• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন (গদ্য)
উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন (গদ্য)

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন (কাজী নজরুল ইসলাম)

'হে মোর দুর্ভাগা দেশ! যাদের করেছ অপমান
অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান।'

- রবীন্দ্রনাথ

আজ আমাদের এই নতুন করিয়া মহাজাগরণের দিনে আমাদের সেই শক্তিকে ভুলিলে চলিবে না- যাহাদের উপর আমাদের দশ আনা শক্তি নির্ভর করিতেছে, অথচ আমরা তাহাদিগকে উপেক্ষা করিয়া আসিতেছি। সে হইতেছে, আমাদের দেশের তথাকথিত 'ছোটোলোক' সম্প্রদায়। আমাদের আভিজাত্য-গর্বিত সম্প্রদায়ই এই হতভাগাদের এইরূপ নামকরণ করিয়াছেন। কিন্তু কোনো যন্ত্র দিয়া এই দুই শ্রেণির লোকের অন্তর যদি দেখিতে পারো, তাহা হইলে দেখিবে, ঐ তথাকথিত 'ছোটোলোক'-এর অন্তর কাচের ন্যায় স্বচ্ছ, এই 'ছোটোলোক' এমন স্বচ্ছ অন্তর, এমন সরল মুক্ত উদার প্রাণ লইয়াও যে কোনো কার্য করিতে পারিতেছে না, তাহার কারণ এই ভদ্র সম্প্রদায়ের অত্যাচার। সে বেচারা জন্ম হইতে এই ঘৃণা, উপেক্ষা পাইয়া নিজেকে এত ছোটো মনে করে, সঙ্কোচ জড়তা তাহার স্বভাবের সঙ্গে এমন ওতপ্রোতভাবে জড়াইয়া যায় যে, সেও-যে আমাদেরই মতো মানুষ- সেও যে সেই এক আল্লাহ্-এর সৃষ্টি, তাহারও যে মানুষ হইবার সমান অধিকার আছে, তাহা সে একেবারে ভুলিয়া যায়। যদি কেউ এই উৎপীড়নের বিরুদ্ধে বিদ্রোহাচরণ করে, অমনি আমাদের ভদ্র সম্প্রদায় তাহার মাথায় প্রচণ্ড আঘাত করিয়া তাহাকে অজ্ঞান করিয়া ফেলে। এই হতভাগাদিগকে- আমাদের এই সত্যিকার মানুষদিগকে আমরা এই রকম অবহেলা করিয়া চলিয়াছি বলিয়াই আজ আমাদের এত অধঃপতন।

তাই আমাদের দেশে জনশক্তি বা গণতন্ত্র গঠিত হইতে পারিতেছে না। হইবে কীরূপে? দেশের অধিবাসী লইয়াই তো দেশ এবং ব্যক্তির সমষ্টিই তো জাতি। আর সে-দেশকে, সে-জাতিকে যদি দেশের, জাতির সকলে বুঝিতে না পারে, তবে তাহার উন্নতির আশা করা আর আকাশে অট্টালিকা নির্মাণের চেষ্টা করা একই কথা। তোমরা ভদ্রসম্প্রদায়, মানি, দেশের দুর্দশা জাতির দুর্গতি বুঝো, লোককে বুঝাইতে পারো এবং ঐ দুর্ভাগ্যের কথা কহিয়া কাঁদাইতে পার, কিন্তু কার্যক্ষেত্রে নামিয়া কার্য করিবার শক্তি তোমাদের আছে কি? না, নাই। এ-কথা যে নিরেট সত্য, তাহা তোমরাই বুঝো। কাজেই তোমাদের এই দেশকে, জাতিকে উন্নত করিবার আশা ঐ কথাতেই শেষ হইয়া যায়। কিন্তু যদি একবার আমাদের এই জনশক্তিকে উদ্বুদ্ধ করিতে পারো, তাহাদিগকে মানুষ বলিয়া ভাই বলিয়া কোল দিবার তোমার উদারতা থাকে, তাহাদিগের শক্তির উন্মেষ করিতে পারো, তাহা হইলে দেখিবে তুমি শত বৎসর ধরিয়া প্রাণপণে চেষ্টা সত্ত্বেও যে-কাজ করিতে পারিতেছ না, একদিনে সেই কাজ সম্পন্ন হইবে। একথা হয়তো তোমার বিশ্বাস হইবে না, একবার মহাত্মা গান্ধীর কথা ভাবিয়া দেখো দেখি! তিনি ভারতে কি অসাধ্য সাধন করিতে পারিয়াছেন!

তিনি যদি এমনি করিয়া প্রাণ খুলিয়া ইহাদের সহিত না মিশিতেন, ইহাদের সুখ-দুঃখের এমন করিয়া ভাগী না হইতেন, ইহাদিগকে যদি নিজের বুকের রক্ত দিয়া, তাহারা খাইতে পাইল না বলিয়া নিজেও তাহাদের সঙ্গে উপবাস করিয়া ইহাদিগকে নিতান্ত আপনার করিয়া না তুলিতেন, তাহা হইলে আজ তাঁহাকে কে মানিত? কে তাঁহার কথায় কর্ণপাত করিত? কে তাঁহার একটি ইঙ্গিতে এমন করিয়া বুক বাড়াইয়া মরিতে পারিত? তাঁহার আভিজাত্য-গৌরব নাই, পদ-গৌরবের অহঙ্কার নাই, অনায়াসে প্রাণের মুক্ত উদারতা লইয়া তোমাদের ঘৃণ্য এই 'ছোটলোক'কে বক্ষে ধরিয়া ভাই বলিয়া ডাকিয়াছেন,-সে-আহ্বানে জাতিভেদ নাই, ধর্মভেদ নাই, সমাজ-ভেদ নাই, সে যে ডাকার মতো ডাকা,-তাই নিখিল ভারতবাসী, এই উপেক্ষিত হতভাগারা তাঁহার দিকে এত হা হা করিয়া ব্যগ্র বাহু মেলিয়া ছুটিয়াছে। হায়, তাহাদের যে আর কেহ কখনো এমন করিয়া এত বুকভরা স্নেহ দিয়া আহ্বান করেন নাই! এ মহা-আহ্বানে কি তাহারা সাড়া না দিয়া পারে? যদি পারো, এমনি করিয়া ডাকো, এমনি করিয়া এই উপেক্ষিত শক্তির বোধন করো- দেখিবে ইহারাই দেশে যুগান্তর আনিবে, অসাধ্য সাধন করিবে। ইহাদিগকে উপেক্ষা করিবার, মানুষকে মানুষ হইয়া ঘৃণা করিবার, তোমার কি অধিকার আছে? ইহা তো আত্মার ধর্ম নয়। তাহার আত্মা তোমার আত্মার মতোই ভাস্বর, আর একই মহা-আত্মার অংশ। তোমার জন্মগত অধিকারটাই কি এত বড়? তুমি যদি এই চণ্ডাল বংশে জন্মগ্রহণ করিতে, তাহা হইলে তোমার মতো ভদ্রলোকদের দেওয়া এই সব হতাদর উপেক্ষার আঘাত, বেদনার নির্মমতা একবার কল্পনা করিয়া দেখো দেখি, ভাবিতে তোমার আত্মা কি শিহরিয়া উঠিবে না?

আমাদের এই পতিত, চণ্ডাল, ছোটোলোক ভাইদের বুকে করিয়া তাহাদিগকে আপন করিয়া লইতে, তাহাদেরই মতো দীন বসন পরিয়া, তাহাদের প্রাণে তোমারও প্রাণ সংযোগ করিয়া উচ্চশিরে তার সম্মুখে আসিয়া দাঁড়াও, দেখিবে বিশ্ব তোমাকে নমস্কার করিবে। এস, আমাদের উপেক্ষিত ভাইদের হাত ধরিয়া আজ বোধন-বাঁশিতে সুর দিই-

'কীসের দুঃখ, কিসের দৈন্য,
কীসের লজ্জা, কীসের ক্লেশ!'

উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন (গদ্য) - অন্যান্য প্রশ্ন

কাজী নজরুল ইসলাম (লেখক-পরিচিতি)উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন (কাজী নজরুল ইসলাম)উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন (শব্দার্থ ও টীকা)উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন (পাঠ-পরিচিতি)উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন (কর্ম-অনুশীলন)উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন (বহুনির্বাচনি প্রশ্ন)উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন (সৃজনশীল প্রশ্ন)আমাদের দেশে জনশক্তি বা গণতন্ত্র গঠিত না হওয়ার কারণ কী?কবি কাজী নজরুল ইসলামের মতে কারা দেশে যুগান্তর আনবে?কোনো দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অন্তরায় কোনটি?মানুষকে মানুষ হইয়া ঘৃণা করা কীসের ধর্ম নয়?ব্যক্তির সমষ্টি নিয়ে গঠিত হয়-'চণ্ডাল' শব্দের অর্থ কী?'মসীময়' শব্দের অর্থ কী?মহাত্মা গান্ধীর আহ্বানে কী নেই?উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন দেশে কী আনবে?দরিদ্ররা খেতে না পেলে কে তাদের সঙ্গে উপবাস করতেন?কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম কোন জেলায়?কবি কাজী নজরুল ইসলামের উপাধি হচ্ছে-'গরিবদের' ছোটলোক বলে নামকরণ করেছেন-কাজী নজরুল ইসলাম কাদের হাত ধরতে আহ্বান করেছেন?'উপেক্ষিতবোধ জাগিয়ে তোলার বাঁশি'কে এক কথায় কী বলা হয়?'সিন্ধু-হিন্দোল' কাজী নজরুল ইসলামের কী ধরনের গ্রন্থ?কাজী নজরুল ইসলাম কত সালে সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন?যে বাঁশির সুরে জাতীয় চেতনার উদ্বোধন ঘটে তাকে কী বলে?'উপেক্ষিত শক্তির উদবোধন' প্রবন্ধটি কোন পটভূমিতে লেখা?উপেক্ষিত জনগোষ্ঠীকে উপেক্ষা করার কারণ কী?উপেক্ষিত শক্তির বোধন করতে পারলে কী ঘটবে?

সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ

প্রবন্ধটির বিষয় অনুসারে উদ্দীপকের স্বরূপ-

বাঙালির জাগরণ
কঠোর পরিশ্রম
একতা
দেশপ্রেম

দরিদ্ররা খেতে না পেলে কে তাদের সাথে উপবাস করতেন?

কাজী নজরুল ইসলাম
মহাত্মা গান্ধী
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
রাজা রামমোহন রায়

একটি মর্যাদাবান রাষ্ট্র গঠনের ক্ষেত্রে প্রয়োজন-

ধর্মীয় ও জাতিগত বিভেদ
উঁচু-নিচুর মধ্যে বৈষম্য
শ্রেণিবৈষম্যহীন সমাজ
চিন্তার মাত্রা বৃদ্ধি

'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধের কোন বক্তব্যের প্রতিধ্বনি আছে উদ্দীপকে?

ছোটলোকেরা আমাদেরই মতো একই আল্লাহর সৃষ্টি
ছোটলোকদেরও সমান অধিকার তাহা সে ভুলিয়া যায়
তাহার আত্মা তোমার আত্মার মতোই ভাস্বর
মানুষকে মানুষ হইয়া ঘৃণা করিবার তোমার কী অধিকার

আজ আমাদের এত অধঃপতনের কারণ কী?

মেহনতি মানুষদের প্রতি অবহেলা
গণজাগরণের অভাব
স্বপ্নরাজ্যে বিচরণ
ব্যক্তিকে প্রাধান্য দেওয়া

'সিন্ধু-হিন্দোল' কাজী নজরুল ইসলামের কী ধরনের রচনা?

উপন্যাস
প্রবন্ধগ্রন্থ
কাব্যগ্রন্থ
নাটক

উপেক্ষিত শক্তি কীভাবে দেশে যুগান্তর আনবে?

শ্রম বৃদ্ধি করে
কর্মতৎপরতা বাড়িয়ে
উদারতা দেখিয়ে
জাতীয় উন্নয়নে অংশ নিয়ে

তাহা হইলে আজ তাঁহাকে কে মানিত? তাঁকে মানার কারণ কী?

আভিজাত্য গৌরব না থাকায়
মানুষের প্রতি সমবেদনা
সাংগঠনিক তৎপরতা
অসাম্প্রদায়িক চেতনা

শত বৎসর ধরে প্রাণপণে চেষ্টা সত্ত্বেও আমাদের জনশক্তিকে উদ্‌বুদ্ধ করতে ব্যর্থ হওয়ার কারণ কী?

অভিজাত শ্রেণির কথা না শোনা
ছোটলোকদের প্রতি অনুদার মনোভাব
ধর্মীয় গোঁড়ামি ও অশিক্ষা
ভাগ্যের নির্মম পরিহাস

'উপেক্ষিত শক্তির উদবোধন' প্রবন্ধে কী প্রকাশ পেয়েছে?

সাম্যবাদী মানসিকতা
ছোটলোক সম্প্রদায়ের যাপিত জীবন
অভিজাত গর্বিত সম্প্রদায়ের অহংবোধ
পরাধীনতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া

কোনো দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অন্তরায় কোনটি?

সাধারণ মানুষ
শ্রেণিবৈষম্য
অভিজাত সম্প্রদায়
ছোটলোক সম্প্রদায়

কোনটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস?

চক্রবাক
ছায়ানট
প্রলয়শিখা
কুহেলিকা

আমাদের দেশে জনশক্তি বা গণতন্ত্র গঠিত না হওয়ার কারণ কী?

বর্ণবৈষম্য
আভিজাত্যের অহংকার
শ্রমজীবীদের উপেক্ষা
জাগরণের অভাব