- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- ইংরেজ শাসন আমলে বাংলার স্বাধিকার আন্দোলন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
অখণ্ড বাংলা প্রস্তাব নিয়ে কংগ্রেস-মুসলিম লীগ উভয় দলের নেতাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। প্রথম দিকে মুসলিম লীগের রক্ষণশীল নেতারা বৃহত্তর স্বাধীন বাংলা রাষ্ট্রের পক্ষে ছিলেন। প্রাথমিক পর্যায়ে মহাত্মা গান্ধী ও মোহাম্মদ আলী জিন্নাহরও এই প্রস্তাবের প্রতি মৌন সমর্থন ছিল। কিন্তু প্রস্তাবটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে কংগ্রেসের কট্টোরপন্থি হিন্দু নেতাদের তীব্র বিরোধিতার কারণে বিষয়টি জটিল হয়ে যায়। ফলে মুসলিমলীগের রক্ষণশীল নেতারা প্রথম দিকে এর সমর্থক হলেও পরে তারা অখণ্ড বাংলাকে পাকিস্তানের অংশ করার দাবি জানাতে থাকেন। ফলে বসু-সোহরাওয়ার্দী প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত ভেস্তে যায়।
প্রকৃতপক্ষে বৃহত্তর স্বাধীন বাংলা রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব অর্থাৎ বসু-সোহরাওয়ার্দী প্রস্তাব প্রথম থেকেই কংগ্রেসের উঁচু পর্যায়ের নেতাদের তীব্র বিরোধিতার মুখোমুখি হয়। কংগ্রেস নেতা জওহরলাল নেহরু ও সরদার বল্লভ ভাই প্যাটেলসহ বহু নেতা এর বিরোধী ছিলেন। তাঁরা কোনোমতেই স্বাধীন ভারতবর্ষে কোলকাতাকে হাতছাড়া করার পক্ষপাতী ছিলেন না। তাছাড়া পেট্রোল ও অন্যান্য খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ আসামও তাঁদের প্রয়োজন ছিল। অপরদিকে কংগ্রেস মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ অখণ্ড বাংলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কিত ছিলেন।
হিন্দু মহাসভার শ্যামাপ্রসাদ যুক্ত বাংলার চরম বিরোধী ছিলেন। ফলে যুক্ত বাংলা প্রস্তাব কংগ্রেসেরও সমর্থন হারায়। এ রকম পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব স্বাধীন বাংলা পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করে। অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে কংগ্রেসের কার্যকরী কমিটিও সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে বাংলা ভাগের পক্ষে প্রস্তাব গ্রহণ করে। অপরদিকে জুন মাসের ৩ তারিখে লর্ড মাউন্টব্যাটেন ভারত বিভক্তির ঘোষণায় বাংলা ও পাঞ্জাব ভাগের পরিকল্পনা করেন। জুন মাসের ২০ তারিখে বিধান সভার সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য বাংলা ভাগের পক্ষে রায় দিলে বাংলা বিভাগ অনিবার্য হয়ে পড়ে। ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনে পাঞ্জাব ও বাংলা ভাগের কথা বলা হয়। ১৯৪৭-এর আইন অনুসারে ভারত ভাগ হয়। ১৪ই আগস্ট জন্ম হয় পাকিস্তান নামের মুসলিম রাষ্ট্রের। আর ১৫ই আগস্ট জন্ম হয় আরেকটি রাষ্ট্রের, যার নাম হয় ভারত। পূর্ব বাংলা পাকিস্তানের অংশে পরিণত হয়- পরবর্তীকালে যা পূর্ব পাকিস্তান নামে পরিচিতি লাভ করে।
অপরদিকে, পশ্চিম বাংলা যুক্ত হয় ভারতের সঙ্গে। এভাবেই হাজার বছরের ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতায় পথচলা এক বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠীর আঞ্চলিক বাংলা সংযুক্তি ও বিযুক্তির রাজনীতির কবলে পড়ে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রস্তাবিত অখণ্ড স্বাধীন বাংলা রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্নও ব্যর্থ হয়ে যায়।
একক কাজ: অখণ্ড বাংলার বিরোধীদের বিরোধিতার কারণ অনুসন্ধান করো।
সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ
মাস্টারদা সূর্যসেনের নেতৃত্বে গঠিত বিপ্লবী সংগঠনের কর্মকান্ডের মধ্যে ছিল- i. চট্টগ্রাম বিপ্লবী বাহিনী গঠন ii. স্বাধীন চিটাগাং সরকার-এর ঘোষণা iii. চিটাগাং রিপাবলিকান আর্মি গঠন। নিচের কোনটি সঠিক?
উদ্দীপকে ঐতিহাসিক কোন ঘটনাকে নির্দেশ করা হয়েছে?
কোন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি' সংগীতটি রচনা করেন?
পলাশীর যুদ্ধের কত বছর পরে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু হয়?
সিপাহি বিদ্রোহের তাৎক্ষণিক ফলাফল ছিল- i. কোম্পানি শাসনের অবসান ii. মুঘল শাসনের অবসান iii. ইংল্যান্ডের রানীর ক্ষমতা গ্রহণ। নিচের কোনটি সঠিক?
লর্ড ডালহৌসি স্বত্ববিলোপ নীতি প্রয়োগ করে নিচের যে রাজ্য ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত করেন- i. সাতারা ii. ঝাঁসি iii. নাগপুর। নিচের কোনটি সঠিক?
বঙ্গভঙ্গের সৃষ্ট নতুন প্রদেশের জনসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ ছিল কারা?
বঙ্গভঙ্গের ফলে নিচের কোনটি ঘটেছিল?
শ্রমিক নেতা কিরণ কোন ব্যক্তির নীতি দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন?
কোন নীতি অনুযায়ী দত্তক পুত্র সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হতে পারত না?
কীভাবে দত্তক পুত্র নানা সাহেবের ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়?
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ক্ষমতায় এসে সর্বপ্রথম কোন কাজটি করেন?
ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম কীভাবে শেষ হয়েছিল?
সিপাহি বিদ্রোহের অন্যতম রাজনৈতিক কারণ কোনটি?
সিপাহি বিদ্রোহের অন্যতম রাজনৈতিক কারণ কোনটি?


