- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- বিশ্বসভ্যতা
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
আজটেক সভ্যতা
স্প্যানিশ আক্রমণকারীরা ১৫১৯ সালের দিকে মধ্য মেক্সিকোতে আজটেক সভ্যতার এক সমৃদ্ধ নগরের সন্ধান পায়। তারা সমৃদ্ধ এই নগর থেকে বিভিন্ন সম্পদ লুটপাট করে। তাদের আক্রমণের অনেক আগে মেক্সিকো অঞ্চলের জনশ্রুতি ও কিংবদন্তি থেকে আজটেক জাতির নাম শোনা যায়। তারা প্রথম বসতি গড়েছিল আজলটান অঞ্চলে। জায়গাটি ছিল মেক্সিকোর উত্তরে কিংবা উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কোথাও। সভ্যতা বিকাশের গোড়ার দিকে আজটেকরা ছিল যাযাবর। তাদের জনসংখ্যা তেমন একটা বেশি ছিল না।
খ্রিষ্টীয় নবম শতকে গুয়েতেমালার পাশাপাশি ইউকাতান অঞ্চলে যখন মায়া সভ্যতার পূর্ণ বিকাশ ঘটেছিলো, তখন মধ্য-মেক্সিকো অঞ্চলের তেইদিহুয়াকান শহরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে আরেক সমৃদ্ধ সভ্যতা। সাম্প্রতিক সময়ের 'মেক্সিকো সিটি' ঠিক যেখানে তার থেকে মাইল পঁচিশেক উত্তর-পশ্চিমে এই তেইদিহুয়াকান নগরটির অবস্থান। অন্যদিকে মধ্য-মেক্সিকোতে টোলটেক জাতি বিকাশ ঘটিয়েছিল এন নতুন সভ্যতার। তারা সেখানে তৈরি করে বড় বড় শহর। তাদের রাজধানী ছিল টোলান নগরী যা বর্তমানে টুলা নামে পরিচিত।
মেক্সিকো সিটি নগরী থেকে ষাট মাইল উত্তর-পশ্চিম দিকে টোলান নগরীটির অবস্থান যেখানে নির্মাণ করা হয় বড় দালান-কোঠা, মন্দির ও পিরামিড। তারা মায়াদের অনুকরণে লেখার কৌশল আয়ত্ত করেছিল এবং পঞ্জিকাও তৈরি করতে পারতো।
নগর
বাণিজ্যের প্রসার ঘটায় আজটেকরা গড়ে তোলে সমৃদ্ধ নগর ও স্থাপত্য। ১০০০ সালের দিকে নহুয়া ভাষায় কথা বলা কয়েকটি জাতির আক্রমণে তাদের সভ্যতা ধ্বংস হয়েছিল। ওখানকার কুলহুয়া জাতির শহর কুলহুয়াকান গড়ে ওঠে টেক্সকোকো হ্রদের দক্ষিণ তীরে। তখন এই হ্রদের পূর্ব তীরে টেক্সকোকো নামে আরেকটি সমৃদ্ধ নগর গড়ে উঠেছিল। তারাও নহুয়া ভাষায় কথা বলত।
কুলহুয়া জাতির মানুষ মধ্য মেক্সিকো অঞ্চলে আজটেক সভ্যতা গড়ে তুলেছিল বলে অনেকের ধারণা। শুরুতে ১০০০ সালের অল্পসময় পরেই ধীরে কুলহুয়া, টেক্সকোকো, টেপানেকসহ অন্যান্য স্থানীয় আদিবাসী গোষ্ঠী মধ্য মেক্সিকো উপত্যকায় মূলত অভিন্ন ধাঁচের সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটিয়েছিল। তাদের গড়ে তোলা এই সমৃদ্ধ সংস্কৃতির পরে নাম দেয়া হয়েছে আজটেক সভ্যতা।
তেরো শতকে টেনোচকা নামে আরেকটি নহুয়া ভাষায় কথা বলা জাতিগোষ্ঠী এসে বসতি স্থাপন করেছিল আজটেকদের এলাকায়। তারাও টেক্সকোকো হ্রদের মাঝখানে একটা দ্বীপে বাস করত। ১৩২৫ সালে তারা তেনোচ্ছেৎলান নামে একটা শহরের পত্তন করে। পরে এই টেনোচকাদেরকে আজটেক নামে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। ওদের রাজধানী ছিলো তেনোচ্ছেৎলান। আর ঠিক তার ধ্বংসাবশেষের উপরে গড়ে উঠেছে বর্তমান মেক্সিকোর রাজধানী শহর 'মেক্সিকো সিটি'। আর সেদিক থেকে ধরতে গেলে টেনোচকাদের থেকে আজটেক জাতিগোষ্ঠীর বিকাশ। আর একইভাবে তেনোচ্ছেৎলানের ধ্বংসস্তূপের উপর দাঁড়িয়ে আছে 'মেক্সিকো সিটি'।
উপনিবেশ বিস্তারের সময়ে ১৫১৯ সালের দিকে স্প্যানিশরা মেক্সিকোতে আক্রমণ চালায়। তারপর তারা খেয়াল করেছিল সমগ্র মধ্য মেক্সিকো অঞ্চলের উপর টেনোচকাদের একচ্ছত্র আধিপত্য। তারা মূলত এই টেনোচকা রাজাদের থেকেই সবথেকে বড় প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়। তাদের লেখা ইতিহাসে টেনোচকা রাজারা পরিচিতি পেয়েছে আজটেক নামে। বর্তমান সময়েও আজটেক বলতে গেলে টেনোচকা রাজাদের কথাই বলা হয়। আকামাপিচটলি থেকে শুরু করে সেখানে প্রায় ১১ জন রাজা শাসন করেছিলেন।
অবদান: নানাবিধ যুদ্ধবিগ্রহে বেশির ভাগ সময় পার করলেও বিশ্ব সভ্যতায় আজটেকদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তারা বিশেষ ধরণের ক্যালেন্ডার তৈরি করেছিল। সুদৃশ্য ভাসমান বাগান তৈরির কৃতিত্বও তাদের। তারা প্রশস্ত রাস্তা তৈরির মাধ্যমে নিজেদের শহরগুলোকে সংযুক্ত করেছিল। আজটেকদের ওল্লামাকে (Ollama) বর্তমান বিশ্বের জনপ্রিয়তম খেলা ফুটবল তথা সকারের আদিরূপ হিসেবে মনে করা হয়।
বিশ্বসভ্যতা - অন্যান্য প্রশ্ন
সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ

