- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- বিশ্বসভ্যতা
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
মায়া সভ্যতা
আমেরিকার তিনটি সভ্যতা হচ্ছে যথাক্রমে মায়া, আজটেক ও ইনকা। গুয়েতেমালা ও মেক্সিকোর পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত সমৃদ্ধ জনপদ ছিল মায়া সভ্যতা। প্রাচীনলিপি থেকে জানা যায়, মায়া অঞ্চলের লোকেরা ভাবের আদান-প্রদান করার জন্যে একটি ভাষার ব্যবহার করত। তাদের এই ভাষার লিখিত রূপটি ছবি বা চিহ্ন ব্যবহার করায় অনেকটা হায়ারোগ্লিফিক ধাঁচের ছিল। প্রায় ৮০০টির বেশি ছবি ব্যবহার করে তারা এই লিপির প্রচলন ঘটিয়েছিল। মায়ানদের এই লেখা থেকে তাদের সভ্যতা সম্পর্কে জানা যায়। তারা গাছের বাকল দিয়ে তৈরি করা কাগজ থেকে বানাতো কোডেক্স নামের বই।
সভ্যতার অবদান
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, খ্রিষ্টপূর্ব প্রথম সহস্রাব্দে মায়া অঞ্চলের মানুষ কৃষিকাজ, মাটির পাত্র নির্মাণ প্রভৃতি আয়ত্ত করার মধ্য দিয়ে নব্য প্রস্তর সংস্কৃতির বিকাশ ঘটায়। তারপর সংস্কৃতির ধারাবাহিক উন্নয়নের মধ্য দিয়ে তারা সভ্যতায় পদার্পণ করেছিল। মায়া সভ্যতার ইতিহাসকে দুটো অংশে বিভক্ত করা হয়েছে-
ক. প্রথম স্তর (৩১৭-৯৮৭ খ্রি.)
খ. শেষ স্তর (৯৮৭-১৬৯৭ খ্রি.)।
বেলিজের কিউল্লোতে সম্প্রতি মায়া সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে। সেখানকার নমুনার রেডিও কার্বন পরীক্ষা করে কালমিতিক সময় পাওয়া গিয়েছে। সেই সময়কাল খ্রিষ্টপূর্ব প্রায় ২৬০০ বছর আগের। তখনই তারা বিস্ময়কর স্থাপত্য কাঠামো নির্মাণ করেছিল। পাশাপাশি মায়া সভ্যতায় ছিল গুরুত্বপূর্ণ বর্ষপঞ্জিকা।
কৃষি
ধারণা করা হয় প্রায় ২০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে মায়া অঞ্চলের মানুষ চাষাবাদ করা শুরু করেছিল। প্রথম দিকে তাদের কৃষিনির্ভর গ্রামে সংস্কৃতির উৎপত্তি ঘটেছিল। আনুমানিক ১৮০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে প্রথম মায়া জনবসতি প্রতিষ্ঠা পায় প্রশান্ত মহাসাগর তীরবর্তী সোকোনুস্কো অঞ্চলে। তারা মৃৎপাত্র তৈরি, কৃষিকাজ ও পোড়ানো কাদামাটির মূর্তি বানানোর মতো দক্ষতা অর্জন করেছিল।
অনেক গবেষক ধারণা করেছেন, বর্তমান গুয়াতেমালার অন্তর্গত পিতেন অঞ্চলের নিম্নভূমিতে ৩১৭ খ্রিষ্টাব্দের দিকে মায়া সভ্যতার প্রথম সূত্রপাত ঘটেছিল। গভীর বনভূমি পরিষ্কার করে স্থানীয়রা বসতি স্থাপন করেছিল। তারা কঠোর পরিশ্রম করে জমিকে কৃষিযোগ্য করে তুলেছিল। ফলাফল হিসেবে মায়া অঞ্চলের কৃষকরা শিম, ভুট্টা, টমাটো, লাউ, মিষ্টি আলু, কাসাভা প্রভৃতির চাষ করতে সক্ষম হয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। তারপর টিকল, কোপান, পালে প্রভৃতি শহরকে কেন্দ্র করে রহস্যময় মায়া সভ্যতার গোড়াপত্তন হয়েছিল। তখন গুয়াতেমালাতেই মায়া সভ্যতার কেন্দ্রগুলো অবস্থিত ছিল। অন্যদিকে পালে শহরটির অবস্থান ছিল মেক্সিকো অঞ্চলে।
মায়া সভ্যতার বেশির ভাগ তথ্য লেখা হয়েছিল সোনার পাতে। মূল্যবান ধাতু সোনার পাতে লেখা এই লিপিগুলো ইউরোপীয়রা তাদের আগ্রাসনের সময় লুট করে। তারা পাতগুলো গলিয়ে সোনা ইউরোপে নিয়ে গিয়েছিল। ফলে ঐ সময় মায়াদের ইতিহাসের অনেক গুরুত্বপূর্ণ দলিল ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।
বিশ্বসভ্যতা - অন্যান্য প্রশ্ন
সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ

