- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- ১৯৭১ (উপন্যাস)
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
রফিক চরিত্রটি তোমার কাছে কি দ্বিমুখী চরিত্র মনে হয়? তোমার উত্তরের পক্ষে কারণ দেখাও।
না, রফিক চরিত্রটি আমার কাছে দ্বিমুখী চরিত্র বলে মনে হয় না। আমার উত্তরের পক্ষে কারণ দেখানো হলো- '১৯৭১' উপন্যাসের অন্যতম এক চরিত্র রফিক। সে পাকিস্তানি মিলিটারি অফিসার এজাজের সহযোগী। এজাজ যখন নীলগঞ্জ গ্রামে আসে মুক্তিবাহিনীর খোঁজে তখন এজাজের দোভাষী হিসেবে রফিকও আসে। বাঙালি যুবক রফিক এই উপন্যাসের শুরু থেকেই এক রহস্যময় চরিত্র। পাকিস্তানিদের সহচর হলেও বাঙালিদের প্রতিও তার বিশেষ সহানুভূতি ছিল। যেমন- কালীমূর্তির পিছনে লুকানো বলাইকে দেখতে পেয়েও মেজরের দৃষ্টি থেকে তাকে আড়াল করার প্রয়াস, কৈবর্ত্য পাড়ায় তল্লাসি করতে না দেওয়া, আজিজ মাস্টারকে লজ্জাজনক শাস্তি থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করা ইত্যাদি।
রফিক চরিত্রটি বিশেষত্ব লাভ করেছে মূলত তার নিশ্চুপ ভঙ্গির -কারণে। কোনো বিষয়েই তার খোলাখুলি বক্তব্য নেই। ফলে উপন্যাসে তাকে সবচেয়ে জটিল চরিত্র বলে মনে হয়। তাকে বাস্তব কম বরং প্রতীকী চরিত্র বলেই অধিক মনে হয়। রফিক কখনো নীলগঞ্জ গ্রামে আসেনি। অথচ সে গ্রামের সকল রাস্তাঘাট, মানুষ এবং প্রকৃতির সাথে খুব পরিচিত। সে কোন এলাকার মানুষ তা ইমাম সাহেব জানতে চাইলে তার কোনো উত্তর দেয়নি। রফিক মেজর এজাজের সহযোগী হিসেবে গ্রামে প্রবেশ করলেও 'আমরা' হিসেবে বাংলাদেশের মানুষের প্রতিনিধি হয়েই সে কথা বলেছে। উপন্যাসের শেষের দিকে রফিকের সংলাপে বোঝা যায় সে পুরোপুরি পাকিস্তান বিরোধী। এটা বুঝতে পেরে এজাজ তাকে হত্যা করার সিন্ধান্ত নেয়। এদিকে তখন কৈবর্ত পাড়া আগুনে - পুড়ছে। রফিক তখন মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হয়ে বিলে নামে। তখন আগুনের আলোয় তার মুখে অন্য রকম এক দীপ্তি আবিষ্কার করে মেজর এজাজ। 'এ অন্য রফিক' এমন এক অভিব্যক্তির উদয় হয় - মেজরের মনে। অর্থাৎ মেজরের সহযোগী হয়েও রফিকের এমন - বিদ্রোহ সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। তাই বলা যায়, রফিক কোনো দ্বিমুখী চরিত্র নয়, বরং বাংলাদেশের কোনো এক গ্রামের প্রতিবাদী দেশপ্রেমিক যুবক।
১৯৭১ (উপন্যাস) - অন্যান্য প্রশ্ন
সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ

