- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও গণআন্দোলন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান
বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার যে গণআন্দোলন সংঘটিত হয় তা 'জুলাই গণঅভ্যুত্থান' নামে পরিচিত। এটাকে 'জুলাই বিপ্লব' নামেও অভিহিত করা হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট
জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল বহু বছরের রাজনৈতিক-সামাজিক-অর্থনৈতিক অসন্তোষের ফলে সৃষ্ট ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। এই গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি নিম্নরূপ:
১. কোটা সংস্কার ও বৈষম্য নিরসনের দাবি: সরকারি চাকরিতে কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদে ২০২৪ সালের ৫ জুন থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সূচনা হয়। তবে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনের ইতিহাস দীর্ঘদিনের। ১৯৯৭ সালে সরকার মুক্তিযোদ্ধা কোটার আওতায় মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদেরও যুক্ত করলে কোটাবিরোধী বিতর্ক শুরু হয়। এরপর ২০০১ সালের নির্বাচনের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং ২০০৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন সংঘটিত হয়। আন্দোলনগুলো দমন-পীড়নের মুখে সফল হতে পারেনি। ২০১৩ সালে বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন ৩৪তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফলাফলে কোটা প্রয়োগ করলে চাকরিপ্রার্থীরা কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলে। এই আন্দোলনের মুখে ৩৪তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি ফল বাতিল করে পুনরায় প্রকাশ করলেও কোটাপ্রথা বহাল থেকে যায়। কোটা সংস্কার আন্দোলন বৃহৎ আকার ধারণ করে ২০১৮ সালে। তখন টানা আন্দোলন ও কর্মসূচির মুখে তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকার কোটাপ্রথা বাতিলের ঘোষণা দেয় এবং পরবর্তীকালে পরিপত্র জারি করে। সেই বাতিল হওয়া কোটাপ্রথা ২০২৪ সালের ৫ জুন হাইকোর্টের রায়ে আবার ফেরত আসলে শিক্ষার্থীরা 'বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন'-এর ব্যানারে রাজপথে নামে, যা ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
২. রাজনৈতিক দমন-পীড়ন ও ফ্যাসিবাদী শাসন: আওয়ামী লীগ সরকারের দমন-পীড়ন, মামলা, গুম-খুন সামগ্রিক অর্থে ফ্যাসিবাদী শাসনে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। ফলে প্রতিবাদের সুযোগ পেয়ে মানুষ রাজপথে নেমে আসে।
৩. নির্বাচনী প্রহসন ও ভোটাধিকার হরণ: ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনগুলো ছিল চরম বিতর্কিত। প্রহসনের এই নির্বাচনের মাধ্যমে নাগরিকদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। ফলে জনগণের মধ্যে ক্ষোভ তীব্রতর হয়।
৪. অর্থনৈতিক দুরবস্থা ও জীবনযাত্রার সংকট: সীমাহীন দুর্নীতি, লুটপাট, অর্থপাচার এবং ব্যাংক খাতের অব্যবস্থাপনা দেশের অর্থনীতিকে অবনতির দিকে নিয়ে যায়। উচ্চমাত্রার মূল্যস্ফীতি ও বেকারত্ব সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে।
৫. বৈষম্য ও তরুণ সমাজের ক্ষোভ: দীর্ঘদিন ধরে সরকারি চাকরিতে কোটাপ্রথার কারণে শিক্ষার্থীরা বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছিল। এছাড়া সরকারি চাকরিতে দলীয়করণ, প্রশ্নফাঁস, শিক্ষাঙ্গনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর সরকার সমর্থক ছাত্রসংগঠনের নির্যাতন-নিপীড়ন ইত্যাদি কারণে তরুণ সমাজ ক্ষুদ্ধ ছিল। এগুলো তাদের আন্দোলনের দিকে ধাবিত করে।
৬. নির্দলীয়-স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন: শিক্ষার্থীসহ সমাজের সকল পেশার মানুষ শেখ হাসিনার দুঃশাসনের ভুক্তভোগী ছিল। ফলে সকল পেশা ও শ্রেণির জনগণের মধ্যে নতুন জাগরণ তৈরি হয়। এই স্বতঃস্ফূর্ত জাগরণই গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
৭. ছাত্র আন্দোলন দমন ও হত্যাকাণ্ডে প্রতিক্রিয়া: আন্দোলন চলাকালে ছাত্র-জনতার ওপর ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বর্বর আক্রমণ ও হত্যাকাণ্ড সারাদেশের মানুষকে বিক্ষুদ্ধ করে তোলে। এটি জনগণের ক্ষোভকে বিস্ফোরণোন্মুখ করে তোলে এবং কোটা সংস্কারের আন্দোলন ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে পরিণত হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ
একটি শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলন কীভাবে দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি ফ্যাসিবাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থানে রূপ নিতে পারে তার উদাহরণ হচ্ছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান। মূলত ২০২৪ সালের ৫ জুন সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের পরিপত্রকে হাইকোর্ট অবৈধ ঘোষণা করলে শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভের আয়োজন করে। পরদিনই দাবিটি সারাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়ে। ১ জুলাই "বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন" নামে একটি প্লাটফর্ম আত্মপ্রকাশ করলে আন্দোলন একটি সাংগঠনিক কাঠামো পায়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে ৭ জুলাই সারাদেশে 'বাংলা ব্লকেড'-এর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মহাসড়ক অবরোধ করা হয়, যেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয়। ১৪ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক সংবাদ সম্মেলনে কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করলে আন্দোলনের মোড় ঘুরে যায়। 'চাকরি মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-পুতিরা পাবে না, তাহলে কি রাজাকারের নাতি-পুতিরা পাবে?' শেখ হাসিনার এই মন্তব্য শিক্ষার্থীদের বিক্ষুদ্ধ করে তোলে। শিক্ষার্থীরা 'তুমি কে, আমি কে? রাজাকার, রাজাকার', 'কে বলেছে, কে বলেছে, স্বৈরাচার, স্বৈরাচার' ইত্যাদি স্লোগানে ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে প্রতিবাদী মিছিল করে। পরদিন ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের নৃশংস হামলায় নারীশিক্ষার্থীসহ অনেকে আহত হন। নারীশিক্ষার্থীদের ওপর এ বর্বর আক্রমণ সারাদেশে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করে। ১৬ জুলাই দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের ওপর ফের বর্বর হামলা চালানো হয়। রংপুরে পুলিশের গুলিতে আবু সাঈদ, চট্টগ্রামে ছাত্রলীগের হামলায় ওয়াসিম আকরামসহ মোট ছয়জন নিহত হন। আন্দোলন তখন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। ১৮ জুলাই 'কমপ্লিট শাটডাউন' কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে আন্দোলন নতুন উচ্চতায় পৌঁছে যায়। ঐদিন রাজধানীর উত্তরায় মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ ও ধানমন্ডিতে একাদশ শ্রেণির ছাত্র ফারহান ফাইয়াজসহ আরও অনেকে নিহত হন। স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ আন্দোলনকে সর্বজনীন রূপ দেয়। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকার আন্দোলন দমনে নৃশংস দমননীতি গ্রহণ করে। ইন্টারনেট বন্ধ, গণগ্রেফতার, বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো, এমনকি কারফিউ জারি করে হেলিকপ্টার থেকেও গুলি বর্ষণ করা হয়। শত শত মানুষ গণহত্যার শিকার হলেও আন্দোলন থেমে যায়নি; বরং ছাত্র-জনতা, শ্রমজীবী, পেশাজীবী, প্রবাসী-বাংলাদেশিসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে যুক্ত হয়। ৩০ জুলাই সরকার রাষ্ট্রীয় শোক দিবস ঘোষণা করলেও আন্দোলনকারীরা এটিকে প্রহসন আখ্যা দিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। এরপর 'মার্চ ফর জাস্টিস' ও 'রিমেম্বারিং আওয়ার হিরোজ' কর্মসূচির ফলে আন্দোলনে সর্বস্তরের মানুষ সম্পৃক্ত হয়। ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে আয়োজিত সমাবেশ থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনা ও তার মন্ত্রিসভার পদত্যাগের দাবিতে 'এক দফা' কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়া হয়। ৪ আগস্ট সরকারি বাহিনী ও আওয়ামী লীগ দলীয় সন্ত্রাসীরা রাজধানী ঢাকা ছাড়াও সারাদেশে ভয়াবহ গণহত্যা চালায়। এতে শতাধিক আন্দোলনকারী নিহত হন। এমতাবস্থায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা ৫ আগস্ট 'মার্চ টু ঢাকা' কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানান। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে কারফিউ উপেক্ষা করে লাখ লাখ বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা ঢাকার রাজপথে নেমে আসে। ছাত্র-জনতা, রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী ও সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে গণঅভ্যুত্থানের মুখে ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। এভাবেই শেখ হাসিনার দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে। বিজয় উল্লাসে উদ্দীপ্ত ছাত্র-জনতা গণভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও সংসদ ভবনের নিয়ন্ত্রণ নেয়; রচিত হয় নতুন ইতিহাস। ৮ আগস্ট নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়; যাত্রা হয় নতুন বাংলাদেশের।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ ও আহতের পরিসংখ্যান
শেখ হাসিনার নির্দেশে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত হয় ভয়াবহ গণহত্যা। এসময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গুলিতে প্রায় দেড় হাজার মানুষ প্রাণ হারান। জাতিসংঘের মানবাধিকার হাই কমিশনারের কার্যালয়ের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং রিপোর্ট অনুসারে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় এক হাজার চারশ মানুষ নিহত হন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১০০ দিন উপলক্ষ্যে প্রদত্ত ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ হন প্রায় ১৫০০ জন, আহত হন ১৯ হাজার নয় শত ৩১ জন। সাম্প্রতিক ইতিহাসে যুদ্ধাবস্থা ব্যতীত মাত্র ২১ দিনে এত হত্যাকাণ্ডের রেকর্ড নেই।
জুলাই ঘোষণাপত্র
জুলাই ঘোষণাপত্র হলো জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্বীকৃতি বিষয়ক একটি সরকারি ঘোষণা। গণঅভ্যুত্থানের প্রথমবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে ঘোষণাপত্রটি পাঠ করেন। ঘোষণাপত্রটিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের জাতীয় বীর উপাধিতে ভূষিত করা হয় এবং আহতদের সকল আইনি সুরক্ষা দেওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করা হয়। ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানে বিজয়ী বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে এই ঘোষণাপত্র প্রণয়ন করা হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য
জুলাই গণঅভ্যুত্থান শুধু রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণের ইঙ্গিতও দেয়। এই গণঅভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় তাৎপর্য হলো শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী শাসনের অবসান এবং জনগণের সার্বভৌমত্বের পুনঃপ্রতিষ্ঠা। জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে, দেশের তরুণ প্রজন্ম ও সাধারণ জনগণ যদি ঐক্যবদ্ধ হয়, তাহলে কোনো স্বৈরাচারী শক্তিই টিকে থাকতে পারে না। এটি ১৯৫২, ১৯৬৯ এবং ১৯৯০ সালের মতো ছাত্র-জনতার সম্মিলিত শক্তির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এই গণঅভ্যুত্থানের আরেকটি বড় দিক হচ্ছে এর নির্দলীয় চরিত্র, যা রাজনৈতিক পুনর্জাগরণের ইঙ্গিত বহন করে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান দীর্ঘকাল ধরে ভোটাধিকার বঞ্চিত জনগণের জন্য গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। আন্দোলনের সময় সংঘটিত গণহত্যার বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিরোধ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা এই অভ্যুত্থানকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে। পরিশেষে, এই অভ্যুত্থান একটি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রত্যাশা তৈরি করে, যেখানে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রত্যয় প্রতিফলিত হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান তাই নিছক একটি রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং জনগণের ঐক্যবদ্ধ শক্তির বিজয়, গণতন্ত্রের পুনর্যাত্রা এবং একটি নতুন বাংলাদেশ গঠনের স্পৃহার প্রতিচ্ছবি।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও গণআন্দোলন - অনন্যা প্রশ্ন
সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ

