- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- বিশ্বসভ্যতা
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
ইনকা সভ্যতা
লাতিন আমেরিকার দেশ পেরুর সুউচ্চ সবুজ পাহাড় থেকে নেমে এসেছে উরুবামবা নদী। এই পাহাড়ি এলাকাতেই প্রাচীন ইনকাদের শহর। এখানেই ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২৪০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত লাতিন আমেরিকায় ইনকাদের হারানো শহর মাচুপিচু। ১৯১১ সালে মার্কিন ঐতিহাসিক হিরাম বিংহ্যাম এই সভ্যতার নিদর্শন আবিষ্কার করেন।
তিনি শুরুতে মাচুপিচুকে ভিলকা বাম্বা বলে মনে করেন। তবে অচিরেই বোঝা যায়, তার আবিষ্কৃত এলাকা মাচুপিচুই, এটা ভিলকা বাম্বা নয়। কারণ ফ্রান্সিসকো পিজারোর নেতৃত্বাধীন স্প্যানিশ ডাকাতদল লুণ্ঠনের পাশাপাশি পুরো ভিলকা বাম্বাকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে তারপর প্রতিষ্ঠা করেছিল নতুন শহর লিমা।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অনেক উপরে অবস্থিত ইনকা শহর মাচুপিচুর নির্মাণ শেষ হয় ১৪৫০ সালে। ধারণা করা হয় ইনকা সম্রাট পাচাকুটির নির্দেশে হয়েছিল এই নির্মাণ। তবে শত বছর না পেরোতেই পরিত্যক্ত হয়ে গিয়েছিল শহরটি। কেউ কেউ দাবি করেন- ইউরোপীয়দের আগ্রাসনের সময় মহামারির কবলে পড়েছিল মাচুপিচু। ভয়াবহ মহামারির ফলে বেশির ভাগ মানুষ মারা গেলে পরিত্যক্ত হয়ে গিয়েছিল ইনকা নগরী মাচুপিচু। অনেক ইতিহাসবিদ দাবি করেছেন, মহামারির কবলে পড়ে মাচুপিচু ধ্বংস হয়নি। স্প্যানিশ আগ্রাসনকারীরা সেই ইনকা শহর দখল করতে গিয়ে সেখানকার বেশির ভাগ অধিবাসীকে মেরে ফেলেছিল।
স্প্যানিয়ার্ড দস্যুনেতা ফ্রান্সিসকো পিজারো ১৫৩২ সালে ইনকা সাম্রাজ্য আক্রমণ করে। তখন ইনকা সম্রাট আটাহুয়ালপার রাজধানী ছিল কুজকো শহরে। বর্তমান পেরুতে এর অবস্থান। ইনকারা তাদের সাম্রাজ্য ততদিনে উত্তরে ইকুয়েডর থেকে দক্ষিণে চিলির মধ্যভাগ পর্যন্ত পুরো আন্দিজ পর্বতমালা জুড়ে বিস্তার ঘটাতে পেরেছে।
ইনকাদের রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করতে গেলে দেখা যায়- তারা আনুমানিক ১২০০ খ্রিষ্টাব্দে কুজকো উপত্যকায় বসতি স্থাপন করে। কাপাক প্রথম ইনকা সম্রাট হলেও নবম ইনকা সম্রাট পাচাকুটি ১৪৩৮ সালের দিকে ইনকা সাম্রাজ্যের বিস্তার শুরু করেন। তার সক্ষমতা আর যুদ্ধবাজ নীতি ইনকাদের উত্তর-দক্ষিণে ২,৭০০ মাইল পর্যন্ত বিস্তারের পথ করে দিয়েছিল। উল্লেখযোগ্য কয়েকজন ইনকা শাসক ছিলেন মানকো কাপাক, মায়তা কাপাক, ইয়াহুয়ার হুয়াকাক, পাচাকুটি ইনকা, টোপা ইনকা এবং হুয়ায়না কাপাক।
মানকো কাপাককে ইনকাদের প্রথম সম্রাট দাবি করা হলেও তাকে নিয়ে ঐতিহাসিকদের সন্দেহ রয়েছে। ধারাবাহিক শাসনের শেষদিকে আতাহুয়ালপার শাসনামলেই স্প্যানিয়ার্ড ডাকাতদল আক্রমণ করেছিল ইনকাদের শহর। তারা লুটপাট ও তছনছ করেছিল ইনকাদের সুসজ্জিত নগর ও সমৃদ্ধ সভ্যতা।
খাদ্য ও কৃষি
অধিবাসীরা গিনিপিগ ও লামার মাংসের পাশাপাশি সামুদ্রিক মাছ ধরতে পারলে সিদ্ধ করে কিংবা পুড়িয়ে খেত। পশ্চিমে প্রশান্ত সাগর আর সেই জগদ্বিখ্যাত টিটিকাকা হ্রদের মাছ ছিল তাদের খুব প্রিয়। পাশাপাশি, ভুট্টা পিষে চিচা নামের তিতকুটে একধরনের পানীয় তৈরি করত ইনকারা।
সিংহভাগ ক্ষেত্রে নিরামিষভোজী হওয়ায় গোল আলু ছিল ইনকাদের প্রধান খাদ্যশস্য। তারা ভুট্টা, নানা ধরনের শিম, মিষ্টি আলু, টমেটো, লাউ, কাঁচা মরিচ ইত্যাদির চাষ করতো। একমাত্র লাউ ছাড়া অন্য সব তরিতরকারি এবং খাদ্যশস্য ইউরোপ, আফ্রিকা বা এশিয়ায় প্রায় অপরিচিত। পাহাড়ীদের প্রধান খাবার ছিল আলু। মাঝারি উচ্চতার ভূমিতে বসবাসকারী মানুষদের প্রধান খাদ্যশস্য ছিল ভুট্টা।
তৎকালীন ইনকা তথা পেরুতে চার প্রজাতির উট জাতীয় প্রাণী ছিল। তাদের নাম যথাক্রমে লামা, আলপাকা, ভিকুনা এবং গুয়ানাকো। প্রথম দুটি প্রাণী আকারে বেশ বড় হলেও ভিকুনা আর গুয়ানোকো ছিল বেশ ছোট, অনেকটা ছাগলের মতো। তবে লামা কিংবা আলপাকাও উটের তুলনায় একেবারে ছোট।
তারা লামাকে গাধার মতো ভারবাহী পশু হিসেবে ব্যবহার করার পাশাপাশি আলপাকাকে পোষ মানাত লোমের জন্য। আলপাকার গাঢ় বাদামি বা কালো রঙের লোম দিয়ে তারা গরম কাপড় তৈরি করত। লামা ও আলপাকার পাশাপাশি কুকুর, গিনিপিগ এবং হাঁস পুষতো তারা।
ইনকারা গিনিপিগের মাংস খেত। পাহাড়ি পথে চলাচলের ক্ষেত্রে পায়ের সুরক্ষায় জুতা ও স্যান্ডেল পরত। ইনকা নারীরা লম্বা একখণ্ড কাপড় দিয়ে তৈরি বিশেষ পোশাক পরতেন। কাপড়টি কাঁধ থেকে পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত পুরো শরীরকে ঢেকে রাখতো।
ধর্ম ও অন্যান্য বিষয়
নারীরা লম্বা চুল রেখে মাথার মাঝখানে সিঁথি করত। পুরুষরা চুল কাটতো সামনের দিকে ছোট করে। তবে পেছনের দিকে বেশ লম্বা ছিল। সব শ্রেণির ইনকা নারী গলায় হার পরার পাশাপাশি শুধু অভিজাত ইনকা পুরুষরা কানে বিশেষ গয়না পরত।
ধারণা করা হয়, ইনকাদের রাজ্যে সব শহরে সূর্যদেবের মন্দির ছিল। মন্দিরের ভেতরে পূজা না হয়ে হতো বাইরের চত্বরে। পুরোহিতরাই মন্দিরে প্রবেশ করে সেখান থেকে পূজার উপকরণ নিয়ে এসে খোলা চত্বরে পূজা অনুষ্ঠান করতো।
ইনকা রাজ্যের সবচেয়ে বড় সূর্যমন্দির ছিল কুজকো শহরে। সব মন্দিরেই অনেকগুলো দালান থাকতো পুরোহিত ও মন্দিরের কর্মচারীদের থাকার জন্য। মন্দির সংলগ্ন আলাদা বাড়িতে সন্ন্যাসিনী বা পবিত্র নারীরা বাস করতেন। সূর্য কুমারী বা মানাকুনা নামের চিরকুমারী সন্ন্যাসিনী এবং নির্বাচিত নারী তথা আকলাকুনারাই এখানে থাকতেন।
বিশ্বসভ্যতা - অন্যান্য প্রশ্ন
সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ

