- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- সপ্তম শ্রেণি
- প্রাত্যহিক জীবনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
সমাজ জীবনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
সামাজিক সম্পর্ক উন্নয়নে আইসিটি: আমরা সবাই সমাজে থাকি। তুমি, তোমার বন্ধুরা হয়তো কোনো গ্রাম বা শহরে থাকো। তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ হয়তো স্কুলের হোস্টেলে থাকো। বাবা, মা, দাদা, দাদি, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব সবাইকে নিয়ে আমাদের সমাজ। এখানে কেউ চাকরি করে, কেউ ব্যবসা করে, কেউ শিক্ষার্থী, কেউবা বাড়িতে গৃহস্থালীর কাজ করে।
পারস্পরিক সম্পর্ক আর দেওয়া-নেওয়ার মধ্য দিয়ে একটি সমাজ এগিয়ে চলে। সমাজের নানা প্রয়োজনে আমরা নানান ধরনের হাতিয়ার ব্যবহার করি। এক সময় যোগাযোগ বলতে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে যেতে হতো খবর দিতে। পরে দেখা গেল ঢোল বাজিয়েও খবর দেয়া যায়। মানুষ যখন লিখতে শিখল তখন সে চিঠি লিখে মনের ভাব আর খবর পাঠাতে শুরু করল। গড়ে উঠল ডাক বিভাগ, এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় চিঠি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা। টেলিগ্রাফ আর টেলিফোনের আবিষ্কার এই বিষয়গুলোকে আরও সহজ করে ফেললো।
আর এখন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) সামাজিক চাহিদা পূরণের ব্যাপারগুলোকে নিয়ে এসেছে হাতের মুঠোয়। আইসিটির প্রচলিত হাতিয়ারগুলোর পাশাপাশি এখন ইন্টারনেটে সামাজিক যোগাযোগের অনেক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট তৈরি হয়েছে যা এই সামাজিক কর্মকাণ্ড সহজভাবে করার সুযোগ করে দিচ্ছে।
আইসিটি ব্যবহার করে কীভাবে সামাজিক সম্পর্কগুলো বিকশিত হচ্ছে তার কয়েকটি উদাহরণ আমরা প্রথমে দেখে নেই:
ক. অনুষ্ঠানাদিতে আমন্ত্রণ: এক সময় কেবল ই-কার্ড অনেক চমকপ্রদ হতে পারে, কাগজ-কালি ব্যবহার হয় না বলে অনেক পরিবেশবান্ধব। কাগজের আমন্ত্রণপত্র এবং টেলিফোনেই কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য দাওয়াত দেওয়া যেত। এখন এগুলোর পাশাপাশি ইমেইল বা মুঠোফোনের খুদেবার্তায় (এসএমএস) দাওয়াত দেওয়া যায়। ইমেইল বা খুদেবার্তার সুবিধা হলো- তা যার কাছে পাঠানো হচ্ছে ঠিক সে সময়েই তাকে ফোন ব্যবহার করতে হয় না, তার সুবিধামতো সময়ে সে দেখে নিতে পারে।
খ. বিশেষ দিবসসমূহে শুভেচ্ছা বার্তা: তুমি তোমার বন্ধুদের জন্মদিন, ঈদ বা পূজার সময় শুভেচ্ছা বার্তা পাঠাতে চাও। যেসব বন্ধু তোমার আশপাশে থাকে তাদের কাছে তুমি তোমার হাতে বানানো কার্ড দিতে পারো। কিন্তু যারা ভিন্ন দেশে বা ভিন্ন দূরত্বে থাকে? তাদের কাছেও কার্ড পাঠানো যায় ডাকযোগে তবে এখন সবাই পাঠায় ইকার্ড। ইকার্ড দুইভাবে পাঠানো যায়। একটি হলো তুমি নিজে কম্পিউটারে ইকার্ড তৈরি করে সেটি ইমেইলে পাঠাতে পারো। আবার ইন্টারনেটে অনেক ইকার্ডের সাইট আছে যেখান থেকে তোমার পছন্দের ইকার্ডটি প্রিয়জনের কাছে পাঠিয়ে দিতে পারো। এজন্য সাধারণত কোনো টাকাপয়সা খরচ হয় না। তোমার বন্ধু বা প্রিয়জন তাদের ইন্টারনেটের মাধ্যমে তোমার কার্ড পেয়ে যায়। আবার শুভেচ্ছা জানানোতে মুঠোফোনের খুদেবার্তা এখন অনেক জনপ্রিয়। এর মাধ্যমে খুব সহজে প্রিয়জনের কাছে শুভেচ্ছা, উদ্বেগ বা উৎকণ্ঠা পৌঁছে দেওয়া যায়। এখন বিভিন্ন এফএম রেডিয়োতে পছন্দের গান বাজিয়েও প্রিয় বন্ধুকে শুভেচ্ছা জানানোর রেওয়াজ চালু হয়েছে। এসএমএস-এর মাধ্যমে শ্রবণ প্রতিবন্ধীরাও ভাববিনিময় করতে পারে। একইভাবে কথাবলা সফটওয়্যার এর মাধ্যমে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরাও কম্পিউটার বা মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারে। এসবের মাধ্যমে সামাজিক বন্ধনগুলো দৃঢ় হয়।
গ. স্মৃতি সংরক্ষণ ও বিনিময়: অনেকদিন আগে থেকে জীবনের রঙিন ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলির ছবি তুলে রাখা এবং তা সবার সঙ্গে বিনিময় (শেয়ার) করার একটি সংস্কৃতি রয়েছে। যাদের সামর্থ্য আছে তারা তাদের অনুষ্ঠানটি ভিডিয়ো ক্যামেরায় ধারণ করে রাখে। বর্তমানে এমন মোবাইল ফোন সহজলভ্য হয়েছে যেখানে ক্যামেরা এবং ভিডিও ক্যামেরা রয়েছে। যার ফলে জীবনের যে কোনো মুহূর্ত আগামী দিনের জন্য সংরক্ষণ করে রাখা সম্ভব হচ্ছে। এছাড়া এ ধরনের ডিজিটাল ছবি ইচ্ছে করলেই প্রিয়জনের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া যায়। ইন্টারনেটে এখন বিভিন্ন সাইট রয়েছে যেখানে তুমি ছবি আপলোড করে তা অন্যদের জানাতে পারবে। এরকম সাইটগুলোর মধ্যে গুগল ফটোস (photos.google.com) এবং ইয়াহুর ফ্লিকার এখন সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। কেবল ছবি নয়, ইচ্ছে করলে তুমি তোমার তোলা ভিডিয়ো সারাবিশ্বের সামনে তুলে ধরতে পারো ভিডিয়ো শেয়ারিং সাইটের মাধ্যমে। এরকম সাইটগুলোর মধ্যে ইউটিউব (www.youtube.com) অধিক জনপ্রিয়।
প্রাত্যহিক জীবনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি - অন্যান্য প্রশ্ন
সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ

