- হোম
- চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি
পোস্টমাস্টার জেনারেল এর কার্যালয়, রাজশাহী এর পোস্টম্যান পদের প্রশ্ন সমাধান ২৭.০৩.২০২৬
- পিএসসি ও অন্যান্য ২০২৬
- বাংলা
মুনীর চৌধুরীর 'রক্তাক্ত প্রান্তর' কোন শ্রেণির রচনা?
মুনীর চৌধুরীর অমর সৃষ্টি 'রক্তাক্ত প্রান্তর' একটি সার্থক ঐতিহাসিক নাটক। সাহিত্যের আঙিনায় যখন আমরা কোনো বাস্তব ঐতিহাসিক ঘটনাকে নাট্যরূপের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলতে দেখি, তখন তাকে ঐতিহাসিক নাটক বলা হয়। এই নাটকের পটভূমি রচিত হয়েছে ১৭৬১ সালের পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধকে কেন্দ্র করে। ইতিহাস পাঠ করলে আমরা জানতে পারি যে, পানিপথের এই ভয়াবহ যুদ্ধে মারাঠা এবং আফগান শক্তির মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছিল। নাট্যকার মুনীর চৌধুরী ইতিহাসের সেই শুষ্ক তথ্যগুলোকে কেবল সংকলন করেননি, বরং তাতে প্রাণের সঞ্চার করেছেন মানবিক আবেগ এবং দ্বন্দ্বের সংমিশ্রণে।
একজন মেন্টর হিসেবে যদি নাটকটির গভীরে প্রবেশ করি, তবে দেখা যাবে এর প্রধান চরিত্রগুলো যেমন ইব্রাহিম কার্দি কিংবা জোহরা, তারা ইতিহাসের পাতায় যতটা না জীবন্ত, তার চেয়ে বেশি জীবন্ত নাট্যকারের লেখনীতে। নাটকের নামকরণ থেকেই বোঝা যায় যে এটি যুদ্ধের ধ্বংসলীলা এবং মানবাত্মার হাহাকারকে চিত্রিত করেছে। ঐতিহাসিক নাটকের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো ইতিহাসের মূল কাঠামো ঠিক রেখে তাতে কল্পনার রঙ মেশানো। এখানেও পানিপথের যুদ্ধের রণধ্বনি এবং যুদ্ধের পরিণামকে ইতিহাসের নিখুঁত চাদরে মোড়ানো হয়েছে।
অন্যদিকে নাটকটি কেন রূপক বা রম্য নয়, সেটিও বোঝা জরুরি। রূপক নাটকে রূপকের আড়ালে বিশেষ কোনো সত্যকে প্রকাশ করা হয় এবং রম্য নাটকের মূল লক্ষ্য থাকে হাস্যরস। কিন্তু এখানে কোনো হাসির উপাদান নেই বরং আছে এক বিষাদময় গম্ভীর পরিবেশ। সামাজিক নাটকের বিষয়বস্তু সাধারণত সমসাময়িক সমাজ বা পারিবারিক সমস্যা হয়ে থাকে, কিন্তু এখানে দেশপ্রেম এবং যুদ্ধের ময়দানই মূখ্য। তাই বিষয়বস্তু, চরিত্র এবং আবহের বিচারে 'রক্তাক্ত প্রান্তর' নিরেট এক ঐতিহাসিক দলিল যা বাংলা নাট্যসাহিত্যে এক অনন্য সংযোজন হিসেবে স্বীকৃত।
সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ

