• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • উত্তর আফ্রিকায় ফাতেমি খিলাফত
উত্তর আফ্রিকায় ফাতেমি খিলাফত

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

ফাতেমীয় খিলাফত প্রতিষ্ঠা- ৯০৯ খ্রি.

ওবায়দুল্লাহ আল-মাহদী (৯০৯-৯৩৪ খ্রি.) [Obidullah-Al-Mahdi (909-934 AD)]

ফাতেমীয়রা ছিল হযরত আলী (রা.)-এর অনুসারী ও অনুগামী। হযরত আলীর অনুসারী বা সমর্থকগণ ইতিহাসে 'আলীদ' বা 'শিয়া' নামে পরিচিত। উমাইয়া ও আব্বাসীয় খিলাফতের প্রতি শিয়াদের যথেষ্ট বিদ্বেষ ছিল। ফাতেমীয়রা নিজেদেরকে হযরত আলী (রা.) এবং তাঁর বিবি হযরত ফাতেমার বংশধর বলে দাবি করেন। হযরত বিবি ফাতেমার নামানুসারে তাদের প্রতিষ্ঠিত খিলাফত ইসলামের ইতিহাসে 'ফাতেমীয় খিলাফত' নামে অভিহিত।

ওবায়দুল্লাহ আল-মাহদী ২৬০ হিজরি অর্থাৎ ৮৭৫ খ্রিষ্টাব্দে সিরিয়ার দশমিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। পিতা হোসেন ২৬৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। কর্মদক্ষতায় ওবায়দুল্লাহ্ আল-মাহদী আশাতীতভাবে এক অসাধারণ ও পরম সৌভাগ্যের অধিকারী হয়ে ৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে উত্তর আফ্রিকার তিউনিসিয়ায় সর্বপ্রথম ফাতেমীয় খিলাফতের গোড়াপত্তন করেন। অল্পকালের মধ্যেই তিনি সাম্রাজ্যের বিস্তৃতি ঘটান এবং এর ভিত্তি দৃঢ় করেন। এ সমস্ত কীর্তির জন্য মাহদী প্রশংসার অধিকারী। নিম্নে তাঁর চরিত্র ও কৃতিত্ব বর্ণিত হলো:

শাসক হিসেবে মাহদী নিঃসন্দেহে মাহদী ছিলেন একজন উত্তম শাসক এবং নিষ্ঠাবান সংগঠক নতুবা তিনি বার্বারদের দেশে সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে পারতেন না। স্বল্পকালের মধ্যেই তিনি সাম্রাজ্যের ভিত্তি সুদৃঢ় করেন এবং আইন-শৃঙ্খলা স্থাপন করেন। শাসনকার্যের সুবিধার জন্য তিনি সাম্রাজ্যকে কয়েকটি প্রদেশে বিভক্ত করেন এবং প্রত্যেক প্রদেশের জন্য একজন গভর্নর নিযুক্ত করেন।

আবু আবদুল্লাহ্ ও আবুল আব্বাসের প্রাণনাশ মাহদীর সাম্রাজ্য লাভের মূলে ছিলেন আবু-আবদুল্লাহ্ ও তদীয় ভ্রাতা আব্বাস। কিন্তু তারা চেয়েছিলেন মাহদী নামেমাত্র খলিফা থাকবেন এবং প্রকৃত ক্ষমতা থাকবে তাদের হাতে। মাহদীর পদমর্যাদা ও সাম্রাজ্যের ওপর তার একচ্ছত্র আধিপত্য দেখে তারা হিংসাপ্রণোদিত হন এবং মাহদীকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য এক হীন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। দূরদর্শী মাহ্দী তা বুঝতে পেরে তাদের প্রাণনাশ করেন। এভাবে তিনি নিজের খিলাফত নিষ্কণ্টক করেন। খারেজিদের দমন: তিহারাতের পার্বত্য এলাকাসহ বহুস্থানে খারেজিগণ বিদ্রোহী হলে মাহদী তার সুযোগ্য সেনাপতি আরুবা-বিন-ইউসুফের সাহায্যে তাদেরকে কঠোর হস্তে দমন করে সাম্রাজ্যে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন।

কাতামাদের বিদ্রোহ দমন: কায়রোয়ানে কাতামা ও আরব জাতির মধ্যে সংঘর্ষ ও বিবাদ শুরু হয়। কাতামাগণ বিদ্রোহী হয়ে উঠলে রাজ্যের শান্তি ও শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয়। মাহদী তার পুত্র আল-কায়েমকে প্রেরণ করে সেখানে পুনরায় শান্তি-শৃঙ্খলা ও সংহতি স্থাপনে সমর্থ হন।

ত্রিপলীর নতি স্বীকার: ত্রিপলীতে যে বিদ্রোহ দেখা যায় (আরব ও বার্বারদের মধ্যে) তা এক ভীষণ রূপ পরিগ্রহ করে এবং মাহদীকে সচকিত করে। মাহদী সুকৌশলে তাদের দমন করেন এবং পরবর্তীতে ত্রিপলী মাহদীর নিকট নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়। 

ইদ্রিসীয় সাম্রাজ্য অধিকার: মাহদীর প্রখ্যাত সেনাপতি আরুবা-বিন-ইউসুফ মরক্কোর ইদ্রিসীয় সাম্রাজ্য আক্রমণ ও জয় করে ফাতেমীয় সাম্রাজ্যের সীমা পশ্চিমে আটলান্টিক মহাসাগরের তীর পর্যন্ত বিস্তৃত করেন।

মিশরের বিরুদ্ধে অভিযান: উচ্চাভিলাষী মাহদী মিশর বিজয়ের মানসে উপর্যুপরি কয়েকবার আক্রমণ করেন; কিন্তু দামেস্ক ও মিশরের যুক্ত বাহিনীর সাথে কুলিয়ে উঠতে পারেন নি।

ধর্মীয় কৃতিত্ব: ওবায়দুল্লাহ আল-মাহদী শিয়া মত প্রচারের ব্যবস্থা করেন। তিনি ধর্মীয় বিধি-নিষেধ তালিকাভুক্ত করেন। তিনি বাহ্যিক আচার-অনুষ্ঠানের প্রতি খুবই গুরুত্ব দেন কিন্তু মদ্যপান নিষেধ করেন নি।

স্থাপত্যকীর্তি: ৩০১ হিজরিতে মাহদী কায়রোয়ানের নিকট আল-মাহদীয়া নামে এক শহর স্থাপন করেন। কিছুদিনের জন্য সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল এ নগরী। ৩১২ হিজরিতে এ শহরের নিকট আর একটি শহর (শহরতলী) নির্মাণ করেন এবং এর নাম রাখেন আল-মাহদীয়া। রাজকীয় আরাম-আয়েশের উদ্দেশ্যে এটি নির্মাণ করা হয়।

ওবায়দুল্লাহ আল-মাহদীর চরিত্র: ওবায়দুল্লাহ আল মাহদীর চরিত্র নিম্নে আলোচনা করা হলো:

ব্যক্তিত্বপূর্ণ ও দূরদর্শী শাসক: উপরে বর্ণিত কার্যকলাপ হতেই মাহদীর চরিত্র অনুধাবন করা যায়। তিনি অত্যন্ত ব্যক্তিত্বপূর্ণ, দূরদর্শী এবং বুদ্ধিমত্তার অধিকারী ছিলেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সাহসী এবং উচ্চাভিলাষী। তাই প্রথম শাসক ও প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তার সম্মুখে যে সমস্ত বাধাবিপত্তি, বিদ্রোহ ও বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছিল সবকিছু হতেই তিনি নিজেকে ও সিংহাসনকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনি ছিলেন দৃঢ় চরিত্রের একজন প্রজ্ঞাবান সমরকুশলী।

ধর্মানুরাগী ও প্রজাবৎসল: তিনি নিজে একজন বীরযোদ্ধা ছিলেন। তার দয়া-দাক্ষিণ্য এবং ধর্মানুরাগ বিশেষ উল্লেখযোগ্য। তিনি প্রজাবৎসল ছিলেন। তার স্থাপত্যকীর্তি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিনি অত্যন্ত ক্ষমতালিপু ছিলেন। ক্ষমতা অর্জনের পথে কেউ বাধা হয়ে দাঁড়ালে তিনি তার প্রাণনাশ করতেও দ্বিধাবোধ করতেন না। ঐতিহাসিক সত্য যে, ফাতেমীয় আন্দোলনের তিনিই ছিলেন সর্বশেষ কীর্তিমান ব্যক্তি এবং তিনিই ফাতেমীয় সাম্রাজ্যের প্রথম শাসক। অবশ্য কেউ কেউ তাকে ফাতেমীয় সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা বলতে নারাজ। কিন্তু এ কথা অনস্বীকার্য যে, তিনি যেদিন হতে সিংহাসনে আরোহণ করেন সেদিন হতেই ফাতেমীয় সাম্রাজ্যের উৎপত্তি, তার পূর্বে নয়। এদিক থেকে বিচার করলে তাকে (মাহদীকে) ফাতেমীয় সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা না বলে পারা যায় না। কিন্তু অন্যদিক দিয়ে আবু আবদুল্লাহ আল-শিয়ীকে ফাতেমীয় সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা বলতে হয়। কেননা মাহদীর ফাতেমীয় বংশ প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে আবু আবদুল্লাহ আল-শিয়ীর অবদান ছিল অপরিসীম। Though-Mahdi was the king. Abu Abdullah As-Shii was the king maker.

আবু আবদুল্লাহ আল-শিয়ীর অবদান উত্তর আফ্রিকায় ফাতেমীয় খিলাফত প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে আবু আবদুল্লাহ আল-শিয়ীর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পারস্যের আবদুল্লাহ্-বিন-মাইমুন নামক এ ব্যক্তি ইসমাইলীয় শিয়াদের সংগঠিত করেন। পরবর্তীতে আহম্মদ নামে তার এক পুত্র এ দলের সংগঠন ও প্রচারণার ভার নেন। তিনি (আহমদ) এ মতবাদ প্রচারের জন্য ইবনে হাওসাব নামক এক ব্যক্তিকে কুফা হতে ইয়েমেন পাঠান। তিনি ইসমাইলীয় মতবাদ প্রচারে কৃতকার্য হন এবং কাতামা গোত্রের ওপর বিশেষ প্রভাব বিস্তার করেন।

ইফ্রিকিয়া গমন: এ সময় আবু আবদুল্লাহ্-বিন হাসান নামক এক ব্যক্তি ইবনে হাওসাবের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। তিনি আব্বাসীয় আমলে বসরায় মুহতাসিব ছিলেন। এ ব্যক্তিই পরবর্তীকালে 'আল-শিয়ী' নামে আত্মপ্রকাশ করেন। ইবনে হাওসাব আল-শিয়ীকে ইসমাইলীয় মতবাদ প্রচারের জন্য ইফ্রিকিয়া প্রেরণ করেন। আল-শিয়ী হজ মৌসুমে মক্কা যান এবং কাতামা গোত্রের হজযাত্রীদের সাথে শিক্ষক বেশে ১০০ সালে ইফ্রিকিয়া পৌঁছেন। তিনি নিজ পরিচয় গোপন রেখে সহজেই কাতামা গোত্রের লোকদেরকে 'আহলুল-বায়তের' ইমামে বিশ্বাসী করে তোলেন। মাহদীর আগমন হবে এবং কাতামা নামক গোত্র তাকে সাহায্য করবে বলে প্রচারণা চালান।

ধর্ম প্রচার: আল-শিয়ী ইমাম মাহদীর নানাপ্রকার আলৌকিক ক্ষমতা সম্বন্ধে ধারণা দেন। কাতামা গোত্রের বহু লোক এবং বার্বারগণ সরল মনে বিশ্বাস করলেও বেশকিছু লোক তাকে সন্দেহের চোখে দেখতেন। ফলে তিনি অস্ত্রের সাহায্যে অন্যান্য লোক নিয়ে তাদেরকে দমন করেন এবং একটি শহর দখল করেন। এতে ইফ্রিকিয়ার শাসক ইব্রাহিম-বিন-আহমদ আগলাবী ও তার পুত্র বাধা দেন।

ইব্রাহিম আগলাবীর মৃত্যুর পর তার পুত্র জিয়াদাতুল্লাহ্ কায়রোয়ানের সিংহাসনে বসেন। এমন সময় আল-শিয়ী কায়রোয়ান দখলের প্রস্তুতি গ্রহণ করেন এবং কাতামা গোত্রের লোকজনদেরকে ঘোষণা দেন যে, মাহদীর আগমনের সময় আগত প্রায়। ফলে জিয়াদাতুল্লাহর বহু উচ্চপদস্থ কর্মচারী দলে দলে আল-শিয়ীর সাথে গোপনে মিলিত হয়ে তার প্রতি আকৃষ্ট হন।

ওবায়দুল্লাহকে আনয়ন: ৯০৯ সালে ইসমাইলীয় ইমাম জাফর ইবনে মোসাদ্দিকের মৃত্যু হলে তার পুত্র ওবায়েদুল্লাহ দলের নেতৃত্ব লাভ করেন। মৃত পিতার আগের নির্দেশ মোতাবেক তিনি মাতাসহ ইয়েমেনে রওয়ানা হন। অপরদিকে, আল-শিয়ীর শিষ্যগণের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং মক্কা ও ইফ্রিকিয়া জুড়ে তার প্রভাব বিস্তার করে। এ অবস্থায় তিনি ওবায়দুল্লাহকে আনয়নের জন্য দূত পাঠান (তার ভাই আব্বাসকে)। পথিমধ্যে দূতের সাথে দেখা হলে তিনি (ওবায়দুল্লাহ) ইয়েমেনে না গিয়ে ইফ্রিকিয়া রওয়ানা হন। কিন্তু তিনি কায়রোয়ানে পৌঁছলে জিয়াদাতুল্লাহ তাকে কদী করেন। এ সময় ওবায়দুল্লাহ তার পরিচয় গোপন রাখেন।

জিয়াদাতুল্লাহর সাথে দ্বন্দ্ব: আল-শিয়ীর প্রভাব প্রতিপত্তিকে নষ্ট করার জন্য জিয়াদাতুল্লাহ উলামাদেরকে নিয়ে তাকে বিধর্মী বলে ঘোষণা করেন। এর পর জিয়াদাতুল্লাহ্ তার বিরুদ্ধে পর পর দুটি যুদ্ধ ঘোষণা করেন এবং যুদ্ধে জিয়াদাতুল্লাহর সৈন্যগণ পরাজয়বরণ করে। আল-শিয়ী ফাতামাদের সাহায্যে সাজানো, সাস, মেরিতা প্রভৃতি জয় করেন। অতঃপর আল-শিয়ী কায়রোয়ান অধিকার করেন এবং তার কন্দী ভাই আব্বাস, আবু জাফর এবং ওবায়দুল্লাহর মাতাকে ও ওবায়দুল্লাহকে উদ্ধার করেন। অতঃপর তিনি সিজিলমাসা আক্রমণ করে এর শাসনকর্তা ইয়াসাবকে পরাজিত করেন এবং ওবায়দুল্লাহকে অশ্বপৃষ্ঠে তুলে রাস্তায় সমবেত জনতাকে ঘোষণা দেন তিনিই তোমাদের প্রভু।

ওবায়দুল্লাহকে মাহদী ঘোষণা ও আল-শিয়ীর মৃত্যু: ৯০৯ সালে আল-শিয়ী কায়রোয়ানের মসজিদে ওবায়দুল্লাহকে 'মাহদী' বলে ঘোষণা করেন। রাকাদা মসজিদেও এ ঘোষণা দেওয়া হয়। ইসমাইলীয় মতবাদ গ্রহণে যারা অস্বীকার করে তিনি তাদেরকে হত্যা করেন। এভাবে মাহদী কায়রোয়ানে প্রতিষ্ঠিত হন। কিন্তু মাহদীর অলৌকিক ক্ষমতা সম্বন্ধে পূর্বে যা শোনা গিয়েছিল ওবায়দুল্লাহর মধ্যে কাতামা গোত্রের প্রধানগণ এবং আল-শিয়ী তার কিছুই দেখতে পেলেন না। মাহদীও এ খবর জানতে পেরে আল-শিয়ীকে তার দরবারে ডেকে পাঠান এবং ঘাতক নিযুক্ত করে তার প্রাণনাশ করেন। কাতামারা এটি সহ্য করতে পারেননি বলে কায়রোয়ানে ভীষণ দাঙ্গা শুরু হয়। মাহদী বহুকষ্টে এ দাঙ্গা দমন করেন।

পরিশেষে বলা যায়, আবু আবদুল্লাহ আল-শিয়ী অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। তিনি ছিলেন প্রজ্ঞাবান ও দূরদর্শী রাজনীতিক। তিনি একজন অতি সাধারণ প্রচারক হিসেবে ইফ্রিকিয়ায় আগমন করেন। তার অমায়িক ব্যবহার, ব্যক্তিত্ব ও প্রতিভা তাকে কাতামা গোত্র তথা বার্বারদের মধ্যে বিশেষ প্রতিপত্তি দান করে। ইমাম মাহদীর নামে তিনিই আফ্রিকায় শাসন কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন।

আবু আবদুল্লাহ্ ব্যতীত ফাতেমীয় শাসন প্রতিষ্ঠা হতো কি না তাতে যথেষ্ট সন্দেহ ছিল। তাই অতি সহজেই বলা চলে ইফ্রিকিয়ায় ফাতেমীয় খিলাফত প্রতিষ্ঠায় যাদের অবদান স্মরণীয় আবদুল্লাহ আল-শিয়ীর নাম তাদের মধ্যে শীর্ষে।

আল-কা'ইম (৯৩৪-৯৪৬ খ্রি.) [Al-Kaim (934-946 AD)]

সিংহাসনারোহণ: ওবায়দুল্লাহ আল-মাহদীর মৃত্যুর পর তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র 'আল-কা'ইম' উপাধি গ্রহণ করে রাক্কাদায় সিংহাসনে আরোহণ করেন। তিনিও পিতার ন্যায় রাজ্যবিস্তারের নীতি গ্রহণ করেন।

জেনোয়া অধিকার: ৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দে তিনি একটি নৌ-বাহিনী প্রেরণ করে ফ্রান্সের দক্ষিণ উপকূলের ধ্বংস সাধন করে জেনোয়া অধিকার করেন এবং লোম্বার্ডির কিছু অংশ অধিকৃত হয়। তাঁর মিশর বিজয়ের কয়েকটি প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হয়ে যায়। এই বিখ্যাত যোদ্ধা ১২ বছর রাজত্ব করার পর ১৪৬ খ্রিষ্টাব্দে পরলোকগমন করেন। তাঁর সময় আবু ইয়াজিদের নেতৃত্বে এক ব্যাপক খারিজি বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। তাঁর মৃত্যুর পরও এই বিদ্রোহ অব্যাহত থাকে। তার সময় ফাতেমীয় নৌবাহিনী গঠিত হয়।

আল-মনসুর (৯৪৬-৯৫২ খ্রি.) [Al-Mansur (946-952 AD)]

আল-মনসুর ৯১১ খ্রিষ্টাব্দে কায়রোয়ানে জন্মগ্রহণ করেন।

সিংহাসনারোহণ: পিতার মৃত্যুর পর তাহির আল-মনসুর উপাধি গ্রহণ করে ফাতেমীয় সিংহাসনে রাক্কাদায় অধিষ্ঠিত হন। তিনিও সুদক্ষ শাসক ছিলেন। সৈয়দ আমির আলী বলেন, "তিনি ছিলেন বিরল ও দৃঢ় চরিত্রের যুবক।"

খারিজি বিদ্রোহ দমন: তিনি খারিজি নেতা আবু ইয়াজিদকে পরাজিত ও নিহত করে খারিজি বিদ্রোহ দমন করেন। সিসিলি ও ক্যালাব্রিয়ায় কর্তৃত্ব হাপন করা হয়। কিন্তু খারিজি বিদ্রোহের সুযোগে স্পেনের উমাইয়া খলিফা আন-নাসির (মরক্কো) মৌরতানিয়া দখল করে নেন। তিনি সুসার উপকণ্ঠে 'আল মনসুরা' নামে একটি সুদৃশ্য নগরী নির্মাণ করেন। ৮৫২ খ্রিষ্টাব্দে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

উত্তর আফ্রিকায় ফাতেমি খিলাফত - অন্যান্য প্রশ্ন

ফাতেমীদের পরিচয়ফাতেমীয় আন্দোলনফাতেমীয় খিলাফত প্রতিষ্ঠা- ৯০৯ খ্রি.খলিফা আল-মুইজ (৯৫২-৯৭৫ খ্রি.)খলিফা আল-আজিজ (৯৭৫-৯৯৬ খ্রি.)খলিফা আল-হাকিম (৯৯৬-১০২১ খ্রি.)ফাতেমীয় বংশের শেষ খলিফাগণফাতেমীয়দের ক্রমাবনতি ও পতনফাতেমীয়গণ কর্তৃক মিশর ও উত্তর আফ্রিকার সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিকাশউত্তর আফ্রিকা ও মিশরে কে ফাতেমি খিলাফত প্রতিষ্ঠা করেন?মিশর বিজয়ী সেনাপতির নাম কী?জওহর কে ছিলেন?'দাঈ' অর্থ কী?কত খ্রিষ্টাব্দে ফাতেমি খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হয়?উত্তর আফ্রিকায় কোন বংশের শাসনকে উৎখাত করে ফাতেমি খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হয়?ফাতেমি খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতা কে?ওবায়দুল্লাহ আল মাহদী কত খ্রিষ্টাব্দে ক্ষমতারোহণ করেন?ফাতেমি খিলাফত কোথায় প্রতিষ্ঠিত হয়?ফাতেমি বংশের প্রথম শাসক কে ছিলেন?ফাতেমি ইতিহাসে আস শিয়ী (সর্বোত্তম শিয়া) ও মুয়াল্লিম (উপদেষ্টা) হিসেবে পরিচিত ছিলেন কে?ফাতেমি কারা?উত্তর আফ্রিকার আগলাবী শাসকের নাম কী ছিল?মিশরে ফাতেমি খিলাফত প্রতিষ্ঠা করেন কে?আল আজহার মসজিদ কে প্রতিষ্ঠা করেন?'আল আজহার' মসজিদটি কত খ্রিষ্টাব্দে নির্মিত হয়?'আল কাহিরা' অর্থ কী?বিশ্বের দ্বিতীয় প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম কী?আল মুইজ কত বছর রাজত্ব করেন?দারুল হিকমা প্রতিষ্ঠা করেন কে?ফাতেমি খিলাফতের সর্বশেষ খলিফা কে ছিলেন?ফাতেমি কারা? ব্যাখ্যা কর।'দাবুল হিকমা' কী? ব্যাখ্যা কর।'আল কাহিরা' বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর।উত্তর আফ্রিকায় প্রতিষ্ঠিত খিলাফতকে ফাতেমি খিলাফত বলার কারণ ব্যাখ্যা কর।ফাতেমি খিলাফতের পতন ঘটেছিল কেন?

সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ