- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও গণআন্দোলন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
বাংলাদেশ নামের ইতিহাস
আমরা জানি, আমাদের দেশের নাম বাংলাদেশ। তবে সংবিধান অনুযায়ী নাম হলো গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ। এই নামেরও একটা ইতিহাস আছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, দেশের নামের সঙ্গে ভূখণ্ডের সীমানার সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর নানা সময়ে এর সীমানারও বদল হয়েছে।
প্রাচীনকালে আমাদের বাংলাদেশ নানা জনপদে বিভক্ত ছিল। তা এই গ্রন্থের শুরুর দিকে আলোচনা করা হয়েছে। মহাভারত এবং সংস্কৃত ভাষার ঐতরেয় আরণ্যক গ্রন্থে 'বঙ্গ' নামের উল্লেখ পাওয়া যায়। তার অনেক পরে ১৩৫২ খ্রিষ্টাব্দে শামসুউদ্দিন ইলিয়াস শাহ সর্বপ্রথম বাংলার তিনটি প্রধান কেন্দ্র লখনৌতি বা লক্ষণাবতী (গৌড়), সাতগাঁও (রাঢ়) ও সোনারগাঁ (বঙ্গ)-কে একত্র করে স্বাধীন বাংলা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এর স্বাধীনতা ২০০ বছর স্থায়ী হয়েছিল। ইলিয়াস শাহের উপাধি ছিল 'শাহ-ই-বাঙ্গালাহ', 'শাহ-ই-বাঙ্গালিয়ান', 'সুলতান-ই-বাঙ্গালাহ'। আর তখন থেকে সমগ্র বাংলা অঞ্চল 'বাঙ্গালাহ' নামে পরিচিতি লাভ করে। মুঘল আমলে সম্রাট আকবরের সময় থেকে বাংলার পরিচয় হয় 'সুবাহ বাংলা' নামে। তবে, ইউরোপীয়রা বিশেষভাবে পর্তুগিজরা 'বেঙ্গালা' নামে অভিহিত করেছে এই অঞ্চলকে এবং ইংরেজরা বলত 'বেঙ্গল'।
ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনামলে বাংলা নামে পৃথক প্রদেশ করা হয়। বাংলার অধীনে ছিল বিহার, উড়িষ্যা এবং ছোট নাগপুর। পরে ১৯০৫ সালে বর্তমান বাংলাদেশ ও ভারতের আসাম নিয়ে 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম' নামে নতুন প্রদেশ গঠন করা হয়। আন্দোলনের মুখে ৬ বছর পরে বঙ্গভঙ্গ বাতিল করে ইংরেজ সরকার। ১৯৪৭ সালে ইংরেজ শাসনের অবসান হলে পশ্চিমবঙ্গ ভারতে আর পূর্ববঙ্গ পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়। পাকিস্তান আমলেও আজকের বাংলাদেশ 'পূর্ববাংলা' নামেই পরিচিত ছিল। তবে ১৯৫৬ সালে পূর্ব বাংলার নাম পরিবর্তন করে পূর্ব পাকিস্তান রাখা হয়। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমাদের দেশের নাম হয় 'বাংলাদেশ'।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও গণআন্দোলন - অনন্যা প্রশ্ন
সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ

