- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- উত্তর আফ্রিকায় ফাতেমি খিলাফত
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
ফাতেমীয়গণ কর্তৃক মিশর ও উত্তর আফ্রিকার সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিকাশ
হযরত উমর (রা.)-এর সময় হতে উত্তর আফ্রিকায় মুসলিম শাসন শুরু হয় এবং মিশর বিজয়ের মাধ্যমে সেখানে মুসলিম কৃষ্টি-কালচার গড়ে ওঠে। ৯০৯ খ্রিস্টাব্দে ফাতেমী খিলাফত প্রতিষ্ঠা হলে ৩০১ হিজরিতে ওবায়দুল্লাহ আল-মাহদী কায়রোয়ানের নিকট রাজকীয় আরাম-আয়েশের জন্য 'আল-মাহদী' নামে একটি নতুন শহর নির্মাণ করেন। জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ফাতেমীয় খলিফাগণ অবদান রাখেন। এ বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ খলিফা আল-মুইজ-এর সেনাপতি জওহার ফুসতাতের সন্নিকটে আল-কাহেরা বা বিজয়িনী (কায়রো) নগরী প্রতিষ্ঠা করেন। অনিন্দ্য সুন্দর এ নগরীর পূর্ব দিকে খলিফার জন্য একটি সুন্দর বৃহৎ প্রাসাদ এবং পশ্চিম দিকে ক্ষুদ্র প্রাসাদ নির্মাণ করা হয়। বৃহৎ প্রাসাদের একদিকে খানুন খালীলী ও অপর দিক হ্রসনায়ন মসজিদ দ্বারা চিহ্নিত হয়ে থাকে। দক্ষিণ প্রান্তের বাবুল জাবাহল হতে একটি রাজপথ বায়নুল কামেরায়ন বা দুটি প্রাসাদের মধ্যবর্তী ময়দানের মধ্য দিয়ে বাবুল ফুতাহ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
আল-আযহার মসজিদ ও বিশ্ববিদ্যালয়
কায়রোয়ান নগরী প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সঙ্গে খলিফা প্রাসাদের উত্তরে উজিরের দফতরখানা এবং দক্ষিণে ৯৭০ খ্রিষ্টাব্দে আল-আযহার মসজিদ নির্মাণ শুরু করেন য়া ৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে সমাপ্ত হয়। জওহর বিবি ফাতেমার স্মরণার্থে মসজিদটির নাম আল-আযহার নামকরণ হয়।
পরবর্তী খলিফা আল-আজিজ মসজিদে একটি গ্রন্থাগার স্থাপন করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরকরণ করা হয়। আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয় তৎকালীন সভ্যতা বিকাশে অভূতপূর্ব অবদান রাখে। আল-মুইজ আলেকজান্দ্রিয়া পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ, পথের পাশে বৃক্ষরোপণ, কূপ-খনন এবং বিশ্রামাগার স্থাপন করেন। এ সকল দিক বিবেচনা করে লেনপুল যথার্থই বলেন, মিশর বিজয় আল-মুইজ-এর জীবনের লক্ষ্য ছিল এবং মিশরকে একটি সমৃদ্ধিশালী নগরে পরিণত করাই ছিল তাঁর জীবনের স্বপ্ন।
আল-মুইজ সুপণ্ডিত ছিলেন এবং বিজ্ঞান ও দর্শনে পারদর্শী ছিলেন। তিনি জ্ঞানী ও গুণীদের সমাদর করতেন। ঐতিহাসিক আমির আলী ফাতেমীয় খলিফা আল মুইজকে পাশ্চাত্যের মামুন বলে অভিহিত করেন। খলিফা আব্দুল আজিজ ফুসতাতের সন্নিকটে ৯৯০ খ্রিস্টাব্দে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন পূর্ব প্রাসাদের পশ্চিমে স্বর্ণ প্রাসাদ। কায়রোতে মাতার মসজিদ ও আয়নুশ শামসে একটি রাজপ্রাসাদ, সেতু, স্নানাগার নির্মাণ করেন। ফাতেমী খলিফা আব্দুল আজিজের রাজত্বকালে ইয়াকুব ইবন কিল্লিসের পরামর্শে আল-আযহার মসজিদের পার্শ্বে ৯৮৯ খ্রিষ্টাদে 'বিশ্ববিদ্যালয় চালু করেন। ফাতেমীয় খলিফা আল-হাকিম ছিলেন জ্ঞান-বিজ্ঞানের একজন শ্রেষ্ঠ পৃষ্ঠপোষক। তার আমলে বহু মসজিদ, মাদরাসা, মানমন্দির নির্মিত হয়েছিল।
দারুল হিকমা
আল-হাকিমের সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি বাগদাদের 'বায়তুল হিকমার' আদলে অনুরূপ 'দারুল হিকমা' নামে একটি জ্ঞানগৃহ নির্মাণ। ১০০৫ খ্রিষ্টাব্দে তিনি কায়রোতে এ প্রখ্যাত ভবনটি নির্মাণ করেন। বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণার জন্য বহু গ্রন্থরাজি সংগ্রহ ও গবেষণা কার্য শুরু করেন। মিশরের বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী আলী-ইবন ইউসুফ, পদার্থবিজ্ঞানী ইবন-উল-হায়সাম হাকিমের পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেন। জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় দারুল হিকমাহ্ গবেষণা কার্য চালিয়ে উন্নতি সাধন করে। খলিফা হাকাম মুকাত্তাম পাহাড়ে একটি মানমন্দির নির্মাণ করেন। ফাতেমী খলিফাগণ মিশরে সংস্কৃতি ও সভ্যতা প্রতিষ্ঠায় অবিস্মরণীয় অবদান রাখেন। সভ্যতা ও সংস্কৃতি একটি নিরবচ্ছিন্ন নদী প্রবাহের মতো। মুসলমানগণ যে সভ্যতা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ করেন তা ইউরোপকে প্রদান করে সমৃদ্ধ করেছে।
উত্তর আফ্রিকায় ফাতেমি খিলাফত - অন্যান্য প্রশ্ন
সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ

