- হোম
- একাডেমি
- মাদরাসা
- নবম-দশম শ্রেণি
- হযরত মুহাম্মদ (স.) এর মদিনা জীবন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
বদর যুদ্ধের ঘটনা
এমতাবস্থায় মহানবি (স.) ঐশীবাণী লাভ করে অনুপ্রাণিত হলেন। ওহি নাযিল হয় "আল্লাহর পথে তাদের সঙ্গে যুদ্ধ কর যারা তোমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করে"। সাথে সাথে মহানবি (স.) নেতৃস্থানীয় সাহাবাদের পরামর্শে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় আনসার এবং মুহাজির নিয়ে গঠিত মাত্র ৩১৩ জনের একটি মুসলিম বাহিনী কুরাইশ বাহিনীর মোকাবিলা করার জন্য বদর অভিমুখে রওনা হয়।
মদিনা থেকে ৮০ মাইল দক্ষিণ পশ্চিমে বদর উপত্যকায় ৬২৪ খ্রিস্টাব্দে ১৩ মার্চ (১৭ই রমযান, জুমুআবার দ্বিতীয় হিজরি) মুসলিম বাহিনীর সঙ্গে কুরাইশদের সংঘর্ষ হয়। হযরত মুহাম্মদ (স.) স্বয়ং যুদ্ধ পরিচালনা করেন। আল-ওয়াকিদী বলেন-হযরত মুহাম্মদ (স.) মুসলিম সৈন্য সমাবেশের জন্য এমন একটি স্থান বেছে নেন যেখানে সূর্যোদয়ের পরে যুদ্ধ শুরু হলে কোন মুসলমান সৈন্যের চোখে সূর্য কিরণ পড়বে না।
প্রথমে প্রাচীন আরব রেওয়াজ অনুসারে মল্লযুদ্ধ হয়। মহানবির নিদের্শে হযরত আমির হামজা (রা), হযরত আলী (রা) ও হযরত আবু ওবায়দা (রা.) কুরাইশ পক্ষের নেতা উতবা, শায়বা এবং ওয়ালিদ বিন উতবার সঙ্গে মল্লযুদ্ধে অবতীর্ণ হন। এতে শত্রুপক্ষীয় নেতৃবৃন্দ শোচনীয়ভাবে পরাজিত ও নিহত হয়। উপায়ন্তর না দেখে আবু জাহলের নেতৃত্বে কুরাইশগণ মুসলমানদের উপর ঝাপিয়ে পড়ে। তারা মুসলমানদের উপর প্রচন্ডভাবে আক্রমণ চালাতে লাগল, কিন্তু প্রতিকূল অবস্থায় সংঘবদ্ধ ও সুশৃঙ্খল মুসলিম বাহিনীর মোকাবিলা করা কুরাইশদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। অসামান্য রণ-নৈপূণ্য, অপূর্ব বিক্রম ও অপরিসীম নিয়মানুবর্তিতার সঙ্গে যুদ্ধ করে মুসলমানগণ কুরাইশগণকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেন।
বদর যুদ্ধে মহান আল্লাহ হাজার হাজার ফেরেশতা পাঠিয়ে মুসলিম বাহিনীকে সাহায্য করেন। এ যুদ্ধে ৭০ জন কুরাইশ সৈন্য নিহত হয় ও সমসংখ্যক সৈন্য বন্দি হয়। অপরদিকে মাত্র ১৪ জন মুসলিম সৈন্য শাহাদাত বরণ করেন। আবু জাহল এ যুদ্ধে নিহত হয়। হযরত মুহাম্মদ (স.) যুদ্ধবন্দীদের প্রতি যে উদার ও মধুর ব্যবহার করেন তা তাঁর মহানুভবতার পরিচয় বহন করে। মুক্তিপণ গ্রহণ করে কুরাইশ বন্দীদেরকে মুক্তি প্রদান করা হয়। মাত্র ৪০০০ দিরহাম মুক্তিপণ নির্ধারিত হয়। যারা মুক্তিপণ দিতে অক্ষম তারা মুসলমানদের বিরোধিতা না করার প্রতিশ্রুতি প্রদান করে ও মুসলমান বালককে শিক্ষাদান করে মুক্তি লাভ করে।
মদিনার অধিবাসী ও সনদমদিনার সনদ ও ইসলামি রাষ্ট্র গঠনসনদের গুরুত্ববদরের যুদ্ধ (মার্চ, ৬২৪ খ্রিস্টাব্দ)বদর যুদ্ধের ঘটনাবদর যুদ্ধের গুরুত্বউহুদের যুদ্ধ (৬২৫ খ্রিস্টাব্দ) যুদ্ধের কারণমুসলমানদের সাময়িক বিপর্যয়ের কারণযুদ্ধের ফলাফলখন্দকের যুদ্ধের কারণ (৬২৭ খ্রিস্টাব্দ) খন্দক যুদ্ধের ফলাফলইহুদিদের সাথে হযরত মুহাম্মদ (স.) এর সম্পর্কইহুদি গোত্রসমূহখ্রিষ্টানদের সঙ্গে সম্পর্কহুদায়বিয়ার সন্ধি (৬২৮ খ্রিষ্টাব্দ)
সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ

