- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- সপ্তম শ্রেণি
- প্রাত্যহিক জীবনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
কর্মক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
কাগজ ব্যবহার না করে অফিসের কাজকর্ম চালানো যদি তথ্য প্রযুক্তির একটা ধাপ হয় তাহলে তার পরের ধাপটি কী হতে পারে? তোমরা কেউ কেউ নিশ্চয়ই অনুমান করে ফেলেছ- সেটি হবে অফিসে না গিয়েই অফিস করা। আমরা সবকিছুই যদি কম্পিউটার দিয়ে করি, আর সব কম্পিউটারই যদি নেটওয়ার্ক দিয়ে একটার সাথে আরেকটা জুড়ে দেয়া থাকে তাহলে আমি সেই কম্পিউটারটা অফিসে বসে ব্যবহার করছি নাকি বাসায় বসে ব্যবহার করছি তাতে কী আসে যায়? আসলেই কিছু আসে যায় না- আর সেটাই হচ্ছে সম্পূর্ণ নতুন এক ধরনের অফিসের ধারণা। ১৯৮৩ সালে প্রথম এটা নিয়ে আলোচনা হয় আর ১৯৯৪ সালে প্রথম এ ধরনের একটা অফিস শুরু হয়। যারা কাজ করছে তারা সশরীরে কেউ অফিসে নেই কিন্তু অফিসের কাজ চলছে-এরকম অফিসের নাম হচ্ছে ভার্চুয়াল অফিস।
সব অফিসকেই যে ভার্চুয়াল অফিস বানানো যাবে তা নয়- কিন্তু যেগুলো বানানো যাবে- সেখানে অনেক লাভ। প্রথমত তোমাকে অফিসের জন্যে বড় বিল্ডিং করতে হবে না। রাস্তাঘাটের ট্রাফিক জ্যামের সাথে যুদ্ধ করে কাউকে অফিসে আসতে হবে না। বাসায় বসে কাজ করতে পারবে বলে অফিসের কাজের পাশাপাশি বাসার কাজকর্মও করতে পারবে। অফিসে গেলে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কাজ করতে হবে- কিন্তু বাসায় বসে কাজ করলে অফিসের সময়ের বাইরেও অনেক কাজ করা সম্ভব। কাজেই ভার্চুয়াল অফিসের কাজকর্ম সাধারণ অফিস থেকেও বেশি হতে পারে।
ভার্চুয়াল অফিসের সবচেয়ে চমকপ্রদ সুবিধার কথাটা এখনো বলা হয়নি। সাধারণ অফিসে যারা কাজ করে তাদেরকে অফিসের কাছাকাছি থাকতে হয়। ভার্চুয়াল অফিসে যেহেতু কাউকে সশরীরে থাকতে হয় না তাই তারা যেখানে ইচ্ছা সেখানে থাকতে পারে। কাজেই এক অফিসের একেকজন হয়তো একেক শহরে থাকে। সত্যি কথা বলতে কী, অনেক অফিসেই কিন্তু এভাবে কাজ করে। পৃথিবীটা যেহেতু তার অক্ষের উপর ঘুরে তাই এক পৃষ্ঠে যখন দিন তখন পৃথিবীর অন্য পৃষ্ঠে রাত। দিনের বেলা হয়তো একদল অফিস করে ঘুমাতে গেল, তখন পৃথিবীর অন্য পৃষ্ঠের অন্য দল ঘুম থেকে উঠে কাজ শুরু করে দিলো। যার অর্থ অফিসটা চব্বিশ ঘণ্টা চলছে।
আজকাল কল সেন্টার বলে প্রায়ই একটা কথা শোনা যায়- আমাদের দেশেও অনেক কল সেন্টার আছে। নানা ধরনের কল সেন্টার নানা ধরনের কাজ করে। কোন কোন কল সেন্টারের কর্মীরা নির্দিষ্ট কোন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে গ্রাহক বা সেবা গ্রহীতার নানা জিজ্ঞাসার জবাব দেয় এবং সেবা প্রদান করে। ধরা যাক কেউ একটা কম্পিউটার কিনেছে- সেই কম্পিউটারটা নিয়ে তার একটা সমস্যা হয়েছে তাই সে কম্পিউটারের কোম্পানিতে ফোন করল। সে হয়তো ভাবছে, তার ফোনের উত্তর দিচ্ছে আশপাশের কোনো একজন মানুষ- আসলে সেই ফোনটি হয়তো চলে এসেছে পৃথিবীর অন্য প্রান্তে কোনো একটি কল সেন্টারে। সেখানে যারা আছে তারা এই প্রশ্নের উত্তরটা খুব ভালো করে জানে কারণ তাদের কাছে আগে হয়তো আরো অনেক মানুষ এই প্রশ্নটি করেছে। তাই খুব সহজেই কল সেন্টার থেকে উত্তর দিয়ে সেই মানুষটিকে খুশি করে দিলো। আমাদের দেশের অনেক তরুণ-তরুণী আজকাল অফিসে গিয়ে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত কাজ করার চেয়ে তার নিজের ঘরে বসে স্বাধীনভাবে যখন ইচ্ছে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। তাদের কাজের ক্ষেত্রটি তখন আর নিজের শহর কিংবা নিজের দেশের মাঝে আটকে থাকে না, তখন সেটা হয়ে যায় সারা পৃথিবী। তারা শুধু যে কাজ করে আনন্দ পায় তা নয়- অনেক টাকাও উপার্জন করতে পরে। এত কিছুর জন্য তার দরকার শুধু একটা কম্পিউটার আর ইন্টারনেটের সংযোগ। অবশ্যই তার সাথে আরো একটি জিনিস দরকার সেটা হচ্ছে দক্ষতা। কাজেই তোমরা বুঝতেই পারছ নতুন পৃথিবীতে একসাথে মিলে অনেকে কাজ করতে হলে তাদেরকে আর এক জায়গায় বসে কাজ করতে হয় না। যে বইটা তুমি পড়ছ- তুমি কি জান যারা এই বইটা লিখেছে, সাজিয়েছে; তারা কেউ কখনো একসাথে বসেনি- সবাই নিজের ঘরে বসে কাজ করেছে।
প্রাত্যহিক জীবনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি - অন্যান্য প্রশ্ন
সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ

