাদনের অধিকাংশ ক্ষেত্রে মূলধনের মালিক বা পুঁজিপতি এবং সংগঠক একই ব্যক্তি। কারণ মূলধন ছাড়া উদ্যোগ গ্রহণ করা যায় না। বাংলাদেশের জনগণের একটি ক্ষুদ্র অংশ পুঁজিপতি ও উদ্যোক্তা। বৃহত্তর অংশই মজুর।

ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য পুঁজিপতির দ্বারা মজুরকে তার ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত করা হয়। তার প্রাপ্য মজুরির একটি বড়ো অংশ পুঁজিপতিদের কাছে সুদ ও মুনাফা হিসেবে সঞ্চিত হয়। অর্থাৎ জাতীয় আয়ের বৃহত্তর অংশ অল্পসংখ্যক ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ভোগ করে আর ক্ষুদ্রতর অংশ বণ্টিত হয় বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মধ্যে।

বাংলাদেশে ধনতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রায় সকল বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। আয় বণ্টনের ক্ষেত্রে ধনতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মতো বাংলাদেশেও শ্রমিকদের মজুরির নিম্নহার এবং উদ্যোক্তাদের মুনাফার উচ্চহার লক্ষণীয়। সুদ এবং খাজনা উচ্চহারে পরিশোধ করা হয়। সরকারি খাতে সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকায় শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি তুলনামূলকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। তবে বাংলাদেশের অর্থনীতির খাতসমূহের অধিকাংশই বেসরকারি নিয়ন্ত্রণাধীনে থাকায় বাংলাদেশে আয় বৈষম্য রয়েছে। ফলে শ্রমিক শ্রেণির জীবনযাত্রার মান নিম্ন। সুশাসনের অভাব, সম্পদের পঞ্জিভবন অল্প মানুষের হাতে অধিক সম্পদ কেন্দ্রিভূত করে। যা সম্পদের অসম অসম বন্টনের একটি বড় কারণ।

পরবর্তী

সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ